মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
কাবুলে সরকারি ভবনে হামলায় নিহত ৪৩
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি সরকারি ভবনে জঙ্গি হামলায় অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছেন।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সোমবার বিকালে কাবুলের পূর্বাংশে দেশটির সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কম্পাউন্ডে গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী। তখন স্বয়ংক্রিয় রাইফেলে সজ্জিত অন্য হামলাকারীরা প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভবনে হামলা চালিয়ে এর কর্মীদের জিম্মি করে। তাদের একটি অংশ ওই কম্পাউন্ডের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলোর সঙ্গে লড়াই শুরু করলে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদ মাজরোহ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে এ পর্যন্ত ৪৩টি মরদেহ ও ১০ জন আহতকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি ওই ভবনে হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ ঘণ্টাব্যাপী লড়াইয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তিন জঙ্গি নিহত হন। সোমবার রাতে অভিযান শেষ করার আগেই ওই ভবন থেকে সাড়ে তিনশরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয় আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এর আগে তালেবান বিদ্রোহীরা আফগানিস্তানের সরকারি দপ্তর, বিদেশী দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিতে এ ধরনের হামলা চালিয়েছিল।
সরকারি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ হামলার জন্য তালেবানকে দায়ী করেন। তবে তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানান, তারা সোমবারের হামলায় জড়িত নন।
সর্বশেষ এ হামলাটি তখনই ঘটল, যখন আফগানিস্তান থেকে অন্তত পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগানিস্তানে বর্তমানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় কাবুলের সরকারি কার্যালয় ও বিদেশী মিশনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, হঠাৎ করে সেনা প্রত্যাহারে তালেবান যুগে ফিরে যেতে পারে আফগানিস্তান। বিদেশী সেনা প্রত্যাহার ও পশ্চিমা সমর্থিত সরকার হটানো এবং চরমপন্থী ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তালেবান গোষ্ঠী।
বর্তমানে আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে তারা। নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা ও মানবঢাল হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রায় নিয়মিতই হামলা চালিয়ে আসছে তারা।
সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করা হলেও তালেবান ও বিদেশী মদদপুষ্ট আফগান সেনাদের সঙ্গে লড়াই থামেনি। উত্তরাঞ্চলে জেলা পুলিশপ্রধানকে হত্যার পর গতকাল থেকে ফারইয়াব প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তালেবানরা।
কারিম ইউরেশ নামে ফারইয়াব পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, গার্জিওয়ান জেলায় এক সংঘর্ষে পুলিশপ্রধান নিহত হয়েছেন। সেখানে ১৬ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন