আপডেট :

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় যৌনপাচারবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১০

        গাছের ডাল ভেঙে ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু, পরিবার পাচ্ছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

        বিমানের দরজা খোলার চেষ্টা, জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হলো ফ্লাইট

        ওহাইওর একটি বাড়ি থেকে অমানবিক পরিবেশে ১৬ শিশু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ প্রাপ্তবয়স্ক

        এম্পায়ার স্টেটে উঠে প্রেমের প্রস্তাব, আটক দুইজন

        যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে নবায়ন করল না উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে গ্যাস কর, ৪ জুলাইয়ের ছুটির আগে বাড়বে জ্বালানির খরচ

        ক্যালিফোর্নিয়ার আগ্নেয়গিরিতে ১,৫০০ ফুট নিচে পড়েও প্রাণে বাঁচলেন নারী পর্বতারোহী

        দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন দূতরা, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নয়

        যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহ, জারি জরুরি সতর্কতা

        ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে এক বছরে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

        জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট, ট্রাম্পের উদ্যোগে বড় ধাক্কা

        ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড পচা খাবারে নাকাল লস এঞ্জেলেস

        ক্যালিফোর্নিয়ার শেল্টারে ১১৭ কুকুরের কবর, ৬০০টির খোঁজ নেই

        ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার ধাক্কায় শপিং সেন্টারে নিহত ৭৯ বছর বয়সী নারী

        যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা প্রশমনের পথে, আপাতত হামলা বন্ধে সম্মতি

        অবতরণের সময় ড্রোনের ধাক্কার দাবি জেটব্লু পাইলটের

        দেরিতে পৌঁছানো ডাকযোগে ভোট গণনার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, ট্রাম্পের বড় ধাক্কা

        অবৈধ বর্জ্য তদন্তে মিলল মাদক কারখানা, জব্দ ৮০০ পাউন্ডের বেশি মেথ

        হাসপাতালের নামে প্রতারণা, সতর্ক করল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া

প্রত্নতাত্ত্বিক দেয়ালেও ছিল মসজিদের বৈশিষ্ট্য

প্রত্নতাত্ত্বিক দেয়ালেও ছিল মসজিদের বৈশিষ্ট্য


ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির তৈরির জন্য বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি রামলালাকে দেয়ার রায় দিয়েছে। মামলার মুসলিম পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে অযোধ্যার বিকল্প জায়গায় পাঁচ একর জমি দেয়ার রায় ঘোষণা করেছে।

অযোধ্যা মামলার রায়দানে বড় ভূমিকা নিয়েছে পুরাতত্ত্ব। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের রিপোর্টের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, ধ্বংস হওয়া বাবরি মসজিদের নিচে অ-ইসলামি ধ্বংসাবশেষের প্রমাণ মিলেছে। মাটির বিভিন্ন স্তর থেকে উদ্ধার হওয়া পুরাতাত্ত্বিক সামগ্রীও ইসলামি ধাঁচের নয়। তবে সে সব যে হিন্দু মন্দিরেরই অবশেষ, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

অযোধ্যায় প্রথম খননকার্য হয়েছিল উনিশ শতকে এএসআই-এর প্রতিষ্ঠাতা আলেকজান্ডার কানিংহামের সময়ে। ১৯৬০-৭০ এর দশকেও দফায় দফায় খননকার্য হয়। ১৯৯২ সালে ধ্বংস হয় বাবরি মসজিদ। ২০০৩ সালে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে ফের খনন চালিয়ে পাঁচ মাস পরে রিপোর্ট দেয় এএসআই। আজকের রায় সেই রিপোর্টকেই অনুসরণ করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রহ্লাদ পটেল জানিয়েছেন, শিগগিরই ওই রিপোর্ট বই আকারে প্রকাশ করা হবে।

রামলালা বিরাজমানের চৌহদ্দির চারপাশে ১০ ফুট ছেড়ে খননকার্যে নেমেছিলেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। খননকারী দলের প্রধান বি আর মণি আজ জানান, সামান্য খুঁড়তেই মাটির নিচে নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকা ৫০টি বড় স্তম্ভ আবিষ্কার হয়। মিলেছে ইটের গর্ভগৃহ, যার সঙ্গে রেওয়া বা শ্রাবস্তীর প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনার মিল রয়েছে। সেই তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এএসআই-এর দাবি, অযোধ্যার গর্ভগৃহটি সম্ভবত দশম শতাব্দীতে বানানো হয়েছিল। লৌহ যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনাও উদ্ধার করেন খননকারীরা। মণি বলেন, ‘‘ওই স্থানে সবচেয়ে বড় মাপের নির্মাণটি হয়েছিল একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দীতে। ৫০টি স্তম্ভ ওই সময়েই নির্মাণ হয়েছিল।’’ রিপোর্ট বলছে, পরবর্তী সময়ে ওই স্তম্ভের উপর অন্তত তিনটি তলা গড়ে তোলা হয়েছিল। যার উপরে মসজিদের কাঠামো গড়ে ওঠে।

রিপোর্টের শেষ ভাগে এএসআই দাবি করে, মসজিদের তলায় দশম শতাব্দী থেকে কাঠামোগত নির্মাণের ধারাবাহিক উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। মণির মতে, ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া ঘট বা কলস, হাতি, কুমির বা কচ্ছপের টেরাকোটা মূর্তি মন্দিরের উপস্থিতিকেই প্রমাণ করে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের একাংশের দাবি, কুমিরের মুখওয়ালা জল বেরোনোর রাস্তাও প্রমাণ করে, এখানে এক সময়ে মন্দির ছিল। সাধারণত, মসজিদে এ রকম দেখা যায় না।

এএসআই-এর এই রিপোর্টটি অবশ্য বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা আদালতে জানান, খননের সময়ে হাড় ও চারকোলের নমুনা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু কেবল চারকোলের কার্বন ডেটিং (সি১৪) করা হয়। জবাবে বি আর মণি বলেন, ‘‘সময় বলার নির্ভুল ঘড়ি হল চারকোল। সেই কারণে তা ব্যবহার করা হয়েছে।’’ তবে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টও মেনেছে, এএসআই-এর রিপোর্ট থেকে মন্দিরের প্রত্যক্ষ প্রমাণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড তাদের তরফে নিয়োগ করেছিল দুই প্রত্নতত্ত্ববিদ সুপ্রিয়া বর্মা ও জয়া মেননকে। ওই দুই অধ্যাপক এএসআই-এর রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে বলেছিলেন, এএসআই-তত্ত্বের মূল ভিত্তি হল ৫০টি স্তম্ভ। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, স্তম্ভের গোড়াগুলো ভাঙা এবং স্তম্ভের ভিতরে কাদা-মাটি ছাড়া কিছু নেই। রিপোর্টে পশ্চিম দিকের একটি দেয়ালের উল্লেখ করা হয়েছে। মেননদের বক্তব্য, এই ধাঁচের দেয়াল মসজিদেরই বৈশিষ্ট্য। প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশনের ঐতিহাসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই দু’জন। তাদের মতে, ওই নির্দশনগুলো আসলে ধ্বংসস্তূপ থেকেই উদ্ধার হয়েছে, মাটির তলা থেকে নয়। খননকার্যের সময়ে অযোধ্যায় গিয়েছিলেন রোমিলা থাপার, রামশরণ শর্মা, ডি এন ঝা-র মতো ইতিহাসবিদরা। তাঁরাও এএসআই-এর দাবি নিয়ে সন্দিহান।
ডি এন ঝা এ দিন সরাসরি অভিযোগ করেন, এএসআই রিপোর্ট ত্রুটিযুক্ত। যে সব নিদর্শনের ভিত্তিতে এএসআই যে ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার মধ্যেই গলদ রয়েছে। নিদর্শনগুলোর কালনির্ণয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে তার।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত