নগদে ভাড়া নেওয়ার সুযোগ দিল উবার, চালকদের উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে
চার্চের যাজকের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার প্রতারণার অভিযোগ
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি চার্চের পাস্টর বন্ধুবান্ধব ও একটি অলাভজনক সংস্থাকে প্রতারণা করে ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। টেরেন্স ওউন্স এলিয়ট, যিনি "টোনি এলিয়ট" নামেও পরিচিত, ক্রেস্টলাইনের বাসিন্দা এবং স্যান বার্নার্ডিনোর একটি চার্চের পাস্টর। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ১১টি ওয়্যার ফ্রডের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এলিয়ট তার দীর্ঘদিনের বন্ধুদের টার্গেট করে প্রতারণা চালান। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার প্রথম শিকার ছিলেন "M.C." নামে এক ব্যক্তি, যাকে তিনি ভুল বুঝিয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া টাকা সরাসরি গ্রহণ না করে ট্রাস্টের মাধ্যমে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এলিয়ট দাবি করেন, সরাসরি টাকা নিলে "M.C." তার মেডিকেয়ার ও সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা হারাবেন। এরপর তিনি নিজেকে ট্রাস্টের সহ-ট্রাস্টি নিয়োগ করেন এবং ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন।
ওই ট্রাস্ট থেকে তিনি চার্চের বিভিন্ন খরচ মেটান এবং ব্যক্তিগত খরচের জন্য অর্থ ব্যয় করেন, যার মধ্যে নাইকির স্নিকার্স, একটি পিয়ানো, পোশাক, গাড়ির মেরামত এবং মোটরসাইকেলের বর্ধিত ওয়ারেন্টির মতো কেনাকাটার খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া, "M.C."-এর অন্য একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি ২৭,১৬৪ ডলার ট্রাস্টের নামে সরিয়ে নেন। যখন "M.C."-এর পরিবার তার কাছে ট্রাস্টের তথ্য ও ব্যাংকের বিবরণী চাইতে থাকে, তখন এলিয়ট তাদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
"M.C." মারা যাওয়ার পর, এলিয়ট "W.H." নামে আরেক ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন, যাতে তিনি "M.C."-এর শেষকৃত্যের জন্য ৮,৬১৫ ডলার প্রদান করেন। এলিয়ট দাবি করেন, ট্রাস্টের অর্থ ছাড়ানোর জন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন, যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে তিনি অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার ২৬৩ ডলার আত্মসাৎ করেন।
২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এলিয়ট "W.H."-কে বাড়ি বিক্রির পর কর বাঁচানোর নামে প্রতারণা করেন। তিনি "W.H."-এর কোম্পানিকে ৬৫,০০০ ডলার ট্রাস্টে ঋণ দিতে বলেন এবং ১০% সুদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরে তিনি ওই অর্থ চার্চের নামে পাঠিয়ে দেন এবং কোনো ঋণ পরিশোধ করেননি।
এছাড়া, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি "চার্চ B" ও একটি অলাভজনক সংস্থার বিরুদ্ধে চলা মামলার ব্যয় মেটানোর নামে ২৩,৩০০ ডলার আত্মসাৎ করেন।
মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬৩ ডলারের প্রতারণার দায়ে এলিয়টের বিরুদ্ধে ১১টি ওয়্যার ফ্রডের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রত্যেকটি অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। এফবিআই মামলাটি তদন্ত করছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন। কেউ যদি এ বিষয়ে তথ্য দিতে চান, তাহলে ৩১০-৪৭৭-৬৫৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বা অনলাইনে tips.fbi.gov ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
শেয়ার করুন