গ্রাহকসেবায় ৫ মিনিটের বেশি অপেক্ষা নয়: ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বিল, মানবিক যোগাযোগ নিশ্চিতের উদ্যোগ
পদ্মা সেতুর মূল কাজ শুরুই হয়নি
স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপ পেতে শুরু
করেছে। এরই মধ্যে পদ্মা সেতু
প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২৭
শতাংশ। এর মধ্যে মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি
প্রায় ১৬ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিশ্বের
দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সেতুর মূল পাইলিং কাজের
উদ্বোধন করবেন। মাওয়া ঘাট থেকে প্রায় ১
কিলোমিটার দূরে ৭নং পয়েন্টে পড়বে প্রথম
পিলার।
স্বপ্নের এ প্রকল্প সঠিক সময়ে সম্পন্ন করার
জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল
কাদের ঘন ঘন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে
কাজের অগ্রগতি তদারক করছেন। সোমবার
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা
সেতু এখন আর একটুও স্বপ্ন নয়। এটি এখন দৃশ্যমান
ও বাস্তব হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী ১২
ডিসেম্বর সেতুর মূল পাইলিংয়ের কাজ উদ্বোধন
করবেন। ২০১৮ সালের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ
শেষ করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
দেশের সর্ববৃহৎ এ প্রকল্প সম্পাদনে
মহাকর্মযজ্ঞ চলছে সেতু এলাকায়। মূল সেতুর
কাজের সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে সংযোগ সড়ক
নির্মাণ, মাঝনদীতে মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে
পুরোদমে। দেশী-বিদেশী, সামরিক-বেসামরিক
মিলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শ্রমিক এখন কাজ করছেন
প্রকল্প এলাকায়। জার্মানি থেকে মূল পাইলের হ্যামার
মাওয়ায় পৌঁছার পর কাজের গতি আরও বেড়ে
গেছে। দুই তলাবিশিষ্ট এ সেতুর নিচতলা দিয়ে রেল
ও ওপর তলা দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে।
সেতুর পাইলগুলোর প্রতিটির দৈর্ঘ্য হবে ১৫০ মিটার
যা বিশ্বের সবচেয়ে বড়। এর মধ্যে ১২০ মিটার
থাকবে পানির নিচে, যা প্রায় ৪০ তলা ভবনের সমান।
পদ্মা নদীর গর্ভে মাটিতে কাদার পরিমাণ বেশি
হওয়ায় এর চাপ ধারণক্ষমতা কম। তাই পাইলগুলো এত
দীর্ঘ হচ্ছে। এদিকে সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে
চলমান থাকায় প্রকল্প এলাকায় নেয়া হয়েছে
জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে
প্রবেশের ক্ষেত্রে নেয়া হয়েছে কড়াকড়ি
ব্যবস্থা। অনুমতি ছাড়া সাধারণ দর্শনার্থীদেরও
প্রবেশ নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে চায়না মেজর
ব্রিজ ও সিনোহাইড্রোর যৌথ নিরাপত্তাকর্মীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন
ইয়ার্ডের বিশাল ওয়ার্কশপ থেকে বের করে
রেললাইন ধরে পাইল বার্জে করে ক্রেনের
মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পদ্মায়। ৬টি কেসিন
নিয়ে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে পাইল স্থাপন প্রক্রিয়া
চলছে। তিন দিন ধরে তীর থেকে প্রায় এক
কিলোমিটার দূরে বসানো হয়েছে ৩ মিটার
ব্যাসবিশিষ্ট সার্ভিস পাইল। এটিই ৭ নম্বর পিলার বা পি-৭
নামে পরিচিত।
এখান থেকেই শুরু হবে প্রথম মূল পাইলিংয়ের কাজ।
এর ১৫০ মিটার পরপর আরও ৩টি পিলার মূল পাইলিংয়ে
প্রস্তুতি চলছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের এ
সেতু ৪২টি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে। এছাড়া
দেড় কিলোমিটার করে উভয় পাড়ে তিন কিলোমিটার
সংযোগ সেতুর জন্য আরও ২৪টি পিলার হবে।
নদীর মধ্যে সেতুর ৪২টি পিলারে ৬টি করে ২৪০টি
এবং দু’পাড়ের দুটি পিলারের জন্য ১২টি করে ২৪টি
পাইল বসাতে হবে। সব মিলিয়ে ২৬৪টি পাইল হবে এ
সেতুতে।
সেতু বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু)
দেওয়ান মো. আবদুল কাদের জানান, গত
কয়েকদিন থেকে মূল পাইলিংয়ের জন্য আনুষঙ্গিক
সব রকম যন্ত্রপাতি সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে।
একের পর এক সব পাইল ড্রাইভিংয়ের পরই পদ্মা
সেতুর সুপার স্ট্রাকচারের কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেয়া
হবে। এজন্য সিঙ্গাপুর থেকে আরও ২৫০০-৪০০০
টন ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি ক্রেন আনা হচ্ছে। এদিকে
জাজিরা পয়েন্টে নদী শাসনের ড্রেজিংয়ের
কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলে জানান
সেতু বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (নদীশাসন)
সরফুল ইসলাম সরকার।
মূল পাইলিংয়ের কাজ উদ্বোধন উপলক্ষে লৌহজং
উপজেলার মাওয়ায় চলছে সাজসাজ রব। ঢাকা-মাওয়া
মহাসড়কের দুই পাশে টানানো হয়েছে রঙ-
বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট ও
প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত পোস্টার-প্ল্যাকার্ড।
News Desk
শেয়ার করুন