Updates :

        লিবিয়ায় শান্তির সুবাতাস, ৩ মাসের মধ্যে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার

        করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে ইউরোপজুড়ে কড়া পদক্ষেপ

        রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের আরও জোরালো ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

        করোনার টিকায় ব্রাজিলে একজনের মৃত্যু

        চরিত্র বদলাচ্ছে সব ঋতু! কেন?

        করোনা: একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু সাড়ে ৬ হাজার

        সিদ্ধার্থ সিংহের 'পঞ্চাশটি গল্প' বইটিকে ঘিরে গল্প লেখার প্রতিযোগিতা

        করোনাভাইরাস: লস এঞ্জেলেসে শিথিল হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা

        প্রস্তাবনা ১৪: নিজস্ব স্টেম সেল রিসার্চ সেন্টার হবে ক্যালিফোর্নিয়ায়

        দুই মাস পর আবারো যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর রেকর্ড

        শেষ প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে মুখোমুখি হচ্ছেন ট্রাম্প ও বাইডেন

        আবার করোনা পজিটিভ রোনালদো

        দেশে আরও ২৪ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১ হাজার ৬৯৬ জন

        আফগানিস্তানে মসজিদে বিমান হামলায় নিহত ১২

        আফগানিস্তানে মসজিদে বিমান হামলায় নিহত ১২

        নির্বাচনে ইরান ও রাশিয়ার বাগড়া: তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

        ইমেইলে ডেমোক্র্যাট ‘ভোটারদের ইরানের হুমকি’

        নির্বাচনের আগে পাশ হচ্ছে না দ্বিতীয় নাগরিক প্রণোদনা

        প্রস্তাবনা ১৭, ১৮: ভোটাধিকার বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর জনমত

        যুক্তরাষ্ট্রে করোনা বিপর্যয়: ৩ রাজ্যে সীমিত হলো ভ্রমণ

সিলেটে পুলিশের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু, গণপিটুনি বলে প্রচার

সিলেটে পুলিশের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু, গণপিটুনি বলে প্রচার

সিলেটের পুলিশের নির্যাতনে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার ভোরে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামের ওই যুবক মারা যান। তিনি নগরের নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। ভোরে সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়েছিলো বলেও অভিযোগ তাদের।

এদিকে, রায়হান হত্যার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে নগরীর আখালিয়া এলাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এলাকাবাসীরও অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে খুন হয়েছেন রায়হান।

মহানগর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।

রায়হান উদ্দিনের বাবা নেই। বাবার মৃত্যুর তার মাকে বিয়ে করেন চাচা হাবিবুল্লাহ। তবে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রায়হান থাকেন আলাদা বাসায়। দুই মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে তার।

রায়হানের পরিবারের সদস্যরা জানান, নগরের মিরের ময়দান এলাকায় শাহজালাল ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে এক চিকিৎসকের সহকারি হিসেবে কাজ করতেন রায়হান। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাত ১০টার দিকে তিনি অফিস শেষে বাসায় ফেরেন। খাওয়া দাওয়ার পর ১১টার দিকে বাসার সামনের রাস্তায় হাটাহাটি করতে বের হন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি তিনি।

রায়হান উদ্দিনের চাচা হাবিবুল্লাহ বলেন, রোববার ভোর ৪টার দিকে একটি অপরিচিত নাম্বার (০১৭৮৩৫৬১১১১) থেকে আমাকে ফোন দেওয়া হয়। ফোন ধরার পর কথা বলে রায়হান। সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকে ‘আমারে বাঁচাওরেবা। আমারে বাঁচাও।’ এরপর আমি তার অবস্থান জানতে চাইলে সে জানায়, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছে। এসময় ফাঁড়িতে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে বলে রায়হান।

হাবিবুল্লাহ বলেন, ফোন পেয়ে সাথেসাথেই আমি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। তখন সেখানে অবস্থানরত একজন বলেন, সে (রায়হান) ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন দেখা করা যাবে না।

এরপর পাশ্ববর্তী কুদরতউল্লাহ মসজিদে নামাজ আদায় করে সকালে আবার পুলিশ ফাঁড়িতে যান উল্লেখ করে হাবিবুল্লাহ বলেন, ফাঁড়িতে যাওয়ার পর একজন লোক আমাকে বলেন, ‘আপনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথাছিলো। টাকা এনেছেন?’ কিছু টাকা এনেছি জানানোর পর তারা আমাকে বসিয়ে রাখেন। এরপর ১০টার দিকে বলেন, ‘আপনার ছেলের শরীর খারাপ করেছিলো। তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওসমানী হাসপাতাল গিয়ে তাকে দেখতে পারবেন।’

হাবিবুল্লাহ বলেন, এরপর আমি ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পারি হিমঘরে রায়হানের লাশ পড়ে আছে।
পুলিশই নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ তার।

ওসমানী হাসপাতালের নিবন্ধন শাখা সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রায়হানের মরদেহ ওসমানী হাসপাতালে আনা হয়।

এ ব্যাপারে ভোরে হাবিবুল্লাহকে কল দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি।

বন্দরবাজার ফাঁড়ি নগরের কতোয়ালি মডেল থানার অধীনে। এই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিঞা ছুটিতে আছেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, ভোরে কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে আহত হন রায়হান। যিনি একাধিক ছিনতাই মামলার আসামি। পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

কাষ্টঘরের কোন জায়গা থেকে রায়হানকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কারা উদ্ধার অভিযানে ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম)-এর সাথে কথা বলুন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তময় সরকার বলেন, পরিবারের অভিযোগটি আমরাও শুনেছি। পুরো বিষয়টি উপ কমিশনার (উত্তর)-এর নেতৃত্বে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসলে কোন জায়গা থেকে কারা রায়হানকে উদ্ধার করেছে তাও তদন্তে বের হয়ে আসবে।

কাষ্টঘর এলাকার এক আইজীবী বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাই কাষ্টঘর পূজামণ্ডপের পাশে আমার বাসার সামনে অনেক পুলিশ। তখন পুলিশ জানায়, এই এলাকায় গণপিটুনিতে একজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আমরা কেউই গণপিটুনির বিষয়টি টের পাইনি।

কাষ্টঘর এলাকা নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম বলেন, আমি এলাকার অনেকের সাথে কথা বলেছি। কেউই গণপিটুনির বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। ভোরের দিকে এমন কিছু তারা শুনেননি বলেও জানিয়েছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি থেকে রায়হানের পরিবারকে ফোন দেওয়া ও টাকা দাবি করার অভিযোগ পেয়ে আমরা তদন্তে নেমেছি। এই ঘটনার পেছনে পুলিশের কেউ দায়ী থাকলে তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যে মোবাইল নাম্বার থেকে রায়হানের চাচাকে ফো্ন দেওয়া হয়েছিলো এই নাম্বারটি কার জনতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়টিও আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এস

শেয়ার করুন