মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে কাতারের বিমান ঘাঁটি নির্মাণের অনুমোদন
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
কাতারকে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে একটি বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ সুবিধা (Air Force Facility) নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেন।
হেগসেথ জানান, এই কেন্দ্রটি আইডাহোর মাউন্টেন হোম এয়ারবেসে নির্মিত হবে, যেখানে কাতারের পাইলটদের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “এটি আমাদের পারস্পরিক অংশীদারত্বের আরেকটি দৃষ্টান্ত।”
তিনি আরও জানান, “আজ আমরা কাতারি এমিরি এয়ার ফোর্স ফ্যাসিলিটি নির্মাণের জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রে গর্বিতভাবে সই করছি। এই ঘাঁটিতে কাতারের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও পাইলটদের অবস্থান করবে, যা আমাদের যৌথ প্রশিক্ষণ, সামরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক সমন্বয় বাড়াবে।”
কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাউদ বিন আবদুর রহমান আল-থানির সঙ্গে যৌথ বৈঠকে হেগসেথ বলেন, “তোমরা আমাদের ওপর ভরসা রাখতে পারো।” তবে কতগুলো এফ-১৫ বিমান সেখানে থাকবে বা ঘাঁটিটি কবে চালু হবে—তা তিনি জানাননি।
কাতার–মার্কিন সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কাতারের প্রতিরক্ষায় সামরিক পদক্ষেপসহ সব রকম ব্যবস্থা নেবে। এই পদক্ষেপকে অনেক বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে এক ধরনের “অপ্রকাশিত সামরিক জোট” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ন্যাটো চুক্তির অনুরূপ।
এই সিদ্ধান্ত আসে গত ৯ সেপ্টেম্বর দোহার হামলার পর, যখন ইসরায়েলি বিমান হামলায় কাতারে অবস্থানরত হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। এতে কয়েকজন ফিলিস্তিনি নেতা ও এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ঘাঁটি কাতারেই
উল্লেখ্য, কাতারের আল-উদেইদ এয়ারবেস মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। এখানেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক বিমান অভিযানের সদর দপ্তর অবস্থিত। চলতি বছর শুরুর দিকে ইরান এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা ছিল তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন আক্রমণের প্রতিশোধ।
গাজা যুদ্ধবিরতিতে কাতারের ভূমিকা
পেন্টাগনে বৈঠকে হেগসেথ কাতারের প্রশংসা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির চুক্তি প্রক্রিয়ায় কাতার “গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা” পালন করেছে। কাতার, মিশর ও তুরস্ক একসঙ্গে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে কয়েক মাস ধরে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন