মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
মাদক নাকি শাসনব্যবস্থার সংস্কার, ট্রাম্পের ইচ্ছা কী?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার সীমান্তে সমুদ্রে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানে দেশটি বড় সামরিক নৌযানের পাশাপাশি সিআইএ কর্মকর্তাদের ব্যবহার করছে। গত দুই মাস ধরে মার্কিন সেনাবাহিনী ক্যারিবিয়ান সাগরে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান, মেরিন, ড্রোন এবং গুপ্তচর বিমানের একটি বিরাট বহর তৈরি করেছে। কয়েক দশকের মধ্যে এই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের এটি সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি। উত্তেজনা বাড়ায় ট্রাম্প সিআইএ কর্মকর্তাদেরও অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার উপকূলে এখন বোমারু বিমান বি-৫২-এর গর্জন শোনা যায়, যা মাদক পাচারকারীদের কম্পন ধরাচ্ছে।
আলজাজিরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বলেন, ‘আমি মনে করি না, আমরা শিগগির ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমরা কেবল সেই সব লোকদের হত্যা করব, যারা আমাদের দেশে মাদক নিয়ে আসছে। আমরা তাদের হত্যা করব।’ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখন মাদক নিয়ে তারা স্থলপথ দিয়েও আসছে। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ স্থলপথে হবে।’
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে আসা মাদকবাহী ছোট জাহাজে হামলা করে ডজনখানেক পাচারকারীকে হত্যা করা হয়েছে। দেশটির ভাষায়, তারা মাদক-সন্ত্রাসী। তবে নিহতরা কারা, বা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বড়সড় অভিযানের লক্ষ্য কী? তিনি মাদক দমন করতে চান? না ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
চ্যাথাম হাউস থিঙ্ক ট্যাঙ্কের লাতিন আমেরিকার একজন সিনিয়র ফেলো ড. ক্রিস্টোফার সাবাতিনি মনে করেন, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য মাদুরোর শাসন ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ভেনেজুয়েলায় হামলা করবে না, তবে তারা মাদুরোকে সংকেত দিতে চায়– ‘ক্ষমতা থেকে সরে যাও’। আর এ কারণেই মাদক দমনের নামে বিশাল সামরিক আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা গোপন বিষয় নয়, মার্কিন প্রশাসন বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মাদুরোর পতন দেখতে চান।’
অতি সম্প্রতি সমুদ্র সীমান্তে ১০টি মার্কিন সামরিক জাহাজ দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, উভচর আক্রমণকারী জাহাজ এবং সমুদ্রে জাহাজে জ্বালানি ভরার তেল ট্যাঙ্কার। গত আগস্টে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করতে পারলে ৫০ মিলিয়ন পুরস্কার ঘোষণা করেন ট্রাম্প, যা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবেই ধরা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প মাদুরোকে ‘ভয়াবহ স্বৈরশাসক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। প্রথমবার ক্ষমতায় এসেও ট্রাম্প মাদুরোর শাসনের পতন ঘটানোর হুমকি দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হন মাদুরো। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে। এর পর থেকে দেশটির বিরোধী দলের নেতারা মাদুরোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেন না। ট্রাম্পের প্রথম আমলেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল আলবার্টাস বলেন, কর্তৃত্ববাদী নেতারা সর্বদা তাদের অভ্যন্তরীণ মহলকেও সন্দেহ করেন এবং সেই কারণে বিরোধী নেতাদের ওপর নজরদারি করা হয়। যদিও ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিছু করার সাহস কারও হয়নি।
২০২০ সাল থেকে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার এবং মাদক-সন্ত্রাসে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনেন, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক আসার কারণে তিনি ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালানোর জন্য সিআইএকে অনুমোদন দিয়েছেন।
চলতি বছর মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ করা কোকেনের ৮৪ শতাংশই কলম্বিয়া থেকে আসে। তবে কোকেন বিভাগে ভেনেজুয়েলার নাম নেই।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
নিউজ ডেক্স
শেয়ার করুন