মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র
তরল নিকোটিন জাতীয় ব্যাটারি চালিত যন্ত্র ই-সিগারেট বা ইলেক্ট্রিক সিগারেট প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ২৫ জুন ভোট গ্রহনের মাধ্যমে শহরটিকে ই-সিগারেটমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এর ফলে সানফ্রান্সিসকোর দোকানে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। এমনকি অনলাইনে বিক্রি করাকেও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
ই-সিগারেটে বিষাক্ত তামাক সেবনের বদলে আসক্তরা বাষ্পে পরিণত হওয়া তরল নিকোটিন গ্রহণ করে। এ কারণে এটি ‘ভ্যাপিং’ নামেও পরিচিত। এটি সেবনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে তরুণ সমাজ। ২০১৭ সালে সান ফ্রান্সিস্কোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার (ইউসিএসএফ) এক গবেষণায় উঠে আসে, ২০০৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধূমপানের যে হার ছিল, ২০১৪ সালে সাধারণ ধূমপায়ী ও ই-সিগারেটের নেশায় আসক্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
শহরের অ্যাটর্নি জেনারেল ডেনিস হেরারা বলেন, ‘ই-সিগারেট বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কেননা এর মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ক্রমশ সিগারেট সেবনের দিকে ঝুঁকছে।’
তবে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-সিগারেট কোম্পানি জুল ল্যাবস (সান ফ্রান্সিসকো শহরেই যার সদর দপ্তর) এ সিদ্ধান্তে আশংকা প্রকাশ করে বলছেন, ই-সিগারেট বন্ধের ফলে ধূমপায়ীরা আবার সিগারেটে ফেরত যাবে। ফলে কালোবাজার তৈরি হবে। তাই এ সিদ্ধান্ত ভালো কোনো ফল বয়ে আনবে না।
অপরদিকে ধুমপান বিরোধীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো তরুণ সমাজকে টার্গেট করে ই-সিগারেট উৎপাদন করছে। এতে অল্প বয়সীরা উৎসাহিত হচ্ছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে ২০২১ সাল পর্যন্ত ই-সিগারেট পণ্য মূল্যায়ন করতে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেয় খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
তবে ই-সিগারেট আসার পর ধুমপানের হার কমে যাওয়ার কোনও প্রমাণ নেই বলে দাবি করেন ইউসিএসএফ সেন্টার ফর টোব্যাকো কন্ট্রোল রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের গবেষক লরেন দুতরা বলেন, অনেক ধুমপায়ী তরুণ যেমন সিগারেট ছেড়ে ই-সিগারেট ধরেছেন, তেমনই অনেকে নতুন করে ই-সিগারেটের নেশায় আসক্ত হয়েছেন।
এদিকে, সান ফ্রান্সিসকো শহরের মেয়র লন্ডন ব্রিডের হাতে ১০ দিন সময় আছে নিষেধাজ্ঞা বাতিলের। এর ৭ মাস পর থেকে এ আইনটি কার্যকর হবে। যদিও আইনটি কার্যকর করা বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়।
News Desk
শেয়ার করুন