মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
দুবাই পালিয়েছেন মাদক কারবারি চেয়ারম্যান আজিজ
গার্মেন্টস পণ্যের আড়ালে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ৩৭ কোটি টাকা মূল্যের ৩৭ হাজার বোতল বিদেশি মদের চালান এনেছে পিতা-পুত্রের সিন্ডিকেট। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম ও তার দুই ছেলে মিলেই করতেন এই অবৈধ মদের কারবার। এর মধ্যে তার ছোট ছেলে আব্দুল আহাদকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাবের গ্রেফতার অভিযানের আগেই দুবাই পালিয়ে গেছেন আজিজ চেয়ারম্যান ও তার বড় ছেলে আশিক ইসলাম। দুবাই থেকেই তারা এই মদ এনেছিলেন।
এদিকে মদের চালান ধরা পড়ার আগের দিন মুন্সীগঞ্জে তাদের বাড়িতে এক ভাড়াটিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আগে একবার অটোরিকশার ব্যাটারি আমদানির নামে অবৈধ সিগারেট এনে গ্রেফতার হন এই চেয়ারম্যান। সেখান থেকেও কৌশলে বেড়িয়ে গেছেন তিনি। শ্রীনগরে রয়েছে তার বিশাল ওয়্যারহাউজ।
সম্প্রতি এই মদের চালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আব্দুল আহাদ (২২), নাজমুল মোল্লা (২৩) ও সাইফুল ইসলামকে (৩৪) গ্রেফতার করে র্যাব। আজিজ চেয়ারম্যানের ছোট ছেলে আব্দুল আহাদও দুবাই পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার হন। গ্রেফতারের পর ব্রিফিংয়ে র্যাব কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, যাদেরকে গ্রেফতার করা হয় তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন নম্বর পেয়ে র্যাব কর্মকর্তারা ঐ নম্বরে ফোন দেন। ফোন রিসিভ করে ঐ ব্যক্তি বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে মদের চালানটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিছুক্ষণ পরে তাকে আবার কল করা হলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
র্যাব কমান্ডার মঈন স্বীকার করেছেন আশিক ইসলাম ও তার বাবা আজিজুল ইসলাম গত শনিবার ভোরে দুবাই চলে গেছে। আহাদও দুবাই যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর গিয়েছিল। পিতা ও দুই পুত্রের ব্যবসায় সহযোগিতা করেন দুবাইয়ে একটি হোটেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নাসির উদ্দিন। তার বাড়িও মুন্সীগঞ্জ। নাসিরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন আজিজুল ইসলাম। নাসিরের মাধ্যমেই মদের চালান দেশে আসে। র্যাব জাফর ও শামীম নামের দুই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে শনাক্ত করেছে। জানা গেছে, আজিজুল এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ বার, আহাদ ৪ থেকে ৫ বার ও আশিক কয়েকবার দুবাই গেছেন। গ্রেফতার আহাদ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা হয়েছে।
এদিকে আজিজ চেয়ারম্যানের মুন্সীগঞ্জের বাড়ির এক ভাড়াটিয়ার মৃত্যু নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। চেয়ারম্যান আজিজুল কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। তিনি দুইবার চেয়ারম্যান হয়েছেন। মদ আটকের আগের দিন শুক্রবার আজিজুলের ভাড়াটিয়া ফারুক হোসেনের (৪০) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। চেয়ারম্যানের বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন তিনি। এই ঘটনায় ফারুকের বড় ভাই শাহজাহান মুন্সীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেছেন, শুক্রবার রাত ২টা থেকে পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে ফারুকের মৃত্যু হয়। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। কীভাবে মৃত্যু হলো বা মৃত্যুর কারণ তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। এখন চেয়ারম্যানের মদের চোরাচালানের খবর শোনার পর ফারুকের আত্মীয়স্বজনেরা নানা সন্দেহ করছেন। ফারুক সেলামতি গ্রামের আব্দুল মান্নান শেখের ছেলে। যেদিন মৃত্যু হয়েছিল, সেদিন তিনি একাই বাসায় ছিলেন।
শ্রীনগর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, লাশের পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। প্রতিবেদন এখনো হাতে পায়নি পুলিশ। তা পেলে মৃত্যুর কারণ বোঝা যাবে।
এদিকে, ষোলঘরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ষোলঘর-বীরতারা রাস্তার পাশে প্রায় ১ একর জমির ওপর আজিজের গোডাউন রয়েছে। এখানে প্রায়ই রাতের বেলা কনটেইনার আসে। এর আড়ালে কি আনা নেওয়া হতো তা তারা জানেন না। প্রথম দফায় চেয়ারম্যান হয়েই চীন থেকে অটোরিকশার ব্যাটারি আমদানির সঙ্গে সঙ্গে নানা রকম পণ্য আমদানি শুরু করেন। অবৈধ ঘোষণার সিগারেট আমদানি করতে গিয়ে পানগাঁও বন্দরে ধরাও পড়েন তিনি।
এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/বি
[এলএ বাংলাটাইমসের সব নিউজ আরও সহজভাবে পেতে ‘প্লে-স্টোর’ অথবা ‘আই স্টোর’ থেকে ডাউনলোড করুন আমাদের মোবাইল এপ।]
News Desk
শেয়ার করুন