আপডেট :

        ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রে সার্ফিং করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অভিজ্ঞ সার্ফার

        যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে কনসার্ট বাতিল, ট্রাম্পের বিশাল সমাবেশ

        কেন দেরিতে আসে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনের ফল?

        মাংসখেকো স্ক্রুওয়ার্ম ঠেকাতে মাছি ও কুকুর মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র

        কয়লা খাতে ৭০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ট্রাম্পের

        ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের বিপক্ষে রিপাবলিকানরা

        নিখোঁজের রহস্যের মধ্যেই প্রাইমারিতে জয়ী কংগ্রেসম্যান, পাশে ট্রাম্প

        লস এঞ্জেলেস মেয়র নির্বাচনের প্রাইমারিতে এগিয়ে কারেন বাস

        যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে, নতুন হামলায় জড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

        উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আরও ১৬ বছর বাড়াতে আনুষ্ঠানিক আবেদন কানাডার

        গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে বিল পুল্টেকে বেছে নিলেন ট্রাম্প, শুরু বিতর্ক

        নিরাপত্তা জোরদার করে ফের আয়োজন হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ডিনার

        ট্রাম্প প্রশাসন ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল বাতিল করল

        ভোটের আগে শেষ প্রচারে মেয়র-গভর্নর প্রার্থীরা

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কাইডাইভিং দুর্ঘটনায় তাহিতির এক ব্যক্তির মৃত্যু

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প

        অস্ট্রেলিয়ার আউকাস সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে জনঅর্থায়নে স্বাধীন তদন্ত শুরু

        প্রায় এক বছর পর নিউ মেক্সিকোর বনে ল্যাবকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

        যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপনের কেন্দ্রে নিজেকে তুলে ধরছেন ট্রাম্প

        আইওয়ায় পারিবারিক বিরোধে গুলিতে নিহত ৬, পরে আত্মহত্যা সন্দেহভাজনের

অবরুদ্ধ লস এঞ্জেলেসে কেমন কাটল প্রবাসীদের ছুটির দিন

অবরুদ্ধ লস এঞ্জেলেসে কেমন কাটল প্রবাসীদের ছুটির দিন

করোনার অবরোধে ফাঁকা লস এঞ্জেলেসের ব্যস্ততম 101 ফ্রিওয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেস। চলচ্চিত্র ও পর্যটন নগরী হিসেবে এর খ্যাতি বিশ্বজুড়া। পর্যটনের পাশাপাশি বিনোদন ও আইটি দুনিয়ার বেশ ক’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই শহরে অবস্থিত। সে হিসেবে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক, পর্যটক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ, বিনোদন জগতের সুপার স্টারদের আনাগুনায় মুখর থাকে এই শহর।

বর্তমান পৃথিবীর প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের রাজধানী বলা হয় ক্যালিফোর্নিয়াকে। কম্পিউটার চিপ তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ সিলিকন ভ্যালি থেকে শুরু করে আইবিএম, মাইক্রোসফট, ফেসবুক, ইউটিউট প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর অবস্থিত এখানে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসে হলিউডের পাশাপাশি রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত মুভি থিয়েটার, ডিজনি ল্যান্ড, গ্রিফথ পার্কসহ বহু দর্শনীয় স্থান, পর্যটন এলাকা ও বিনোদন কেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে এই শহরে নেমে এসেছে এক অভূতপূর্ব নিস্তব্ধতা। শহরের কোন প্রান্তেই নেই চিরচেনা সেই দৃশ্য। জনশুণ্য প্রায় প্রতিটি রাস্তা।

101 ফ্রিওয়ে হলিউড এলাকা ঘেষা লস এঞ্জেলেসের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক। প্রতি মিনিটে যে সড়ক দিয়ে অতিক্রম করে কয়েক হাজার গাড়ি। সেটিও আজ একেবারে ফাঁকা। কয়দিন আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সকল বিনোদন ও পর্যটন স্থানগুলো।

করোনা সতর্কতায় ক্যালিফোর্নিয়ায় চলছে জরুরি অবস্থা। লস এঞ্জেলেস সিটি কর্তৃপক্ষ থেকেও রয়েছে নানা বিধিনিষেধ। তাছাড়া করোনার কারণে দর্শক, পর্যটকদের যেমন আনাগোনা নেই তেমনি বাইরে বেরুচ্ছে না স্থানীয়রা।

লস এঞ্জেলেস শহরে বাস করছেন প্রায় অর্ধ লক্ষ বাংলাদেশি। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রবাসীরাও অনেকটা ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর গত শনি ও রবিবার দ্বিতীয় সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল অন্য দিনের চেয়ে একেবারে ব্যতিক্রম। প্রতিটি সাপ্তাহান্তে ছুটির দিনগুলোতে প্রবাসীরা কমিউনিটির বিভিন্ন প্রোগ্রাম, পার্টি আয়োজন করে থাকেন। বেড়াতে যান একে অন্যের বাসায়। কেউ শপিংমলে যান প্রয়োজনীয় বাজার করতে। কেউ বাচ্চাদের নিয়ে বেড়াতে যান পার্কে। আড্ডা জমে বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টগুলোতে। কিন্তু এই সপ্তাহের ছুটির দিনে চোখে পড়েনি এমন কোন দৃশ্য।

বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোর্ট, জিম, বার। ঔষধ, গ্রোসারি শপ  ও জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানের ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। সবখানে ভীতিকর পরিবেশ। যুক্তরাষ্ট্রের চারটি স্টেটকে করোনার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ  ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। প্রতিদিনই এখানে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। লস এঞ্জেলেসে এপর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৩৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। 

এমন পরিস্থিতিতে সবাই ভয়ে তটস্ত। আতংকিত। বাংলাদেশি প্রবাসীরাও কেউ নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

এলএ বাংলাটাইমসের পক্ষ থেকে বেশ ক’জন প্রবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, ঘরে অনেকটা বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন তারা। কাজ না থাকায় অনেকে বিরক্তিও প্রকাশ করেন। প্রবাসীরা বলছেন, প্রতিটা ছুটির দিন থাকে আমাদের অত্যন্ত আনন্দের। এই দিনগুলোতে আমরা পরিবারকে সময় দেই। সবাই একসাথে ঘুরতে যাই। আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যাই। বিভিন্ন পার্টিতে যাই। শপিং করি। কিন্তু করোনভাইরাসের এই অবরোধের মধ্যে সবকিছু কেমন যেন থমকে গেছে।

এসময় অনেকের মধ্যে ব্যাপক আতংকও লক্ষ্য করা যায়।


এলএবাংলাটামইস/এলআরটি/এলএ

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত