‘ভোট দিতে যাবো না’।
এবার দু'টি বাক্য বেশী শুনতে হচ্ছে ‘কাউকে না’। ‘ভোট দিতে যাবো না’।
কেন, কেন? দু’জনই পছন্দের না।
আমেরিকা, বাংলাদেশ, ভারত।
লক্ষ্যণীয় বিষয়, যেমন আমেরিকায় দুই প্রধান দল বা দুই প্রধান প্রার্থী নানা ইস্যুতে ভিন্নমত থাকলেও ইসরাইলকে সমর্থনের বেলায় এক সুর, বরঞ্চ প্রতিযোগিতা শুরু হয় কার ভালোবাসা বেশী ও খাঁটি।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক থাকলেও প্যালেস্টাইনকে সমর্থন ও ইসরাইলের বিরোধিতার প্রশ্নে সবার মতামত এক ও অভিন্ন। তবে ইসরাইলের বড় বন্ধু আমেরিকাকে পরোক্ষ বকাবকি করলেও ভেতরে ভেতরে অনুগ্রহ বা আনুকল্য পাওয়ার চেষ্টাও লক্ষণীয়। কিছুদিন আগে এক ট্যাবলয়েডের অফিসে আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের রাজকীয় সংবর্ধনা দেখে মনে হয়েছে, তিনি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান,সম্পাদক তাঁর গোলাম।
ভারতে বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী নানা মত থাকলেও শেখ হাসিনার ব্যাপারে সবার এক মত। মোদি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিকে সবাই সমর্থন করেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ৫ নভেম্বর। বাংলাদেশী-আমেরিকান ভোটারদের অনেকের মধ্যে নেতিবাচক ভাবনা কাজ করছে। ট্রাম্পকে পছন্দ নয়, ভাবছিলাম কমলাকে দিব, কিন্তু বাইডেন প্রশাসন ইসরাইলের গণহত্যায় যে ভাবে সমর্থন যুগিয়েছে, কমলাকে ভোট দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। এ দু'জনের কাউকে যখন পছন্দ নয়, ভোট দিতেই যাবো না। এর মাঝে কেউ কেউ গ্রীণ পার্টির জিল স্টেইনকে ভোট দেয়ার কথা ভাবছেন। ব্যালটে তাঁর নাম আছে। খবরে প্রকাশ, জিল স্টেইন যে ভোট পাবেন, সেগুলো আসলে ট্রাম্পের ভোট।
একজন রেজিস্টার্ড ডেমোক্রেট সতর্ক করে বলেছেন, আমরা যেন ভুল না করি। দ্বিধা-দ্বন্দ্বে না ভোগে কমলা হ্যারিসকে আমাদের ভোট দেয়া উচিত। ট্রাম্পের বিজয় আমাদের দেশকে বিপদে ফেলবে। জনগণের কষ্ট বাড়বে। বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারিতা বাড়বে। গণতন্ত্র আবারো পড়বে হুমকির মুখে। ডেমোক্রেট শাসনে নাগরিকরা যে সব সুযোগ-সুবিধা পান, ট্রাম্পের বিজয়ে সে সব সংকুচিত হবে। সামাজিক কল্যাণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, ইমিগ্রেশনে ডেমেক্রেটিক পার্টির উপর জনগণের আস্থা আছে।
রিপাবলিকান ভোটারের মতে, শান্তি সমৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পই উপযুক্ত প্রার্থী। বাইডেন যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি জিনিসপত্রের দামে মানুষ দিশেহারা। ট্রাম্প পারবেন যুদ্ধ থামাতে। তিনিই পারবেন আমেরিকার অর্থনীতিকে আবার চাঙ্গা করতে।
রিপাবলিকান নাসির আলী খান পলের মতে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে বাঁচতে হলে ট্রাম্পকেই ভোট দিতে হবে। পল নিউইয়র্কের নেতৃস্থানীয় রিপাবলিকান। পার্টি জিতলে তাঁকে বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত করার সম্ভাবনা আছে।
তবে ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষের অতীত রেকর্ড তাঁকে সাহায্য করছে না। তিনি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি বা গোলান হাইটস ইসরাইলের বলে ঘোষণা দিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছেন। ৭টি মুসলিম দেশকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদের সম্মুখীন হয়েছিলেন।
নাসির আলী খান পলের মতে, ট্রাম্পের চার বছরের শাসনামলে পৃথিবীতে শান্তি ছিল। কোন যুদ্ধ হয়নি। ট্রাম্প মিথ্যা প্রচারণার শিকার। এক ডেমোক্রেট ভোটারের মতে, ডেমোক্রেটিক শাসনামলে আমি যে বেনিফিট পাই, তা রক্ষায় আবারো পার্টির বিজয় চাইবো। ট্রাম্পের বিজয়ে এই বেনিফিট হারাতে পারি।
আরেকটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, এ নির্বাচন শেখ হাসিনার ভাগ্য পরিবর্তনে কোন ভূমিকা রাখবে কি? বাইডেন প্রশাসনের সাথে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল না। নরেন্দ্র মোদির সাথে ট্রাম্পের সম্পর্ক, বাইডেন থেকে অনেক অনেক গুণ উষ্ণ। ট্রাম্পের বিজয়ে শেখ হাসিনা উপকৃত হবেন, এমন ধারণা করা হয়।
গাজার প্যালেস্টাইনীরা ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে কমলাকে সমর্থনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এখন শোনা যাচ্ছে, আরবরা কমলা/ট্রাম্প কাউকে সমর্থন করে না।
এবার থার্ড পার্টি প্রার্থীকে নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। ম্যাসাচুসেটসের জিল স্টেইন পেশায় একজন চিকিৎসক। হার্ভার্ড গ্রাজুয়েট জিল ২০১২ ও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। গ্রীণ পার্টির প্রার্থী জিলকে অনেক বাঙালি ভোটার ভোট দেয়ার কথা ভাবছেন।
ধারণা করছি, এবারের নির্বাচন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তার বড় কারণ, সুইং স্টেটগুলোত কমলা ও ট্রাম্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
সুত্রঃ প্রথম আলো
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
নিউজ ডেক্স
শেয়ার করুন