আপডেট :

        ক্যালিফোর্নিয়ায় স্টোরেজ ইউনিট থেকে চুরি ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের দুর্লভ খেলনা ও সংগ্রহ

        লস এঞ্জেলেসের ইউনিয়ন স্টেশনে হাম সংক্রমণের শঙ্কা, আক্রান্ত যাত্রীর সংস্পর্শে আসতে পারেন বহু মানুষ

        ২ নারীসহ ৩ কর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ, সরাসরি জবাব রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যানের

        সঙ্গী বাছাইয়ের ‘নন-নেগোশিয়েবল’ তালিকা দিয়ে তুমুল সমালোচনায় সিলিকন ভ্যালির তরুণ নির্বাহী

        ১২ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, ক্যালিফোর্নিয়ায় যুবকের ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ড

        ‘এআই ফোর্স’ গঠন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক জার নিয়োগ দেবেন ট্রাম্প

        গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’, ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি

        হৃদযন্ত্রের আবরণ ভেদ করে ঢুকে ছিল সূঁচ, শরীরের নানা অংশে মিলল আরও ধাতব বস্তু

        ‘যুদ্ধের কথা ভাবার পর্যায়ে পৌঁছে গেছি’, ব্রিটেনকে সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

        ডিজেলের দাম ছুঁল রেকর্ড ৬.৪৩ ডলার, জ্বালানি সংকটে বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম

        ছিপে উঠল ৬৪৮ পাউন্ডের বিশাল মাছ, সান ডিয়েগোর উপকূলে নতুন রেকর্ড

        এআই নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিউজমের, উন্নত মডেলে ‘কিল সুইচ’ তৈরির উদ্যোগ

        সান ফার্নান্দো ভ্যালিতে মেট্রো বাসসহ ৩ গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৭

        চাকরি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন কয়েক মাস আগে, এবার আদালত ভবনেই মিলল মিসৌরির প্রসিকিউটরের মরদেহ

        বাড়িতে অস্ত্র, মাদক ও ভয়ংকর ভিডিও—ফিলাডেলফিয়ায় নিখোঁজ ৫ নারীকে নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ

        ‘সন্তানদের হত্যার বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহই ছিল না’: লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার জুরি

        গলিয়ে বিক্রি করার আগেই ৫০ হাজার ডলারের যিশুর মূর্তি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান

        ভয়াবহ উপকূলীয় ক্ষয়ে অরেঞ্জ কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি

        লস এঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত ৫ জনের স্মরণে আবেগঘন মোমবাতি প্রজ্বালন

        সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন ট্রাম্প প্রশাসনের

মিয়ানমারে সেনা ‘অভিযান’, আবারো বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা

মিয়ানমারে সেনা ‘অভিযান’, আবারো বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এর প্রতিবাদ এবং সীমান্ত থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে বলা হয়। বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানের পর সীমান্ত থেকে মিয়ানমার সৈন্য সরিয়ে নিয়েছে বলে জানান, বিজিবির মুখপাত্র লে. কর্নেল সাইদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সীমন্তে এখন আর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা নাই। তারা সীমান্ত এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তবে রাখাইনের ভেতরে তারা কী করছে সেটা আমরা জানি না। এটা গোয়েন্দারা ভালো বলতে পারবেন।’’

এই বিজিবি কর্মকর্তা জানান, ‘‘সীমান্তের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। সীমান্ত বলতে আমাদের দিক থেকে আমরা যতটুকু দেখতে পাচ্ছি তা স্বাভাবিক।’’
 
একাধিক সূত্র জানায়, সীমান্ত থেকে তারা সরে গেলেও এক কিলোমিটার দূরেই তারা অবস্থান করছে। রাখাইনে সৈন্য সমাবেশও অব্যাহত আছে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ক্লিয়ারেন্স অপারেশন সেখানে এখনো চলছে। মিয়ানমারে ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে এই অপারেশন আরো জোরদার হচ্ছে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে এখনো চার হাজারের মত রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তারা ২০১৭ সালের পর থেকেই সেখানে আছেন।

নো-ম্যানস ল্যান্ডের রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, ‘‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্তের এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যে এখন আর নাই। তারা এর বাইরে অবস্থান করছে। আমাদের কাছে যে খবর রয়েছে তাতে তারা অভিযান বন্ধ করেনি। সৈন্য আরো বাড়াচ্ছে।’’

তিনি জানান, ‘‘আমরা সেখানে অবস্থানরত আমাদের স্বজনদের কাছ থেকে যে খবর পাচ্ছি তাতে রোহিঙ্গাদের মুভমেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাদের ঘরের বাইরে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। সেখানে যুদ্ধের ট্যাংক নিয়ে আসা হচ্ছে। আমরা আতঙ্ক আর উদ্বেগের মধ্যে আছি।’’

এর আগে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, মিয়ানমার আবার রাখাইনে গণহত্যা শুরু করেছে। সেনা সমাবেশের মধ্যেই সেখানে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। মিয়ানমার অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে নানা সূত্র থেকে যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে সেখানে গণহত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা আছেন তাদের অনেকের স্বজনরা এখনো রাখাইনে আছেন। তারা তাদের জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এই অবস্থায় বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় টহল এবং নজরদারী জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের জনবল ও নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। তারা রাখাইনের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক সামরিক অ্যাটাশে এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক মনে করেন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাখাইনে সেনা সমাবেশ ঘটনো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘‘এর কারণ মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে নির্বাচন বন্ধ করতে চায়। সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইএসডিপির রাখাইনে কখনোই ভালো অবস্থান ছিল না। ফলে এখানে নির্বাচন না হলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সুবিধা। তাই আমার মনে হচ্ছে তারা আরো বড় ধরনের অভিযান চালাবে যাতে নির্বাচন বন্ধ করা যায়।’’

তিনি বলেন, ‘‘এবার অভিযান শুরু হলে শুধু রোহিঙ্গা নয়, সেনা সমর্থিত দলের বাইরে যে বৌদ্ধরা আছেন তারাও এর শিকার হতে পারেন। তাই শুধু রোহিঙ্গা নয়, এবার বৌদ্ধদের ঢলও আমরা সীমান্তে দেখতে পারি।’’

এজন্য তিনি বাংলাদেশকে আরো সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘‘মিয়ানমার এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালোই চাপের মুখে আছে। আর আইসিজের পর এখন আইসিসিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা হতে যাচ্ছে। ফলে তারা আরো চাপে পড়বে।’’

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আই

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত