পদচ্যুত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে ওই জেনারেলের প্রাথমিক গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছিল।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেফ্রি ক্রুস নামের ওই কর্মকর্তা তাঁর প্রতিবেদনে বলেছিলেন, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে, তাতে ক্ষতি হয়েছে সীমিত।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়টার্স ও এপিকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, গত শুক্রবার পেন্টাগন তাঁকে বরখাস্ত করে। তাঁর সঙ্গে আরও দুজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারও অন্তর্ভুক্ত আছেন। এটি প্রতিরক্ষা বিভাগে কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করতে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ পদক্ষেপ।
তবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেফ্রি ক্রুসকে বরখাস্ত করার স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ২০২৪ সালের গোড়ার দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিআইএর প্রধান হিসেবে ক্রুস দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর মার্কিন হামলার বিষয়ে সংস্থার প্রাথমিক অনুসন্ধানের নিন্দা জানিয়েছিলেন।
ডিআইএর প্রাথমিক মূল্যায়ন মার্কিন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করে ওই মূল্যায়নে বলা হয়, হামলায় পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জেনারেলকে বরখাস্ত করার ব্যাখ্যা না দিয়েই গত শুক্রবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ক্রুস আর ডিআইএর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না। ডিআইএর পরিচালক হওয়ার আগে ক্রুস জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের সামরিকবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইএসআইএল (আইএসআইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জোটের গোয়েন্দা পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এপি ও রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কর্মকর্তাদের মতে, হেগসেথ মার্কিন নৌ রিজার্ভের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ন্যান্সি ল্যাকোর ও নেভি সিল অফিসার রিয়ার অ্যাডমিরাল মিল্টন স্যান্ডসকে বরখাস্ত করেছেন। তিনজন সামরিক কর্মকর্তাই বলেছেন, তারা জানেন না কেন ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বরখাস্ত করেছে।
সিনেট সিলেক্ট কমিটির গোয়েন্দা বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান মার্কিন সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, আরেক ঊর্ধ্বতন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরখাস্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বিপজ্জনক অভ্যাসকে তুলে ধরে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার চেয়ে আনুগত্য বেশি চায়। সে অনুযায়ী যেন গোয়েন্দো তথ্য দেওয়া হয়, তারা সেটা প্রত্যাশা করে।
গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস ‘সিকিউ’ ব্রাউনও। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে তিনি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বরখাস্ত করেন।
এ ছাড়া চলতি বছর বরখাস্ত হওয়া অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন– মার্কিন নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের প্রধান, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান জেনারেল, মার্কিন বিমানবাহিনীর ভাইস চিফ অব স্টাফ, ন্যাটোতে নিযুক্ত একজন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ও তিন শীর্ষ সামরিক আইনজীবী।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
নিউজ ডেক্স
শেয়ার করুন