নগদে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ দিল উবার, চালকদের উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে
৩.৩ মিলিয়ন ডলার বেকারত্ব ভাতা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৫
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার পাঁচজন ব্যক্তি, যার মধ্যে একজন ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল (CHP) ডিসপ্যাচারও রয়েছেন, ৩.৩ মিলিয়ন ডলার বেকারত্ব ভাতা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্তরা হলেন জ্যানেট ক্লারিস গ্লোরিয়া থিউস (৪৪) এবং তার মা ডায়ান ক্লারিস থিউস (৭৮) ল্যাঙ্কাস্টারের বাসিন্দা, ডাইলেন স্পিয়ার্স (২৪) কারসনের বাসিন্দা, এরিকা অ্যাবসন রবিনস (৫৭) কম্পটনের বাসিন্দা এবং CHP ডিসপ্যাচার, ও তার স্বামী রোনাল্ড লি রবিনস (৬২), যিনি তখন প্রথম-ডিগ্রি চুরির দায়ে কারাগারে ছিলেন।
প্রসিকিউটরদের মতে, এপ্রিল ২০২০ থেকে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত এই চক্রটি নিরীহ ব্যক্তিদের নাম ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ব্যবহার করে বেকারত্ব সুবিধার জন্য ভুয়া আবেদন করে। তারা দাবি করেছিল যে তারা কোভিড-১৯ মহামারির কারণে চাকরি হারিয়েছে। এই পদ্ধতিতে তারা প্রায় ২৯৩টি আবেদন দাখিল করে এবং ৩.৩ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১৬৯টি আবেদন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের নামে জমা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১০৬টি আবেদন ছিল ১০ বছরের কম বয়সীদের জন্য। এমনকি ১৭টি আবেদন কারাগারে থাকা বন্দিদের জন্য করা হয়েছিল।
CHP ডিসপ্যাচার এরিকা রবিনস তার কর্মস্থলের বিশেষ অধিকার ব্যবহার করে সান লুইস ওবিস্পো কারাগারের বন্দিদের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং জন্মতারিখ সংগ্রহ করতেন। পরে এই তথ্য ব্যবহার করে বেকারত্ব ভাতা নেওয়া হতো। ওই সময় এরিকার স্বামী রোনাল্ড রবিনস কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং সেখান থেকে অন্যান্য বন্দিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর জ্যানেট থিউস ও ডায়ান থিউস সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করতেন।
৫ মার্চ, ২০২৫ তারিখে প্রসিকিউটররা পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া, জ্যানেট থিউসের বিরুদ্ধে ৪টি ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ডায়ান থিউস ও এরিকা রবিনসের বিরুদ্ধে ২টি করে ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। জ্যানেট, ডায়ান, এরিকা ও রোনাল্ডের বিরুদ্ধে একটি অননুমোদিত অ্যাক্সেস ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এরিকা রবিনস ও রোনাল্ড রবিনস বুধবার গ্রেফতার হন। ডাইলেন স্পিয়ার্স স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বৃহস্পতিবার জ্যানেট ও ডায়ান থিউস আত্মসমর্পণ করেন। এরিকা ও ডাইলেনকে ১০,০০০ ডলারের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রোনাল্ড রবিনস এখনও ফেডারেল হেফাজতে আছেন, তার জন্য ১১ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
যদি সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে প্রতিটি ব্যাংক জালিয়াতির জন্য সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া অননুমোদিত অ্যাক্সেস ডিভাইস ব্যবহারের জন্য জ্যানেট, ডায়ান, এরিকা ও রোনাল্ড সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে পারেন।
যারা কোভিড-১৯ সম্পর্কিত কোনো প্রতারণার তথ্য দিতে চান, তারা ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজাস্টার ফ্রড হটলাইনে (৮৬৬-৭২০-৫৭২১) কল করতে পারেন অথবা অনলাইনে NCDF ওয়েব কমপ্লেইন্ট ফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
শেয়ার করুন