আপডেট :

        লস এঞ্জেলেসে পাইপলাইন ফেটে তেল ছড়িয়ে পড়ল রাস্তায়, পৌঁছাল এলএ নদীতেও

        সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলে নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি, দমকল বাহিনীর স্বস্তি

        জ্বালানি সংকটের মধ্যেই ভারতে মার্কো রুবিও, তেল বিক্রিতে জোর যুক্তরাষ্ট্রের

        গ্রিন কার্ড পেতে এখন বেশিরভাগ আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আবেদন করতে হবে

        স্ট্যাটেন আইল্যান্ড জাহাজঘাটিতে বিস্ফোরণ, নিহত ১ আহত বহু দমকলকর্মী

        ইউএফও রহস্যে নতুন নথি প্রকাশ, “চারদিকে ছুটে বেড়ানো অরেঞ্জ অরব” দেখার দাবি

        তুলসি গ্যাবার্ডের পদত্যাগ, স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসায় পাশে থাকার সিদ্ধান্ত

        ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর দৌড়ে বেসেরার গতি বাড়ছে, রিপাবলিকান ভোট টানতে হিলটনের চেষ্টা

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনে স্পেন্সার প্র্যাটকে সমর্থন ট্রাম্পের

        সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে একাধিক দাবানল, হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

        রোলেক্স প্রতারণায় ১৫ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ

        যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের নিল সিয়েরা লিওন

        তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প, কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা

        কিউবার সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হত্যা মামলা

        ইসলামিক সেন্টার হামলায় নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ নায়ক হিসেবে সম্মানিত

        স্যান্ডি ফায়ারে সিমি ভ্যালির প্রায় ৪৪ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

        যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ উপ-রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

        ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর বোয়িং থেকে ২০০ বিমান কিনবে চীন

        ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীর কাছে পরাজিত ট্রাম্পবিরোধী রিপাবলিকান নেতা

        নিউইয়র্ক সিটিতে খোলা ম্যানহোলে পড়ে নারীর মৃত্যু

রোহিঙ্গা গণহত্যায় আরও দুই সেনার স্বীকারোক্তি

রোহিঙ্গা গণহত্যায় আরও দুই সেনার স্বীকারোক্তি

রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার স্বীকারোক্তি দিয়েছে আরও দুই সেনা সদস্য। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দুই সেনার আলোচিত জবানবন্দি প্রকাশের পর পাওয়া গেছে নতুন ভিডিও ফুটেজ।

যাতে আগের দু’জনসহ একসঙ্গে চার সেনা সদস্যকে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিতে দেখা যায়। এক সেনা সদস্য তার স্বীকারোক্তিতে বলেন, মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তারা বলতেন, এই দেশে ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সবাই দাস।

জানা গেছে, নতুন দুই সেনা সদস্যও জবানবন্দি দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। তারা হলেন- চ্যাও মিও অং এবং পার তাও নি। এর আগে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন জ নাইং তুন ও মায়ো উইন তুন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার জবানবন্দি দিয়ে গেল সপ্তাহে অনেকটা চমক হয়ে দৃশ্যপটে আসেন তারা। তুলে ধরেন রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের বিস্তারিত বিবরণ।

এবার রাখাইনে দায়িত্ব পালন করা অপর দুই সৈনিক চ্যাও মিও অং ও পার তাও নি মুখ খুলেছেন নিজ দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। জ নাইং ও মায়ো উইনের সঙ্গে একসঙ্গে ভিডিওতে স্বীকারোক্তি দেন তারা।

চ্যাও মিও অং বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন চালিয়েছে সেনাবাহিনী। বাহিনীর মধ্যে জাতিগতভাবে বৈষম্য করা হয়। অনেক কর্মকর্তা মাদকাসক্ত। মাদকে পৃষ্ঠপোষকতাও রয়েছে তাদের।

পার তাও নি বলেন, তারা আমাদের (সেনা কর্মকর্তারা) বলতেন ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সবাই দাস। তাদের সঙ্গে সে হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। সন্ত্রাসী বাহিনীর মতো অস্ত্র ব্যবহার করে বেসামরিক জনগণের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে সেনাবাহিনী।

এর আগে স্বীকারোক্তিতে মায়ো উইন তুন বলেছেন, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনে তিনি ও তার ব্যাটালিয়নকে পাঠানো হয়েছিল সেখানকার কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালানোর জন্য।

তিনি ৩০ জন রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিলেন। রোহিঙ্গাদের মরদেহ গণকবর খুঁড়ে পুঁতে দেন। একজন নারীকে ধর্ষণের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।

আরেক সেনা সদস্য জ নাইং তুন বলেছেন, তার ব্যাটালিয়ন প্রায় ২০টি রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। এ পথে যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করেছে। এই দু’জনের বক্তব্যের ভিত্তিতে মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটস জানিয়েছে, তারা উভয়ে প্রায় ১৮০ রোহিঙ্গা হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই চার সেনার মধ্যে দুজন আছেন হেগের অপরাধ আদালতের জিম্মায়। বাকি দু’জনও আদালতে জবানবন্দি দেবেন বলে জানা গেছে। গণহত্যার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারেন এই সেনারা- এমন মত মানবাধিকার কর্মীদের।

ফোর্টিফাই রাইটসের সিও মাথিউ স্মিথ বলেন, এই প্রথম তাদের সেনাবাহিনীর মধ্যকার কারও কাছ থেকে গণহত্যার খবর আমরা পাচ্ছি।

তাদের কথায় স্পষ্ট, রোহিঙ্গাদের নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েই অভিযানে নেমেছিল মিয়ানমার সেনাবাহনী। বিচারের প্রক্রিয়ায় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই চারজনের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে রাখাইনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।

সাবেক সেনাসদস্যের এই স্বীকারোক্তির ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে চাপে ফেলেছে মিয়ানমারকে। বিশেষ করে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির অবস্থানকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

কারণ জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা মামলায় তিনি সশরীর হাজির হয়ে নিজের দেশের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ কারণে রোহিঙ্গা গণহত্যার এই স্বীকারোক্তিকে আমলে নিয়ে মিয়ানমারের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।

তবে প্রথম দুই সেনাসদস্য স্বীকারোক্তি দেয়ার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এখন দায় ঢাকার চেষ্টায় নেমেছে। তারা বলেছে, ওই দুই সেনাসদস্যের কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ মিন তুন বিবিসি বার্মিজকে বুধবার বলেন, মায়ো উইন তুন এবং জ নাইং তুন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। আরাকান আর্মি তাদের বন্দি করে হুমকিধমকি ও নির্যাতন করে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আই

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত