আপডেট :

        ইসলামিক সেন্টার হামলায় নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ নায়ক হিসেবে সম্মানিত

        স্যান্ডি ফায়ারে সিমি ভ্যালির প্রায় ৪৪ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

        যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ উপ-রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

        ট্রাম্প-শি বৈঠকের পর বোয়িং থেকে ২০০ বিমান কিনবে চীন

        ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীর কাছে পরাজিত ট্রাম্পবিরোধী রিপাবলিকান নেতা

        নিউইয়র্ক সিটিতে খোলা ম্যানহোলে পড়ে নারীর মৃত্যু

        স্যান্ডি দাবানল লস এঞ্জেলেসের দিকে, পুড়েছে ১,৩০০ একরের বেশি

        সান ডিয়েগোর মসজিদে বন্দুক হামলা, নিহত ৩

        কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত মার্কিন চিকিৎসককে জার্মানিতে নেওয়া হচ্ছে

        কঙ্গোতে ইবোলা আতঙ্ক: মৃত অন্তত ১১৮, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

        ওপেনএআই মামলায় আদালতে হারলেন ইলন মাস্ক

        লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে হাম আতঙ্ক: ২০২৬ সালের পঞ্চম রোগী শনাক্ত

        ক্যালিফোর্নিয়ায় দমকা হাওয়া, দাবানলের ঝুঁকি ও উত্তাল সমুদ্রের সতর্কতা

        কঙ্গোতে ইবোলা আতঙ্ক: অন্তত ৬ মার্কিন নাগরিক ভাইরাসের সংস্পর্শে

        তাইওয়ান সার্বভৌমত্ব ছাড়বে না, সংঘাতও চায় না: প্রেসিডেন্ট লাই

        যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার শোতে দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ, নিরাপদে চার ক্রু

        ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বলরুম প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন আটকে দিল মার্কিন সিনেটের নিয়মরক্ষক

        লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ

        নস্যাৎ হওয়া সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্য ছিল লস এঞ্জেলেসের ইহুদি প্রতিষ্ঠান

        রিপাবলিকান সিনেটরকে হারালেন ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী

আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে: শরিফুলের বাবা

আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে: শরিফুলের বাবা

বলিউড তারকা সাইফ আলি খানের ওপর হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে শরিফুল ইসলাম শেহজাদকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। তবে শরিফুলের বাবা বলেছেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি তার ছেলে শরিফুল হলেও সিসিটিভি ফুটেজে যাকে দেখা গিয়েছিল, সে অন্য কেউ। তার ছেলে নন। তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শরিফুল ইসলামের বাবা রুহুল আমিন ফকির ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, ‘আমার ছেলের ডাকনাম সাজ্জাদ (শেহজাদ)। সে এতকিছু কেমনে করল, আমি তা বুঝে উঠতে পারছি না। সিসিটিভিতে যে ছেলেটিকে দেখছি, সে আমার ছেলে নয়। পুলিশ যাকে গ্রেপ্তার করেছে, সে-ই আমার ছেলে। সিসিটিভিতে যে ছেলেটিকে দেখা যাচ্ছে, তার মুখের ধরন আর চুলের স্টাইলের সঙ্গে আমার ছেলের কোনো মিল নেই। আমার ছেলে উলটে চুল আঁচড়াত। কপাল পর্যন্ত চুল রাখত না।’

শরিফুলের বাবা আরও বলেন, ‘গত বছর মার্চ-এপ্রিল নাগাদ শরিফুল ঝালকাঠির বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। পরে জানতে পারি ও ভারতে আছে। তবে ভারতের কোথায় আছে, অতশত বুঝতাম না। মাসের ১০ তারিখে শরিফুল মাইনে পেত। আর আমাদের প্রত্যেক মাসের ১২ তারিখের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পাঠাত।’ শরিফুলের সঙ্গে শেষ কবে কথা হয়েছিল? এমন প্রশ্নের উত্তরে রুহুল আমিন বলেন, ‘গত শুক্রবার রাতে শরিফুল আমাকে ফোন করেছিল। জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আব্বা কেমন আছ?’ এরপর আরও কিছু কথা হয়। আমি এমনিতে কম কথার মানুষ। তাই বেশি কথা হয়নি। তার পর থেকে আর ওর গলা শুনতে পাইনি।’

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর, অভিযুক্ত শরিফুল বাংলাদেশের জেলা ও জাতীয় স্তরের কুস্তিগির ছিলেন। এ কথা বলতে অবাক হলেন রুহুল আমিন ফকির। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঝালকাঠিতে কুস্তির তেমন প্রচলন নেই। তাই ওর কুস্তি করার প্রশ্ন নেই। ঈদের সময় দু-একবার হয়তো কুস্তি করেছে। আমাদের রাজধানী ঢাকাতে কুস্তি হয়। তবে শরিফুল ফুটবল খেলত। আর ও এসএসসি পাস করেছিল।’ ঝালকাঠিতে কী করতেন শরিফুল? তার বাবা জানান, ‘আমি ওকে একটা মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম। সেটা চালিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়ার কাজ করত।’

একসময় খুলনা মিলে চাকুরি করা শরিফুলের বাবা রুহুল আমিন ফকির হতাশার সুরে বলেন, ‘সাইফ আলি খান একজন বিখ্যাত মানুষ, তার সাথে আমাদের সাজ্জাদের (শেহজাদ) কোন বিরোধ থাকতে পারে না। সে এলাকায় থাকাকালীন সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিল। বিভিন্ন সময়ে অত্যাচারিত হওয়ার কারণেই দেশে ছেড়েছে।’

  
তিনি আরও বলেন, ‘হামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পরই তার পক্ষে কারা আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন সেটাও আমরা জানি না। তার গ্রেপ্তারের খবর আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আজকে ভারত থেকে কয়েকজন ফোন দিয়েছিল তারা জানিয়েছেন তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে আমার ছেলেকে আদালতে উঠানো হয়েছে সে সময় সাজ্জাদ তাকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আমরা আরও জানতে পেরেছি তাকে মেরে তার কাছ থেকে হামলা করার স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছিল।’


রুহুল আমিন ফকির বলেন, ‘কখনো আমার ছেলের নামে কোনো অভিযোগ বা নালিশ শুনিনি। আমি চাই, আমার ছেলে সঠিক বিচার পাক। ভারতে আমাদের কেউ নেই। আমরা খুব অসহায়। আমরা শুধু আল্লাহর ভরসায় আছি। ওনার কাছে আমরা সবাই দোয়া করছি। আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি ভালো নয়। আজ আমার ছেলে কি বিচার পায়, দেখি। ভাবছি দু-এক দিনের মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাব। আমার তিন ছেলে। শরিফুল ওরফে সাজ্জাদ হলো দ্বিতীয় সন্তান।’ শরিফুল এখনো বিয়ে করেননি বলেও জানান তার বাবা। 

 

এদিকে শরিফুলের আইনজীবী সন্দীপ শেখানে বলেছেন, ‘অভিযুক্ত যে বাংলাদেশি, তার কোনো প্রমাণ নেই। পুলিশের দাবি যে অভিযুক্ত ছয় মাস আগে মুম্বাইতে এসেছেন।’ অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবীর দাবি, শেহজাদ সাত বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইতে আছেন। সন্দীপ শেখানে আরও বলেছেন, ‘অভিযুক্তের নাগরিকত্ব বদল করে পুলিশ এ মামলার ফোকাস ঘোরাতে চাইছে।’ তার দাবি, শরিফুলের কাছ থেকে পুলিশ কোনো কিছু উদ্ধার করতে পারেনি।

 

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত