গ্রাহকসেবায় ৫ মিনিটের বেশি অপেক্ষা নয়: ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বিল, মানবিক যোগাযোগ নিশ্চিতের উদ্যোগ
আত্মসমর্পণের পর জামিনে মুক্ত খালেদার খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নাইকো
দুর্নীতি মামলায় জামিন দিয়েছেন আদালত।
গতকাল সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ
আদালত-৯-এর বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম
তাঁকে জামিন দেন। আদালত আগামী ২৮
ডিসেম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির
দিন ধার্য করেছেন।
গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের
নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদা জিয়া আদালতে
আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন
জানান। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন
মঞ্জুর করেন।
এর আগে নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল
চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ
করে গত ১৮ জুন বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান
ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট
বেঞ্চ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, বিচারিক
আদালতের রায় প্রাপ্তির দুই মাসের মধ্যে
খালেদা জিয়াকে সেখানে আত্মসমর্পণ
করতে হবে। এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি
প্রকাশ পাওয়ার পর তা গত ২৯ সেপ্টেম্বর
বিচারিক আদালতে পৌঁছে। বিচারিক আদালত
৩০ নভেম্বর খালেদা জিয়ার উপস্থিতির দিন
ধার্য করেন।
কানাডীয় কম্পানি নাইকোর সঙ্গে তেল-
গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের
আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগে খালেদা
জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৯
ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে
দুদক। মামলায় ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা
জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
দেয় দুদক। এতে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার
৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ আনা
হয়। এ মামলা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার করা
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮
সালের ৯ জুলাই তাঁর (খালেদা) বিরুদ্ধে
নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত
করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুল জারি
করেন। এ রুলের উপর হাইকোর্টে গত
১৯ এপ্রিল শুনানি শুরু হয়ে শেষ হয় ২৮ মে।
এরপর আদালত রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ
রাখেন। ১৮ জুন রুল খারিজ করে রায় দেন
হাইকোর্ট।
আদালতের কার্যক্রম : খালেদা জিয়া গতকাল
দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আদালতে হাজির হন।
আইনজীবীরা তাঁর বসার অনুমতি চেয়ে
মৌখিক আবেদন জানালে আদালত অনুমতি
দেন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, তিনি
(খালেদা) নানা রোগে আক্রান্ত। হাঁটুর
সমস্যায় চলাফেরা করতে তাঁর খুব কষ্ট হয়।
তাঁর চোখেও সমস্যা আছে। ইংল্যান্ডে
তাঁর এক চোখে অস্ত্রোপচার করা
হয়েছে। আরেক চোখ ও হাঁটুতে
অস্ত্রোপচার করতে হবে। এই মামলায় তিনি
আগে জামিনে ছিলেন। জামিন অপব্যবহার
করেননি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে
জামিনের বিরোধিতা করা হয়। দুদকের
বিশেষ পিপি মোশারফ হোসেন কাজল
বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী
থাকাকালে রাষ্ট্রের সব সম্পত্তির রক্ষক
ছিলেন। কিন্তু তিনি অন্য আসামিদের নিয়ে
পারস্পরিক যোগসাজশ করে ক্ষমতার
অপব্যবহার করে ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার
আর্থিক ক্ষতি করেছেন রাষ্ট্রের।
এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নাইকো
মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও নিæ
আদালতে মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ
চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন
খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই
নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম দুই
মাসের জন্য স্থগিত করা হয়, পাশাপাশি রুল জারি
করেন হাইকোর্ট। পরবর্তী সময়ে
স্থগিতাদেশের মেয়াদ কয়েক দফায়
বাড়ানো হয়। চলতি বছরের শুরুতে মামলাটির
কার্যক্রম আবার চালু করার উদ্যোগ নেয়
দুদক। গত ১৯ এপ্রিল রুল শুনানি শুরু হয়, ২৮
মে শেষ হয়। ১৮ জুন রায় ঘোষণা করা হয়।
খন্দকার মাহবুব আরো বলেন, খালেদা জিয়া
এ মামলায় একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর
হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। ১১
সেপ্টেম্বর তিনি সংসদ ভবনের সাবজেল
থেকে মুক্তি পান। তিনি তো জামিনে
ছিলেন। উচ্চ আদালত বিচারিক আদালতকে
জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করতে
বলেছেন।
শুনানি শেষে আদালত খালেদা জিয়ার
আবেদন মঞ্জুর করেন এবং অভিযোগ
গঠনের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
শুনানিকালে খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার
শাহজাহান ওমর, মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নুল
আবেদীন, বদরুদ্দোজা বাদল, সানাউল্লাহ
মিয়া, মহসিন মিয়া, খোরশেদ আলম, আবুল
খায়েরসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী
উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা
হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার
মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
এ কে এম মোশাররফ হোসেন,
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল
উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব
খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র
সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন,
বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর
ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো.
শফিউর রহমান, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, ঢাকা
ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং
নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস
প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। তাঁদের
মধ্যে সেলিম ভূঁইয়া নাইকোর কাছ থেকে
কাশেম শরীফের মাধ্যমে তিন কোটি
টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী এ কে এম
মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে
নাইকোর কাছ থেকে একটি গাড়ি উপহার
নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
মামলার শুনানি শেষে খন্দকার মাহবুব
হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক
প্রতিহিংসার বশে মামলায় খালেদাকে বিচারের
মুখোমুখি করা হচ্ছে। একই ধরনের মামলায়
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
হাইকোর্ট থেকে খালাস নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো
মামলাসহ দুর্নীতির পাঁচটি মামলা রয়েছে।
এক-এগারোর পর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের আমলে দুদক এসব মামলা করে।
আদালতের পরিবেশ : খালেদা জিয়ার
আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে গতকাল
ঢাকার আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর পরও
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও
অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়।
আদালত এলকায়ই তারা মিছিল করে।
শুনানি শেষে আদেশ হওয়ার পরপরই
খালেদা জিয়া আদালত থেকে বেরিয়ে যান।
তিনি বেশি দেরি না করে গাড়িতে উঠে যান।
আদালত থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠা
পর্যন্ত নেতাকর্মী ও সমর্থক
আইনজীবীরা খালেদা জিয়াকে ঘিরে
মিছিল করেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
News Desk
শেয়ার করুন