আপডেট :

        সাইকেলের হেলমেট হাতে ছুটে এসে ফিলাডেলফিয়ায় নারীকে যৌন হেনস্তা থেকে রক্ষা করলেন পথচারী

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ঐতিহাসিক সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা, হুমকিতে থাকা প্রজাতির বিস্তারে নতুন আশা

        ‘এ যাবৎকালের অন্যতম শক্তিশালী’ হারিকেন পোলো, ক্যালিফোর্নিয়ায় কী প্রভাব পড়তে পারে

        তীব্র গরমের পর ক্যালিফোর্নিয়ার লাখো পরিবার পাচ্ছে স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ বিল ক্রেডিট

        ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের পর রাশিয়ার হামলায় কিয়েভ ও দোনেৎস্কে নিহত ৬

        সুপার এল নিনোর প্রভাবে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

        যৌন নিপীড়নের মামলায় হার্ভি ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

        ব্রুকলিনের সৈকতে ডাস্টবিন থেকে ৫ সন্তানের মায়ের মরদেহ উদ্ধার, শোকস্তব্ধ নাইটক্লাব অঙ্গন

        মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা

        হারিকেন মেরির ক্ষতির পর এল নিনোর আশঙ্কা, স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা লং বিচে

        মেক্সিকোর উপকূলে ভয়ংকর হারিকেন পোলোর তাণ্ডব, ‘প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়’

        ক্যালিফোর্নিয়ার বিপজ্জনক মহাসড়কে ভুল পথে গাড়ি, ভয়াবহ সংঘর্ষে নি হ ত ৫

        হাইড পার্কে গাড়ির ধাক্কায় কিশোর নি হ ত, গুরুতর আহত কিশোরী; চালক প লা ত ক

        ১ অক্টোবর থেকে আরও ৩ শ্রেণির ভিসায় বাধ্যতামূলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই যুক্তরাষ্ট্রে

        ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ‘ভুয়া তথ্য’ ছড়ানোর দায়ে নিষিদ্ধ ৩ গণমাধ্যম

        লস এঞ্জেলেসের বৃদ্ধাশ্রমে কর্মীর গু লি, আহত ৩

        ৫০০-এর বেশি বিড়াল উদ্ধার, তদন্তে মিলল মৃত বিড়ালের হাড় ও জমিয়ে রাখা মরদেহ

        প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় পোলো ক্যাটাগরি ৫, মেক্সিকোতে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা

        কেন কেন্টে মেনিনজাইটিসের প্রাদুর্ভাব এত ভয়াবহ হয়েছিল, কারণ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

        মিসিসিপিতে কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরের মৃত্যুতে কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নয়, গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্ত

চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ আন্দোলনে আ হ ত দের

চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ আন্দোলনে আ হ ত দের

আগারগাঁও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে এখনো অবস্থান করছেন ১০৩ জন চোখে গুলিবিদ্ধ আহত। তাদের কারো এক চোখে গুলি, কারো দুই চোখেই একাধিক গুলি নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়।  অভিযোগ, ‘আমাদের চিকিৎসা আশানুরূপ হচ্ছে না’। আমরা কি তাহলে এই ‘২৪-এর আন্দোলনে শরিক হয়ে ভুল করেছি’!


তারা বলেন, উপদেষ্টাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, তাদের পুনর্বাসন করা। কিন্তু এখনো একাধিক শহিদ পরিবার ও আহতরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। স্বজনরা কেন দ্বারে দ্বারে ঘুরবে? শহিদদের পরিবারকে রাষ্ট্রের খুঁজে বের করতে হবে। দেশে এত পয়সাওয়ালা লোক, তারা তো আলাদাভাবেও আহতদের কারো কারো দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসা-পুনর্বাসন করতে পারত। অথচ কেউ আমাদের দিকে দেখছে না, আমরা মাসের পর মাস পরিবার-পরিজন ছেড়ে, হাসপাতালে ধুঁকে ধুঁকে মরছি। আমাদের কথা অন্তর দিয়ে কেউ ভাবছে না। তাহলে কি আমরা এক দফা আন্দোলনে যুক্ত হয়ে ভুল করলাম; এমন তো কথা ছিল না!       

গত সপ্তাহে জানুয়ারির শেষের দিকে সুচিকিত্সাসহ আরও কিছু দাবি নিয়ে আগারগাঁও জাতীয় চক্ষু হাসপাতাল ও পঙ্গু হাসপাতালের সামনের সড়কে নেমে পড়েন জুলাই আন্দোলনে আহতরা। পরে তারা রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান নিলে উপদেষ্টাদের আশ্বাসে আবারও সড়ক ছেড়ে দেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল— ‘২৪-এর যোদ্ধাদের মধ্যে আহত এবং শহিদদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ বিচার করতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারীদের সরকারের বিভিন্ন পদ থেকে অপসারণপূর্বক গ্রেফতার করতে হবে। আগতদের ক্যাটাগরি ঠিকভাবে প্রণয়ন করতে হবে। আহতদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আহত এবং শহিদদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননাসহ প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসার সর্বোচ্চ সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আহত এবং শহিদদের আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়ানোসহ নিরাপত্তার বিষয়টি সুসংহত করতে হবে।

‘আমাদের এই দাবিগুলো পূরণ না হলে— ‘কী করব, আমরা তা এখনো ভেবে দেখিনি। তবে ভালো কিছু হবে না। আমরা সবাই খুব খারাপ আছি’।


চতুর্থ তলায় ৩৩ নম্বর বিছানায় আছে ১৩ বছরের তানিম বায়েজিদ। মুন্সীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এই কিশোর এক চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। তানিমের মা তাহমিনা বলেন, ‘আমার এই অবুঝ বাচ্চাটার কী হবে, ওর জন্য কি কিছুই করার নাই? এই বাচ্চার সারাটা জীবন কীভাবে কাটবে? এমন প্রশ্ন রাখেন।’

আছে ১১ বছরের তামিম মাহমুদ। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিলেট গোবিন্দগঞ্জ তাদের বাড়ি। বাইরের কোলাহল দেখতে গিয়ে গুলি লাগে তামিমের চোখে। আছে ১২ বছরের সাকিবুল হাসান। সাকিবুলের চোখে গুলি লাগে বাইরে আন্দোলন দেখতে গিয়ে। ১৯ জুলাই থেকে কয়েক দফা অস্ত্রোপ্রচার হয়েছে চোখে। কিন্তু তাতেও চোখের আলো ফেরেনি। এক চোখ হারিয়ে তামিম ও তার মা দুজনেই বিষণ্ন সময় পার করছেন। তার মা জানান, এত কম বয়সে এতবড় ক্ষতি হয়ে গেল, ডাক্তার বলেছে, অন্য চোখেও সমস্যা হতে পারে। তাহলে আমার ছেলের কীভাবে সারাটা জীবন কাটবে।

১৫ বছরের আব্দুর রহিম, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভাবের কারণে কাজ করত থাইগ্লাসের দোকানে। ১৯ জুলাই বসুন্ধরার নর্দা এলাকায় গুলি লাগে। রহিম ডান চোখে কিছুই দেখছে না। চিকিৎসক জানিয়েছে ডান চোখে আর আলো ফিরবে না।

আছে ১৮ বছরের বাক্প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়া। তার চোখে দুইবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। এই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোর জোগালির কাজ করত। এই কিশোরের পায়ে. হতে, বুকে মিলে শরীরে তার ৫০-৬০ টার মতো ছররা গুলি এখনো বিঁধে আছে। মা সেলিনা বেগম বলেন, কথা বলতে পারে না, গায়ে তার অনেক যন্ত্রণা হয়। এক চোখে সে আর কিছু দেখতে পারবে না—চিকিত্সক বলেছেন।

ভোলার বিল্লাল হোসেন ডান চোখে ২০ শতাংশ দেখতে পান আর বাম চোখ পুরোপুরি মৃত। আসছে সোমবার তার বাম চোখে পাথরের চোখ লাগিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক বলে জানান। বিল্লাল হোসেন বরিশাল শহরে অটোরিকশা চালাতেন। ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তার দুই চোখে ছররাগুলি লাগে। একটা গুলি ডান চোখের মণির পাশ ঘেঁষে চলে যায়। কিন্তু বাম চোখে দুইটা গুলি লাগে। ফলে বাম চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত