মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
'নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের ওপর জাতিসংঘের কোনো চাপ নেই'
ছবি: এলএবাংলাটাইমস
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোন চাপ বা দিক নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। পাশাপাশি জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ ধরনের দিক নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগও নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়াও শেখ হাসিনা সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ কর্মসূচীর ভিত্তিতে চলতি বছরে জাতিসংঘে কাজ অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত মুহিত উপরোক্ত কথা বলেন।
মতবিনিময়কালে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দুটি প্রস্তাবনা পাস হয়েছে। এ দুটি প্রস্তাবনাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ ত্বরান্বিত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। এছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে মিয়ানমারের চ্যালেঞ্জ করা রিট আন্তর্জাতিক আদালত খারিজ করে দিয়েছে। ফলে এখন দায়ের করা মামলার কার্যক্রম চলতে আর বাধা নেই।
‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আত্নস্বীকৃত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, খুনিরা প্রতিটি দেশে একটি আইনের অধীনে আশ্রয়ে আছে। তাই তাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি কাঠামোর ওপর নির্ভর করছে। তবে খুনিদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সংশ্লিস্ট দেশের সাথে আমরা সব রকম চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।
‘মিশন ও কনস্যুলেট’-এর যৌথ উদোগে বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, আমাদের কাজ জাতিসংঘ ঘিরে। কনস্যুলেট বাংলাদেশ দূতাবাসের নিয়ন্ত্রনে। ফলে আমাদেরকে আমাদের জুরিডেকশনে থেকে আর কনস্যুলেটকে তাদের মতো করে কাজ করতে হয়।
তিন বা ছয় মাস অন্তর অন্তর এমন মতবিনিময় করা যায় কিনা এমন এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, ইয়েস আমরা তা করতে পারি। এতে মিশন ও সাংবাদিকদের কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বাড়বে।
নিউইয়র্কের মিডিয়াগুলো শুধু সেবা দিয়েই যাচ্ছে, মিশন থেকে মিডিয়াগুলো কোন সেবা পাচ্ছে না এমন এক প্রশ্নের জবাবে মিশন প্রধান বলেন, বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে, আমরা চেষ্টা করবো।
স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত-এর মতবিনিময়কালে মিয়ানমারে সদ্য নিযুক্ত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ডা. মনোয়ার হোসেন তার পাশে ছিলেন। এছাড়াও মিশনের অন্যান্য কর্মকর্তা এসময় উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন