আপডেট :

        দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপপ্রবাহ, কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ১১৪ ডিগ্রি

        নতুন পানির পাইপে লিক, আবারও জলাবদ্ধতা পশ্চিম হলিউডে

        হুথিদের হামলায় সৌদি ট্যাংকারে আগুন, ইরানে নতুন মার্কিন হামলা

        ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: ট্রাম্প

        ট্রাম্পকে অপছন্দ করলেও আমাকে ভোট দিন: হিলটন

        মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

        সংকটাপন্ন অবস্থায় বিগ বিয়ারের ঈগল ‘জ্যাকি’, বাসায় সঙ্গীকে খুঁজে ডাকছে ‘শ্যাডো’

        শিশুদের বিরল ক্যানসারের রহস্য: তদন্তের দাবিতে অরেঞ্জ কাউন্টিতে বিক্ষোভ

        ৭৪ বছর পর সমুদ্রের তলদেশে মিলল বিধ্বস্ত প্যান অ্যাম বিমানের ধ্বংসাবশেষ

        ইরান যুদ্ধে ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার, নতুন অর্থ চাইল পেন্টাগন

        ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রপ্তানি ১৫% কমতে পারে: গবেষণা

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স কর্মসূচি বড় পরিসরে সম্প্রসারণ

        মাদক সম্রাট ‘এল মায়ো’ জাবাম্বাদার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানাও

        মার্কিন হামলা অব্যাহত, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

        উপকূলে ধেয়ে আসছে ট্রপিক্যাল স্টর্ম বার্থা, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা

        এলিডা ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে উচ্চ ঢেউয়ের সতর্কতা

        লস এঞ্জেলেসে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১, বাস্তুচ্যুত ৬০ জন

        চতুর্থ সন্তানের বাবা হলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

        যুক্তরাষ্ট্রে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব: লেটুসে পরজীবী শনাক্তের দাবি ছিল ভুল, জানাল এফডিএ

        ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের কড়া বার্তা

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে আইনি সংঘাত

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে আইনি সংঘাত

 

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক দুই বিচারপতি রুথ বেডার গিন্সবার্গ ও অ্যান্টোনিন স্কালিয়ার ২০১৪ সালের একটি সাক্ষাৎকার পুনরায় আলোচনায় এসেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের গণডিপোর্টেশন নীতির প্রেক্ষাপটে। ওই সাক্ষাৎকারে উভয় বিচারপতি একমত হয়েছিলেন যে, সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর পাঁচটি স্বাধীনতা—ধর্ম, বাক-স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যম, সমাবেশ ও আবেদনের অধিকার—অনিবন্ধিত অভিবাসীদের জন্যও প্রযোজ্য। কিন্তু বর্তমানে এই দ্বিদলীয় ঐকমত্য চরম পরীক্ষার মুখে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার মূলে রয়েছে বহুসংস্কৃতির ঐতিহ্য। কিন্তু বর্তমান নীতিমালা সেই ভিত্তিকে নড়বড়ে করে তুলছে। অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সুশীল সমাজ ও আইনজীবী সম্প্রদায়ের সংগ্রাম এখনও চলমান, তবে এর সমাধান কেবল আইনী লড়াই নয়—রাজনৈতিক সদিচ্ছারও প্রশ্ন।

স্কালিয়া (রক্ষণশীল) ও গিন্সবার্গ (প্রগতিশীল) উভয়েই জোর দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থানরত প্রতিটি ব্যক্তি—নাগরিক হোক বা না হোক—সাংবিধানিক অধিকারের আওতায় পড়েন। বিশেষত, ১৪তম সংশোধনীতে "নাগরিক" নয় বরং "ব্যক্তি" শব্দটি ব্যবহারের কারণে সমস্ত মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অভিবাসন একটি "প্রিভিলেজ" বা বিশেষ সুবিধা, যা যেকোনো সময় প্রত্যাহার করা যায়। সম্প্রতি ভেনিজুয়েলা থেকে আসা অভিবাসীদের গণহেফাজত, প্রমাণবিহীন গ্যাং সংযোগের অভিযোগ, এবং ফিলিস্তিন-সমর্থনকারী বিক্ষোভে জড়িত শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের ঘটনায় এই বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসীদের সংবিধানিক অধিকার থাকলেও বাস্তবে তা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মাস্ক পরিহিত আইচ (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা রাস্তা থেকে অভিবাসীদের গ্রেফতার করে দূরবর্তী ডিটেনশন সেন্টারে প্রেরণ করছেন, যেখানে আইনী সহায়তা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ডেভিড লিওপোল্ড (সাবেক প্রেসিডেন্ট, আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন) এর মতে, "যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা প্রত্যেকেরই সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু অভিবাসন আদালতগুলো এই অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ।"

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশল হলো—ফিলিস্তিনি ইস্যুতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও একাডেমিকদের ভিসা বা গ্রিন কার্ড বাতিল করা। গত ১.৫ বছরে ৩০০-র বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন। প্রশাসনের যুক্তি, "যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান একটি সুযোগ, যা রাষ্ট্র যেকোনো সময় কেড়ে নিতে পারে।" তবে আইনজীবী নিল ওয়াইনরিব সতর্ক করেছেন, "এটি অভিবাসীদের উপর রাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার প্রদর্শন। স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারও এখন ঝুঁকিতে।"

অপরাধী ও অভিবাসন আদালতের মধ্যে বড় পার্থক্য হলো—অভিবাসন আদালত নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এখানে অভিযুক্তদের সরকারি আইনজীবী পাওয়ার অধিকার নেই, সাক্ষ্য-প্রমাণের কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয় না, এবং আটক থাকার সময়সীমা অনির্দিষ্ট। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৪% আটক অভিবাসী আইনী সহায়তা পেয়ে থাকেন। নায়না গুপ্ত (পলিসি ডিরেক্টর, এআইসি) এর মতে, "এটি একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা, যেখানে অধিকারের বদলে শাস্তির মনোভাব প্রাধান্য পায়।"

নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সাবেক ছাত্র মাহমুদ খলিলের ঘটনা উদাহরণ—তাকে লুইজিয়ানার একটি সুবিধাবিহীন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তার আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব। ওয়াইনরিবের একজন তাজিকিস্তানি ক্লায়েন্টকেও পেনসিলভেনিয়ার নির্জন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। আইসিই-র দাবি, এটি "অশাস্তিমূলক" ব্যবস্থা, কিন্তু বাস্তবে এটি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শামিল।

অভিবাসন আইনজীবী ভেরোনিকা কার্ডেনাসের ভাষ্য, "প্রতিদিন নতুন নীতিমালা আসছে, যা আইনী স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করছে।" ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতির ফলে অভিবাসীদের অধিকার এখন অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিবাসন নীতির ব্যবহার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করছে।

 

এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত