আপডেট :

        লস এঞ্জেলেসে হিট-অ্যান্ড-রান মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

        অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে বেআইনি প্রতিশোধ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন: আদালত

        ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীন প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থী

        নতুন স্ক্রিনিং নীতিতে সব অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

        সোফি স্টেডিয়াম এলাকায় ২৬১ মিলিয়ন ডলারের পরিবহন প্রকল্প

        বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

        মাঠে আঘাতে কিশোর ফুটবলারের মৃত্যু, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে মামলা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রীর প্রেমিককে হত্যার অভিযোগে দম্পতি গ্রেপ্তার

        আশ্রয় চাওয়া বিদেশিদের স্বল্পমেয়াদি ভিসা বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

        যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক কানাডার

        লুইজিয়ানায় ১০ হাজার কোটি ডলারের মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বানাবে স্পেসএক্স

        ডাউনটাউন লস এঞ্জেলেসে দুটি ভবনে এফবিআইয়ের অভিযান

        ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত নীতি আটকালেন মার্কিন বিচারক

        লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য নতুন সহায়তা কর্মসূচি

        কলোরাডো নদীর পানি কমে যাওয়ায় তিন অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের পানি কাটছাঁট

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সামরিক স্মৃতিসৌধ থেকে ব্রোঞ্জের সৈনিকের ভাস্কর্য চুরি

        মার্কিন ফ্লাইটে ল্যাপটপে আগুন, হাসপাতালে চিকিৎসা পেলেন এক যাত্রী

        ট্রাম্প বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা চায় কানাডা

        জুরি ডিউটি নিয়ে প্রতারণা, লস এঞ্জেলেসে সতর্কতা জারি

        ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করলেন মার্কিন বিচারক

নির্বাচনে এরদোগানের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ হবে ভূমিকম্প

নির্বাচনে এরদোগানের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ হবে ভূমিকম্প

অতীতের নির্বাচনগুলোতে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের জন্য নির্ভরতার জায়গা ছিল। বিশেষ করে, সিগডেমটেপে এবং দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের অন্যান্য গ্রাম ও শহর থেকে ভোটারদের শক্তিশালী সমর্থন পেয়েছে ক্ষমতাসীন এ কে পার্টি; কিন্তু সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং ধীরগতির উদ্ধার অভিযান কট্টর সমর্থনকেও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

এর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এ কে পার্টির সাম্প্রতিক তৎপরতাতেও। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতারা অধিকতর ও ক্রমবর্ধমানভাবে সচেতন হচ্ছেন, যাতে অতীতের সমর্থন ধরে রাখা যায়। মে মাসে নির্বাচনের আগে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার কথা বলেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট এরদোগান, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তুরস্ক শাসন করছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিগডেমটেপের একজন ট্রাক ড্রাইভার বলছেন, ‘এই পুরো গ্রামটি একে পার্টিকে ভোট দিয়েছে, যদিও কেউ জানে না কেন। তবে ভূমিকম্প অবশ্যই আমাদের মতামত পরিবর্তন করেছে, কারণ আমাদের এখানে অনেক দেরিতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে, সেই সঙ্গে তাঁবুও এসেছে অনেক দেরিতে।’

এ অঞ্চলের ভোটাদের সমর্থন হারালে এরদোগান কত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন- তা নির্ধারণ করা কঠিন। তাছাড়া বিরোধী পক্ষ শেষ পর্যন্ত এরদোগানকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে রাখতে পারবে কিনা, সেটাও একটা দেখার বিষয়। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, দ্রুত তার পরিবর্তন হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত সপ্তাহে কাহরামানমারাস, আদিয়ামান এবং গাজিয়ানটেপ প্রদেশের প্রায় ৩০ জন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নেয়। তাতে দেখা যায়, স্থানীয়দের রাজনৈতিক আনুগত্য (সমর্থন) স্থানান্তরিত হচ্ছে। এমনকি এক সময়ের কঠোর এরদোগান সমর্থকদের মধ্যেও পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

কাহরামানমারাসের একজন ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, ‘আমার মন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। আমাদের এখানে একেপি ছিল শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো, কিন্তু এই ভূমিকম্প আমাদের সবকিছু বদলে দিয়েছে। লোকেরা জানে না তারা কী করছে।’

তুরস্কের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক বিপর্যয় দেশটির ১১টি প্রদেশের শহরগুলোর পাশাপাশি গ্রামেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে এনেছে। ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্কে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ এসব অঞ্চলকে এরদোগানের একে পার্টির রক্ষণশীল দুর্গ মনে করা হয়।

তুরস্কের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিগত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে রাজ্যগুলোর এক কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়াসহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার ভবনের।

রয়টার্স বলছে, তারা যে ৩০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে- সেটা ক্ষতিগ্রস্ত এই এক কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষের সামান্য একটি নমুনা মাত্র। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে বেশিরভাগ গ্রামীণ এবং শ্রমিক শ্রেণির ভোটাররা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন।

তবে ২০০২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এ কে পার্টির নেতারা রয়টার্সকে বলেছেন, তারা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টির বিষয়ে সচেতন আছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যে দ্রুত পুনর্গঠন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে তা এবং বিরোধী জোটের বিভ্রান্তি- এই দুইয়ের সমন্বয় তাদের বিজয় নিশ্চিত করবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী।



এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত