আপডেট :

        ট্রাম্পের বক্তৃতা নিয়ে বাজি, সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মীকে ১.৭২ লাখ ডলার জরিমানা

        ট্রাম্পকে জবাব, লেক অন্টারিওতে বড় সাইন বসাল কানাডা

        ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি: ‘জানতাম, এবার মারা যাব’—নেপালের বন্যা থেকে বাঁচার গল্প

        ডানপন্থী ভাষ্যকার মিলো ইয়ান্নোপোলাসকে আটক করেছে আইসিই

        ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র

        লস এঞ্জেলেসে হিট-অ্যান্ড-রান মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

        অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে বেআইনি প্রতিশোধ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন: আদালত

        ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীন প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থী

        নতুন স্ক্রিনিং নীতিতে সব অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

        সোফি স্টেডিয়াম এলাকায় ২৬১ মিলিয়ন ডলারের পরিবহন প্রকল্প

        বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

        মাঠে আঘাতে কিশোর ফুটবলারের মৃত্যু, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে মামলা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রীর প্রেমিককে হত্যার অভিযোগে দম্পতি গ্রেপ্তার

        আশ্রয় চাওয়া বিদেশিদের স্বল্পমেয়াদি ভিসা বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

        যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক কানাডার

        লুইজিয়ানায় ১০ হাজার কোটি ডলারের মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বানাবে স্পেসএক্স

        ডাউনটাউন লস এঞ্জেলেসে দুটি ভবনে এফবিআইয়ের অভিযান

        ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত নীতি আটকালেন মার্কিন বিচারক

        লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য নতুন সহায়তা কর্মসূচি

        কলোরাডো নদীর পানি কমে যাওয়ায় তিন অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের পানি কাটছাঁট

নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা, মধ্যবিত্তের দুর্ভোগ

নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা, মধ্যবিত্তের দুর্ভোগ

বৈশ্বিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, স্বর্ণ ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি—এইসব কারণ নিত্যপণ্যের বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশের রাজনৈতিক সংকট, অর্থনীতির দুরবস্থা, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজি। এ অবস্থার ধাক্কা সামলাতে গিয়ে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত এবং দিনমজুর শ্রেণির মানুষ ব্যাপক কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে।


চলতি বছরে এমন কোনো নিত্যপণ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন, যার দাম বাড়েনি। তবে যেসব পণ্য একেবারে মৌলিক প্রয়োজন মেটায় (যেমন- চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল ইত্যাদি) সেসব কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মাছ, মাংস ও ডিমের মতো আমিষের খাদ্যদ্রব্যে। বছরের প্রায় পুরো সময়জুড়ে বাজার ছিল অস্থির।

ভোক্তাদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে চাল, ডিম, আলু, সবজি ও সয়াবিন তেলের মতো বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকেই কাটছাঁট করেছেন বাজারের তালিকায়। এমনকি দুটি টাকা বাঁচাতে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছুটেছেন টিসিবির ট্রাকের পেছনে।

আলোচনার শীর্ষে ডিম

বছরের সবচেয়ে আলোচিত পণ্য ছিল ডিম। গত অক্টোবরে ফার্মের ডিমের ডজন ১৮০ টাকায় ওঠে। ব্যবসায়ীরা বন্যাকে দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, বন্যায় খামারের ব্যাপক ক্ষতি এবং মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়। লাখ লাখ মুরগি মারা গেছে। এ কারণে ডিমের বাজার চড়া হয়ে ওঠে।

বাজারে লাগাম টানতে এক পর্যায়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ডিমের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। পাশাপাশি ডিম আমদানির অনুমতি ও শুল্কছাড় দেওয়া হয়। ভারত থেকে কয়েক দফায় কিছু ডিম আমদানি হয়। এর পর কিছুটা স্বাভাবিক হতে থাকে বাজার। 

 

পিছিয়ে ছিল না আলুও

আলুও কম আলোচনার জন্ম দেয়নি। বছরের বেশির ভাগ সময় আলুর কেজি ৫০ টাকার ওপরে ছিল। এমনকি নভেম্বর মাসে এটি ৮০ টাকায় পৌঁছায়। ডিমের মতো আলুও ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বর্তমানে নতুন আলুর বাজারে প্রবেশের ফলে দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

 

চালের দামও ছড়িয়েছে উত্তাপ

চালের বাজার বছরের শুরু থেকেই অস্থির। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দাম বাড়তে থাকে, যা জুনে কিছুটা কমে। আগস্টে সরকার পতনের পর চালের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়। নভেম্বর পর্যন্ত দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এখন তা আবার বাড়ছে।

 

বেশির ভাগ সবজির সেঞ্চুরি

এ বছর রেকর্ড গড়েছিল সবজির বাজার। এমন কোনো সবজি নেই, যার দাম বাড়েনি। স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার গুণ দাম বাড়ে সবজির। বিশেষ করে জুলাইয়ের শেষদিকে বেশির ভাগ সবজির দাম শতক পেরিয়ে যায়। যেমন– প্রতি কেজি করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ও কচুরমুখী ১০০ থেকে ১১০, বেগুন ১৪০ থেকে ১৫০, কাঁকরোল ৯০ থেকে ১০০, গাজর ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও মুলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এভাবে প্রায় সব সবজির দাম এক প্রকার আকাশ ছুঁয়েছিল। 

 

ভোজ্যতেলের তেলেসমাতি

বছরের শেষদিকে রীতিমতো তেলেসমাতি কাণ্ড ভোজ্যতেলের বাজারে। শুল্ক ছাড়ের পরও বিশ্ববাজারে দর বাড়ার অজুহাতে দাম বাড়ান আমদানিকারকরা। দাম বাড়ানোর আগে কয়েকদিনের জন্য বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় বোতলজাত সয়াবিন তেল। বাড়তি দরে বিক্রি হয় খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল। সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে দাম বাড়ানোর ঘোষণার দিনই বাজার ভরে গেছে লুকানো তেলে।

 

মূল্যস্ফীতি ছিল উদ্বেজনক

পণ্যের দর বেড়ে যাওয়ায় বছরজুড়ে মূল্যস্ফীতি ছিল উদ্বেজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে অনুযায়ী, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে নভেম্বরেও সারাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অক্টোবরে যা ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে যায়। আগস্টে কিছুটা কমে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়। সেপ্টেম্বরে আরও কিছুটা কমে হয় ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ মাস এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। টানা প্রায় আড়াই বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে।

 

সরকারের পদক্ষেপ

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ পরিস্থিতি ঠিক করতে সরকার গত সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অক্টোবরে চাল, আলু, ডিম, চিনি, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানির শুল্ক কমানো হয় এবং পেঁয়াজের শুল্ক-কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি, টিসিবি ও অন্যান্য সংস্থাগুলোর মাধ্যমে খোলাবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু হয়। যেমন, অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে ট্রাকে ভর্তুকি মূল্যে তেল, ডাল, চাল এবং বিভিন্ন সবজি বিক্রি করা হয়।

মোটকথা, ২০২৪ সালজুড়ে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা আরও সুদূরপ্রসারী হওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা আশা করছে দেশের জনগণ।

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত