মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
ভাসান চরে যেতে চান না রোহিঙ্গারা
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করলেও সেখানে যেতে রাজি নয় রোহিঙ্গারা।
২৮ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাসানচরে বেড়িবাধ নির্মাণ, ঘরবাড়ি, সাইক্লোন শেল্টারসহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সরকার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে চাইছে। অথচ কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই সেখান থেকে সরতে চান না।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, ভাসানচরে স্থানান্তরের আগে কারিগরি মূল্যায়ন শেষে রোহিঙ্গাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায় এ নিয়ে তাদের মধ্যেও আলোচনা হয়েছে। তবে রোহিঙ্গারা বেশিরভাগই যে নামটির সঙ্গে পরিচিত সেটি হচ্ছে ঠেঙ্গার চর।
ভাসানচরে যেতে চায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নূর বেগম নামের এক রোহিঙ্গা নারী জানান, তারা এখানে ভালো আছেন। তাদের কোথাও যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তা ছাড়া সাগর দেখে তারা ভয় পান।
সালমা খাতুন নামের আরেক রোহিঙ্গা নারী জানান, তারা মা-বোনদের মধ্যে একটু আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা ভাসানচরে যাবেন না। বার্মার থেকে আসার পর এখানেই তাদের ভালো লাগে। নৌকায় যেতে তিন ঘণ্টা লাগে। তাই এত দূর তারা যাবেন না।
আজিম উদ্দিন নামের এক বয়স্ক রোহিঙ্গা জানান, কিছু মানুষ বলছে তারা ওই জায়গা চিনেন না। তা ছাড়া পানি উঠে ডুবে যাবে কি না, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। রোহিঙ্গারা কী চাইছে জানতে চাইলে আজিম জানান, এখান থাকবে, না-হয় এখান থেকে নিজের দেশে চলে যাবে।
কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের একটি ব্লকের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের জানান, ভালো জায়গায় নিয়ে গেলে তারা যেতে রাজি আছেন। ঠেঙ্গার চরে যেতে তারা রাজি নন।
ক্যাম্প মাঝিদের একজন নেতা মো. রফিক জানান, ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে প্রশাসনের লোকজন ক্যাম্পের মাঝিদের সঙ্গে একদফা আলাপ করেছিল। তাদের একটি তালিকা করারও কথা বলা হয়েছিল কিন্তু সেটি আর পরে হয়নি।
রফিক আরও জানান, ওই জাগায়াটা কেমন প্রথমে সেটা জানতে হবে। সবাই যদি সিদ্ধান্ত দেয় যে ওই জায়গাটাই ভালো, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
সরকারি হিসেবে কক্সবাজারে মিয়ানমার থেকে আসা নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখেরও বেশি। এই রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, আবাসনসহ সার্বিক ত্রাণ তৎপরতা রয়েছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা।
ভাসানচর প্রকল্প নিয়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘ভাসান চরে শরণার্থীদের স্থানান্তরের আগে এর সম্ভাব্যতা ও আকাঙ্ক্ষা যাচাই করতে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার দ্বারা স্বাধীন কারিগরি এবং সুরক্ষা মূল্যায়ন করা উচিত। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সেখানকার নিরাপত্তা, বাসযোগ্যতা এবং এক লাখ শরণার্থী পরিবহন এবং সেখানে বসবাসের কী প্রভাব হবে সে বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।’
জাতিসংঘ মনে করে, স্থানান্তরের আগে এ মূল্যায়ন থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করতে হবে যাতে তারা সেখানে যাবে কি না, এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, ‘তাদেরকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার মূল কাজটি শুরু করার আগে আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নির্দেশনা আছে যে তাদের আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য মাঝিদের একটি নির্বাচিত দলকে আমরা সেখানে নিয়ে যাব। তারা নিজেরা সেখানে সরেজমিনে দেখে আসবেন এবং সেখানের পরিস্থিতি সুযোগ সুবিধা দেখে আমরা বিশ্বাস করি যে তারা নিজেরাই যেতে আগ্রহী হবে।’
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন