আপডেট :

        হ্যালোইন সাইকেল রাইডে গাড়ির ধাক্কায় দুইজনের মৃ ত্যু, এক ব্যক্তিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেল চালক

        ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যে আইনজীবীকে বিষ দিয়ে হ ত্যার অভিযোগ, সম্পত্তি দখলে সৎপুত্র গ্রেপ্তার

        হাসপাতাল ও ক্লিনিক বাড়াচ্ছে ইউসিএলএ, তবু কম আয়ের রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে কয়েক দিনের বন্যার শঙ্কা, রেকর্ড উচ্চতায় উঠতে পারে সমুদ্রের পানি

        ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল প্রাসাদে সারোগেসিতে জন্ম নেওয়া ২৬ শিশু, নি র্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার দম্পতি

        ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে যে পাঁচটি বড় পরিবর্তন এসেছে

        জাপানে নারী হ ত্যা ও লুটের অভিযোগে মার্কিন মেরিন সেনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

        মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে ইরানের তৎপরতা বেড়েছে, গোয়েন্দা প্রধানের সতর্কবার্তায় বাড়ছে উদ্বেগ

        অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন কিনতে লস এঞ্জেলেসে রাতভর অপেক্ষা, দাম প্রায় দুই হাজার ডলার

        মৌসুমের শুরুতেই ফ্লুতে দুইজনের মৃত্যু, টিকাদানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি

        ক্যালিফোর্নিয়ার ছয়টি অমীমাংসিত খুনের রহস্য সমাধানে ৩ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা নিউজমের

        ছয় সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ফিরল ডিজনিল্যান্ডের ইন্ডিয়ানা জোন্স রাইড, কী কী পরিবর্তন হলো এবার

        ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বাড়ছে জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি, বালুর বাঁধ নির্মাণে রাতদিন কাজ করছেন কর্মীরা

        আর্কাডিয়ায় ১৫ বছরের কিশোরীকে হত্যার পর নিজেকেও গুলি করলেন সাবেক প্রেমিক, জানাল পুলিশ

        মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে ভারতীয় তেল শোধনাগারের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন

        মিসিসিপিতে ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে পুলিশের গুলিতে এক বছরের শিশুর মৃত্যু, প্রকাশ পেল বডিক্যামের ভিডিও

        আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান হারলে ফল ঘোষণা আটকে দিতে আদালতের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন

        ফোনে প্রেসক্রিপশনের কথা বলে হুমকি, ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতারণার সতর্কতা

        ঝড়বৃষ্টির পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরছে শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া, সপ্তাহান্তে বাড়বে তাপমাত্রা

        নতুন স্টেশন চালুর কয়েক মাসেই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ, বন্ধ হচ্ছে লস এঞ্জেলেসের তিনটি মেট্রো স্টেশন

গাজা যুদ্ধ: বিশ্বকে এখন দুই রাষ্ট্র সমাধানে এগিয়ে যেতেই হবে

গাজা যুদ্ধ: বিশ্বকে এখন দুই রাষ্ট্র সমাধানে এগিয়ে  যেতেই হবে

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। এই আন্দোলনকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি দেওয়ার সময় হয়েছে। ইসরায়েল দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে হাঁটলে তা হামাসকে পুরস্কৃত করবে এমন নয়, বরং এতে ইসরায়েল নিজেও লাভবান হবে।

গত ৭ অক্টোবরের ভয়ংকর ঘটনা পরিষ্কার করেছে, ফিলিস্তিনিদের জন্য সন্তোষজনক রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া ইসরায়েল কখনোই সন্ত্রাসের আতঙ্ক থেকে মুক্ত হতে পারবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের সব পক্ষের সঙ্গে কয়েক বছর ধরে আলাপ-আলোচনা করা এবং কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব প্রতিরোধ ও সমাধানে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে নিশ্চিত করেছে, হতাশা খুব সহজেই ক্রোধে পরিণত হতে পারে এবং তারপর সেটি অবর্ণনীয় আক্রোশে রূপ নিতে পারে। সেই একই অভিজ্ঞতা থেকে আন্দাজ করতে পারি, ন্যায্য এবং মর্যাদাপূর্ণ মীমাংসার আশাবাদ সত্যিকার অর্থে যখন দেখা যায়, তখন সহিংসতার হুমকি দ্রুত কমে যায়।

 


৭ অক্টোবরের হামলার মূল কারণ উপলব্ধির অর্থ কখনোই নিরপরাধ মানুষ হত্যাকে ন্যায্যতা দেওয়া নয়। ইসরায়েলকে সর্বশক্তি দিয়ে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ করার অনুমতি ও অধিকার আন্তর্জাতিক আইন দিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ও তাঁর অন্ধ সমর্থকেরা মূল কারণকে অস্বীকার করে চলেছেন। তাঁরা রাজনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটতে অস্বীকার করে যাচ্ছেন। এটি আরও সন্ত্রাসী হামলাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

এটি এখন বিশেষ সত্য হয়ে উঠেছে যে অনেক সাধারণ ও নিরীহ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ার অসামঞ্জস্যপূর্ণ বর্বরতার কারণে বাস্তুচ্যুত, আঘাতপ্রাপ্ত এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

আমি সবখানে সব সময় বলে থাকি, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার নৈতিক, আইনি এবং রাজনৈতিক যুক্তি বরাবরই জোরালো। জাতিসংঘের প্রায় ১৪০টি সদস্যদেশ (যদিও এগুলোর প্রায় সবই বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশ) ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ার পক্ষে।

গাজা যুদ্ধ এখন ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ইস্যুটিকে নতুন প্রাসঙ্গিকতা দিয়েছে। আগের চেয়ে বেশি সংখ্যক দেশ এখন ইসরায়েলের অস্থিরতাকে কেবল ফিলিস্তিনিদের দুর্দশাকে চিরস্থায়ী হাতিয়ার হিসেবে দেখছে না; বরং তারা এই বেপরোয়া আচরণকে ইসরায়েলের নিজেদের দুর্দশাকেও চিরস্থায়ী করার ‘গ্যারান্টি’ হিসেবে দেখছে।


বৈশ্বিক আলোচকদের মধ্যে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র গঠন ইস্যুতে দ্বিমত থাকে, তাহলে কোনো শান্তি আলোচনা সফল হবে না। এই মতপার্থক্য দূর করার একমাত্র উপায় হলো বিষয়টি বিশ্ববাসীকে সুস্পষ্টভাবে দেখানো যে শুধু আরব এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র গঠনের দাবির পক্ষে নয়, বরং যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক উত্তরের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত সব পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনের আলাদা রাষ্ট্র গঠনকে সমর্থন করে।
৯ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে জানিয়েছেন, এর আগে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নরওয়ে—এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে যে বিবেচনা করেছিল, সেটিকে বাস্তবভিত্তিক ধরে নিয়ে তাঁর দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সত্য, যেকোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য টাইমিং বা লাগসই মুহূর্ত একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে চলতি মাসেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সাধারণ পরিষদে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য কয়েকটি দেশ অবশ্য এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে ইচ্ছুক না-ও হতে পারে।

যাহোক, যাত্রার গন্তব্য পরিষ্কার এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি হচ্ছে। অনেকে বলতে পারেন, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার এসব প্রতিশ্রুতি আসলে লোকদেখানো ও ছেলে ভোলানো তৎপরতা। কারণ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া বসতি নির্মাণ কর্মসূচি যে আঞ্চলিক বিভক্তির সৃষ্টি করেছে, তা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে এখন কার্যত অসম্ভব করে তুলেছে বলে মনে হচ্ছে।


দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়ে ইসরায়েলের বিরোধিতা এবং নিজস্ব এক রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়ে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন—উভয়ই দিন দিন বেড়েছে এবং ৭ অক্টোবরের হামলার পর সে অবস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, একটি দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ, এটি আন্তর্জাতিকভাবে অপ্রতিরোধ্যভাবে পছন্দের নীতি হিসেবে এখনো টিকে আছে এবং ইসরায়েলের নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থেই এটি দরকার।

বহু বছর ধরে অনেক বিশ্লেষক দাবি করে আসছেন, ইসরায়েল একই সঙ্গে একটি ইহুদি রাষ্ট্র, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং ঐতিহাসিক জুদেয়া ও সামারিয়া অঞ্চলের পুরোটা অধিকার করে রাখা একটি রাষ্ট্র হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এই তিনটি বৈশিষ্ট্য কোনো রাষ্ট্রের থাকতে পারে না (এটি আমার সাবেক বস অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বব হ্যাওয়াকের মতো)। বরং ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষিত করবে।

যদি বৈশ্বিক আলোচকদের মধ্যে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র গঠন ইস্যুতে দ্বিমত থাকে, তাহলে কোনো শান্তি আলোচনা সফল হবে না। এই মতপার্থক্য দূর করার একমাত্র উপায় হলো বিষয়টি বিশ্ববাসীকে সুস্পষ্টভাবে দেখানো যে শুধু আরব এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র গঠনের দাবির পক্ষে নয়, বরং যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক উত্তরের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত সব পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনের আলাদা রাষ্ট্র গঠনকে সমর্থন করে।

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত