আপডেট :

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘জুন গ্লুম’ আবহাওয়া, আগামী সপ্তাহে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা

        সান ক্লেমেন্টে সৈকতে মানব চোয়ালের অংশ উদ্ধার, তদন্ত শুরু

        পুলিশের গুলিতে ১ বছরের শিশুর মৃত্যু, উত্তপ্ত মিসিসিপির ছোট শহর

        লেবাননে ইসরায়েলি হামলার মধ্যে স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

        কাতারের বিলাসবহুল বিমান যুক্ত হলো এয়ার ফোর্স ওয়ান বহরে

        দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে অর্থায়ন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

        ম্যাকআর্থার পার্কে মাদকবিরোধী অভিযান, মাঠে এলএপিডি ও ডিইএ

        দাবানল ত্রাণ ও বেকার ভাতার অর্থ আত্মসাৎ, কারাদণ্ড পেলেন টেক্সাসের নারী

        কুকুর প্রশিক্ষকের অবহেলায় ১১ কুকুরের মৃত্যু, দোষী সাব্যস্ত যুগল

        ডেলাওয়্যারের হাসপাতালে গুলিতে নিহত ১, ফিলাডেলফিয়ায় আটক সন্দেহভাজন

        নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু

        যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, যুদ্ধ বন্ধের পথে দুই দেশ

        ওয়ার্ল্ড কাপ দেখার অনুষ্ঠানে পানিতে ডুবে ৮ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু

        লস এঞ্জেলেসে হিট-অ্যান্ড-রান তাণ্ডব, পুলিশ কর্মকর্তাসহ আহত ৫

        আদালতের কক্ষে যৌন সম্পর্ক ও মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত বিচারকের ক্ষমা প্রার্থনা

        কানাডার নাগরিকত্ব সনদ ফেরত দিতে বলা হলো কিছু ‘লস্ট কানাডিয়ান’কে

        হোয়াইট হাউসের ইউএফসি ইভেন্টে হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেপ্তার ৫

        নিউইয়র্কে খামারে আগুনে পুড়ে ১৭টি ঘোড়ার মৃত্যু

        ১,৫০০ একর এলাকায় দাবানল, রিভারসাইডে জারি জরুরি উচ্ছেদ নির্দেশ

        প্রেমিকাকে হত্যার পর মেয়েকে নিয়ে পালানো লস এঞ্জেলেসের বাবা মেক্সিকোতে গ্রেপ্তার

অরেগনে দাবানল বাড়ছে, পুড়ে গেছে ৩ লাখ একরেরও বেশি জমি

অরেগনে দাবানল বাড়ছে, পুড়ে গেছে ৩ লাখ একরেরও বেশি জমি

ছবি: এলএবাংলাটাইমস

অরেগন অঙ্গরাজ্যে দেশের এখন সবচেয়ে সক্রিয় দাবানলটিতে ৩ লাখ একরেরও বেশি জমি পুড়ে গেছে। দাবানলের কারণে হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রায় ২০০০ এরও অধিক দমকলকর্মী ‘বুটলেগ ফায়ার’ নামক দাবানলটির মোকাবেলা করছে। দাবানলটিকে অরেগনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ দাবানল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আগুনটি জুলাই মাসের ৬ তারিখে শুরু হয়। ইতোমধ্যে এটি লস এঞ্জেলস শহরের চেয়ে বেশি বড় আকার ধারণ করেছে।

বর্তমানে দেশ জুড়ে চলতে থাকা ৮০টি বড় দাবানলের মধ্যে এটি অন্যতম। বর্তমানে পুরো দেশের ১৩টি রাজ্যজুড়ে ৮০টি বড় দাবানল চলছে। এইসব দাবানল তৈরির পিছে হিট ওয়েব ও প্রবল বাতাসকে দায়ী করা হচ্ছে।

দাবানলটিকে বুটলেগ ফায়ার নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত, দাবানলটির পাশেই অবস্থিত ‘বুটলেগ স্প্রিংস’ নামক ঝর্ণার নামে দাবানলটির নামকরণ করা হয়েছে। দাবানলটি ইতোমধ্যে ১৬০টিরও অধিক ভবন ও বাড়ি ধ্বংস করেছে। দাবানলটি প্রায় দুই হাজারের মতো মানুষকে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে। 

কর্তৃপক্ষ জানায় যে আগুনটির এক চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে।

রবিবারে (১৮ জুলাই) অপারেশন সেকশন চিফ জন ফ্ল্যানিগান বলেন ‘আবহাওয়া আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার পাশাপাশি অস্থিতিশীল বাতাসের কারণে তাপ দ্রুত গতিতে বাড়ছে।‘

এই সপ্তাহের আবহাওয়া আগুন নিভানোর কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এই সপ্তাহে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০-১৫ ডিগ্রি বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। এর পাশাপাশি খরাও দেখা যেতে পারে।

আগুনটি পোর্টল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বদিকে ৪৮০কিঃমিঃ জায়গাজুড়ে জ্বলছে। ইতোমধ্যে এটি ১৬০টির অধিক ভবন ধ্বংস করেছে ও আরও শত শত ভবন ধ্বংস করার সম্ভাবনা রাখে।  

ক্লামাথ ফলস ও রেডমন্ড সহ কয়েকটি শহরের বাসিন্দাদের জন্য  দুটি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ইন্টারেজেন্সি ফায়ার সেন্টারের মতে, এই বছরে দেশের ১২ লাখ একর জমি দাবানলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ দাবানলই পশ্চিমদিকের রাজ্যগুলোতে ঘটেছে।

সংস্থাটির হিসাবমতে, ২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত আমেরিকাতে  চার হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যাটি ২০২০ সালের মোট দাবানলের সংখ্যার দ্বিগুণ।

শুধুমাত্র ক্যালিফোর্নিয়ায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি একর জমি পুড়ে গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে যে, রাজ্যটিতে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া ‘ডিক্সি ফায়ার’ নামক দাবানলের পিছনে ‘পিজি অ্যান্ড ই’ নামক একটি ইউটিলিটি ফার্ম দায়ী। উল্লেখ্য যে, এই একই ফার্মের কারণে ২০১৮ সালে রাজ্যটিতে ‘ক্যাম্প ফায়ার’ নামক দাবানলের সৃষ্টি হয়েছিলো। ‘ক্যাম্প ফায়ার’ দাবানলটি ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক দাবানল হিসেবে কুখ্যাত।

আমেরিকার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ কানাডাতেও দাবানলের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাডিয়ান ইন্টারেজেন্সি ফরেস্ট ফায়ার সেন্টার জানায়, কানাডাতে বিগত সপ্তাহেই ১৫০ এর অধিক নতুন দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানায়,  বহু বছর ধরে চলা খরার কারণে ২০২১ সালে উত্তর আমেরিকায় দাবানলের সংখ্যা পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এই শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ার কারণে দাবানলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।  

শিল্প যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার যদি গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন কমাতে না পারে, তাহলে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতেই থাকবে।

 এলএবাংলাটাইমস/এমডব্লিউ

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত