সপ্তাহান্তে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনা
নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার শিকার এক বাংলাদেশী
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে সোহেল চৌধুরী নামে আরেকজন বাংলাদেশী সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। সোমবার রাত প্রায় দশটায় ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার স্টারলিং বাংলাবাজার এভিনিউর স্টারলিং ফার্মেসীর সামনে সোহেল চৌধুরী (৪০) কে দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক এলোপাতারি কিল ঘুষি মেরে মারাত্মক জখম করে। তারা তার সাথে থাকা আইফোন সিক্স নিয়ে যায়। সোহেল চৌধুরীর বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া সদরের তেলিয়াপাড়া এলাকায়। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পার্কচেস্টারের ম্যাগ্রো এভিনিউ এলাকায় বসবাস করেন। সোহেল চৌধুরী পেশায় একজন ব্ল্যাক কার চালক।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোহেল চৌধুরী ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার স্টারলিং বাংলাবাজার এভিনিউর স্টারলিং ফার্মেসীর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় দুই কৃষ্ণাঙ্গ যুবক অকস্মাৎ তার ওপর হামলে পড়ে। যুবকরা তাকে অতর্কিতে কিল ঘুষি মেরে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে তার আইফোনটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তার আত্মচিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসে। এসময় পার্কচেষ্টার জামে মসজিদের সভাপতি ও ফ্রেন্ডস গ্রোসারীর স্বত্তাধিকারী সৈয়দ আল ওয়াহেদ নাজিম পুলিশে কল করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ এসে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এম্বুলেন্সে করে স্থানীয় জ্যাকবি হাসপাতালে নিয়ে যায়। দূর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে বাংলাবাজার জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী ও প্যাকসান রেষ্টুরেন্টের কর্ণধার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বখতিয়ার খোকন, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি এন ইসলাম মামুন, যুবলীগ নেতা শাহ গোলাম রাহিম শ্যামল, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের সহ-সভাপতি তৌফিকুর রহমান ফারুক, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট তিসার কর্নধার নাসিমসহ বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ ঘটনাকে নেতৃবৃন্দ হেইট ক্রাইম বলে মন্তব্য করেন। পর পর কযেকটি ঘটনায় ব্রঙ্কসে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েকদিন আগে গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে দশটায় ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার ম্যাগ্রো এভিনিউর মসজিদে তারাবীর নামাজে যাওয়ার সময় অপর বাংলাদেশি আতিক আশরাফকে দুই কৃষ্ণাঙ্গ যুবক একই কায়দায় হামলা চালিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।এদিকে, নিউইয়র্কে হেইট ক্রাইম আতঙ্ক বেড়েই চলছে। বিশেষ করে রমজান মাসে এ আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে বেশ কটি হামলার ঘটনা উল্লেখ করে কয়েকজন মুসল্লী জানান, তারা এখন পাঞ্জাবী পড়তে রীতিমত ভয় পান। ধর্মীয় পোষাক পরে তারাবি নামাজের জন্যে মসজিদে যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে ঢুকে নামাজরত মুসল্লীদের বেধড়ক মারধোর এবং ব্রঙ্কসে পায়জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত মুয়াজ্জিন মজিবুর রহমান আক্রান্ত হন। এরপর বাংলাদেশী কমিউনিটি অব নর্থ ব্রঙ্কসের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান এবং একজন ক্যাব চালক ব্রঙ্কসে প্রহৃত হন। গত ১ জুন রাতে মোহাম্মদ রশীদ খান (৫৯) নামের আরেক মুসল্লী আক্রান্ত হন জ্যামাইকা এভিনিউর ‘ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টার’ মসজিদ থেকে বের হবার পর। মসজিদের সামনেই তাকে পেটানো হয়। যদিও তার পকেট থেকে কিছুই নেয়নি হামলাকারীরা। এ অবস্থায় তারাবি নামাজের জন্যে মসজিদে যাতায়াতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কয়েকজন একসাথে মসজিদে যাওয়াই উত্তম। পায়জামা-পাঞ্জাবিসহ কোন ধর্মীয় পোশাক পরে নির্জন স্থানে একাকি চলাফেরায় যথাসম্ভব সতর্ক থাকা। এদিকে, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট রমজান উপলক্ষে বিশেষ টহল বাড়িয়েছে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। কোন ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
SM
শেয়ার করুন