আপডেট :

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে গ্যাস কর, ৪ জুলাইয়ের ছুটির আগে বাড়বে জ্বালানির খরচ

        ক্যালিফোর্নিয়ার আগ্নেয়গিরিতে ১,৫০০ ফুট নিচে পড়েও প্রাণে বাঁচলেন নারী পর্বতারোহী

        দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন দূতরা, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নয়

        যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহ, জারি জরুরি সতর্কতা

        ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে এক বছরে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

        জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট, ট্রাম্পের উদ্যোগে বড় ধাক্কা

        ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড পচা খাবারে নাকাল লস এঞ্জেলেস

        ক্যালিফোর্নিয়ার শেল্টারে ১১৭ কুকুরের কবর, ৬০০টির খোঁজ নেই

        ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার ধাক্কায় শপিং সেন্টারে নিহত ৭৯ বছর বয়সী নারী

        যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা প্রশমনের পথে, আপাতত হামলা বন্ধে সম্মতি

        অবতরণের সময় ড্রোনের ধাক্কার দাবি জেটব্লু পাইলটের

        দেরিতে পৌঁছানো ডাকযোগে ভোট গণনার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, ট্রাম্পের বড় ধাক্কা

        অবৈধ বর্জ্য তদন্তে মিলল মাদক কারখানা, জব্দ ৮০০ পাউন্ডের বেশি মেথ

        হাসপাতালের নামে প্রতারণা, সতর্ক করল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া

        জাহাজে হামলার পর ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের

        গোপন নথি রাখার দায় স্বীকার করলেন ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা জন বোল্টন

        লস এঞ্জেলস দাবানল মামলায় বিচার ভেস্তে গেল, ফের বিচার হবে

        বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে টিপস সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষুব্ধ বিদেশি ফুটবল ভক্তরা

        এলএইউএসডির নতুন সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেলেন আন্দ্রেস চেইট

        বারব্যাঙ্ক বিমানবন্দর হয়ে ভ্রমণকারী এক ব্যক্তির হাম শনাক্ত, সতর্কতা জারি

সু চির পদত্যাগ করা উচিত ছিল : জাতিসংঘের হাই কমিশনার

সু চির পদত্যাগ করা উচিত ছিল : জাতিসংঘের হাই কমিশনার

জাতিসংঘের বিদায়ী হাই কমিশনার বলেছেন, রাখাইনে গত বছর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার বাহিনীর বর্বর ও নৃশংস অভিযানের ঘটনায় অং সান সু চির পদত্যাগ করা উচিত ছিল।

বিবিসি জানিয়েছে, মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেইন বলেছেন- নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সু চির যেভাবে মিয়ানমার বাহিনীর অভিযানের পক্ষে অজুহাত দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন তা ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’।

রাখাইনে সম্ভাব্য গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের বিচারের সুপারিশ করে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেইদ এই মন্তব্য করলেন।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার বলেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে মিয়ানমার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। তবে ‘কৌশলগতভাবে জাতিগত নিধন’ অভিযানের জন্য অভিযুক্ত মিয়ানমার বাহিনী এর আগেও নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে।

জাতিসংঘ কমিশনের সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে, রাখাইনে ব্যাপকহারে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, সেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার বাহিনীর অভিযানের উদ্দেশ্যই ছিল গণহত্যা। এ জন্য মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করেছে এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে রাখাইনে মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংসহ ছয় জেনারেলের বিচারের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা বন্ধে সেনাবাহিনীর রাশ টানতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ব্যর্থ হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদায়ী হাই কমিশনার বলেন, “তিনি (সু চি) যে অবস্থানে আছেন, সেখান থেকে কিছু করতে পারতেন। তিনি চুপ করে থাকতে পারতেন- অথবা আরও ভালো হতো, তিনি যদি পদত্যাগ করতেন।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাদের মুখপাত্র হওয়ার কোনো দরকার ছিল না সু চির। তার বলা উচিৎ ছিল না যে, ‘এসব (রাখাইনে বর্বর অভিযান) বড় ধরনের তথ্যগত বিভ্রান্তি, এগুলো সব বানানো।’

তিনি বলতে পারতেন, ‘দেখ আমি হয়তো, দেশের ন্যূনতম নেতা হওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি, কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতিরি মধ্যে নয়’ –বলেন জেইদ।

এদিকে রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতন থেকে মিয়ানমার বাহিনীকে নিবৃত্ত করতে কোনো চেষ্টা না করায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত সু চির নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবি উঠলেও বুধবার নোবেল কমিটি বুধবার জানিয়েছে, তার পুরস্কার কেড়ে নেওয়া হবে না বলে।

গত বছর মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশের চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলার পর দমন অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। নৃশংসতার মধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং অগাস্ট মাস থেকে সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা সংখ্যালঘু মুসলিম। কয়েক প্রজন্ম ধরে তারা রাখাইনে বসবাস করলেও তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কয়েক বছর ধরে নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াসহ নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীর উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ইয়ত্তা নেই।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু চৌকিতে সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার হামলার অভিযোগ করে রাখাইনে অভিযান চালায় মিয়ানমার বাহিনী। তারা সেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়, নারীদের ধর্ষণ করা হয় এবং নির্বিচারে গুলি করে বহু মানুষকে হত্যা করে।

মিয়ানমার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময় প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সব মিলিয়ে কক্সবাজারে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখের ওপরে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত