প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত মুম্বাই, নিহত ৩৪
প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে বিপর্যস্ত ভারতের বাণিজ্য নগরী। বেহাল দশা থানেসহ মহারাষ্ট্রের অন্যান্য জেলাও। ইতিমধ্যে বৃষ্টিজনিত কারণে বন্যায় মুম্বাই, পুনে ও থানের বিভিন্ন এলাকায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৪ জনের। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ফড়ণবিস সরকার। সোমবার রাতে মুম্বাই পৌরসভার কমিশনারও সমস্ত স্কুল এবং কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছেন।
গত পাঁচদিন ধরে চলা বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায়। তবে তা আরও খারাপ হয়েছে সোমবার থেকে। গত একদশক এই রকম বৃষ্টি হয়নি বলেও দাবি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর ফলে থমকে গিয়েছে বিমান ও ট্রেন পরিষেবাও।
এপ্রসঙ্গে পুনের ইন্ডিয়ান মেটেরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট(আইএমডি)-র আধিকারিক অনুপম কাশ্যপী জানান, গত পাঁচদিন ধরে চলা বৃষ্টির জেরে মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজ্যের উত্তরাংশের পরিস্থিতি খুব খারাপ। আস্তে আস্তে দক্ষিণ দিকেও বাড়ছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। পাঁচদিন বৃষ্টিতে কোঙ্কন, গোয়ার অবস্থাও শোচনীয়।
মহারাষ্ট্র পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে প্রবল বৃষ্টির জেরে মালাড-পূর্বের পিমপ্রিপড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ভেঙে পড়ে। এতে এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন আরও অনেকে। তাদের মধ্যে ১০ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে বলে সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর।
তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। বৃহন্মুম্বাই পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুরার গ্রামে কিছু কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ভেঙে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন দমকল ও এনডিআরএফ-এর কর্মীরা। অন্যদিকে সোমবার রাত ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ পুনের অম্বেগাঁও এলাকার সিংবাদ কলেজে পাঁচিল ভেঙে কমপক্ষে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ কল্যাণের ন্যাশনাল উর্দু স্কুলের দেওয়াল ভেঙে মারা যান আরো তিনজন। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও বিভিন্ন জায়গায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনেকে আটকা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
News Desk
শেয়ার করুন