আপডেট :

        সোমবারও বৃষ্টি থাকবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায়, এরপর আবারও বাড়বে তাপমাত্রা

        ঝড় র‍্যাচেলের বিপদ কাটলেও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন শঙ্কা, সামনে দাবানলের ঝুঁকি বাড়াবে সান্তা আনা বাতাস

        লস এঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় নিথ্যা রমন, নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন

        পুরোনো জনপ্রিয় নামেই নতুন গাড়ি আনছে জিপ, ফিরছে বহুল বিক্রীত রেনেগেড

        খরচ বাড়ছে, লাভ কমছে, তবু ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য ধরে রাখতে লড়ছেন মার্কিন খামারিরা

        জ্বালানি যুদ্ধবিরতির পরও রুশ হামলায় ইউক্রেনে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে বহু এলাকা

        উপকূলে বন্যার শঙ্কা, দেড় মাইল রুট বদলে শুরু হলো লং বিচ ম্যারাথন

        ক্যালিফোর্নিয়ার সৈকতে পানিতে উপুড় হয়ে ছিলেন এক ব্যক্তি, পরে তাঁর মৃ ত্যুর খবর

        বাসের সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে উত্তাল বৈঠক, লস এঞ্জেলেসের গৃহহীন সেবা সংস্থা বদলের উদ্যোগে বাধা

        ঝড় র‍্যাচেলের প্রভাব কমলেও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বন্যা অব্যাহত

        পেনসিলভানিয়ার বাড়িতে বন্দুক হামলায় নিহত আটজন, তাদের মধ্যে দুই শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারী

        রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিপজ্জনক মোড় নেওয়ার আশঙ্কা

        ১২ বছরের শিশুকে যৌন নি র্যা তনের অভিযোগে কুইন্সে ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রে প্তা র

        হারিকেন ইসাইয়াসের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনের মৃ ত্যু, বিদ্যুৎহীন পাঁচ লাখ মানুষ

        ট্রপিক্যাল স্টর্ম র‍্যাচেলের জোয়ারে প্লাবিত নিউপোর্ট বিচ, স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা কর্তৃপক্ষের

        বাড়ির সামনের লনে ঘুমন্ত আইসিই কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ, হামলার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের

        ট্রপিক্যাল স্টর্ম র‍্যাচেলের আগমনে সতর্ক দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, কর্মকর্তা বললেন আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি আসছে

        ফ্লোরিডায় আঘাতের পর শক্তি হারাল হারিকেন ইসাইয়াস, দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্যার শঙ্কা

        প্রায় ৯০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড, কেন ফিরছে পুরোনো শাস্তির আয়োজন

        অমীমাংসিত খু নের মামলায় পুলিশের কাছে ভুয়া তথ্য পাঠাল অ্যানথ্রপিকের এআই

নির্বাচনে এরদোগানের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ হবে ভূমিকম্প

নির্বাচনে এরদোগানের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ হবে ভূমিকম্প

অতীতের নির্বাচনগুলোতে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের জন্য নির্ভরতার জায়গা ছিল। বিশেষ করে, সিগডেমটেপে এবং দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের অন্যান্য গ্রাম ও শহর থেকে ভোটারদের শক্তিশালী সমর্থন পেয়েছে ক্ষমতাসীন এ কে পার্টি; কিন্তু সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং ধীরগতির উদ্ধার অভিযান কট্টর সমর্থনকেও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

এর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এ কে পার্টির সাম্প্রতিক তৎপরতাতেও। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতারা অধিকতর ও ক্রমবর্ধমানভাবে সচেতন হচ্ছেন, যাতে অতীতের সমর্থন ধরে রাখা যায়। মে মাসে নির্বাচনের আগে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার কথা বলেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট এরদোগান, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তুরস্ক শাসন করছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিগডেমটেপের একজন ট্রাক ড্রাইভার বলছেন, ‘এই পুরো গ্রামটি একে পার্টিকে ভোট দিয়েছে, যদিও কেউ জানে না কেন। তবে ভূমিকম্প অবশ্যই আমাদের মতামত পরিবর্তন করেছে, কারণ আমাদের এখানে অনেক দেরিতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে, সেই সঙ্গে তাঁবুও এসেছে অনেক দেরিতে।’

এ অঞ্চলের ভোটাদের সমর্থন হারালে এরদোগান কত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন- তা নির্ধারণ করা কঠিন। তাছাড়া বিরোধী পক্ষ শেষ পর্যন্ত এরদোগানকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে রাখতে পারবে কিনা, সেটাও একটা দেখার বিষয়। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, দ্রুত তার পরিবর্তন হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত সপ্তাহে কাহরামানমারাস, আদিয়ামান এবং গাজিয়ানটেপ প্রদেশের প্রায় ৩০ জন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নেয়। তাতে দেখা যায়, স্থানীয়দের রাজনৈতিক আনুগত্য (সমর্থন) স্থানান্তরিত হচ্ছে। এমনকি এক সময়ের কঠোর এরদোগান সমর্থকদের মধ্যেও পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

কাহরামানমারাসের একজন ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, ‘আমার মন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। আমাদের এখানে একেপি ছিল শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো, কিন্তু এই ভূমিকম্প আমাদের সবকিছু বদলে দিয়েছে। লোকেরা জানে না তারা কী করছে।’

তুরস্কের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক বিপর্যয় দেশটির ১১টি প্রদেশের শহরগুলোর পাশাপাশি গ্রামেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে এনেছে। ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্কে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ এসব অঞ্চলকে এরদোগানের একে পার্টির রক্ষণশীল দুর্গ মনে করা হয়।

তুরস্কের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিগত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে রাজ্যগুলোর এক কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়াসহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ভবনের।

রয়টার্স বলছে, তারা যে ৩০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে- সেটা ক্ষতিগ্রস্ত এই এক কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষের সামান্য একটি নমুনা মাত্র। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে বেশিরভাগ গ্রামীণ এবং শ্রমিক শ্রেণির ভোটাররা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন।

তবে ২০০২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এ কে পার্টির নেতারা রয়টার্সকে বলেছেন, তারা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টির বিষয়ে সচেতন আছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যে দ্রুত পুনর্গঠন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে তা এবং বিরোধী জোটের বিভ্রান্তি- এই দুইয়ের সমন্বয় তাদের বিজয় নিশ্চিত করবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।



এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত