মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস রাজধানীজুড়ে
মেট্রোরেলের উদ্বোধন নিয়ে রাজধানীর মানুষের মধ্যে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। সড়কের আশপাশে অবস্থানের সুযোগ না থাকায় তাঁরা দূরবর্তী ছাদে অবস্থান নিয়ে উন্মুখ হয়ে ছিলেন, কখন স্বপ্নের মেট্রোরেল দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও যাবে আর সেই ট্রেনটি দেখতে পারবেন। মেট্রোরেল রুটের দু'পাশের দূরবর্তী ভবনগুলোতে মানুষ সকাল থেকেই অবস্থান নিয়ে এ দৃশ্য দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলেন।
অবশেষে দুপুর ২টার দিকেই পল্লবীতে পৌঁছে মেট্রোরেল। না থেমেই সোজা মিরপুর ১২, ১১, ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, তালতলা হয়ে আগারগাঁও স্টেশনে গিয়ে থামে। মাঝেমধ্যে হুইসেল আর শোঁ শোঁ শব্দ করে মিনিট দশেকের মধ্যেই উত্তরা স্টেশন থেকে মেট্রোরেলটি পৌঁছে যায় আগারগাঁও। পরপর দুটি ট্রেন উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং আগারগাঁও থেকে উত্তরায় পৌঁছে। কয়েকজনকে ছাদে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ওড়াতেও দেখা গেছে। মেট্রোরেলের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা নগর থেকে শুরু করে উত্তরার দিয়াবাড়ী পর্যন্ত মেট্রোরুটের আশপাশে ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রোকেয়া সরণির শেরেবাংলা নগর থেকে পল্লবী পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল ছিল প্রায় বন্ধ।
সড়কের দু'পাশের সব দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। ভবনগুলোর প্রায় প্রতিটির ছাদেই ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান। মূল সড়কেও ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সড়কের পার্শ্ববর্তী ভবনগুলোর ছাদে অবস্থান বা জানালা-দরজা খোলা ও বারান্দায় অবস্থানে ছিল নিষেধাজ্ঞা। ফলে দূরবর্তী ভবনগুলোর ছাদগুলোতে অবস্থান নেয় উৎসুক নগরবাসী। মেট্রোরেল দেখার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষ-শিশুরা নির্বিশেষে মেট্রোরেলের দেখা পেয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে।
পল্লবী এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল কান্তি বিশ্বাস বলেন, তাঁর অফিস বিজয়নগরে। প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। মেট্রোরেলের কারণে গত কয়েক বছর ভোগান্তি ছিল সীমাহীন। কাজেই মেট্রোরেল নিয়ে তাঁর আগ্রহের কমতি ছিল না। এ জন্য তিনি অফিস বাদ দিয়ে মেট্রোরেলের উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখতে বসেন সকালে। টিভিতে সরাসরি যখনই দেখেছেন উত্তরা থেকে মেট্রোরেল ছেড়েছে, তখনই দৌড়ে ছাদে যান। কয়েক মিনিট পরই দেখতে পান, শোঁ শোঁ করে হুইসেল দিতে দিতে মেট্রোরেল ছুটে আসছে। তখনই মনের ভেতরে যেন কেমন করে ওঠে! 'যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়' বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোকেয়া সরণির শামীম সরণির বাসিন্দা সৈয়দ লিয়াকত হোসেন বলেন, 'ঢাকায় মেট্রোরেল হবে, জীবনে ভাবতে পারিনি। এত দিন কেবল রাস্তা কাটাকাটি দেখেছি। পরে ট্রায়াল শুরুর পর মাঝেমধ্যেই ট্রেন আসতে দেখেছি। কিন্তু অপেক্ষায় ছিলাম, কবে চড়তে পারব। দু-এক দিনের মধ্যেই মেট্রোতে চড়ব। কিন্তু টিকিট পাব কিনা, তা-ই ভাবছি।' মেয়ের বায়নায় রামপুরা থেকে শারমিনকে নিয়ে আগারগাঁওয়ে হাজির হওয়া রিকশাচালক রমজান আলী বলেন, 'মেয়েকে অনেক কষ্ট করে বোঝাতে হয়েছে, আজ আর ট্রেন চলবে না। কিন্তু সে নাছোড়বান্দা। অনেক বুঝিয়ে বলেছি, কাল আবার আসব।' আগারগাঁও স্টেশনে প্রধানমন্ত্রী নেমে যাওয়ার পর ট্রেন দুটি আবার দিয়াবাড়ীর দিকে রওনা দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপি অতিথিরা আগারগাঁও এলাকা ত্যাগ করার পর ধীরে ধীরে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
নিউজ ডেক্স
শেয়ার করুন