আপডেট :

        রেকর্ড ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার ক্রেডিট কার্ড ঋণে জর্জরিত মার্কিনরা, বাড়ছে বকেয়া বিল

        ইউসিএলএ ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

        ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ

        কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ মার্কিন আদালতের

        ভার্জিনিয়ায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ৫, আহত অর্ধশতাধিক; চালকের পরিচয় প্রকাশ

        স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনের মেলা থেকে সরে দাঁড়ালেন একাধিক শিল্পী

        ট্রাম্পের তহবিলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১০০% করের হুমকি

        কোভিড ত্রাণ ঋণ জালিয়াতিতে ৪০ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাৎ, কারাদণ্ড

        রিভারসাইড কাউন্টিতে স্কাইডাইভিং দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ১

        যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি খুব কাছাকাছি, তবে এখনো চূড়ান্ত নয়: জেডি ভ্যান্স

        নিউইয়র্কে ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মার্কিন নাগরিকের ১০ বছরের সাজা

        ট্রাম্পের ছবি দিয়ে ২৫০ ডলারের নতুন নোট আনার প্রস্তুতি

        বিশ্বকাপ ঘিরে বড় নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে লস এঞ্জেলেস পুলিশ

        ক্যালিফোর্নিয়ায় রাসায়নিক ট্যাংক আতঙ্ক কাটল, প্রত্যাহার সব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

        যুক্তরাষ্ট্রে কাগজ কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণ, নিহত ১

        ফেডারেল কর্মীদের এনডিএ সই করাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন

        যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে হোয়াইট হাউসে ইউএফসি খাঁচা নির্মাণ

        খালি হাতে সাপ ধরলেন রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র, ভাইরাল ভিডিও

        ইরানে আবারও মার্কিন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌকা লক্ষ্যবস্তু

        মালদ্বীপে গুহায় ডাইভিং দুর্ঘটনায় নিহত ৪ ইতালিয়ানের মরদেহ দেশে ফেরত

যেভাবে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া যেভাবে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কারণ হয়েছিল

যেভাবে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া যেভাবে মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কারণ হয়েছিল

১০৭ বছর আগে তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের জায়নবাদী নেতা ওয়াল্টার রথসচাইল্ডকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বরের এই চিঠি, যার কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না, বর্তমানে 'বেলফোর ঘোষণা' নামে পরিচিত।


বেলফোর চিঠিতে বলেন, ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য জাতীয় আবাসন প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করবে ব্রিটিশ সরকার। তবে জাতীয় আবাসকে ইহুদিবাদীরা রাষ্ট্র হিসেবে ব্যাখ্যা ও উপলব্ধি করেতে থাকলে অচিরেই ফিলিস্তিনিদের জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়।


উগান্ডা স্কিম

এর আগে ১৯০৩ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সচিব জোসেফ চেম্বারলাইন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে পূর্ব আফ্রিকার একটি অংশে ইহুদি আবাসভূমি তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পূর্ব আফ্রিকার গুয়াস এনগিশু মালভূমিতে জায়নবাদীদের আবাসের এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।


'উগান্ডা স্কিম' নামে পরিচিত এই বিষয়টি রাশিয়ায় অ্যান্টি-সেমিটিক পোগ্রোমগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছিল।

১৯০৫ সালের একটি সম্মেলনে জায়নবাদী নেতৃত্ব অবশ্য এই ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করে। তারা ফিলিস্তিনেই একটি আবাসভূমির পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখে, যা তখন অটোমান সাম্রাজ্যের একটি অংশ ছিল।

১৯১৪ সালে উসমানীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার পরে ব্রিটেন। তখন জায়নবাদীরা একটি সুযোগ অনুভব করে এবং ফিলিস্তিনে একটি স্বদেশের জন্য আরও জোরালোভাবে তদবির শুরু করে।

ব্রিটিশদের সেই যুগের রাজনৈতিক কূটকৌশল থেকে স্পষ্ট, অটোমান সাম্রাজ্যকে ভেঙে দিতে এবং এর কিছু অংশকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল তারা। এই ধারনাই পরবর্তী 'কুখ্যাত বেলফোর ঘোষণা'কে প্রভাবিত করেছিল।

বেলফোর ঘোষণার ফলে হাজার হাজার ইউরোপীয় ইহুদি ফিলিস্তিনে চলে যায়। ১৯৩০-এর দশকে ইহুদিরা সশস্ত্র দল গঠন করে এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু করে। তাদের বাস্তুচ্যুত করতে থাকে।

রসায়ন সংযোগ

আর্থার বেলফোর ছিলেন একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ, যিনি জায়নবাদের দৃঢ় সমর্থনের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত হয়ে আছেন। বেলফোর ১৯০৫ সাল পর্যন্ত তিন বছর প্রধানমন্ত্রী এবং ১৯১৬ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯০৬ সালে বেলফোর রুশ-ইহুদি রসায়নবিদ চেইম উইজম্যানের সঙ্গে দেখা করেন এবং 'মুগ্ধ হন', যিনি ইংল্যান্ডে জায়নবাদী লবিস্ট ছিলেন। ১৯০৪ সালে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের চাকরি গ্রহণের পর চেইম উইজম্যান ইংল্যান্ডে আবাস গড়েন।

ভুট্টা থেকে 'অ্যাসিটোন' দ্রাবক আহরণের একটি পদ্ধতি তৈরি করে তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ যুদ্ধ-উপকরণ শিল্পকে সহায়তা করেছিলেন। আর্টিলারি ব্যারেলের সনাক্তকরণ এবং অবস্থান এড়াতে আর্টিলারি ফায়ারের ধোঁয়া ছাঁকতে 'অ্যাসিটোন' ব্যবহার করা হতো।

বেলফোর ঘোষণাটি ছিল চেইম উইজম্যানের 'রাসায়নিক সহায়তার পুরস্কার'। পরবর্তীতে এই উইজম্যান ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট হন।

তবে সেই অ্যাসিটোনের সংশ্লেষণ আজও ফিলিস্তিনিদের তাড়া করে চলেছে। কারণ গাজায় বর্তমান ইসরায়েলের যুদ্ধ ৩৯৩ তম দিন পর্যন্ত ৪৩,২৫৯ জনকে হত্যা করেছে। ১০১,৮২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। আরও ১০ হাজার মানুষ ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

টিআরটি ওয়ার্ল্ড

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত