যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 10:06pm

|   লন্ডন - 04:06pm

|   নিউইয়র্ক - 11:06am

  সর্বশেষ :

  আসছে ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’   ভারতের বিখ্যাত লাল কেল্লা দখলের হুমকি পাকিস্তানি মন্ত্রীর!   কানাডায় ‘দেবী’   আসছে নির্বাচন: ফের সিএমএইচে ভর্তি এরশাদ   রবিবার থেকে বাংলাদেশে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার   ‘১০ নম্বরি’ হলেও নির্বাচনের মাঠে থাকবো : ড. কামাল   সিডরে নিখোঁজ শহিদুল বাড়ি ফিরলেন ১১ বছর পর!   বিএনপির মনোনয়ন কিনলেন সাড়ে ৪ হাজার প্রার্থী   ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচনে আসছেন এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া   নতুন অস্ত্র উৎপাদন শুরু উত্তর কোরিয়ার   যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে উঠল সৌদি আরবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিল   কেন কর্মীদের আইফোন বর্জন করতে বললেন জাকারবার্গ?   সরকা‌রের ‘অ‌নিয়ম-দুর্নী‌তি’ প্রকা‌শে সম্পাদকদের সহ‌যো‌গিতা চায় ঐক্যফ্রন্ট   রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চিকে সমর্থন করল চীন   কোনো দেশেই শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না : ইসি কবিতা খানম

>>  স্বাস্থ্য এর সকল সংবাদ

যে চারটি কারণে বেশি ঘুমানো প্রয়োজন

বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের পরিমাণ দিন দিন কমছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে এই সমস্যা অনেক বেশি। কিছু কিছু উন্নয়নশীল দেশেও সমস্যাটি দেখা যাচ্ছে। ঠিকমতো যথেষ্ট পরিমাণ না ঘুমানোয় স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

প্রতিদিন বেশি পরিমাণে ঘুমালে বেশ কিছু উপকার পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-

স্মৃতিশক্তি
ঠিকমতো বেশি পরিমাণে ঘুমালে স্মৃতিশক্তি বাড়বে। এতে সব কাজ করতে পারবেন সহজেই। এছাড়া ঘুমের পরিমাণ বাড়ালে যেকোনও কিছু শেখার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। রাতে পড়ালেখা শেষ করে যদি সময়মতো ঘুমাতে পারেন, তাহলে

বিস্তারিত খবর

বাসায় পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না : গবেষণার তথ্য

 প্রকাশিত: ২০১৮-১১-০৪ ০৮:৫০:৩৯

অসুস্থ হলে আমরা কমবেশি সবাই ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। কখনো কখনো আবার ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ঘরেই পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না বাসায় পড়ে থাকা সেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। এতে করে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, একদল গবেষক দীর্ঘদিন বাড়িতে পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণায় তারা জানতে পারেন, ওইসব অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের হার বাড়িয়ে দেয়।ৎ

ওই গবেষক দলের একজন নিউ ইয়র্কের কোহেন চিলড্রেন মেডিক্যাল সেন্টারের ডা. রুথ মিলানাইক। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা যাচ্ছে অনেক অভিভাবকই প্রেসক্রিপশন ডাইভারসন নামের সমস্যায় জড়িত, প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক চেয়ে আনা বা আগের প্রেসক্রিপশন দেখে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা আছে তাদের। যার জন্য যে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি তাকে সেটি দেওয়া শুধু তার জন্যই বিপজ্জনক নয়, পুরো জনসংখ্যার জন্য ভয়ের কারণ। কারণ একসময় শরীর এই অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দেয় না।’

ডা. রুথ মিলানাইক জানান, গবেষণার জন্য অ্যামাজন মেকানিক্যাল টার্কের মাধ্যমে অনলাইনে ৪৯৬ জন অভিভাবককে প্রশ্নাবলি বিতরণ করা হয়েছিল। প্রায় ৪৮.২ শতাংশ (অর্ধেক) অভিভাবক জানিয়েছেন যে তারা রোগ সারার পর অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকগুলো রেখে দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ পরবর্তী সময়ে তাদের ভাই-বোন, বাচ্চাদের এবং সম্পর্কযুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ওই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো দেন।

ডা. মিলানাইক আরও জানান, অনেক সময় দেখা গেছে, প্রেসক্রাইব করার বেশ কয়েক মাস পর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আবার ওই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিভাবকরা নিজেরাও অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যবহার করছেন।

এ সম্পর্কে ডা. মিলানাইক বলেন, ‘কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে, সব অসুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় নয় এবং পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারগুলোকে শিক্ষিত করার জন্য আরও বেশি প্রচেষ্টার প্রয়োজন। যদিও অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ফলে ওষুধের বিপ্লব ঘটেছে, তাও সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে এর সঠিক মাত্রায় ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য  চিকিৎসকদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

ওই গবেষকদের ফলাফল আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের জাতীয় সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান ডা. রুথ মিলানাইক।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যেসব খাবারের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১৯ ১৪:৫৮:১৭

আপনি সম্ভবত ইতোমধ্যে জানেন যে, কিছু খাবার ফিটনেস ও হার্টের জন্য ভালো নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে, জাঙ্ক ফুড ও অন্যান্য কিছু খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। এখানে আপনার যা জানা প্রয়োজন তা দেওয়া হলো।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণ

আপনার খাদ্যতালিকা উন্নত করার জন্য অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু গবেষণা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, কিছু ক্যানসার বিকাশের ঝুঁকি কমানো হতে পারে সর্বোত্তম কারণ। উচ্চ চিনি, চর্বি ও লবণ সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার আপনাকে স্থূলতা ও এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অবস্থা যেমন- ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রাখে। সম্প্রতি পিএলওএস মেডিসিন নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় নিম্ন পুষ্টির খাবার এবং কিছু ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে সংযোগ পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে কিছু কথা

গবেষকরা নিউট্রি-স্কোর লোগে নামে পরিচিত যুক্তরাজ্যের নিউট্রিশনাল লেবেলিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে গবেষণা করেন, যা ২০০৭ থেকে শুরু হয়েছে। এই গবেষণায় ৪৭০,০০০ এরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কের খাবার মূল্যায়ন করা হয়। অন্যান্য ফ্যাক্টর (যেমন- এক্সারসাইজ না করা এবং ধূমপান করা) সংশোধন করার পরও গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক সবচেয়ে কম স্কোরের খাবার খেয়েছিল তাদের পাকস্থলী, কোলরেক্টাল, শ্বাসনালী, ফুসফুস, যকৃত ও মেনোপজ-পরবর্তী স্তন ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকি ছিল।

খাবারকে ভয় পাবেন না

এই গবেষণা এটি ইঙ্গিত করছে না যে, মাঝেমাঝে এসব খাবার খাওয়া আপনার মৃত্যুর কারণ হবে। বরঞ্চ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিনিয়ত নিম্নমানের ডায়েটের ওপর থাকাই হচ্ছে সমস্যা: যদি আপনি নিয়মিত চর্বিহীন প্রোটিন, হোল গ্রেন, ফল ও শাকসবজি না খান এবং এর পরিবর্তে উচ্চ চর্বি, চিনি, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খান- তাহলে আপনার খাদ্যতালিকা পুনরায় বিবেচনা করার সময় হয়েছে।

এখানে কিছু খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যা এড়িয়ে চললে, বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে।

* বারবিকিউ
গ্রিল প্রেমিকেরা, সাবধান। অত্যধিক মাংস (বিশেষ করে, অত্যধিক রান্নাকৃত মাংস) ভোজনের সঙ্গে ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে, বলেন আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির এপিডেমিওলজি রিসার্চের সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর মিয়া গডেট। সমস্যা হচ্ছে, গ্রিলের ওপর মাংস রান্না করলে পিএএইচ নামক কার্সিনোজেনিক কম্পাউন্ড উৎপন্ন হতে পারে, তিনি বলেন। ফ্লেইম-ব্রয়েলড (সরাসরি তাপ প্রয়োগে রান্না) বার্গার বা স্টিকের পোড়া দাগ হচ্ছে কেমিক্যালের লক্ষণ যা খেতে যতটা সুস্বাদু, স্বাস্থ্যের জন্য তার চেয়েও বেশি খারাপ। গবেষণায় যেসব ইঁদুরকে এসব কম্পাউন্ড সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়ানো হয়েছিল তাদের ক্যানসারযুক্ত টিউমার বিকশিত হয়েছিল। এমনকি পোড়া টোস্টেও অল্প পরিমাণে এসব কম্পাউন্ড থাকে, বলেন গডেন। তাই যদি আপনি নিয়মিত উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নাকৃত মাংস খান, তাহলে বিকল্প পদ্ধতির খাবার গ্রহণের কথা বিবেচনা করুন।

* গাঁজানো খাবার
উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ ও পরিপাকতন্ত্রের উপকারিতার কারণে গাঁজানো খাবার জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু কিছু প্রাথমিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব খাবারের উচ্চ লবণের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের সংযোগ থাকতে পারে। গবেষণায় এশিয়ার লোকদের মধ্যে ক্যানসারের উচ্চ হার পাওয়া গেছে যারা প্রচুর গাঁজানো খাবার (যেমন-স্মোকড ফিশ) খেত, বলেন মেডিক্যাল অফিসেস অব ম্যানহাটনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট সেগাল।

* চারকুটেরি
সসেজ, ব্যাকন, হ্যাম ও স্যালামির মতো মাংস সংরক্ষণের প্রক্রিয়া নাইট্রাইটস গঠন করে। গবেষকরা পেয়েছেন যে, এই কম্পাউন্ড কোলন ও অন্যান্য ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, বলেন গডেট। এ কারণে এসিএস (আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি) গাইডলাইন আপনার ডায়েটে প্রক্রিয়াজাত মাংস সীমিত করার জন্য সুপারিশ করছে। স্মোকিং, সল্টিং অথবা কিউরিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষিত মাংস কম খান।

* অ্যালকোহলিক পানীয়
অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ান্টিটি বড় ফ্যাক্টর। পরিমিত থেকে উচ্চ মাত্রার অ্যালকোহল পানের সঙ্গে ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে, বলেন গডেট। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা এক সার্ভিংয়ের বেশি অ্যালকোহল পান করতে নিষেধ করছেন।

* লাল মাংস

যেকোনো ধরনের লাল মাংস (যেমন- গরুর মাংস, শূকরের মাংস, ভেড়ার মাংস) আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতি সপ্তাহে ১৮ আউন্সের বেশি লাল মাংস ভক্ষণ আপনার কোলরেক্টাল ক্যানসার বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে, আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ অনুসারে। এ কারণে অধিকাংশ স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় আপনার ডায়েটের বেশিরভাগ প্রোটিন উদ্ভিজ্জ উৎস (যেমন- বিনস ও টফু) থেকে পেতে সুপারিশ করছে।

* কোমল পানীয়
গবেষকরা এখনো চিনি ও ক্যানসারের মধ্যে সংযোগ নিয়ে তদন্ত করলেও অত্যধিক চিনি ভোজন নিশ্চিতভাবে ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। একটি বিষয় খুব পরিষ্কার যে, অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার শরীরে যত বেশি চর্বি থাকবে, আপনার ইস্ট্রোজেনের মাত্রা তত বেশি হবে এবং এটি স্তন ক্যানসার ও প্রজননাঙ্গে ক্যানসার বিকাশের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে, ডা. সেগাল সতর্ক করেন।

* মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন
প্রায়ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভ্যাবল পপকর্ন ব্যাগে লাইনার হিসেবে ননস্টিক কোটিং ব্যবহার করা হয়। ননস্টিক কোটিংয়ে পিএফওএ নামক কেমিক্যাল থাকে। প্রাণীর ওপর চালানো গবেষণায় পাওয়া যায়, এই কেমিক্যাল যকৃত, অণ্ডকোষ ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ঘরে বানানো পপকর্ন খেতে পারেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প লাইনারের পপকর্ন খেতে পারেন।

* ক্যানড টমেটো ও সস
উৎপাদকরা কিছু প্লাস্টিকে বিসফেনল এ (বিপিএ) ব্যবহার করে। খাবারের ক্যানেও এটি ব্যবহার করা হয়। সমস্যা? বিপিএ শরীরে সেক্স হরমোনের প্রাকৃতিক উৎপাদনে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি উচ্চ করে। টমেটোর উচ্চ অম্লতা ক্যান থেকে এই কেমিক্যাল টমেটো বা সসের সঙ্গে মেশাতে পারে। আপনি ক্যানড টমেটোর পরিবর্তে তাজা টমেটো ও অম্লতাযুক্ত সাইট্রাস ফল পছন্দ করতে পারেন।

* গরম পানীয়
কফি ও চা নিয়ে প্রচুর মতভেদ রয়েছে, কারণ উভয়ের অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্ভাব্য কার্সিনোজেনের তালিকা থেকে কফি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু গবেষণা উল্লেখ করেছে, ১৪৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি তাপমাত্রায় পানীয় পরিবেশন খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি উচ্চ করে। গবেষকরা ধারণা করছেন যে উচ্চ তাপমাত্রা টিস্যু ড্যামেজ করতে পারে, যার ফলে এটিতে ক্যানসারযুক্ত লেশন (লেশন হচ্ছে অস্বাভাবিক টিস্যুর অংশ, যা বিনাইন অথবা ক্যানসারযুক্ত হতে পারে) বিকাশের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অধিকাংশ বাণিজ্যিক পানীয় ১৪০-১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট রেঞ্জে পরিবেশন করা হয়। তাই গরম পানীয় পানের পূর্বে এটিকে পর্যাপ্ত ঠান্ডা হতে দিন।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পেট ফাঁপা হলে যে ১২ খাবার খাবেন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-২৬ ১৪:৪৭:৩২

হজমে সমস্যা হলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হয় যার কারণেই পেট ফুলে থাকে বা ফেঁপে থাকে। এই সমস্যার নিরাময়ে ঘরোয়া কিছু সমাধান গ্রহণ করতে পারেন।

* আদা :  পেট খারাপের একটি পরিচিত প্রাকৃতিক চিকিৎসা হচ্ছে আদা। এটি সেসব খাবারের একটি যা পেট ফাঁপাও হ্রাস করতে পারে। ক্যারিংটন ফার্মস হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশনের কনসালটেন্ট এবং রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান ডেবোরাহ অরলিক লেভি বলেন, ‘এটি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।’ পেট ফাঁপা দূর করতে আদার চকলেট, আদার চা এবং দইয়ে তাজা আদা যোগ করে খেতে পারেন।

* শতমূলী :
লেভি বলেন, ‘শতমূলীতে প্রিবায়োটিক থাকে, যা প্রোবায়োটিকের মতো। এটি উপকারী ডাইজেস্টিভ ব্যাকটেরিয়াকে সাপোর্ট দেয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘মূত্র নির্গমন সহজ করে শতমূলী এবং পেট ফাঁপা উপশমেও সাহায্য করে।’

* পানি : পেট এমনিতেই ফুলে আছে, তাই পানির কথা শুনে বিস্মিত হচ্ছেন? কিন্তু লেভি বলেন, ‘সাধারণ পানি আপনার পেট ফাঁপা কমাতে ভূমিকা রাখে।’ পানিকে সুস্বাদু করতে এতে শসা, কমলা অথবা লেবুর স্লাইস যোগ করতে পারেন। কিন্তু কার্বোনেটেড ড্রিংক থেকে দূরে থাকুন, এসব আসলেই পেট ফাঁপা ও অন্যান্য সমস্যা তৈরি করে।

* সেলেরি : সেলেরি পাতা চিবানোতে শুধু চোয়ালের ব্যায়ামই হয় না, পেট ফাঁপাও হ্রাস পায়। নিউ ইয়র্ক সিটির মাউন্ট সিনাই হসপিটালের ডায়েটিশিয়ান জেনিফার কার্তাশেভস্কি বলেন, ‘অন্ত্রীয় গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সেলেরিকে ডাইজেস্টিভ এইড হিসেবে ব্যবহার করা যায়, কারণ এটির কেমিক্যাল ফ্লুইড রিটেনশন (জমে থাকা পানি) হ্রাস করতে পারে।’

* অ্যালমন্ড মিল্ক : আমাদের অনেকেই দুগ্ধজাত খাবার সহ্য করতে পারে না এবং ল্যাকটোজ ইনটলার‍্যান্স থাকতে পারে। নিউ ইয়র্কের হান্টার কলেজের নিউট্রিশন বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মারটিকা হিনার বলেন, ‘অ্যালমন্ড মিল্ক বা কাজু বাদামের দুধ তাদের জন্য পেট ফাঁপায় বিকল্প হতে পারে যাদের দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে পেটে সমস্যা হয়।’ তিনি বলেন, ‘দুধের চিনি বা ল্যাকটোজ পেটফাঁপা ও ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। দুধের প্রোটিন প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে মিউকাস ও পানি জমা হতে পারে।’

* বকচয় : বকচয়ের মতো পাতাযুক্ত সবজি পেট ফাঁপা হ্রাসে সাহায্য করতে পারে, কারণ এতে ডায়েটারি নাইট্রেট থাকে যা রক্তনালীকে প্রশস্ত করে, যে অংশের তরল দূর করতে হবে সে অংশে সার্কুলেশন বৃদ্ধি করে (যেমন- পেট ফাঁপা)। এছাড়া পাতাযুক্ত শাকসবজিতে প্রচুর ইলেক্ট্রোলাইটস ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম থাকে। হিনার বলেন, ‘উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবারের ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম মিনারেলের ভারসাম্য রক্ষা করে, শরীরে অযাচিত সোডিয়াম জমা প্রতিরোধ করে।’

* কেফির ও দই : যদি দুগ্ধজাত খাবার আপনার জন্য সমস্যা না হয়, তাহলে কেফির (ফার্মেন্টেড মিল্ক বেভারেজ) এবং দই খেতে পারেন। সিয়েটল সাটন’স হেলদি ইটিংয়ের প্রধান পুষ্টি বিশেষজ্ঞ রেনে ফিসেক বলেন, উভয়টিতেই প্রোবায়োটিকস থাকে, যা পেট ও শরীরের জন্য ভালো এবং পেট ফাঁপায় কার্যকর। কেফির ও দই অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, যা ডাইজেস্টিভ ট্র্যাককে অধিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। ফলে আপনার গ্যাস জমা ও পেট ফাঁপা হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।’

* শসা : শসা পেট ফাঁপা কমাতে পারে। ফিসেক বলেন, ‘শসা ফাইবারে ভরা, যা ডাইজেস্টিভ ট্র্যাককে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।’

* টমেটো : পেট ফাঁপা হ্রাসের জন্য টমেটো চমৎকার। ফিসেক বলেন, ‘টমেটো পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ, যা শরীরে সোডিয়ামের মাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে, এর ফলে পানি জমা ও পেট ফাঁপা হ্রাস পায়।’

* পেঁপে : পেঁপে দেখতে সুন্দর, খেতে সুস্বাদু। এটি পেট ফাঁপা হ্রাসে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার লাসিক ক্লিনিকের সেন্টার ফর ওয়েট লস অ্যান্ড নিউট্রিশনের পরিচালক অ্যাড্রিয়েন ইউডিম বলেন, ‘একটি ছোট গবেষণায় পেঁপের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের গ্যাসীয় সমস্যা হ্রাস পেয়েছিল, যার মধ্যে পেট ফাঁপাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।’

* মৌরি :
মৌরি আপনার পেট ফাঁপা হ্রাস করতে পারে। মৌরির বীজ খেতে পারেন অথবা মৌরি চা পান করতে পারেন। ডা. নিকো বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে যে, মৌরি গ্যাসের প্রতিক্রিয়া এবং পেট ফাঁপা হ্রাসের জন্য চমৎকার উৎস, এছাড়া অন্যান্য উপকার তো আছেই।’

* পিপারমিন্ট : ডা. নিকো বলেন, ‘কোনো খাবার খাওয়ার পর হজম সহায়তার জন্য পিপারমিন্টের চা চমৎকার।’ পিপারমিন্ট একটি থেরাপিউটিক হার্ব, যা অনেক ডাইজেস্টিভ সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে পেট ফাঁপাও আছে। পেপারমিন্ট চায়ের মধ্যে পুদিনা পাতার চা অন্যতম।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এসব কারণেও হতে পারে মাথাব্যথা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-২৭ ১৪:২৫:২১

উজ্জ্বল আলো, টাইট হেয়ারস্টাইল, কড়া ঘ্রাণ, ঘুমানোর ভঙ্গি ইত্যাদি বিস্ময়কর বিষয়গুলো আপনার মাথাব্যথার উদ্দীপক হতে পারে। মাথাব্যথার ১৩টি বিস্ময়কর প্ররোচক দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* গাঁজানো, ধূমায়িত ও ম্যারিনেটকৃত খাবার
টিরামিন হচ্ছে, প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভূত পদার্থ যা মাথাব্যথা সৃষ্টিতে অবদান রাখতে পারে। এটি বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও মাংসে পাওয়া যায়। গাঁজানো, বয়স্ক, ধূমায়িত ও ম্যারিনেটকৃত খাবারে (যেমন- সাউয়েরক্রাউট, টফু, পনির ও আচার) প্রচুর পরিমাণে টিরামিন থাকে। কলা (বিশেষ করে অতিরিক্ত পাকা কলা- ফলের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টিরামিন বৃদ্ধি পায়), অ্যাভোকাডো, পেঁয়াজ ও চকলেটেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে টিরামিন থাকে। আপনি যত বেশি টিরামিন সমৃদ্ধ খাবার খাবেন, আপনার মাথাব্যথা তত বেশি বেড়ে যেতে পারে। অ্যালার্জিস্ট, ইন্টারনিস্ট এবং টিভি শো দ্য ডক্টরসের প্রাক্তন হোস্ট তানিয়া এলিয়ট বলেন, ‘সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পনিরের প্রোটিন ভেঙ্গে যায় এবং টিরামিনের উপাদান বেড়ে যায়। আপনার দীর্ঘদিনের পনির ও টিরামিনযুক্ত অন্যান্য খাবারের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত।’

* যৌন সহবাস
ম্যাপল হলিস্টিক্সের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিশেষজ্ঞ ক্যালেব ব্যাকি বলেন, ‘যৌনসহবাস হতে পারে মাথাব্যথার সর্বাধিক বিস্ময়কর কারণসমূহের একটি। বিশ্বাস করুন কিংবা না-ই করুন সেক্স হেডেক অথবা যৌনতাকেন্দ্রিক মাথাব্যথা বলে কিছু একটা আছে। যদিও এ ধরনের মাথাব্যথা বিরল এবং এটি কাউকে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল করতে পারে।’ স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিশেষজ্ঞ নেসোশি ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘পুরুষদের ক্ষেত্রে সেক্স হেডেক অধিক কমন এবং এরকম মাথাব্যথা সাধারণত রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। যদি আপনার হঠাৎ করে সেক্স হেডেক আরম্ভ হয় তাহলে এটি ব্রেইন হেমারেজের মতো মারাত্মক সমস্যা নয় তা নিশ্চিত হতে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।’

* টাইট হেয়ারস্টাইল
আপনার টাইট হেয়ারস্টাইল আপনার মাথাকে আঘাত করতে পারে। ড. ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘পনিটেইল, বেণী, হাই বান এবং অন্যান্য টাইট হেয়ারস্টাইলের কারণে চুলে হেঁচকা টান পড়ার কারণে স্কাল্পের কিছু স্নায়ু উত্তেজিত হতে পারে।’ মাথাব্যথা প্রতিরোধ করতে টাইট হেয়ারস্টাইল এড়িয়ে চলুন এবং আপনার চুলকে নিচে নামতে দিন।

* চোয়ালের ত্রুটিপূর্ণ অবস্থান
হাউসটনের দন্ত চিকিৎসক রোনাল্ড কনিগ বলেন, ‘চোয়ালের জয়েন্টের ডিসফাংশন এবং কামড়-সম্পর্কিত সমস্যা হচ্ছে মাথাব্যথার দুইটি কমন কারণ।’ তিনি যোগ করেন, ‘এসব মাথাব্যথার বড় প্রভাবক কামড় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সহজভাবে এর মানে হচ্ছে, উপরের চোয়াল ও নিচের চোয়ালের ত্রুটিপূর্ণ অ্যালাইনমেন্টের কারণে মাথা ও ঘাড়ের পেশীতে টান লাগে। প্রতিবার খাওয়া বা চাবানো বা গেলার সময় এ অবস্থা আরো খারাপ হয়।’ অ্যাথলেটিকো ফিজিক্যাল থেরাপির ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট অ্যানি বায়ারম্যান বলেন, ‘নিদ্রা সমস্যা যোগ করতে পারে: যদি আপনি ঘুমানোর সময় আপনার চোয়াল দৃঢ়ভাবে চেপে ধরেন বা টাইট করে রাখেন, তাহলে এর ফলে মাথাব্যথা অথবা কানে অনুরণন হওয়ার সঙ্গে অস্বস্তি অনুভব হতে পারে।’

* কড়া ঘ্রাণ
ডা. ব্যাকি বলেন, ‘অনেক লোক কড়া ঘ্রাণ প্ররোচিত মাথাব্যথায় ভুগে। এ ধরনের মাথাব্যথা প্রায়ক্ষেত্রে পারফিউম, সিগারেট স্মোক এবং পেট্রোল দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়ে থাকে।’ যদি আপনি মাইগ্রেনে ভুগেন, তাহলে ঘ্রাণ হতে পারে প্রাথমিক প্ররোচক। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হেলথের ফ্যামিলি মেডিসিন ফিজিশিয়ান কেভিন জেবকে বলেন, ‘বাজে ঘ্রাণ ও সুখকর ঘ্রাণ উভয়ের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে।’

* ডিহাইড্রেশন
হলিস্টিক হেলথ এক্সপার্ট এবং কাইরোপ্র্যাক্টর ক্লিন্ট স্টিল বলেন, ‘ডিহাইড্রেশন মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান নিশ্চিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করতে এবং বর্তমান স্বাস্থ্য সমস্যা (যেমন- মাথাব্যথা) সারিয়ে তুলতে প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৬৪ থেকে ৭০ আউন্স পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

* ক্ষুধা
মাথাব্যথার কয়েকটি বিস্ময়কর কারণের একটি হচ্ছে, ক্ষুধা। এ প্রসঙ্গে ফিজিশিয়ান ও পেইন এক্সপার্ট জ্যাকব টেইটেলবাউম বলেন, ‘আপনি এর জন্য অ্যাড্রিনাল ক্লান্তিকে দায়ী করতে পারেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘রক্ত শর্করা কমে যায় এবং অ্যাড্রিনাল ক্লান্তির কারণে মাংসপেশী সংকুচিত হয়, তাই কেবলমাত্র আপনার মেজাজ খারাপ হয় না, আপনার মাথাব্যথাও হতে পারে।’

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ম্যারাথন দৌড় শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-২২ ১৩:২০:৪১

লন্ডনে রবিবার (২২ এপ্রিল) ম্যারাথনে দৌড়বেন অন্তত চল্লিশ হাজার মানুষ। এর আগে লন্ডন ম্যারাথনে অংশ নিয়ে প্রায় প্রতি বছরই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কখনো শোনা যায় মারা যাওয়ার খবরও।

লিভারপুল জন মুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিষয়ক বিজ্ঞানী ড. মার্ক লেইক বলছেন, ম্যারাথন দৌড়ানো একটি বিরাট শারীরিক চ্যালেঞ্জ। এর ফলে শরীরের হাড়, মাসলস, লিগামেন্ট এবং ধমনীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি যারা রোজ দৌড়ান, তাদেরও এসব প্রত্যঙ্গে যেকোনো আঘাত সারতে সময় লাগে। এজন্য শরীরের দীর্ঘ প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন ড. লেইক। খবর- বিবিসির।

তবে ড. লেইক যাদের দৌড়ানো বা ম্যারাথনে অংশ নেয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন তারা হচ্ছেন-
--যাদের ওজন অতিরিক্ত বেশি ও শারীরিকভাবে সমর্থ নন
--আঘাতের পূর্ব রেকর্ড আছে
--শরীরের গঠনে অসামঞ্জস্য আছে যাদের, যেমন এক পা আরেক পায়ের চেয়ে ছোট
ড. লেইক মনে করেন, কোনরকম পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া ম্যারাথনে অংশ নেয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
এমনকি স্থূলতা কিংবা হৃদরোগের চাইতেও একে বেশি বিপজ্জনক মনে করেন তিনি।

নিতে হবে প্রস্তুতি
তবে, যদি হাতে সময় নিয়ে কেউ যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে ম্যারাথনে অংশ নিতে চান, তাহলে কোন সমস্যা তৈরি হবার সম্ভাবনা নেই।

ড. লেইক মনে করেন, এর ফলে শরীর প্রস্তুত হয় একটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য।

এজন্য তিনি হার ও মাসলের পাশাপাশি হৃদরোগের আগাম খোঁজখবর নেয়ার পরামর্শ দেন।

হাইড্রেটেড থাকতে হবে
এ সময়ে আবহাওয়া গরম এবং বাতাসে জলীয় আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এ সময়ে ম্যারাথন দৌড়ানো বেশ কঠিন। কারণ এখন অনেক ঘাম হবে।

ড. লেইক বলছেন, ম্যারাথনে দৌড়ে একজন মানুষের চার লিটার পর্যন্ত ঘাম হতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়বে। যে কারণে শরীরকে এ সময় পানি এবং তরল জাতীয় খাবার পানীয় গ্রহণ করতে হবে। তবে সেজন্য ম্যারাথন রুটে সকল মোড়ে থেমে পানি না খাবারই পরামর্শ দেন ড. লেইক।

প্রথমবারের মত যারা ম্যারাথনে দৌড়বেন, তাদের জন্য কিছু টিপস
-- ম্যারাথনে দৌড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
-- অন্তত চার থেকে ছয় মাস প্রস্তুতি নেবার জন্য সময় রাখা উচিত
-- সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচদিন দৌড়াতে হবে, এবং প্রতিবার আগের চেয়ে সময় বাড়াতে হবে
-- প্রস্তুতির সময় যথাযথ বিশ্রাম এবং আঘাত সারার সময় দিতে হবে
-- ম্যারাথনের সপ্তাহে প্রচার কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেতে হবে, যাতে শরীর সেটা শক্তি হিসবে ব্যবহার করতে পারে।

বিস্তারিত খবর

বুকজ্বলা বা হার্টবার্ন : কেন হয়, কী করবেন?

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-২৮ ০৩:০৫:৪৭

বুকজ্বলা, হার্ট নয়। হার্টের কোনো অসুখ নয়। নাম তবু হার্টবার্ন। বুকে আগুন জ্বলে চোখে কেন জ্বলে না- এ আগুন সে আগুনও নয়। পাকস্থলীর (Stomach) এসিড ওপরের দিকে উঠে খাদ্যনালীতে (Oesophagus) প্রবেশ করলে এ জ্বলা অনুভূত হয়। জ্বলাটা অনুভূত হতে পারে পেটের ওপরের অংশে, বুকের ঠিক মাঝখান দিয়ে ওপর দিকে গলা পর্যন্ত। মুখে হতে পারে তিতা তিতা ভাব।

খাবার হজমের জন্য পাকস্থলীতে এসিড উৎপন্ন হয়। স্বাভাবিকভাবে এই এসিড পাকস্থলী থেকে ওপরের দিকে উঠে আসে না। মুখ থেকে খাদ্যনালীর নিচে নেমে গিয়ে পাকস্থলীর সাথে যুক্ত হয়েছে। এই সংযোগস্থলে খাদ্যনালীর পেশির একটি বাঁধ (Sphincter) আছে। এই বাঁধ ভেদ করে পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে ওঠে আসতে পারে না। কিন্তু কোনো কোনো কারণে এই বাঁধ ভেঙে এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। এই এসিড খাদ্যনালীর নরম আবরণীর সংস্পর্শে এলে বুকজ্বলা অনুভূত হয়।

অনেক খাবার আছে যেগুলোর জন্য বুকজ্বলা হতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে আছে, তেলে ভাজা খাবার, চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার, পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, চা, কফি, টমেটো, টকজাতীয় ফল, ক্যাফিন ও কার্বোনেটযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল, পিপারমেন্ট, থিয়োব্রোমিনযুক্ত চকলেট।

এসব খাবারের বেশির ভাগই খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগস্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়। আবার তেলে ভাজা খাবার বা চর্বিজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে থাকতে পারে বলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে যায়। এই বর্ধিত চাপের জন্য পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। অধিক মসলাযুক্ত খাবার, টমেটো, টকজাতীয় ফল, অ্যালকোহল ইত্যাদি পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণই বাড়িয়ে দিতে পারে। সিগারেট বা ধূমপানের জন্যও বুকজ্বলা হতে পারে। তামাকের নিকোটিন খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়।

এ ছাড়া একসাথে অধিক খাবার খেলে, খুব শক্ত করে লুঙ্গি, শাড়ি, সালোয়ার, প্যান্ট বা বেল্ট পরিধান করলে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বা উপুড় হলে কিংবা ভারী কাজ করলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে গিয়ে অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। শরীরের ওজন বেশি হলেও এ সমস্যা হতে পারে।
বুকজ্বলাটা হতে পারে মামুলি, মাসে হয়তো একবার। প্রায় ২০ শতাংশ বয়স্ক লোকের এরূপ হয়ে থাকে। অনেকের সপ্তাহে একবার হতে পারে। এটা মোটামুটি চিন্তার কারণ। আবার অনেকের হতে পারে প্রতিদিনই। এটা বেশ গুরুতর। প্রায় ৫-১৫ শতাংশ লোকের এরূপ হয়ে থাকে।

যে রূপই হোক, বুকজ্বলা প্রতিরোধ ও প্রশমনের উপায় আছে। প্রায় ৯৪ শতাংশ বুকজ্বলা রোগীর কোনো না কোনো খাবারের সাথে এই বুকজ্বলার সম্পর্ক থাকে। সুতরাং খাবার বেছে খেতে হবে। বুকজ্বলা করতে পারে এরূপ খাবারের সবই যে সবার মধ্যে বুকজ্বলা করবে, তা কিন্তু নয়। সুতরাং কোন খাবার খেলে বুকজ্বলা হয় তা ব্যক্তিবিশেষকেই খেয়াল করতে হবে এবং ওই খাবার পরিহার করতে হবে। এর পাশাপাশি জীবনযাপনের ধারায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খেতে হবে। খাওয়ার পরপরই শোয়া বা উপুড় হওয়া উচিত নয়। খাওয়ার পরপরই ভারী কাজ করাও ঠিক নয়। খালি পেটে চা, কফি পান না করা, শরীরের ওজন কমানো ইত্যাদির মাধ্যমেও বুকজ্বলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

পাকস্থলীর এসিড তৈরি কমায়, এরূপ ওষুধও বুকজ্বলা কমাতে কার্যকর। খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দৃঢ় করে এরূপ ওষুধও আছে। বুকজ্বলা প্রশমনের জন্য এন্টাসিড কার্যকর। ওষুধ খেতে হবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে। বুকজ্বলা কমানো যেতে পারে পানি পান করে কিংবা চুইংগাম চিবিয়েও।


এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

শরীরের ভেতরের যেসব অঙ্গ ছাড়াও আপনি বাঁচতে পারবেন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-১৭ ১০:৪৫:১১

মানবদেহের অভ্যন্তরে এমন ৯টি অঙ্গ রয়েছে যা না থাকলেও আপনি বেঁচে থাকতে পারবেন। যদিও এসব অঙ্গগুলো জীবনযাপনকে অনেক করে তোলে কিন্তু মানব শরীর এমন ভাবে গঠিত যে, নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ ছাড়াও শরীর কাজ করতে পারে।

একটি ফুসফুস
আপনার শ্বাসপ্রশ্বাস কার্য সম্পাদন করতে অন্তত একটা ফুসফুসের প্রয়োজন, কিন্তু আরেকটা ফুসফুস ক্যানসার, যক্ষা অথবা অনান্য ফুসফুসীয় রোগে কেটে ফেলতে হতে পারে। একটি ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়া কঠিন হলেও, জীবনযাপন করা সম্ভব। রেসপাইরেটরি কেয়ার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব রোগীরা একটি ফুসফুস হারান তাদের বায়ু ধারণক্ষমতা প্রতিসেকেন্ডে ৩৫ শতাংশ কমে যায়। মায়ো ক্লিনিকের ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের সার্জিক্যাল ডিরেক্টর জুলিয়ে হেমবাচ বলেন, ‘ফুসফুস যেহেতু বক্ষের একটি নির্দিষ্ট গহ্বরে থাকে, তাই এটার আর বড় হওয়া সম্ভব নয়।’

মলাশয়
কোলোরেক্টার ক্যানসার বা বাওয়েল রোগ যেমন ক্রোন’স বা  আলসারেটিভ কোলাইটিস এর চিকিৎসায় বৃহদান্ত কেটে ফেলতে হতে পারে। এমনকি চিকিৎসক রেক্টাম সহ কাটতে পারে। ডা. হেমবাচ বলেন, আপনার সার্জন ক্ষুদ্রান্ত্র দিয়ে থলি যুক্ত করতে পারেন এনাসের (পায়ুপথ) মতো করে যা দিয়ে পায়খানা ঠিকমতো হবে, অথবা পেটের ক্ষুদ্রান্ত্রতে জমা হওয়া বর্জ্যগুলোকে বের করার জন্য শরীরের বাইরে থলি সংযুক্ত করতে পারেন। এ অবস্থায় ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকার জন্য রোগীকে খাবার পরিবর্তন ও ডাক্তারের আরো পরামর্শ মেনে চলতে হয়।

যৌনাঙ্গ
যদিও যৌনাঙ্গ আপনার ভালোবাসার জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়। এক গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের যৌন জীবনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি হিস্টারেকটমি বা জরায়ু অপসারণ। যদিও ওভারি কেটে ফেলায় হরমোনের ব্যাঘাত ঘটে যার ফলে যৌন চাহিদা কমে যায়। পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্টেস্ট ক্যানসারের কারণে একটি টেস্টিকল বা অণ্ডকোষ কেটে ফেললেও তার যৌন জীবনে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না বলে জানিয়েছেন, ক্লাইভল্যান্ড ক্লিনিকের গ্লিকম্যান ইউরোলজিক্যাল অ্যান্ড কিডনি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান এরিখ এ ক্লেইন।

তিনি আরো বলেন, একটা অণ্ডকোষ থেকে যে পরিমাণ টেস্টোস্টেরণ হরমোন তৈরি হয়, তা সুস্থ যৌন জীবনের জন্য যথেষ্ট। আর যদি দুইটাই কেটে ফেলা হয় তাহলে তা মারাত্মক হারে কমতে থাকবে যা শুক্রাণু তৈরিতে ব্যর্থ হবে। প্রস্টেট কেটে ফেলার পর পুরুষের সাময়িক উত্থানে সমস্যা ও অক্ষমতা দেখা দিতে পারে বলে জানান ডা. ক্লেইন।

মূত্রাশয়
মূত্রাশয় ক্যানসার অর্থাৎ ব্লাডার ক্যানসার বা বিরল নিউরোজেনিক ব্লাডার (স্নায়ুতন্ত্র মূত্রাশয় নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত করে) রোগীর ক্ষেত্রে ব্লাডার কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় এবং ব্লাডারের সঙ্গে প্রস্টেট,  লিম্ফ নোড বা গর্ভাশয়, ডিম্বাশয় এমনকি এর সঙ্গে যোনির অংশও থাকতে পারে বলে জানান ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিকের ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক জর্জ প্যাকেল হাবার। ব্লাডারে প্রসাব সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত অন্ত্রের একটি অংশ মূত্র যাওয়ার পথ হিসেবে চিকিৎসকরা তৈরি করেন। ডা. হাবার আরো বলেন, অন্ত্রের অংশটি নিওব্লাডার হিসেবে কাজ করে যা মূত্রনালী দিয়ে প্রসাব বের করতে পারে, এটি রোগীদের নিজে একটি সরু নল দিয়ে বের করতে হয় অথবা আরেকটি পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে একটি থলিতে মূত্র এসে জমা হয়। নিওব্লাডারে থলেতে মূত্র পূর্ণ হলে তা বেশিক্ষণ রাখতে পারে না, রোগীকে ৩-৪ ঘণ্টা পর পর ফাঁকা করতে হয়, তবে এতেও জীবন স্বাভাবিক থাকে।

পিত্তথলি
লিভারে তৈরি হয় পিত্তরস যা চর্বি জাতীয় খাবার হজমে সহায়ক এবং তা পিত্তথলিতে জমা হয়। কিন্তু শরীর শুধু সেই জমাকৃত পিত্তরসের ওপরই নির্ভর করে না। বেশিরভাগ মানুষের পিত্তথলি না থাকার পরেও খাবার গ্রহণে তেমন সমস্যা হয় না বলে জানিয়েছেন ডা. হেমবাচ। তিনি আরো বলেন, তাদের অতিরিক্ত পিত্তরসের প্রয়োজন হয় না কারণ শরীর খাদ্য হজমে অভ্যস্ত হয়ে যায়। গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথরের জন্য বিশ্বে সচরাচর পিত্তথলি কেটে ফেলা হয়।

পাকস্থলী
ওজন কমানোর কিছু অস্ত্রোপচার এবং দ্রুত বর্ধনশীল পাকস্থলী ক্যানসারের (যেন অন্য অঙ্গতে ছড়িয়ে না পড়ে) ক্ষেত্রে রোগীর পাকস্থলী কেটে ফেলা হয়ে থাকে। সাধারণত পাকস্থলী খাদ্যের পরিপাকের জন্য এসিড মিশ্রিত করে হজম প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ভিটামিন শোষণ করে থাকে। পাকস্থলী কেটে ফেললে চিকিৎসকরা খাদ্যনালীকে সরাসরি ক্ষুদ্রান্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে থাকেন। অস্ত্রোপচারের পরে রোগী শক্ত খাবার খেতে পারে কিন্তু তা খুব ছোট আকারের এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে খাবারগুলো দ্রুত যাওয়ার সময় ডাম্পিং সিন্ড্রোম এড়ানোর জন্য কিছু খাবার পরিহার করা উচিত বলে জানিয়েছেন ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিকের গ্যাস্ট্রোইন্টারোলজিস্ট ডা. আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ শাতনাওয়ি। তিনি আরো বলেন, যদি খাদ্য ডাম্প করে ক্ষুদ্রান্ত্রে পড়ে যায় তাহলে মাথা ঘুরায়, হালকা মাথাব্যথা এবং ঘাম ঝরতে পারে সঙ্গে বমি হয়ে আসতে পারে। তখন বাথরুম দ্রুত যেতে হতে পারে।

প্লীহা
প্লীহার মূল কাজ রক্ত পরিশোধন করা কিন্তু এটি ক্ষতিগ্রস্ত বা আক্রান্ত হলে অপসারণ করা হতে পারে যেমন ইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা রোগে আক্রান্ত হলে। যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় প্লীহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই এটি কেটে ফেলা হলে রোগী প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডা. হেমবেচ বলেন, ‘প্লীহা অপসারণের পর রোগীদের নির্দিষ্ট টিকা দিতে হবে যেহেতু তারা আরো বেশি ঝুঁকিতে থাকে নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণের।’

একটি কিডনি
যদিও কিডনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, তবুও মানুষ কিডনি দান করতে সক্ষম। কিন্তু কেন? কারণ দুইটা কিডনি শরীরের চাহিদা পূরণ করার চেয়েও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। আপনি শুধু একটি কিডনি দিয়েও বেঁচে থাকতে পারবেন। ডা. হেমবেচ বলেন, ‘একটি কিডনি দান করলে দাতার কার্যক্ষমতা কমে কিন্তু আরেকজনের জীবন বাঁচতে পারে দান করা কিডনি। সুস্থ একটি কিডনি দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জীবনযাপন করা যায়।’

অ্যাপেন্ডিক্স
প্রকৃতপক্ষে অ্যাপেন্ডিক্সের কাজটা কি তা এখনো নিশ্চিত নয়। কিছু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি একটি অর্থহীন অঙ্গ যা আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য একটি উদ্দেশ্য সাধন করেছে, যদিও সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে এটি ‘ভালো’ ব্যাকটেরিয়া নিরাপদ রাখছে। কিছু মানুষ জন্য যদিও এটা ভালো চেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ড. হেমবাচ বলেন, ‘এটি অবরূদ্ধ এবং সংক্রমিত হয়ে পড়ে এবং কখনো কখনো সরানো হয়।’ এমনকি যদি রোগ প্রতিরোধে অ্যাপেন্ডিক্সের কোনো ভূমিকা থেকে থাকে, তারপরও এটি অপসারণের সঙ্গে যুক্ত কোনো দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য প্রভাব নেই।


এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

স্ট্রেস যেভাবে ত্বক খারাপ করে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-৩১ ১০:৩৩:৩৮

যখন আপনি স্ট্রেস বা মানসিক চাপে ভুগবেন, আপনার ত্বকের অবস্থা আরো খারাপ হবে। এর মানে হলো, পূর্ব থেকে বিদ্যমান ত্বকের কোন খারাপ দশা বা ব্রণ অধিকতর খারাপ অবস্থার দিকে ধাবিত হবে।এটি আপনার ত্বকের জন্য দুঃসংবাদ।কিন্তু আপনার ত্বকের ক্ষতিসাধনের জন্য স্ট্রেস ঠিক কি করে?আমরা কিছু বিশেষজ্ঞের মতামত পেয়েছি, যা থেকে আপনি ধারণা করতে পারেন যে আপনার ত্বকের পৃষ্ঠের উপরে ও নীচে কি ঘটে।

* সোরিয়াসিস
সোরিয়াসিস ত্বকের একটি জটিল রোগ, যা স্ট্রেসের কারণে আরো খারাপ হতে পারে এবং আপনি লাল, চুলকানিমূলক ও আঁশযুক্ত ত্বকের অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। ইন্টারনাল মেডিসিন, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিশেষজ্ঞ নেসোচি ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘মানসিক চাপপূর্ণ বিষয় ও জীবন-ঘটনা সেসব লোকের সোরিয়াসিস তীব্র করতে পারে যাদের ত্বকের এ দশা দীর্ঘস্থায়ী।’ এটি অন্য চর্মরোগ যেমন- রোসেশা থেকে ভিন্ন। ডা. নেসোচি বলেন, ‘সোরিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ করতে স্ট্রেস দমনের কার্যকরী কৌশল খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।’ শান্ত কার্যক্রমের একটি উদাহরণ হলো মেডিটেশন, যা স্ট্রেসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। ডা. নেসোচি বলেন, ‘গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশনের সঙ্গে মানসিক চাপ হ্রাস ও সোরিয়াসিসের উপসর্গ দ্রুত উপশমের সম্পর্ক আছে।’

* অতিভোজন
এটি ত্বকের দশা নয়। যদি আপনি স্ট্রেসে ভুগেন, আপনার ডায়েটের জন্য আপনি ভুল খাবার নির্বাচন করতে পারেন এবং সারাদিন জাঙ্ক ফুড ভোজন আপনার ত্বকের অবস্থা খারাপ করতে পারে। রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান জুলি আপটন বলেন, ‘গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, স্ট্রেস লোকজনকে নিম্নমান ও উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ার দিকে চালিত করে। এসব খাবারের সঙ্গে বিভিন্ন প্রাদুর্ভাব ও অন্যান্য চর্ম সমস্যার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে।’

* ব্রণ
যদি আপনি ব্রণ প্রবণ হন, স্ট্রেস এটিকে আরো খারাপ করে তুলবে এবং আপনার এসব ব্রণ খোঁচানো উচিত নয়, কারণ এতে ইনফেকশন বা ক্ষত হতে পারে। সেলিব্রেটি ডার্মাটোলজিস্ট অ্যাভা শাম্বানের মতে, ‘ব্রণের ক্ষেত্রে করটিসল অ্যান্ড্রোজেনের মতো কাজ করে এবং আপনার ব্রণের প্রাদুর্ভাব বা তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে, যেমনটা হয়ে থাকে বয়ঃসন্ধিতে থাকা বালকের।’ একে বাধা দেওয়ার জন্য তিনি নিয়মিত এক্সারসাইজ, রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম এবং বিছানায় যাওয়ার আগে ভালো ফেসিয়াল ক্লিনসিং রুটিন মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া মেডিটেশন বা ইয়োগার মাধ্যমেও মানসিক চাপ কমান।

* একজিমা
|যদি আপনার এটি থাকে, আপনি লাল র‍্যাশ ও চুলকানিযুক্ত ত্বক লক্ষ্য করে থাকতে পারেন। ডা. শাম্বান বলেন, ‘সোরিয়াসিস থেকে একজিমা বা অ্যাটপিক ডার্মাইটিস ভিন্ন এবং এটি প্রধানত স্বাভাবিক ইমিউনিটির ব্যাঘাত বা বাধাগ্রস্ততার কারণে হয়ে থাকে, এটি মানসিক চাপের দ্বারা বিরূপভাবে প্রভাবিত হয়। যখন আপনি মানসিক চাপে থাকেন, আপনার অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড করটিসল নিঃসরণ করে। এই হরমোল ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’ ত্বকে জ্বালাতন ও প্রদাহ হবে এবং ত্বকে তরল ক্ষরণ হয় এমন ফোস্কা বা ফুসকুড়ি অথবা একজিমা প্লেক হতে পারে।

* ত্বকের বয়স্কতা
আপনি এটি দূর করতে পারবেন না, কিন্তু এটি ধীর করতে পারেন। কিউরোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড লর্টশার বলেন, ‘দ্রুত বলিরেখা হওয়ার জন্য স্ট্রেস মুখ্য বিষয় হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘কিভাবে স্ট্রেস ত্বকে বয়স্কতার ছাপ ফেলে তার মেকানিজম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া না গেলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় সম্ভাব্য কিছু কারণ উদঘাটিত হয়েছে যা ত্বকের বয়স্কতায় প্রভাব রাখতে পারে। গবেষণায় পাওয়া যায়, স্ট্রেসের সময় নিঃসরণ হওয়া এপিনেফ্রাইন, নোরেপিনেফ্রাইন ও করটিসল ডিএনএ ড্যামেজ করে এবং ডিএনএ সংস্কারে বাধাপ্রদান করে।’

* ফেসিয়াল ড্যানড্রাফ
ডা. লার্টশার বলেন, ‘স্ট্রেস হচ্ছে সেবোরেইক ডার্মাটাইটিসের অবনতিকর বিষয়সমূহের একটি, যদিও সেবোরেইক ডার্মাটাইটিসের কারণ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট নয়, এটি পিটিরসপোরামের প্রতি প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে, পিটিরসপোরাম মেলাসিজিয়া নামেও পরিচিত- এটি এক প্রকার ফাঙ্গাস যা ত্বকের পৃষ্ঠের ওপর স্বাভাবিকভাবে থাকে। প্রায় সকল মানুষের ত্বকের ওপর পিটিরসপোরাম থাকলেও শুধুমাত্র এক-অর্ধাংশ থেকে তিন-চতুর্থাংশ লোকের মধ্যে ড্যানড্রাফ বা সেবোরেইক ডার্মাটাইটিস ডেভেলপ হয়- যেখানে কিছু মানুষের মধ্যে এটি বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

চোখে যদি ঘুম না আসে

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১৮ ০০:৪৪:৪৪

শান্তিতে ঘুমোতে কে না চায়? প্রতি রাতে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করে, পাখার স্পিড বাড়িয়ে অতি প্রত্যাশায় ভোগা, হাজার হাজার ভেড়া গোনা এবং শেষ পর্যন্ত যখন কোনো কিছুতেই কাজ হয় না, তখন দূর ছাই বলে উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি বা আরেকটি ঘুমের বড়ি টপ করে গিলে ফেলা- আ:।

ডাক্তারি পরিভাষায় একেই বলে ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা। এই সমস্যা এখন এতটাই প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে যে, আমেরিকায়ও চিকিৎসাশাস্ত্রের পঠন-পাঠনে একটা নতুন শাখাই খোলা হয়েছে- যার নাম ‘স্লিপ ডিসঅর্ডার মেডিসিন।’

ঘুম কতটা দরকার
নিদ্রাহীন রাত নিয়ে যতই কাব্য, গান আর রোমান্স থাকুক না কেন, বাস্তব ক্ষেত্রে পরপর কয়েক দিন ‘আঁখিপাতে’ ঘুম না থাকলে আতঙ্ক হয়, শারীরিক, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়তে হয়। নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে যায়। তখন যে কোনোভাবে একটু ঘুমই শুধু কাম্য হয়ে ওঠে।
জীবনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সময় আমরা ঘুমাই। বয়স অনুযায়ী অবশ্য ঘুমের একটা স্বাভাবিক ছন্দ আছে। শিশুরা খুব বেশি ঘুমায়। বয়সের সাথে সাথে ঘুমের এই সময়সীমা কমে যায়। বৃদ্ধরা স্বাভাবিকভাবেই কম ঘুমান। আসলে শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজনের ওপরই নির্ভর করে ঘুমের এই মাপ। তবে খুব কম বা খুব বেশি ঘুম কোনোটাই স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসাশাস্ত্র মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের চার থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম স্বাভাবিক এবং ছয় থেকে সাত ঘণ্টা হলো আদর্শ। দেখা গেছে, যারা ৯ ঘণ্টা বা তারও বেশি ঘুমান, তাদের মধ্যে বিভিন্ন অসুখের প্রবণতা বেশি। সুতরাং বয়স অনুপাতে ঠিক সময় ঘুমই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

ইনসোমনিয়া আসলে কী
ঘুম ও স্বপ্ন চিরকালই মনোবিজ্ঞানীদের কৌতূহলের বিষয়। বৈজ্ঞানিকদের মতে, ঘুমের মধ্যে দুই ধরনের দশা থাকে। একটিকে বলা হয় ‘আরইএস বা র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট দশা’ আরেকটিকে বলা হয় ‘এনআরইএস বা নন-র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট দশা’। এক ঘুমের মধ্যেই এই দু’টি দশা ঘুরেফিরে চলতে থাকে। আরইএস দশায় শরীরে গরম বেশি লাগে, পালস রেট ও রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এই দশাতেই মানুষ স্বপ্ন দেখে। এটাকে বলা হয় পাতলা ঘুমের স্তর। এনআরইএস দশায় মানুষ গভীরভাবে ঘুমায়।

ইনসোমনিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে :
১. ইনিশিয়াল বা প্রাথমিক ইনসোমনিয়া : যাদের ঘুম আসতে দেরি হয় বা অসুবিধা হয়।
২. মিডল ইনসোমনিয়া : যাদের ঘুম বারবার ভেঙে যায় এবং
৩. টারমিনাল ইনসোমনিয়া : যাদের ঘুম তাড়াতাড়ি ভেঙে যায়।
আর যাদের সব অসুবিধাই আছে, তাদের ক্ষেত্রে বলে গ্লোবাল ইনসোমনিয়া।

চিকিৎসা
ইনসোমনিয়া যে কারণে হয়েছে, তার চিকিৎসাই প্রথমে করা হয়। তা ছাড়া ইনসোমনিয়ার জন্য আলাদা করে কিছু বিশেষ ওষুধ দেয়া হয়। কোনো কোনো রোগী অবশ্য শুধু ইনসোমনিয়ার চিকিৎসাই করাতে চান, কিন্তু সে ক্ষেত্রেও রোগীর কেস হিস্ট্রি নিয়ে বিচার-বিবেচনা করতে হয়। ইনসোমনিয়ার রোগীর চেহারায় একটা অবসাদ, ক্লান্তিভাব আসে। অনেক সময় রোগী নিজেই ঘুমের ওষুধ নিয়ে থাকেন। এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। নিচের নিয়মগুলো মেনে চললে উপকার পেতে পারেন :

• বিছানা শুধু ঘুমের জন্যই নির্দিষ্ট করে রাখুন। বিছানায় বসে টিভি দেখা, আড্ডা দেয়া, খাবার খাওয়া বন্ধ করুন।
• খালি পেটে কখনো শুতে যাবেন না। তবে রাতে গুরুভোজ করবেন না। বেশি ভরা পেটে শুতে যাওয়াও ঠিক নয়। আবার খেয়েই সাথে সাথে শুয়ে পড়াও অনুচিত। খাওয়া ও শোয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান রাখুন।
• শোয়ার আগে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন। দুধে থাকে ট্রিপটোফ্যান, যা আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে।
• নিয়মিত গোসল ও শুতে যাওয়ার আগে আরামবোধ করলে ঘাড়ে, মুখে ও পায়ে পানি দিয়ে মুছে নিতে পারেন।
• ঘুমাতে যাওয়ার সময় সারা দিনের ক্লান্তি, বিপর্যয় বা উত্তেজনার কারণগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না।
• খুব বেশি উত্তেজিত হয়ে বিছানায় যাবেন না।
• ঘুমের আগে কোনো ভারী কাজ বা অত্যধিক মাথার কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
• প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
• দুপুরের ঘুম আপনার শুধু কর্মক্ষমতাই কমায় না, আপনার রাতের ঘুমও নষ্ট করে। অতএব, এটি বাদ দিন।
• ঘুমাতে যাওয়ার আগে সিগারেট, তামাক, চা, কফি না খাওয়াই ভালো।
• দু-এক দিন ঘুম না হওয়াতেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না। তবে নিয়মিত না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সকালে খালি পেটে পানি পানের যত উপকার

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১১ ০৯:৪০:২৯

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে পানি পান করা খুবই জরুরি। তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করা শরীরের জন্য খুবই ভালো। এ অভ্যাসটি যদি আপনি রপ্ত করতে পারেন, তবে অনেক ধরনের অসুখ-বিসুখ থেকে আপনার শরীর মুক্ত থাকবে; আপনিও থাকবেন সুস্থ ও সবল।
দিনের শুরুর এই এক গ্লাস পানিকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা 'স্বাস্থ্যকর' 'বিশুদ্ধ' 'সুন্দর' ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করে থাকেন। প্রশ্ন হচ্ছে: কী পানি খাবেন? ঠাণ্ডা পানি, নাকি গরম পানি? মধুমিশ্রিত পানি, নাকি হালকা নোনতা পানি?

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুটানো পানি পান করা উচিত। হালকা নোনতা পানি ভালো, কিন্তু সাধারণত প্রতিদিনই আমরা খাবার থেকে সোডিয়াম পেয়ে থাকি। তাই শরীরে এর অভাব না-হলে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করার দরকার নেই। মধুমিশ্রিত পানি অনেকের পছন্দ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে মধুমিশ্রিত পানি মানে আবার অতিরিক্ত ক্যালরি। তাই সবচে ভালো সাধারণ পানি ফুটিয়ে পান করা। আর সে পানি ঠাণ্ডাও না, গরমও না- এমন হলে ভালো। সাধারণত রাতে ঘুমের মধ্যে পানি পান করা হয় না। তখন শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। সকালের এক গ্লাস পানি সে অভাব পূরণ করবে। তা ছাড়া, সকালে খালি পেটে পানি খেলে আপনার প্রস্রাবও ক্লিয়ার হবে।

এখানে একটা প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। প্রশ্নটা হচ্ছে : কেন সকালে ঘুম থেকে জেগেই খালি পেটে পানি পান করতে হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি অন্তত চারটি উপকার করে। তাই আমাদের সকালে পানি খাওয়া উচিত এবং এটাকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।

উপকারিতা ১ : সকালে খালি পেটে পানি পান করলে শরীরের পানির অভাব পূরণ হবে। রাতে ঘুমানোর সময় মানবদেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় পানির অভাব দেখা দেয়। আমরা সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠি এই অভাব নিয়েই। তাই, ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করার এই পরামর্শ। এতে দ্রুতই সেই অভাব পূরণ হয়ে যায়।

উপকারিতা ২ : কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যতায় ভোগেন। তাদের জন্য সকালে উঠে খালি পেটে পানি খাওয়ার যাদুর মতো কাজ করতে পারে। আর যাদের এ সমস্যা নেই, সকালে পানি খাওয়ার অভ্যাস তাদেরকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে রাখবে বলে আশা করা যায়।

সকালে খালি পেটে পানি পানের তিন নম্বর উপকারিতা হচ্ছে, এতে পাকস্থলির কার্যক্ষমতা বাড়ে। রাতের বেলা বিপাকপ্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং সকাল নাগাদ এ কাজ শেষ হয়ে যায়। তখন খালি পেটে এক গ্লাস পানি পাকস্থলিকে সক্রিয় করে তুলতে ভূমিকা রাখে। আবার এতে পাকস্থলির ওপর না-হক চাপও পড়ে না।

সকালে খালি পেটে পানি খাওয়ার চার নম্বর উপকারিতা হচ্ছে, এতে মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে অধিক সচল হয়। কীভাবে? আমরা জানি রক্তের একটা বড় অংশই পানি। আর পানি পান করলে তা আমাদের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। আর রক্ত প্রবাহ ঠিক থাকলে, মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং এর ফলে মস্তিষ্ক অধিক সচল হয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পানের উপকারিতা নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা করলাম। আগের অনুষ্ঠানে প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন, কখন করবেন, কীভাবে করবেন--এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন এ সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই। আশা করি, এর মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হবেন।

প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে পানি পানের অভ্যাস আছে কি? অনেকে মনে করেন, রাতে শোয়ার আগে পানি পান না-করাই ভালো। আসলে, বিষয়টা ঠিক উল্টো। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও পরিমিত পানি পান করা উচিত।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করার বিশেষ উপকারিতা সম্পর্কে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সকালে নয়, সারাদিনই প্রয়োজন অনুসারে পানি পান করতে হবে, একটু একটু করে। রাতে শোয়ার আগে ৫০ থেকে ২০০ মিলিলিটার পর্যন্ত পানি পান করতে বলেন তাঁরা। শোয়ার আগে এর চেয়ে বেশি পানি না-পান করাই ভালো। কারণ, তাতে ঘুমের গুণগত মান কমে যায়।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, সুস্থতার জন্য প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত? হ্যাঁ, এই প্রশ্নের উত্তর একেক জন একেক রকমভাবে দিয়ে থাকেন। তবে, সবচেয়ে প্রচলিত উত্তরটি হচ্ছে : অন্তত ২০০০ মিলিলিটার। আধুনিক চিকিৎসকরা অবশ্য ১২০০ মিলিলিটারেই সন্তুষ্ট। তারা বলেছেন, এ পানি পান করতে হবে সারাদিন ধরে, একটু একটু করে। 'একটু একটু করে' বলতে তারা বুঝিয়েছেন ১০০ থেকে ২০০ মিলিলিটার করে।

অবশ্য, ঋতু ও পরিবেশভেদে পানিগ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে। যেমন, গরমকালে যদি বেশি ঘাম হয়, তবে আপনার শরীরের পানির চাহিদা ২০০০ থেকে ৩০০০ মিলিমিটার হতে পারে। শরীরচর্চার ফলে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরলেও পানি বেশি খেতে হতে পারে। আবার শীতকালে ১২০০ থেকে ১৫০০ মিলিলিটার পানিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।

আরেকটি কথা, যাদের কিডনিতে পাথর হয়েছে, বা যারা উচ্চ কলেস্টেরলের রোগী, তাদের সব ঋতুতেই প্রতিদিন অন্তত ২০০০ মিলিলিটার করে পানি পান করা উচিত। এক্ষেত্রে পানিটুকু খেতে হবে সারা দিন ধরে, একটু একটু করে।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যে কারণে ছেলেদেরই বেশি টাক হয়

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-৩০ ১৪:৪১:৫০

একুট বয়স হলে অনেক ছেলেদেরই মাথায় টাক পড়ে। এই টাক অনেকের সৌন্দর্যে ব্যাঘাত ঘটালেও, অনেকে আবার এই টাককেই ফ্যাশন হিসেবে মেনে নিয়েছেন। আজকাল ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও একটু হলেও এই সমস্যায় ভুগছেন।

কিন্তু জানেন কি কেন ছেলেদের বেশি টাক পড়ে?

ক্রোমোজোমের কারণেই নাকি এই সমস্যা দেখা দেয়। এর জন্য নাকি দায়ী অ্যান্ড্রোজেন এবং ওয়াই ক্রোমোজোম। অ্যান্ড্রোজেন হরমোন আসলে পুরুষের বংশগতি ও প্রজননের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদিকে মেয়েদের দেহে ওয়াই ক্রোমোজোমের অস্তিত্বই নেই। তাই টাক পড়ার আশঙ্কাও তেমন নেই।

এ কারণে ছেলেদেরকেই এই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় বেশি।

তবে আরো কিছু কারণে চুলের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

সেগুলি হল- শরীরে ভিটামিন ও এর পরিমাণ বেশি হলে, প্রোটিনের অভাবে, বংশগত কারণে, মানসিক চাপ, অ্যানিমিয়া, হাইপোথাইরইডিজম, ভিটামিন বি-এর অভাব, হঠাৎ করে ওজন কমলে, কেমোথেরাপি, বয়স হলে, চুলের ওপর অতিরিক্তমাত্রায় স্টাইল করতে গিয়ে ক্ষতিকারক রাসাযনিক ব্যবহার করলে, অথবা প্রেগন্যান্সি।

তাই শুরু থেকেই চুলের যত্ন নেওয়া উচিত।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

টিকাতেই নিরাময় হবে ক্যান্সার

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২১ ১০:০৮:৪৪

ক্যান্সারের চিকিৎসায় এখন থেকে আর কষ্টকর কেমোথেরাপি কিংবা রেডিয়েশন পদ্ধতির প্রয়োজন হবে না। এবার মারণ ব্যাধি ক্যান্সার নির্মূল করা যাবে মাত্র একটি টিকাতেই। কিউবার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন যুগান্তকারী আবিস্কার করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ২৪ ঘণ্টার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যান্সারের মতো রোগের ওষুধ আবিষ্কার করতে দীর্ঘদিন ধরে নানা পরীক্ষা করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনও সহজ পদ্ধতি এখনও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি।

এবার সেই কাজটিই করে দেখালেন কিউবার বিজ্ঞানীদের একটি দল। ইতিমধ্যেই তাদের আবিষ্কৃত ওই টিকা ৪ হাজার মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, তারা ক্যান্সারকে জয় করে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।

মূলত এই টিকা প্রয়োগে ব্রেস্ট ক্যান্সার, ইউটেরাস ক্যান্সার কিংবা প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে দ্রুত সেরে উঠা সম্ভব। তাছাড়া ক্যান্সারের একেবারে প্রথম ধাপে এই টিকা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তবে অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন উঠেছে, তা হল এই টিকার দাম কত হবে? কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই টিকা মধ্যবিত্তদের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে।

কিউবায় আবিষ্কৃত হওয়ায় এই টিকা সেই দেশের মানুষদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কিউবার মেডিক্যাল সার্ভিসেস’এ যোগাযোগ করলে তারা সহায়তা করবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া প্যারাগুয়ে, কলোম্বিয়াতেও এই টিকা পাওয়া যাচ্ছে।

 এলএবাংলাটাইমস/ইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৯ ১১:৩৪:৪১

ইসবগুলের ভুসি আভ্যন্তরীণ পাচন তন্ত্রের সমস্যার ঘরোয়া চিকিৎসা ও প্রতিকারের জন্য বেশ উপকারী। তবে এই সাদা ভুসিটির উপকারিতা শুধু হজমতন্ত্রের মাঝেই সীমিত নয়। এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। চলুন তাহলে একে একে জেনে নিই ইসবগুলের ভুষির আরো অনেক উপকারিতা।কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে
ইসবগুলের ভুষিতে থাকে কিছু অদ্রবণীয় ও দ্রবণীয় খাদ্যআঁশের চমৎকার সংমিশ্রণ যা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য খুব ভালো ঘরোয়া উপায় হিসেবে কাজ করে। ইসবগুলের ভুষি পাকস্থলীতে গিয়ে ফুলে ভেতরের সব বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিকভাবে জলগ্রাহী হওয়ার কারনে পরিপাকতন্ত্র থেকে পানি গ্রহণ করে মলের ঘনত্বকে বাড়িয়ে দিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ২ চামচ ইসবগুল এক গ্লাস কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাবার আগে পান করে নিন।ডায়রিয়া প্রতিরোধে
যদিও শুনলে অবাক লাগে, ইসবগুল একই সাথে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দুটিই প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ডায়রিয়া প্রতিরোধে ইসবগুল দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। কারণ দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক পাকস্থলীর ইনফেকশন সারায় এবং ইসবগুল তরল মলকে শক্ত করতে সাহায্য করে খুব কম সময়ের মাঝে ডায়রিয়া ভালো করতে পারে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে ২ চামচ ইসবগুল ৩ চামচ টাটকা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবার পর খেতে হবে। এভাবে দিনে ২ বার খেলে বেশ কার্যকরী ফলাফল পাওয়া সম্ভব।অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে
বেশির ভাগ মানুষেরই অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে আর ইসবগুলের ভুষি হতে পারে এই অবস্থার ঘরোয়া প্রতিকার।ইসগুল খেলে তা পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে একটা প্রতিরক্ষা মূলক স্তর তৈরি করে যা অ্যাসিডিটির বার্ন থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করে। এছাড়া এটি সঠিক হজমের জন্য এবং পাকস্থলীর বিভিন্ন এসিড নিঃসরণে সাহায্য করে।ইসবগুল অ্যাসিডিটিতে আক্রান্ত হওয়ার সময়টা কমিয়ে আনে। প্রতিবার খাবার পর ২ চামচ ইসবগুল আধা গ্লাস ঠাণ্ডা দুধে মিশিয়ে পান করুন। এটি পাকস্থলীতে অত্যাধিক এসিড উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে অ্যাসিডিটির মাত্রা কমায়।ওজন কমাতে
ওজন কমানোর উদ্দেশ্যকে সফল করতে ইসবগুলের ভুষি হচ্ছে উত্তম হাতিয়ার। এটি খেলে বেশ লম্বা সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় এবং ফ্যাটি খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে কমায়। এছাড়াও ইসবগুলের ভুষি কোলন পরিষ্কারক হিসেবেও পরিচিত।এটি পাকস্থলী থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়াকে আরো বেশি কার্যকর করে স্বাস্থ্যবান থাকতে সাহায্য করে। ভেষজ শাস্ত্র অনুযায়ী এটি পাকস্থলীর দেয়ালে যেসব বর্জ্য পদার্থ থাকে তা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে যা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দূর করে। কুসুম গরম পানিতে ২ চামচ ইসবগুলের ভুষি ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে ভাত খাবার ঠিক আগে খেতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেলেও তা ওজন কমাতে সাহায্য করবে। হজমক্রিয়ার উন্নতিতে
দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুলের ভুষি হজম প্রক্রিয়াকে সঠিক অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে।এটি শুধু পাকস্থলী পরিষ্কার রাখতেই সাহায্য করে না এটি পাকস্থলীর ভেতরের খাবারের চলাচলেও এবং পাকস্থলীর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনেও সাহায্য করে।তাই হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে নিয়মিতভাবে ইসবগুল খেতে পারেন। এছাড়া মাঠা বা ঘোলের সাথে ইসবগুল মিশিয়ে খেতে পারেন ভাত খাওয়ার পরপরই। তবে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে তা হল ইসবগুল মিশিয়ে রেখে না দিয়ে সাথে সাথেই খেয়ে ফেলতে হবে।হৃদস্বাস্থ্যের সুস্থতায়
ইসবগুলের ভুষিতে থাকা খাদ্যআঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে যা আমাদেরকে হৃদরোগের থেকে সুরক্ষিত করে।হৃদরোগের সুস্থতায় ইসবগুল সাহায্য করে কারন এটি উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ এবং কম ক্যালরিযুক্ত। ডাক্তাররা সব সময় হৃদরোগ প্রতিরোধে এমন খাবারের কথাই বলে থাকেন।এটি পাকস্থলীর দেয়ালে একটা পাতলা স্তরের সৃষ্টি করে যার ফলে তা খাদ্য হতে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয় বিশেষ করে রক্তের সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এছাড়াও এটি রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরিয়ে দেয় যা থাকলে ধমনীতে ব্লকের সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে তা হৃদরোগ এবং কোরোনারী হার্ট ডিজিজ থেকে আমাদের রক্ষা করে। তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ভাবে খাবারের ঠিক পরে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসবগুল খান। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে
ইসবগুলের ভুষি যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য খুবই ভালো। এটি পাকস্থলীতে যখন জেলির মত একটি পদার্থে রূপ নেয় তখন তা গ্লুকোজের ভাঙন ও শোষণের গতিকে ধীর করে। যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। খাবার পর নিয়মিতভাবে দুধ বা পানির সাথে ইসবগুলের ভুষি মিশিয়ে পান করুন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে।তবে দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবেন না এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।পাইলস প্রতিরোধে
প্রাকৃতিক ভাবে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুলের ভুষি যারা পায়ুপথে ফাটল এবং পাইলসের মত বেদনাদায়ক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য উত্তম। এটা শুধু পেট পরিষ্কার করতেই সাহায্য করেনা মলকে নরম করতে সাহায্য করে অন্ত্রের পানিকে শোষণ করার মাধ্যমে এবং ব্যাথামুক্ত অবস্থায় তা দেহ থেকে বের হতেও সাহায্য করে। এটি প্রদাহের ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে। ২ চামচ ইসবগুল কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ঘুমাতে যাবার আগে পান করুন।সতর্কতা
এটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সমস্যা গুলোর ঘরোয়া সমাধান। যদি খুব বেশি গুরুতর অবস্থা হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।ইসবগুল কেনার সময় দেখে নিন
ইসবগুলের ভুষি আমাদের দেশে বাজার থেকে শুরু করে সুপার মার্কেট সব জায়গাতেই বেশ সহজলভ্য। তবে কেনার আগে কিছু ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখবেন-প্যাকেটজাত ইসবগুল কিনুন
কখনোই খোলা ইসবগুল কিনবেন না সেগুলো নষ্ট ও ভেজাল থাকতে পারে যার ফলে এটি খেয়ে হয়তো ভালো ফলাফল নাও পেতে পারেন।আজকাল প্যাকেটজাত বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম স্বাদের ইসবগুলের ভুষিপাওয়া যায়। তবে ভালো ফলাফল পেতে গেলে এসব কৃত্রিম স্বাদের ইসবগুল না খেয়ে সাধারণ ইসবগুল খান।বিভিন্ন দোকানে সাধারন ইসবগুলে কৃত্রিম স্বাদ ও রঙ যোগ করে বিশেষ কার্যকারিতার কথা বলে তা বিক্রয় করা হয় যা মূলত স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ। তাই সাধারণ ইসবগুলের ভুষি খাওয়াই সবচেয়ে উত্তম।

বিস্তারিত খবর

যৌনতৃপ্তি যেভাবে বাঁচায় পুরুষের জীবন!

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-২৭ ০৮:০৮:৩৫

পুরুষের প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য নিয়ে সচরাচর কথা বলতে চান না তারা। কিন্তু সুস্থ থাকার জন্য এ ব্যাপারে জেনে রাখা জরুরী। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এই গবেষণাটি যদিও পুরুষের জন্য বিব্রতকর মনে হতে পারে, তবে তাদের জীবন রক্ষার জন্য তা জরুরী।

কী বলা হয়েছে এই গবেষণায়? গবেষকেরা বলেন, নিয়মিত অর্গাজম হলে পুরুষের শুক্রাণু উৎপাদনকারী গ্রন্থি সুস্থ থাকে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়ানো যায়। ইউরোপিয়ান ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত ৩২ হাজার পুরুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চ মাত্রার যৌন সক্রিয়তা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় ৩৩ শতাংশ।

তাহলে কী পরিমাণে অর্গাজম হওয়াটা আপনার জন্য ভালো? গবেষণাটির মতে, মাসে ২১ বার। মোটামুটি বছরের ২৫২ বার, বছরের ৭০ শতাংশ দিনে অর্গাজম হওয়াটা এক্ষেত্রে উপকারী। গবেষকেরা নিশ্চিত নন ঠিক কীভাবে অর্গাজম কমায় ক্যান্সারের ঝুঁকি। কিন্তু তারা ধারণা করছেন এতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টক্সিন শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ সিডনির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার সবচাইতে বেশি দেখা যাওয়া ক্যান্সার হলো প্রোস্টেট ক্যান্সার, আর ক্যান্সারে মৃত্যুর দিক থেকে তৃতীয়। বয়স্ক মানুষে তা বেশি দেখা যায়। ৮৫ শতাংশ প্রোস্টেট ক্যান্সার দেখা যায় ৬৫ বা তার চাইতে বেশি বয়সী পুরুষে।

তবে অর্গাজম সুখকর হলেও, শুধু সেটাই আপনাকে সুস্থ রাখবে এমনটা বলা যায় না। হার্ভার্ডের গবেষকেরা বলেন, সক্রিয় যৌনজীবন থাকা মানে এর পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক সার্বিক স্বাস্থ্যও ভালো ছিল। সব দিক দিয়ে সুস্থ থাকার কারণে তা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এ কারণে খাদ্যভ্যাস এবং ব্যায়াম বজায় রাখা এবং ডাক্তারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাটাও আপনার জন্য জরুরী।

সুত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

বিস্তারিত খবর

দিনে তিন কাপ কফি আয়ু বাড়াবে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-১৮ ০৯:৪৪:১০

দিনে তিন কাপ কফি পান আপনার আয়ু বাড়াবে। ১০টি ইউরোপীয় দেশের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের ওপর চালানো এক গবেষণার ভিত্তিতে গবেষকরা এই দাবি করছেন।  
একটি গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত (অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন) এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এক কাপ অতিরিক্ত কফি মানুষের আয়ু বাড়াতে পারে। এই কফি যদি ডিক্যাফিনেটেড বা ক্যাফিনবিহীনও হয়।  
  লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকরা বলেন, বেশি কফি পানের সঙ্গে মৃত্যু ঝুঁকি কমার, বিশেষ করে হৃদরোগ এবং পাকস্থলীর রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে।
  ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার ডেভিড স্পিগেলহালটার বলেন, যদি এই গবেষণা সঠিক হয়, তাহলে প্রতিদিন এক কাপ অতিরিক্ত কফির কারণে একজন পুরুষের আয়ু তিন মাস এবং একজন নারীর আয়ু এক মাস বেড়ে যেতে পারে।
  তবে এই গবেষণার ব্যাপারে অনেকের প্রশ্ন আছে। তারা বলছেন, কফি মানুষের আয়ু বাড়াচ্ছে, নাকি কফি পানকারীদের জীবন প্রণালীর কারণে তারা বেশিদিন বাঁচছেন সেটা পরিষ্কার নয়।
  এর আগের গবেষণাগুলোতে অবশ্য মানবদেহের ওপর কফির প্রভাব সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী ফল পাওয়া গিয়েছিল। কফিতে যে ক্যাফিন থাকে, তা সাময়িক সময়ের জন্য মানুষকে অনেক বেশি সজাগ রাখতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন মানুষের ওপর ক্যাফিনের প্রভাব বিভিন্ন রকমের।
  ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস সন্তানসম্ভবা নারীদের দিনে ২০০ গ্রামের বেশি ক্যাফিন গ্রহণ করতে নিষেধ করে। কফি বেশি পান করলে নবজাতক শিশুর আকার খুব ছোট হতে পারে বলে আশংকা করা হয়।  

বিস্তারিত খবর

টিস্যু ব্যবহারের ভালমন্দ জানুন

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-১৮ ০৯:৪২:১৬

দৈনন্দিন জীবনে আমরা সবাই কমবেশি টিস্যু ব্যবহারে অভ্যস্ত। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই এর ভালোমন্দ চিন্তা না করেই ব্যবহার করি। তবে টয়লেট পেপারও কখনো কখনো আপনার স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। গবেষকদের মতে, টয়লেট পেপারকে দেখতে যতটা নিরীহ দেখায় আসলে তা অতটা নিরীহ নয়।

নরম সুন্দর টয়লেট পেপার অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে শরীরে। বিশেষ করে অমসৃণ টয়লেট পেপার ব্যবহারে আপনার ত্বক কেটে যেতে পারে। তবে এটা হয়তো খালি চোখে দেখা যায় না।

❏ কীভাবে এই সমস্যা হয়: নরম বা মসৃণতার ওপর নির্ভর করে বাজারে টয়লেট পেপারের ভিন্নতা রয়েছে। অনেক সস্তা টয়লেট পেপার রয়েছে যেগুলো খুব অমসৃণ। এগুলো আপনার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গার জন্য ক্ষতিকর। সাধারণত দাবি করা হয়, পরিবেশবান্ধব টয়লেট পেপার যে সমস্ত জিনিস দিয়ে তৈরি সেগুলোতে ভালো ফাইবার থাকে।

অমসৃণ পেপারগুলো সাধারণত অফিসে ব্যবহার করা হয় অথবা গণবিশ্রামাগারে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া অর্থ বাঁচাতে সাধারণত বাথরুমে এগুলো ব্যবহার করা হয়। যখন আপনি বারবার টয়লেট পেপার স্পর্শকাতর জায়গায় ব্যবহার করেন, এর অমসৃণ ফাইবারগুলো অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে এবং ত্বক কেটে ফেলতে পারে। যদিও এই কাটা হয়তো অতটা তীব্র নয় তবুও এটা ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট।

❏ কখন এটি ঘটে: হাঁটার সময় ত্বকের এই হালকা কাটা আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। তবে হাঁটার এই অস্বস্তির কারণ কেবলমাত্র টয়লেট পেপারই নয়। তবে এটিও একটি বড় কারণ হতে পারে। এর কারণে আপনার স্পর্শকাতর জায়গায় ঘা হতে পারে।

গবেষকরা জানান, নারীর শরীরে স্পর্শকাতর ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হওয়ার একটি বড় কারণ টয়লেট পেপার। নারীর যোনিদ্বারে বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকর সমস্যা তৈরি হয় এর ফলে।

গবেষকরা আরো জানান, যেসব নারী দীর্ঘদিন যোনিপথের সমস্যায় বা অস্বস্তিতে ভুগছেন তাঁরা যেন মৃদুভাবে চেপে টিস্যুটিকে ব্যবহার করেন। জোরে না মোছেন। এ ছাড়া সম্ভব হলে সাদা টয়লেট পেপার ব্যবহার করাই ভালো।

প্রকৃতির কাজের পর প্রথমে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলুন। পরে আস্তে চেপে স্পর্শকাতর জায়গা পরিষ্কার করুন। সামনে থেকে পেছনে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। ভালো করে পরিষ্কার না করার ফলে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে আবারও যোনিপথে ইনফেকশন বা ঘা হতে পারে। তবে এর পরও যদি অস্বস্তি হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে পারেন। পুরুষদেরও টয়লেট পেপার ব্যবহারে সচেতন হওয়া দরকার।

সমস্যা এড়াতে টয়লেট টিস্যু কেনার সময় এটির মসৃণতা, রং, গন্ধ এসব বিষয় দেখে কিনুন। সাধারণত দুই অথবা তিন স্তর (প্লাই) টয়লেট পেপার সব সময় মসৃণ হয়। এক স্তরবিশিষ্ট টয়লেট পেপার অতটা মসৃণ হয় না। তাই দেখে টয়লেট পেপার কেনার চেষ্টা করুন।

বিস্তারিত খবর

মিউজিক যেভাবে আমাদের ব্রেন ভালো রাখে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-১৮ ০৯:৩৯:৪৫

স্ট্রেস বর্তমানে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা। তবে স্ট্রেসের মোকাবিলা করতে, অবসাদ কাটাতে মিউজিক থেরাপির গুরুত্ব ক্রমশই বাড়ছে। ফলে কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি মিউজিক থেরাপিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন মনোবিদরা। শুধু বড়দের নয়, ছোটদেরও মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে মিউজিক থেরাপি। জেনে নিন কীভাবে কাজ করে এই থেরাপি।

জ্ঞান
মোজার্ট এফেক্টের উপর বেশ করা বেশ কিছু গবেষণার ফলে গবেষকরা দেখিয়েছেন বেশ কিছু কাজ করার আগে বা সমস্যা সমাধানের আগে মোজার্ট শুনলে সেই কাজ আরও নিপুণভাবে করার এবং সূক্ষ্ণভাবে ভাবার ক্ষমতা বাড়ে।

দীর্ঘকালীন স্মৃতি
মিউজিক দীর্ঘকালীন স্মৃতি বাড়াতে সাহায্য করে। সিন্যাপসিস যত শক্তিশালী হবে স্মৃতিশক্তি ততই বাড়বে। স্ট্রেস বাড়লে তা স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব ফেলে। পড়াশোনা, কাজ, যে কোনো বিষয়ের স্ট্রেস সিন্যাপসিসকে দুর্বল করে দেয়। স্ট্রেস শরীরের ফিল গুড হরমোন ডোপেমাইন ও সিরোটোনিনের মাত্রাও কমিয়ে দেয়। ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। মিউজিক শুনলে ফিল গুড হরমোন বাড়ে। যা স্মৃতিশক্তিকে উন্নত করে।

কর্টিসল
স্ট্রেস শুধু দীর্ঘকালীন স্মৃতিশক্তির উপরই প্রভাব ফেলে না, নতুন স্মৃতি ধরে রাখতেও বাধা দেয়। মস্তিষ্কে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) উত্পন্ন করে কার্যকারিতায় বাধা দেয়। মিউজিক কর্টিসলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে মাথা যেমন হালকা হয়, তেমনই তথ্য বোঝার ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাও বাড়ে।

ভাবনা-চিন্তার স্বচ্ছতা
মিউজিকের ছন্দ-তাল কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করতে ও ভাবনা-চিন্তা গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে। গবেষকরা দেখিয়েছেন আমাদের মস্তিষ্ক ছন্দে চলে। গানের ছন্দ, বিশেষ করে যেই গান কোনও স্মৃতি জাগিয়ে তোলে তা গুছিয়ে ভাবনা-চিন্তা ও পড়াশোনা করতে সাহায্য করে। কোনো মিউজিক্যাল বাদ্যযন্ত্র শোনা ও বাজানোও মস্তিষ্কে একই প্রভাব ফেলে।

বিস্তারিত খবর

সজনে ডাঁটার বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-১৮ ০৯:৩১:৩৪

বাজার উঠতে শুরু করেছে সজনে ডাঁটা। সবজি হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয়। সজনের ডাঁটা শুধু নয় এর পাতাও শাক হিসেবে খাওয়া যায়। এটি গরমে রসনায় তৃপ্ত করেও এর বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা আমাদের অনেকেরই অজানা। সজনে সবজি হিসেবে যতটা জনপ্রিয়, তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় ঔষধি গুণের জন্য।

❏ বাতের ব্যথা উপশমে: বাতের ব্যথা উপশমে সজনে গাছের ছাল বেশ কার্যকর। এই পদ্ধতি বেশ প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। সজনে গাছের ছাল তুলে তা বেটে রস চিপে নিয়ে এই রস নিয়মিত প্রতিদিন ৪-৬ চা চামচ খেলে বাতের ব্যথা প্রায় ৬৫% উপশম হয়।

❏ পেটের সমস্যা সমাধানে: বহুকাল আগে থেকে সজনে হজমের সহায়ক খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পেটে গ্যাস হলে, বদহজম হলে এবং পেটে ব্যথা হলে সজনের তৈরি তরকারীর ঝোল খেয়ে নিন। দেখবেন পেটের গোলমাল অনেক উপশম হয়ে গিয়েছে।

❏ উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে: সজনে ডাঁটা খাওয়া উচ্চ রক্ত চাপের রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। সজনে দেহের কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া উচ্চ রক্ত চাপের চিকিৎসায় সজনের পাতাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সজনের পাতার (কচি নয়) রস প্রতিদিন নিয়ম করে ৪-৬ চা চামচ খেলে উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।


❏ দাঁতের মাড়ির সুরক্ষায়: অনেক সময় দাঁতের মাড়ির সমসসায় ভুগে থাকেন অনেকে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়া এবং মাড়ি ফুলে যাওয়া সমস্যায় ইদানীং অনেককে পড়তে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে সজনে পাতা। সজনে পাতা ১/২ মগ পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি দিয়ে ভালও করে প্রতিদিন কুলকুচা করতে হবে। এতে মাড়ির সকল সমস্যার সমাধান হয়।


❏ টিউমার বা আঘাতজনিত ফোলা উপশমে: টিউমার যখন একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় থাকে তখন সজনের পাতা এই টিউমার নিরাময় করতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় টিউমার ধরা পরলে তাতে সজনে পাতা বেটে প্রলেপের মতো ব্যবহার করলে টিউমারের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ব্যথা বা আঘাত পেলে দেহের কোনো অংশ ফুলে উঠলে একই উপায়ে তা নিরাময় করা সম্ভব।


❏ হেঁচকি ওঠা উপশমে: হেঁচকি ওঠা যে কতো কষ্টের তা যারা ভুক্তভোগী তারা ঠিকই জানেন। একবার হেঁচকি উঠা শুরু করলে তা বন্ধ হতে চায় না সহজে। কিন্তু সজনে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে বেশ সহজে। সজনে পাতার রস ৯/১০ ফোঁটা আধ গ্লাস দুধের সাথে মিশিয়ে পান করে ফেলুন এক নিঃশ্বাসে। দেখবেন হেঁচকি ওঠা দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে।

বিস্তারিত খবর

বাগান করলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-১৪ ০৯:০২:৫৭

নতুন একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে যে, মধ্যবয়সে বাগান করলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। দ্যা টেলিগ্রাফ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বাগানে সক্রিয়ভাবে কাজ করলে ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ১৩ শতাংশ কমে। প্রধান গবেষণাটি এক দশক সময় নিয়ে করা হয়। এখানে ব্রেস্টের উপর ব্যায়াম, ডায়েট এবং অ্যালকোহলের প্রভাব দেখা হয়। ব্রেস্ট ক্যান্সার নারীদের সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার। 
বিশ্বব্যাপী গবেষণার ফলাফল পরীক্ষা করে জীবন যাত্রার ফ্যাক্টরগুলো ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকির উপর যে প্রভাব ফেলে তা দ্যা ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ড ৬,০০০ টি কেস পর্যবেক্ষণ করে জানায় যে, যদি নারীরা প্রতিদিন  ৩০ মিনিট ব্যায়াম করে তাহলে তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়।
মেনোপোজের আগে তীব্র ব্যায়াম যেমন- দৌড়ানো, ব্যাপক পার্থক্য তৈরি করে। যারা প্রতিদিন এই কাজটি করেন তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ১৭ শতাংশ কমে যারা কম সক্রিয় থাকে তাদের তুলনায়। কিন্তু নারীদের তীব্র সক্রিয়তার বিষয়টি মেনোপোজের পরে কমে যায়। বস্তুত, অনেক নমনীয় ব্যায়াম যেমন – বাগান করা বা হাঁটা, মেনোপোজ পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে অনেক উপকারী হিসেবে জানা গেছে। এতে তাদের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ১৩ শতাংশ কমে।
তাই যদি আপনার বাগান করার অভ্যাসটি থাকে তাহলেতো খুবই ভালো। আর যদি না থাকে তাহলে শীঘ্রই এটি রপ্ত করুন ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকার জন্য।  

বিস্তারিত খবর

খাদ্যের ভেজাল নির্ণয়ের ১১ টি উপায়

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-১৪ ০৯:০০:২৩

খাদ্যের ভেজাল এখন একটি সাধারণ বিষয়। আর এ কারণেই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। খাদ্যের ভেজাল শনাক্ত করা গেলে ভেজাল খাদ্য খাওয়া থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।  সহজ কিছু কৌশলে শনাক্ত করা যায় খাদ্যের ভেজাল। চলুন তাহলে জেনে নিই বিভিন্ন খাবারের ভেজাল শনাক্ত করার কিছু সহজ উপায়।
১। দুধদুধে সাধারণত যে ভেজাল মেশানো হয় তা হল – অপরিশোধিত পানি, চকের গুঁড়া, সাবানের গুঁড়া বা গুঁড়া সাবান, স্টার্চ, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও ইউরিয়া। ভেজাল মেশানো দুধ খাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে – ফুড পয়জনিং, হৃদপিণ্ডের সমস্যা, ক্যান্সার, বমি ও বমি বমিভাব হওয়া। দুধের ভেজাল নির্ণয়ের জন্য যা করতে পারেন -  একটি খাড়া/ঢালু স্থানে ১ ফোঁটা দুধ ফেলুন। যদি দুধের ফোঁটা সোজা গড়িয়ে পড়ে তাহলে এটি বিশুদ্ধ দুধ। আর যদি সোজা হয়ে না পড়ে তাহলে তাতে ভেজাল আছে বুঝতে হবে। তাপ দেয়ার পড়ে যদি দুধ হলুদ হয়ে যায় তাহলে এবং এর স্বাদ যদি তেতো বা সাবানের মত মনে হয় তাহলে বুঝতে হবে যে এর মধ্যে কৃত্রিম উপাদান মেশানো আছে।
২। কফির গুঁড়ো কফির গুঁড়োয় যে ভেজাল মেশানো হয় তা হচ্ছে – তেঁতুলের বীজ ও চিকোরি গুঁড়ো। এগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে- ডায়রিয়া, পাকস্থলীর সমস্যা, মাথা ঘোরা এবং জয়েন্টে ব্যথা ইত্যাদি। কফিতে মিশ্রিত ভেজাল শনাক্ত করার জন্য ১ গ্লাস পানির উপরে সামান্য কফির গুঁড়ো ছিটিয়ে দিন। কফি পানির উপরে ভাসতে থাকলেও চিকোরি পানির নীচে চলে যাবে এবং রঙের সারি দেখা যাবে।
৩। মরিচের গুঁড়ো সাধারণত মরিচের গুঁড়োর সাথে ইটের গুঁড়ো বা কাঠের গুঁড়ো মেশানো হয়। এই ভেজাল মিশ্রিত মরিচ খেলে পাকস্থলীর সমস্যা ও ক্যান্সার হতে পারে। মরিচের গুঁড়োর ভেজাল শনাক্ত করার জন্য ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ মরিচের গুঁড়ো মেশান। যদি পানির রঙ পরিবর্তিত হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে যে এই মরিচে ভেজাল আছে।
৪। হলুদের গুঁড়ো হলুদের গুঁড়োয় হলুদ অ্যানালিন ডাই এর মেটানিল ইয়েলো মেশানো হয়। এগুলো কার্সিনোজেনিক এবং পাকস্থলীর সমস্যা তৈরি করে। ভেজাল নির্ণয়ের জন্য একটি টেস্ট টিউবে হলুদের গুঁড়ো নিয়ে এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা গাড় হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিন। যদি হলুদের রঙ গোলাপি, রক্তবর্ণ বা বেগুনী হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই বোঝা যায় যে এতে ভেজাল আছে।
৫। সরিষা বীজ এবং তেল সরিষায় মেশানো হয় আর্গেমন বীজ। এর প্রভাবে এপিডেমিক ড্রপ্সি (যে রোগে জলীয় পদার্থ জমে শরীরের কোন অংশ ফুলে ওঠে) এবং তীব্র গ্লুকোমা হয়। সরিষার ভেজাল নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি সরিষা বীজ নিয়ে চূর্ণ করুন। আরগেমন বীজ চূর্ণ করলে এর ভেতরে সাদা গঠন দেখা যাবে। অন্যদিকে সরিষার বীজের ভেতরে হলুদ অংশ দেখা যাবে।
৬। আইসক্রিম আইসক্রিমের মধ্যে ওয়াশিং পাউডার মেশানো হয়। এই আইসক্রিম খেলে লিভার ড্যামেজ ও পাকস্থলীর সমস্যা হয়। আইসক্রিমের ভেজাল নির্ণয়ের জন্য এর উপর কয়েকফোটা লেবুর রস ফেলুন। যদি ফেঁপে ওঠে তাহলে এতে ওয়াশিং পাউডার থাকাকে নির্দেশ করে।
৭। সবুজ মরিচ কৃত্রিম রঙ মেলাসাইট গ্রিন মেশানো হয় সবুজ মরিচে। এটি এক ধরনের কার্সিনোজেনিক উপাদান। ভেজাল নির্ণয়ের জন্য প্যারাফিনের মধ্যে সামান্য তুলা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এই তুলা দিয়ে মরিচের একটি অংশ অথবা যেকোন সবুজ সবজির এক অংশে লাগিয়ে ঘষুন। তুলাটি সবুজ হয়ে গেলে বুঝতে আর বাকী থাকেনা যে এর মধ্যে কৃত্রিম সবুজ রঙ মেশানো ছিল।
৮। ঘি ঘি এর মধ্যে ভেজিটেবল অয়েল এবং প্রাণীজ চর্বি মেশানো থাকে। এই ঘি খেলে অ্যানেমিয়া ও হার্ট বড় হয়ে যাওয়ার মত সমস্যা হয়। একটি টেস্ট টিউবে ১ মিলিলিটার পানি নিয়ে এর মধ্যে ০.৫ গ্রাম ঘি মেশান এবং মিশ্রণটিতে তাপ দিন। ঠান্ডা হওয়ার পরে এর মধ্যে ১ ফোঁটা আয়োডিন যোগ করুন। যদি এর রঙ নীল হয়ে যায় তাহলে বোঝা যায় যে, এর মধ্যে ভেজাল আছে।
৯। চিনি চিনিতে চকের গুঁড়া মেশানো হয়। এই চিনি খেলে পাকস্থলীর সমস্যা হয়। চিনির ভেজাল নির্ণয়ের জন্য ১ গ্লাস পানিতে চিনি মেশালে যদি সরাসরি নীচে চলে যায় তাহলে তা বিশুদ্ধ চিনি, আর যদি এর মধ্যে ভেজাল থাকে তাহলে এটি পানির উপরে ভাসতে থাকবে।
১০। গোলমরিচ পেঁপের বীজ মেশানো হয় গোলমরিচে। এর ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে যকৃতের সমস্যা এবং পাকস্থলীর সমস্যা হয়। কয়েকটি গোল মরিচ যদি অ্যালকোহলের মধ্যে দেয়া হয় তাহলে বিশুদ্ধ গোল মরিচ ভাসতে থাকবে এবং ভেজালযুক্ত থাকলে তা নীচে চলে যাবে।
১১। চা রঙিন ও প্রক্রিয়াজাত চায়ের পাতা মেশানো থাকলে তা ভেজাল চা। এর ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে যকৃতের সমস্যা হওয়া। একটি নষ্ট ব্লটিং পেপারের উপরে কিছু চায়ের গুঁড়ো ছিটিয়ে দিন। যদি ব্লটিং পেপারের রঙ হলুদ, কমলা বা লাল হয়ে যায় তাহলে বোঝা যায় যে, এর মধ্যে কৃত্রিম রঙ মেশানো আছে।  

বিস্তারিত খবর

স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ডিমের ৫ প্যাক

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-১৪ ০৮:৫৩:৫৮

ত্বকের যত্নে রান্নাঘরের উপাদানগুলো ব্যবহার হয়ে আসছে আদিকাল থেকে। স্পা, ফেসিয়াল, বিউটি ট্রিটমেন্টের ভিড়ে এদের আবেদন একটুও কমেনি।  হারবাল উপাদানের মধ্যে অন্যতম একটি উপাদান হলো ডিম। চুলের প্রোটিন ট্রিটমেন্টে ডিমের ব্যবহার সম্পর্কে আমরা জানি। শুধু চুল নয়, ত্বকের যত্নেও ডিমের ভূমিকা রয়েছে। পার্লারে ফেসিয়ালের পর ডিমের প্যাক ব্যবহার করা হয়। এখন নিজেই ঘরে তৈরি করতে পারবেন ডিমের প্যাক। ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করুন এই প্যাকগুলো।  
১। শুষ্ক ত্বকের জন্যএকটি ডিমের কুসুম, এক চা চামচ মধু একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের রক্ষতা দূর করে ত্বক আর্দ্র করে তুলবে।
২। তৈলাক্ত ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্যকিছু ডিমের সাদা অংশের সাথে মুলতানি মাটি মিশিয়ে নিন। প্যাকটি ভালো করে মেশান। খুব বেশি পাতলা যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। এই প্যাকটি ত্বকে ব্যবহার করুন। ১৫-২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শুষে নিবে। ব্রণ হওয়ার প্রবণতা হ্রাস করবে।
৩। সবধরণের ত্বকের জন্য  ডিমের সাদা অংশ এবং দুধ ভাল করে মিশিয়ে নিন। এরসাথে কিছু গাজরের রস  দিয়ে দিন। এবার মুখটি ধুয়ে এই প্যাকটি ত্বকে ব্যবহার করুন। ১৫-২০ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি সব ধরণের ত্বকের জন্য উপযোগী।
৪। বলিরেখা রোধের জন্যডিমের কুসুম থেকে সাদা অংশ আলাদা করে নিন। মুখ ভাল করে ধুয়ে নিন। একটি তুলোর বল ডিমের সাদা অংশে ভিজিয়ে সেটি মুখে ভাল করে লাগান। ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকের রক্ত চলাচল সচল রাখে। এটি ত্বকের বলিরেখা দূর করে ত্বক ক্লিয়ার রাখতে সাহায্য করবে।
৫। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্যকিছু বেসনের সাথে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। এরসাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশান। লেবুর রস মিশ্রণের সাথে ভালো করে মেশান। এটি ত্বকে ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে।

বিস্তারিত খবর

পুরুষেরা কেন নারীদের চেয়ে বেশি দ্রুত দৌড়ান?

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-১১ ০৬:৫৯:৩৪

দৌড়ানো এমন একটি ক্রীড়া যা নারী এবং পুরুষ উভয়েই উপভোগ করে, সেটা ৫ কিলোমিটারের দৌড় প্রতিযোগিতাই হোক অথবা ম্যারাথন বা কোন দল বা দেশের হয়ে প্রতিযোগিতাই হোক না কেন। ভেন্যু যেটাই হোক না কেন নারীদের চেয়ে পুরুষদেরই বেশি দ্রুত দৌড়াতে দেখা যায়। নারী এবং পুরুষ উভয়েই কঠোর পরিশ্রম করে প্রশিক্ষণ নেয়, তাহলে কেন নারীদের চেয়ে পুরুষেরা দ্রুত দৌড়ায়? এমনকি বিশ্বের দ্রুততম মানব ১০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বের দ্রুততম মানবীর চেয়ে ১ সেকেন্ড দ্রুত দৌড়ায়: উসাইন বোল্ট ৯.৫৮ সেকেন্ডে সম্পন্ন করে, অন্যদিকে প্রয়াত ফ্লোরেন্স গ্রিফিথ জয়নার এটা করেন ১০.৪৯ সেকেন্ডে।
চিকিৎসক লাইভ সায়েন্সকে বলেন, এর বহুবিধ কারণ থাকতে পারে, কিন্তু হরমোন এবং শরীরের আকার এতে অনেক ভূমিকা রাখে।হেলথ লাইন এর মতে, ছেলে এবং মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর আগে তাদের শরীর একই রকম থাকে। বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের আধিক্য তৈরি হয়। পূর্ণবয়স্ক হতে হতে কিছু পুরুষের টেস্টোস্টেরন ২০ গুণ বৃদ্ধি পায় নারীদের তুলনায়। সোসাইটি অফ এন্ডোক্রাইনোলজি এর মতে, টেস্টোস্টেরন বিভিন্ন ধরণের ভূমিকা রাখে যেমন- শরীরকে নতুন কোষ তৈরি করতে বলা, হাড় ও পেশীকে শক্তিশালী রাখা এবং বৃদ্ধিকে উৎসাহিত  করা ইত্যাদি।  
ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড হেলথ কেয়ার এর প্রাইমারী কেয়ার স্পোর্টস মেডিসিন ফিজিশিয়ান ডা. এমিলি ক্রাউস বলেন, ‘কারণ নারীদের শরীরে কম টেস্টোস্টেরন উৎপন্ন হয়, তাই পেশীর ক্ষেত্রে তারা প্রতিকূল অবস্থায় থাকে’। ‘পুরুষের পেশীর আয়তন বেশি হয়’। ক্রাউস বলেন, পুরুষের পায়ে ৮০ শতাংশ পেশী থাকে, অন্যদিকে নারীদের পায়ে থাকে ৬০ শতাংশ পেশী। অতিরিক্ত পেশী তাদেরকে দ্রুত দৌড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও পুরুষের পেশীর তন্তুর দ্রুত আকস্মিক টান দেয়ার প্রবণতা থাকে বলে তারা নারীদের তুলনায় দ্রুত দৌড়াতে পারে। নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন বেশি থাকে পুরুষের তুলনায়, যা তাদের শরীরের চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এটা দৌড়ানোর পারফরমেন্সের অসুবিধার সৃষ্টি করে।
মেডিসিন এন্ড সায়েন্স ইন স্পোর্টস এন্ড এক্সারসাইজ নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত ১৯৯৮ সালের গবেষণা মতে, আরেকটি ফ্যাক্টর হচ্ছে শরীরের আকার। গড়ে পুরুষের তুলনায় নারীদের ফুসফুস ছোট হয়, অর্থাৎ তাদের সর্বোচ্চ অক্সিজেন গ্রহণ (VO2 max) কম হয়। প্রতি মিনিটে বসে থাকা অবস্থায় একজন নারীর শরীরে ৩৩ মিলিমিটার অক্সিজেন সঞ্চালিত হয় তার শরীরের ভরের প্রতি কিলোগ্রামের জন্য। অন্যদিকে বসে থাকা অবস্থায় একজন পুরুষের ৪২ মিলিমিটার অক্সিজেন সঞ্চালিত হয় তার শরীরের ভরের প্রতি কিলোগ্রামের জন্য।  
অভিজাত দৌড়বিদ গণের VO2 max উচ্চতর থাকে, কিন্তু পরুষের নারীদের চেয়ে বেশীই থাকে। ক্রাউস বলেন, নারীদের তুলনায় পুরুষের অক্সিজেন উৎপাদনের মাত্রা বেশি। তাই নারীদের পেশীতে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পরিশ্রম করতে হয়। পুরুষের তুলনায় নারীর হৃদপিণ্ড ছোট হয়। নারীদের পেশীতে কম রক্ত ও কম অক্সিজেন পৌঁছায়। ক্রাউস বলেন, নারীদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকে, এই লাল রক্ত কণিকার প্রোটিন যা পেশী সহ শরীরের কোষ-কলায় অক্সিজেন সরবরাহ করে।  
বায়োমেকানিক্সজন্স হপকিন্স মেডিসিন এর ওমেন্স স্পোর্টস মেডিসিন প্রোগ্রাম এর পরিচালক এবং অর্থোপেডিক সার্জারির সহকারী অধ্যাপক ডা. মিহো তানাকা বলেন, বায়োমেকানিক্স অনুযায়ী নারীর তুলনায় পুরুষের পা লম্বা হয়, অর্থাৎ তাদের পেশীর জন্য অনেক বেশি স্থান থাকে বলে তারা লম্বা পা ফেলতে পারে। তানাকা বলেন, পুরুষের চেয়ে নারীর কোমর চওড়া হয় বলে তারা পুরুষের মত দক্ষ ভাবে দৌড়াতে পারে না। এর অর্থ এই নয় যে, নারীর কোমর প্রশস্ত হয় বলেই তার দৌড়াতে পারে না। কিন্তু গড়ে পুরুষেরা কেন নারীদের তুলনায় দ্রুত দৌড়ায় তার অনেক ফ্যাক্টরের মধ্যে একটি এটি।

বিস্তারিত খবর

আপনি কতদিন বাঁচবেন তা বলে দিতে পারে এআই

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-১১ ০৬:৪৩:৪৫

সায়েন্টিফিক রিপোর্ট নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় জানানো হয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্বারা খুব সহজেই অনুমান করা সম্ভব আপনি কতদিন বাঁচবেন। এ ধরনের প্রথম গবেষণায় অ্যাডেলেইড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (যন্ত্রের দ্বারা প্রদর্শিত বুদ্ধি) ব্যবহার করেন কোন রোগীরা আগামী ৫ বছরের মধ্যে মারা যাবেন তা গণনা করার জন্য, এক্ষেত্রে তাদের ভবিষ্যৎবানী ৬৯ শতাংশ সঠিক হয়। গবেষকেরা বলেন তাদের এই অনুমান প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের মতোই হয়েছিলো।
এআই এ ৪৮ জন মানুষের বুকের সিটি স্ক্যান করা হয়, তাদের সবার বয়স ৬০ এর নীচে ছিল। তারপর মেশিন লার্নিং টেকনিক এর মাধ্যমে প্রচুর উপাত্ত সংগ্রহ করা হয় এবং ব্যাতিক্রমসমূহ ও অস্বাভাবিক গঠনের চিত্র তৈরি করা হয়। মোট ১৫,৯৫৭ বায়োমার্কার বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় এই  ছবিগুলো থেকে। তারপর তারা আর কতদিন বেঁচে থাকবেন তা হিসাব করা হয়। অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ পাবলিক হেলথ এর পিএইচডি এর ছাত্র এবং একজন রেডিওলজিস্ট ডা. লুক ওয়াকডেন-রেয়নার বলেন, রোগীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানা উপকারী হতে  পারে কারণ এর মাধ্যমে চিকিৎসক তার চিকিৎসার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। জৈবিক বয়স সম্পর্কে সঠিক পরিমাপ করতে পারা এবং রোগীর আয়ু সম্পর্কে ধারণা করতে পারাকে সীমিত করা হয়েছে চিকিৎসকের দ্বারা রোগীর শরীরের প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ভেতরে দেখতে পারার অক্ষমতার জন্য।
যদিও এই গবেষণাটির এখনো উন্নয়ন হওয়া বাকি, বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছেন এই ধারণার প্রমাণের জন্য। তারা আশা করছেন যে তারা ক্রমান্বয়ে হার্ট অ্যাটাকের মত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়েও ভবিষ্যৎবানী করতে পারবেন। গবেষণার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তারা এআই এর যথাযথতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেবেন হাজার হাজার ছবি প্রসেস করতে দিয়ে। 
ডা. ওয়াকডেন-রেয়নার বলেন, যদিও এই গবেষণায় নমুনা হিসেবে খুব কম রোগীকে নেয়া হয়েছিলো, আমাদের গবেষণায় ধারণা করা হয় যে, কম্পিউটার শিখেছে কীভাবে জটিল রোগের ছবিকে চেনা যায়, হিউম্যান এক্সপার্টদের আরো ব্যাপক প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন। নির্ণীত রোগের প্রতি ফোকাস না করে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম চিকিৎসার ফলাফল বলতে পারবে যার জন্য চিকিৎসকেরা প্রশিক্ষিত হননি।আমাদের গবেষণাটি নতুন যাত্রার পথ উন্মুক্ত করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কৌশল ব্যবহার করার মাধ্যমে মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণ করার এবং গুরুতর অসুস্থতার প্রাথমিক শনাক্তকরনের জন্য নতুন আশা প্রদান করতে পারে, যার জন্য নির্দিষ্ট মেডিকেল হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ঘটিয়েছেন যা চিকিৎসকদের মতোই সঠিকভাবে স্কিন ক্যান্সার শনাক্ত করতে পারে ছবি থেকে।
সূত্র: আই এফ এল সায়েন্স

বিস্তারিত খবর

ইফতারে আমের লাচ্ছি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-১০ ০৯:৪৬:৩২

মধু মাসের রসালো ফল আম। নানান পুষ্টিগুণে ভরা এই ফল। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি এর রয়েছে অনেক জাদুকরী স্বাস্থ্য উপকারিতা। আর পাকা আম খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ বাংলাদেশে কমই আছেন। তাছাড়া রমজানে রসনা তৃপ্তিতে খাবারের তালিকায় আমের নাম থাকা খুবই সাধারণ বিষয়। বিশেষ করে এই গরমে ইফতারে পাকা আমের লাচ্ছি হতে পারে বেশ উপকারি। রইলো রেসিপি-

উপকরণ
আমের পাল্প আধা কাপ,
টক দই ১ কাপ,
তরল দুধ আধা কাপ,
চিনি ২ টেবিল-চামচ।।

প্রস্তুত প্রণালী
সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। ঠাণ্ডা হলে ইফতারে পরিবেশন করুন।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত