আপডেট :

        মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

        সংকটাপন্ন অবস্থায় বিগ বিয়ারের ঈগল ‘জ্যাকি’, বাসায় সঙ্গীকে খুঁজে ডাকছে ‘শ্যাডো’

        শিশুদের বিরল ক্যানসারের রহস্য: তদন্তের দাবিতে অরেঞ্জ কাউন্টিতে বিক্ষোভ

        ৭৪ বছর পর সমুদ্রের তলদেশে মিলল বিধ্বস্ত প্যান অ্যাম বিমানের ধ্বংসাবশেষ

        ইরান যুদ্ধে ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার, নতুন অর্থ চাইল পেন্টাগন

        ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রপ্তানি ১৫% কমতে পারে: গবেষণা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স কর্মসূচি বড় পরিসরে সম্প্রসারণ

        মাদক সম্রাট ‘এল মায়ো’ জাবাম্বাদার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানাও

        মার্কিন হামলা অব্যাহত, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

        উপকূলে ধেয়ে আসছে ট্রপিক্যাল স্টর্ম বার্থা, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা

        এলিডা ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে উচ্চ ঢেউয়ের সতর্কতা

        লস এঞ্জেলেসে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১, বাস্তুচ্যুত ৬০ জন

        চতুর্থ সন্তানের বাবা হলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

        যুক্তরাষ্ট্রে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব: লেটুসে পরজীবী শনাক্তের দাবি ছিল ভুল, জানাল এফডিএ

        ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের কড়া বার্তা

        সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের আশঙ্কায় ২৭ অঙ্গরাজ্যে আইসবার্গ লেটুস প্রত্যাহার

        লস এঞ্জেলেসে সেতু থেকে ৪০ ফুট নিচে পড়ে আহত নারী, হেলিকপ্টারে উদ্ধার

        ক্যালিফোর্নিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের

        ডিজনিল্যান্ডে খাবার ও পানীয়ের দাম বেড়েছে, জনপ্রিয় আইটেমেও মূল্য বৃদ্ধি

        যুক্তরাজ্যে নতুন অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার অ্যান্ড্রু টেট ও তার ভাই ট্রিস্টান

লস এঞ্জেলেসে ট্রাম্পের গণনির্বাসন অভিযানে যোগ দিল ন্যাশনাল গার্ড পুলিশের ইউনিট

লস এঞ্জেলেসে ট্রাম্পের গণনির্বাসন অভিযানে যোগ দিল ন্যাশনাল গার্ড পুলিশের ইউনিট

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (DoD) জানিয়েছে, ন্যাশনাল গার্ড পুলিশের একটি ইউনিট লস এঞ্জেলেসে মোতায়েন করা হয়েছে। এই বাহিনী সেখানে ইতোমধ্যে থাকা হাজারো সৈন্যের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গণনির্বাসন অভিযানে ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এদের মূল কাজ। নতুন এই মোতায়েন শহরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

ইউএস নর্দান কমান্ড (USNORTHCOM) জানায়, ৪৯তম মিলিটারি পুলিশ ব্রিগেড এবার ৭৯তম ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড কমব্যাট টিম এবং দুইটি মার্কিন মেরিন ইউনিটের সঙ্গে কাজ করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪,১০০ সৈন্য একত্রে লস এঞ্জেলেস অঞ্চলে কাজ করবে। এই সৈন্যদের অনেকেই আগে সীমান্ত নিরাপত্তা ও বন আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত ছিলেন। এখন তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে অভিবাসন তৎপরতায়।

প্রথমে প্রতিরক্ষা বিভাগ এই সৈন্যদের “অতিরিক্ত” বলে উল্লেখ করলেও পরে জানায়, তারা পূর্ব থেকেই চলমান মোতায়েনের অংশ। ইউএস নর্দান কমান্ড এক বিবৃতিতে বলে, ৯ জুনের নির্দেশ অনুসারে প্রায় ২,০০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য ‘টাইটেল ১০’ স্ট্যাটাসে নিয়োজিত হয়েছে। তাদের দায়িত্ব হলো ফেডারেল সম্পত্তি, কর্মকর্তা ও কার্যক্রম রক্ষা করা।

গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের দপ্তর থেকে জানানো হয়, এই মোতায়েন “নতুন কিছু নয় বরং রাজনৈতিক নাটকের অংশ।” তিনি বলেন, “এই সৈন্যরা যারা আগুন নিয়ন্ত্রণ বা সীমান্তে জরুরি কাজে ছিল, এখন তাদের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হচ্ছে ট্রাম্পের শোয়ের জন্য।” এই পদক্ষেপকে রাজ্য প্রশাসন অপ্রয়োজনীয় এবং বিভ্রান্তিকর বলেও মন্তব্য করেছে।

শহরে সম্প্রতি আইসিই (ICE) তৎপরতা ও সৈন্য মোতায়েন ঘিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ায় লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস শহরের এক বর্গমাইল এলাকায় জারি করা কারফিউ তুলে নেন। যদিও মানুষজনের মধ্যে এখনও ক্ষোভ রয়েছে। শহরের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বলছে, সেনা মোতায়েন অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প Truth Social-এ এক পোস্টে বলেন, ICE-কে “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণনির্বাসন কার্যক্রম সফল করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে।” G7 সম্মেলনেও তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক ও লস এঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এসব শহরই হচ্ছে সাংচুয়ারি অঞ্চল, যেখানে অভিযান চালানো জরুরি।”

তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত গভর্নর নিউজম ও মেয়র ব্যাসসহ অনেক রাজ্য নেতার সমালোচনার মুখে পড়েছে। একটি জেলা আদালত ট্রাম্পকে নির্দেশ দেয় ন্যাশনাল গার্ডের নিয়ন্ত্রণ রাজ্য গভর্নরের কাছে ফিরিয়ে দিতে। যদিও আপিল আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন।

এই ঘটনা ১৯৬৫ সালের পর প্রথমবার, যখন কোনও প্রেসিডেন্ট কোনও গভর্নরের অনুমতি ছাড়াই রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয় করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান এবং এটি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতা দ্বন্দ্বের নতুন নজির হয়ে থাকবে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম

 

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত