বাজারে আসছে আঙুলের ছাপ শনাক্তকারী ক্রেডিটকার্ড
ক্রেডিটকার্ড সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ম্যাস্টারকার্ড তৈরি করেছে নতুন ধরনের কার্ড। মূল্য পরিশোধের কাজে ব্যবহৃত এই কার্ডটি আঙুলের ছাপ শনাক্ত করতে পারবে।
দক্ষিণআফ্রিকার দুটি সফল পরীক্ষার পর কার্ডটির উদ্বোধন করা হচ্ছে।
অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মোবাইলের মতোই কাজ করবে কার্ডটি। ক্রয়-বিক্রয়ের সময় ব্যবহারকারীদের সেন্সরের উপর আঙুল রাখতে হবে। এ ছাড়াও কার্ডটি টার্মিনালের ইলেক্ট্রিসিটি ব্যবহার করবে, ফলেএর নিজস্ব ব্যাটারির প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি এই প্রথম একই কার্ডে শুধু ছাপ দেওয়ার ব্যবস্থাই নয়, তা শনাক্ত করার প্রযুক্তিও কার্ডের ভেতরেই দেওয়া থাকবে।
মাস্টারকার্ডের নিরাপত্তারবিষয়ক প্রধান অজয় ভাল্লা বলেন, আঙুলেরছাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি মানুষকে বাড়তি সুবিধা ও নিরাপত্তা দেবে। এটি চুরি করা বা নকল করা সম্ভব নয়।
তবে এই কার্ডটি নিয়েও জালিয়াতি সম্ভব। বার্লিনের সিকিউরিটি রিসার্চ ল্যাব- এর প্রধান গবেষক কার্স্টেন নোল বলেন, কারো আঙুলের ছাপ তার স্পর্শ করা কাঁচ বা অন্য কোনো কিছু থেকে সংগ্রহ করা অসম্ভব নয়। আর এই তথ্য একবার চুরি হয়ে গেলে আর মাত্র ৯ বার বদলানো সম্ভব হবে, এর বেশি নয়। ভেঙে বললে দাঁড়াচ্ছে, মানুষের দুই হাতে ১০ আঙুল আছে। কোনো ব্যক্তির ১০ আঙুলের ছাপই যদি চুরি হয়ে যায়, তাহলে ওই ব্যক্তির জন্য আর আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা সম্ভব হবে কোনো দিনই।
তবে বিশেষজ্ঞরা এ-ও বলছেন, যদিও এই কার্ড-ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র নয়, তবু তা বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির বিচক্ষণ প্রয়োগ।
নোল বলেন, চিপ-পিন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দুর্বলতম অংশ হলো পিন। আঙুলের ছাপ সে সমস্যা দূর করতে পারে। দুর্বল পাসওয়ার্ড বলতে কিছু থাকল না। অপরাধীদের পক্ষে মানুষের আঙুল কেটে নেওয়া অসাধ্যপ্রায়। তাই এ মুহূর্তে এ এটাই শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি।
কিন্তু এই প্রযুক্তি এ মুহূর্তে শুধু দোকানে দোকানেই ব্যবহার করা যাবে। অনলাইন বা কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়- এমন আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপদ মানদণ্ডের প্রয়োজন হবে।
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন