যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 02:50pm

|   লন্ডন - 08:50am

|   নিউইয়র্ক - 03:50am

  সর্বশেষ :

  ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের স্কুলে কিশোরের গুলি, নিহত ১   পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে উত্তাল সংসদ   সিরাজগঞ্জে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৮ বগি লাইনচ্যুত, দুটিতে আগুন   ভূ-কৌশলগত বিরোধ নয় সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী   আবার বিয়ে করলেন হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন   দুপুরে আটকের পর রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা যুবক নিহত   পিয়াজের কেজি ২০০ টাকা   ৫০ লাখ টাকার স্পিড বোট ১০ কোটি টাকা!   মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিতদের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর নির্দেশনা   নেত্রকোণা জেলা সমিতি ইউএসএ ইনক্’-এর কমিটি গঠন   বুয়েটে আবরার হত্যা: ২৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট   ভারতে পেঁয়াজের দাম ৮ টাকা, কৃষকের কান্নার ভিডিও ভাইরাল   গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৯   ইতালিতে মসজিদে হামলার পরিকল্পনাকারী আটক, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার   ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্ঘটনা: অটো ব্রেকে ট্রেন রেখে ঘুমাচ্ছিলেন চালকরা

>>  স্বাস্থ্য এর সকল সংবাদ

এখন থেকে প্রেগনেন্সী স্ট্রিপে দেখা যাবে সন্তানের বাবার ছবি!

‘পাগলি টা মা হয়েছে বাবা হয় নি কেউ?’ রাস্তায় নবজাতক পড়ে দেখলেই এসব স্ট্যাটাসে সয়লাব হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক। তখন আবেগখেকো বাঙালির আবেগের মাত্রা কয়েকগুন বেড়ে যায়। সবাই ছি ছি করতে থাকে নবজাতক পিতার উপর।

খবর যখন টেলিভিশন আর সংবাদ মাধ্যমে ঝড় তুলে তখন শিশুর পিতা মাতার খোজ খবর নেওয়ার জন্যে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

অনেক পিতলা ঘুঘু (প্রেমিক) এসব কাজ করে প্রেমিকাকে ছেড়ে দেয়। ফলে প্রেমিকাকে পড়তে হয় বাজে অবস্থায়। অনেক সময় এসব পিতলা ঘুঘুরা নাক মুখ মুছে অস্বীকার করে।

সামাজিক চাপের দায়ে প্রেমিকাও চেপে যায় প্রমানের অভাবে তারা কিছু করতে পারে না।

বিস্তারিত খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় নৌকায় আগুন, নিহত ৮ নিখোঁজ ২৬

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৩ ০২:১৬:২৬

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি দ্বীপে নৌকায় আগুন লেগে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২৬ জন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, নৌকাটিতে মোট ৩৯ জন মানুষ ঘুমিয়েছিলেন। এ পর্যন্ত পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আর মৃ্ত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে আটজনের।

স্থানীয় এক কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সোয়া ৩টার দিকে সান্তা ক্রুজ দ্বীপ থেকে ছেড়ে আসার অল্প সময় পরই ৭৫ ফুট লম্বা নৌকাটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন লাগার কিছুক্ষণ পরই নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় নৌকার বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমাচ্ছিলেন। ফলে তারা পালাতে পারেননি। তবে নৌকার ডেকে থাকা পাঁচ নাবিক দ্রুত একটি সেতুতে নেমে পড়েন। ফলে বেঁচে যান তারা।

খবরে আরো বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে দমকল বাহিনীর লোকজন ও ডুবুরিরা। এরইমধ্যে দুই নারীসহ আটজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২৬। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।

বিস্তারিত খবর

দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৩ ০২:১৩:০৯

অনেকেই রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন। জানেন কি, তাদের অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা যায় দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার কারণে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক জটিলতার শিকার হতে হয়।
যুক্তরাজ্যের ৪ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায় সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা ব্যক্তিদের চেয়ে রাতজাগা মানুষের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা ১০ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞানীরা এ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য চার ধরণের মানুষকে বেছে নিয়েছেন। যারা প্রতিদিন নিয়মিত সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে দেরি করে ঘুমান এবং যারা প্রতিরাতে নিয়মিত রাত জাগেন। এই চারটি ক্যাটাগরিতে থাকা অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৩৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। পরে এই গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক ক্রোনবায়োলজি জার্নালে প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় যে ব্যক্তি নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তার গড় আয়ু রাতজাগা ব্যক্তিদের থেকে সাড়ে ছয় বছর বেশি।

তবে এর সঙ্গে ব্যক্তির বয়স , লিঙ্গ, গোত্র, ওজন, আর্থসামাজিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় জড়িত। এই সবগুলো বিষয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেব শেষেই দেখা যায়, সকাল বেলায় যারা ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের অকাল মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম। আর যাদের দেহঘড়ি অনিয়মে চলে তাদের এই ঝুঁকি বাড়তেই থাকে।
রাত জাগার বদভ্যাস যারা গড়ে তুলেছেন তাদের ৯০ শতাংশ বিভিন্ন মানসিক ব্যাধির শিকার হন। ৩০ শতাংশের থাকে ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। এছাড়া স্নায়বিক সমস্যা থেকে শুরু করে অন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টেন নুটসন জানান, অবেলায় খাওয়া দাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ব্যয়াম না করা, রাতে ঘুম থেকে ওঠা বা মাদক সেবন এ ধরণের বদভ্যাসের পেছনে প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ। এমন বিভিন্ন অনিয়মের ফলে মানুষের ঘুমের সময় ওলট পালট হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

তবে রাত জাগার কারণে আপনার শরীর মন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে, এমনটাও ভাবার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন অধ্যাপক নুটসন। তিনি জানান, শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ জৈব প্রক্রিয়া বা দেহঘড়ির পরিচালনা নির্ভর করে জিনের বৈশিষ্টের ওপর। বাকিটা তার বয়স ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
নিজের দেহঘড়িকে নিয়মের মধ্যে আনতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা। চলুন জেনে নেয়া যাক সেইগুল-

১. আপনার শোবার জায়গাটা এমন হতে হবে যেখানে সূর্যের আলো সহজেই পৌছায় কিন্তু রাতের বেলা অন্ধকার থাকে।

২. প্রতিরাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং সেটা যেন খুব দেরিতে না হয়।

৩. সুস্থ লাইফস্টাইলের জন্য যে অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা প্রয়োজন সেগুলো আয়ত্বে আনতে নিজের প্রতি কঠোর হওয়া। ঘুমের সময়ের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আপস করা যাবে না।

৪. দিনের কাজ দিনের মধ্যেই শেষ করে ফেলার চেষ্টা করা।

৫. ঘুমানোর সময় মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার থেকে দূরে থাকা।

বিস্তারিত খবর

কোয়েলের ডিমের যত গুণ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-৩১ ০৬:৩৩:০৩

মুরগির ডিমের চাইতেও বেশি প্রোটিন থাকে কোয়েলের ডিমে। এই ডিমে প্রোটিন ছাড়া আরও মিলবে ফসফরাস, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, ফলেট, ভিটামিন এ, ই, ডি এবং বি-১২। জেনে নিন কোয়েলের ডিম খেলে কী কী উপকার পাবেন।

    উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় কোয়েলের ডিমে থাকা পটাশিয়াম।    কোয়েলের ডিমে থাকা প্রোটিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।    রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করে।    কোয়েলের ডিমে ওভোমুকোয়েড প্রোটিন আছে। এটি শরীরের প্রাকৃতিক অ্যান্টি অ্যালার্জিক হিসেবে কাজ করে।    রক্তশূন্যতা দূর করে।    কিডনি ও লিভার ভালো রাখে। কোয়েলের ডিমে থাকা একটি উপাদান ‘লেসিটিন।’ এই উপাদানটি কিডনিতে পাথর হওয়া রোধ করে।    এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ঠাণ্ডাজাতীয় সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দেয়।    এতে থাকা ভিটামিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে। 
জেনে নিন
যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি তারা অতিরিক্ত কোয়েলের ডিম খাবেন না। কোনও ধরনের এলার্জি বা শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন ডিম।

বিস্তারিত খবর

জনসন বেবি পাউডারে ক্যান্সারের ঝুঁকি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৪ ১৪:২৩:৩৬

‘জনসন অ্যান্ড জনসন’-এর ট্যালকম পাউডারে ব্যবহৃত ক্ষতিকারক পণ্য থেকে হতে পারে ক্যান্সার। এমন বহু প্রমাণ পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি সংস্থাটি। ফলে এবার জনসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছর জনসনের পণ্য ব্যবহারের কারণে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া ২২ নারীকে ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন দেশটির একটি আদালত।

জনসনের ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে ওভারিয়ান ক্যান্সার শরীরে বাসা বেঁধেছে; এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই ২২ নারীকে প্রাথমিকভাবে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের আদালত। এছাড়াও জনসনকে আরো ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত ওই নারীদের আইনজীবীরা বলেছেন, জনসনের ট্যালকম পণ্য যে ১৯৭০ সাল থেকেই দূষিত সেটি কোম্পানি অবগত আছে; কিন্তু এরপরও তারা পণ্য ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সাবধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ট্যালকম পাউডার তৈরির প্রধান উপাদান ট্যালক, যার রাসায়নিক নাম ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেট; এটি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে নরম খনিজ পদার্থ। উইকিপিডিয়া বলছে, এতে রয়েছে অ্যাসবেস্টস; অ্যাসবেস্টস হল প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত ছয় সিলিকেট খনিজের একটি সেট। যা তার সুবিধাজনক প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যর কারণে বাণিজিকভাবে ব্যবহৃত হয়। রেশম ও পশমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই খনিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল দেখা যায়।

অ্যাসবেস্টস আঁশের দীর্ঘায়িত শ্বসন ফুসফুসের ক্যান্সার, মেসোথেলিয়মা, এবং অ্যাসবেস্টস এর মতো গুরুতর অসুস্থতার সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অ্যাসবেস্টসের সকল প্রকার নিষ্কাশন, উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন-এর বেবি পাউডার, শ্যাম্পুতে যে দুটি রাসায়নিকের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি সে দুটি হল ফরম্যালডিহাইড ও অ্যাসবেস্টাস। এর মধ্যে প্লাইউড, ফাইবার বোর্ড, নানা রকম আঠা তৈরিতে ব্যবহৃত ফরম্যালডিহাইড হল এক রকম বর্ণহীন, ঝাঁঝালো রাসায়নিক।

অ্যাসবেস্টাস এমন এক ধরনের খনিজ পদার্থ যার উচ্চ তাপ শোষণের ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি উপাদানই ক্যান্সারের মতো মরণ ব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন কর্তৃপক্ষ তাদের পণ্য থেকে ক্যান্সারের ঝুঁকির আশঙ্কা উড়িয়ে এগুলোকে নিরাপদ বলেই দাবি করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়াতে এ পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন-এর বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সংস্থার বিরুদ্ধে হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক বার গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন-এর বেবি পাউডারসহ একাধিক পণ্য। বার বার জনসনের বেবি পাউডারে অ্যাসবেস্টাসের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে।

বিস্তারিত খবর

হৃদরোগের লক্ষণ বুঝবেন কি করে?

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-০৯ ০৭:১৪:৩৫

গোটা বিশ্বে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভাসের কারণেই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে। তবে সবসময় যে হৃদরোগের জন্য জীবনযাত্রা দায়ী তা নয়। বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যার জন্যও এটা হতে পারে।

এছাড়া স্থূলতা, ধূমপান , অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের কারণেও  অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে হৃদরোগের সূত্রপাত একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে হতে থাকে। সাধারণত হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্তত এক মাস আগে শরীর কিছু সংকেত দেয়। যেমন-

১. বুকে ব্যথা নানা কারণেই হতে পারে। গ্যাস থেকে শুরু করে রক্তচাপের কারণেও অনেকসময় এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে বুকে ব্যথা হলে অবহেলা করা ঠিক নয়। চিনচিনে বা বুকে চাপ ধরা ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে অনেকে কোনও কারণ ছাড়াই  অতিরিক্ত ঘামেন। এটা দিনের যে কোনও সময় হতে পারে। অবশ্য নারীদের মেনোপজ হয়ে যাওয়ার পরও এই ধরনের লক্ষণ বেশি দেখা যায়।তবে ঘন ঘন এই সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. নার্ভের সমস্যা থাকলে অনেকেসময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। এছাড়া যাদের অল্পতেই প্যানিক হওয়ার অভ্যাস আছে তাদেরও অল্পতেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।অতিরিক্ত চিন্তা, প্যানিকগ্রস্ততা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। যাদের অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা ঘন ঘন হয় তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. নানা কারণেই চুল পড়তে পারে। তবে যেসব পুরুষের বয়স ৫০ এর উপর এবং যাদের কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে তাদের অতিরিক্ত চুল পড়া হৃদরোগের পূর্ব লক্ষণ।

৬. যারা অল্পতেই হাঁপিয়ে পড়ছেন কিংবা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তাদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

৭. অনেকেরই ঘুমের সমস্যা আছে। রাতে কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না। নিদ্রাহীনতা যেমন অন্যান্য রোগের উপসর্গ তেমনই হৃদরোগের সমস্যাও ডেকে আনে। এ কারণে ঘুমের সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ো উচিত।

বিস্তারিত খবর

ফল খাওয়ার পর পানি পান করা কি ঠিক?

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৪-০৩ ১২:০১:২৩

প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি।এছাড়া এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে রসালো সব ফলও খেতে পারেন। পানি এবং রসালো ফল দুটিতেই প্রচুর পরিমাণে খনিজ ও পুষ্টি রয়েছে যা শরীরের শক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।তবে প্রশ্ন হচ্ছে ফল খাওয়ার পর পরই পানি পান করা ঠিক কিনা?

প্রচলিত ভাষায়, ফল খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করলে পাকস্থলীর গতি বাঁধা প্রাপ্ত হয়। কারণ অনেক ফলে ফ্রুকটোজ থাকে। ফল খেয়ে পানি পান করলে কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদনের জন্য পাকস্থলীতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়, এতে পেটে গ্যাসের পরিমাণ বাড়ে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরমুজের মতো ফল খেয়ে পানি পান করা ঠিক নয়।কারণ এটি ধীরে ধীরে শোষণ হয় এবং গ্যাস তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। যাদের পাকস্থলী তুলনামুলকভাবে স্পর্শকাতর তারা এই ফলটি খাওয়ার পর পানি খেলে অস্বস্তি বোধ করেন। এমনকী আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায়ও তরমুজ বা যেসব ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকে সেগুলি খাওয়ার পর পানি না পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিছু বিশেষজ্ঞর মতে, কলা খাওয়ার পর পর পানি খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাদের ভাষায়, কলায় থাকা উপাদানের সঙ্গে পানির মিল থাকায় হজমে সমস্যা তৈরি হয়।

এছাড়া সাইট্রাস জাতীয় ফল যেমন-কমলা, আঙুর, জাম্বুরা, লেবু ইত্যাদি খাওয়ার পরও পানি না পান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রচুর পানিযুক্ত ফল খাওয়ার পর পানি পান করলে শরীরে পি এইচ ভারসাম্যে সমস্যা হয় এবং হজমে সমস্যা তৈরি করে। এ কারণে বেশিরভাগ ফল খাওয়ার অন্তত আধঘণ্টা পর পানি পান করা উচিত।

বিস্তারিত খবর

ক্যানসার নিরাময় হবে শতভাগ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০২-০২ ১৪:০৪:১০

ক্যানসার এমন একটি অসুখ যা সারা বিশ্বের জন্যই আতঙ্ক। সারা বিশ্বে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। তবে ক্যানসার শতভাগ নিরাময়ের পথ আবিষ্কারের দাবি করেছেন ইসরাইলের একদল বিজ্ঞানী।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইসরাইলের অ্যাকসিলারেটেড ইভোলিউশন বায়োটেকনোলজিস লিমিটেড (এইবিআই) কোম্পানির দাবি করেছে, ২০২০ সালের মধ্যে ক্যানসার রোগ শতভাগ নিরাময়ের পথ আবিষ্কার করতে পারবেন তারা।

এইবিআই নামের ওই বায়োটেক কোম্পানির চেয়ারম্যান জানান, তাদের উদ্ভাবিত নতুন পদ্ধতির নাম হবে মুটাটো বা মাল্টি-টার্গেট টক্সিন। আর এর চিকিৎসাটি হবে যে পদ্ধতিতে তার নাম সিম্পল অবজেক্ট অ্যাকসেস প্রোটোকল বা সোয়াপ।

বাজারে প্রচলিত ক্যানসারের যে সমস্ত চিকিৎসা পদ্ধতি আছে তার চেয়ে কম খরচে এটি দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম আরিদোরের এক সাক্ষাৎকারে কোম্পানির চেয়ারম্যান জানান, ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর পরই এই চিকিৎসা দেয়া শুরু করতে হবে। আর কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত চিকিৎসা দিলেই ক্যানসার শতভাগ নিরাময় সম্ভব।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, বাজারে প্রচলিত ক্যানসার সংক্রান্ত ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো শতভাগ কাজ না করার কারণ খুঁজতে গিয়েই তারা এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।

বিস্তারিত খবর

কিসমিসের উপকারিতা

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-১১ ১২:৫৫:৪৬

কিসমিস প্রায় সব বাসায়ই ব্যবহৃত হয়। মূলত মিষ্টি খাবার তৈরিতেই এর ব্যবহার বেশি। তবে এটা শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এর আছে অনেক পুষ্টিগুণ। দেখে নিন কিসমিস খেলে কি উপকার পাবেন-

১. কিসমিসে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম আছে। এগুলো অ্যাসিডিটি কমায়, কিডনির পাথর দূর করে ও হৃদরোগর ঝুঁকি কমায়।

২. জ্বর, ঠাণ্ডা ও অন্য সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

৩. চোখের জন্য আদর্শ খাবার। কিসমিস দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। কিসমিসে রয়েছে ভিটামিন-এ ও বিটা ক্যারোটিন।

৪. ফ্যাটবিহীন ফাইবারসমৃদ্ধ কিসমিস হজমশক্তি বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, আমাদের শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়।

৫. ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কিসমিস খাওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কোমর ব্যথায় করণীয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-১১-১৯ ০০:২৭:৪৬

মানুষের শারীরিক অনেক সমস্যার মধ্যে একটি হচ্ছে কোমরের ব্যথা বা ব্যাক পেইন। অনেকেই এ সমস্যায় ভোগে থাকেন। প্রতি ১০ জনে আটজন কম বেশি কোমরের ব্যথায় ভোগেন। চেষ্টাও করেন তা থেকে উপশম হওয়ার। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগের উপসর্গও বাড়তে থাকে। জেনে নিন কোমর ব্যথার কিছু প্রতিকার সম্পর্কে।

কোমর ব্যথায় করণীয় :

১. সব সময় শক্ত সমান বিছানায় ঘুমাতে হবে। ফোমের বিছানায় ঘুমানো যাবে না।
২. ঝুঁকে বা মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করবেন না।
৩. সিঁড়ি ব্যবহারের সময় হাতল ধরে মেরুদণ্ড সোজা রেখে ধীরে ধীরে উঠা ও নামা করতে হবে।
৪. মোটা ব্যক্তির শরীরের ওজন কমাতে হবে এবং সবসময় ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৫. পিঁড়িতে বসে কোনো কাজ যেমন­ মাছ কাটা, শাকসবজি কাটা ইত্যাদি করবেন না।
৬. একই সঙ্গে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকবেন না।
৭. সোজা হয়ে বসে পানি তোলা, বসে গোসল করার সময় সোজা হয়ে বসা।
৮. ঘুম থেকে ওঠার সময় যেকোনো একদিকে কাত হয়ে উঠবেন।
৯. ঘুমানোর সময় সোজা হয়ে ঘুমাতে হবে। বেশি নড়া-চড়া করা যাবে না।
১০. নিয়মিত শারীরিক অর্থাৎ কায়িক পরিশ্রম করতে হবে।
১১. ব্যথাকে অবহেলা করবেন না। অবশ্যই চিকিৎসক অথবা ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে যান।
১৩. চিকিৎসাব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসকরোগীকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, লাম্বার ট্রাকশন ও বিভিন্ন ব্যায়াম দিয়ে থাকেন।
১৪. কোথাও বেশি হেলান দিয়ে বসা বা শোয়া যাবে না। ইহা মারাত্মক ক্ষতি করে।
১৫. সময়মত ঘুমিয়ে পড়বেন। ডানকাত হয়ে ঘুমাবেন। বামকাত ও উপুড় হয়ে কখনোই ঘুমাবেন না।
১৬. ওজন কমাতে হবে আপনার উচ্চতা ও বয়স অনুসারে।
১৭. সাময়িক উপশমের জন্য গরম পানি বা কাপড় দিয়ে সেক দিন।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যে চারটি কারণে বেশি ঘুমানো প্রয়োজন

 প্রকাশিত: ২০১৮-১১-০৬ ১৩:২৪:০৪

বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের পরিমাণ দিন দিন কমছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে এই সমস্যা অনেক বেশি। কিছু কিছু উন্নয়নশীল দেশেও সমস্যাটি দেখা যাচ্ছে। ঠিকমতো যথেষ্ট পরিমাণ না ঘুমানোয় স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

প্রতিদিন বেশি পরিমাণে ঘুমালে বেশ কিছু উপকার পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-

স্মৃতিশক্তি
ঠিকমতো বেশি পরিমাণে ঘুমালে স্মৃতিশক্তি বাড়বে। এতে সব কাজ করতে পারবেন সহজেই। এছাড়া ঘুমের পরিমাণ বাড়ালে যেকোনও কিছু শেখার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। রাতে পড়ালেখা শেষ করে যদি সময়মতো ঘুমাতে পারেন, তাহলে সেগুলো আপনার স্মৃতিতে খুব ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া পড়তে বসার আগেও ঘুম খুবই কার্যকরী। এতে আপনার পড়ার বিষয়টি দ্রুত বুঝতে পারবেন।

সৃজনশীলতা
প্রতিদিন বেশি পরিমাণে ঘুমালে সৃজনশীলতা বাড়ে। আপনি যদি সৃজনশীল কোনও কাজে যুক্ত থাকেন, তাহলে অবশ্যই বেশি ঘুমানোর চেষ্টা করুন। দেখবেন কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য
উন্নত বিশ্বে যেসব রোগে মানুষ বেশি মারা যাচ্ছে সেগুলোর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘুমের সম্পর্ক রয়েছে। ক্যানসারের সঙ্গেও ঘুম জড়িত। যারা কম ঘুমায়, তাদের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রত্যাশিত আয়ু
অল্প সময় ঘুমালে মৃত্যুহার বাড়ে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা অল্প সময় ঘুমান তারা অন্যদের চেয়ে কম বয়সে মারা যান। এ কারণে প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমাতে হবে। তাহলে আপনার প্রত্যাশিত আয়ু বাড়বে।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাসায় পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না : গবেষণার তথ্য

 প্রকাশিত: ২০১৮-১১-০৪ ০৮:৫০:৩৯

অসুস্থ হলে আমরা কমবেশি সবাই ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। কখনো কখনো আবার ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ঘরেই পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না বাসায় পড়ে থাকা সেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। এতে করে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, একদল গবেষক দীর্ঘদিন বাড়িতে পড়ে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণায় তারা জানতে পারেন, ওইসব অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের হার বাড়িয়ে দেয়।ৎ

ওই গবেষক দলের একজন নিউ ইয়র্কের কোহেন চিলড্রেন মেডিক্যাল সেন্টারের ডা. রুথ মিলানাইক। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা যাচ্ছে অনেক অভিভাবকই প্রেসক্রিপশন ডাইভারসন নামের সমস্যায় জড়িত, প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক চেয়ে আনা বা আগের প্রেসক্রিপশন দেখে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা আছে তাদের। যার জন্য যে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি তাকে সেটি দেওয়া শুধু তার জন্যই বিপজ্জনক নয়, পুরো জনসংখ্যার জন্য ভয়ের কারণ। কারণ একসময় শরীর এই অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দেয় না।’

ডা. রুথ মিলানাইক জানান, গবেষণার জন্য অ্যামাজন মেকানিক্যাল টার্কের মাধ্যমে অনলাইনে ৪৯৬ জন অভিভাবককে প্রশ্নাবলি বিতরণ করা হয়েছিল। প্রায় ৪৮.২ শতাংশ (অর্ধেক) অভিভাবক জানিয়েছেন যে তারা রোগ সারার পর অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকগুলো রেখে দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ পরবর্তী সময়ে তাদের ভাই-বোন, বাচ্চাদের এবং সম্পর্কযুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ওই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো দেন।

ডা. মিলানাইক আরও জানান, অনেক সময় দেখা গেছে, প্রেসক্রাইব করার বেশ কয়েক মাস পর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আবার ওই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিভাবকরা নিজেরাও অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যবহার করছেন।

এ সম্পর্কে ডা. মিলানাইক বলেন, ‘কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে, সব অসুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় নয় এবং পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারগুলোকে শিক্ষিত করার জন্য আরও বেশি প্রচেষ্টার প্রয়োজন। যদিও অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ফলে ওষুধের বিপ্লব ঘটেছে, তাও সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে এর সঠিক মাত্রায় ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য  চিকিৎসকদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

ওই গবেষকদের ফলাফল আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের জাতীয় সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান ডা. রুথ মিলানাইক।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যেসব খাবারের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১৯ ১৪:৫৮:১৭

আপনি সম্ভবত ইতোমধ্যে জানেন যে, কিছু খাবার ফিটনেস ও হার্টের জন্য ভালো নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে, জাঙ্ক ফুড ও অন্যান্য কিছু খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। এখানে আপনার যা জানা প্রয়োজন তা দেওয়া হলো।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণ

আপনার খাদ্যতালিকা উন্নত করার জন্য অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু গবেষণা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, কিছু ক্যানসার বিকাশের ঝুঁকি কমানো হতে পারে সর্বোত্তম কারণ। উচ্চ চিনি, চর্বি ও লবণ সমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার আপনাকে স্থূলতা ও এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অবস্থা যেমন- ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রাখে। সম্প্রতি পিএলওএস মেডিসিন নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় নিম্ন পুষ্টির খাবার এবং কিছু ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে সংযোগ পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে কিছু কথা

গবেষকরা নিউট্রি-স্কোর লোগে নামে পরিচিত যুক্তরাজ্যের নিউট্রিশনাল লেবেলিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে গবেষণা করেন, যা ২০০৭ থেকে শুরু হয়েছে। এই গবেষণায় ৪৭০,০০০ এরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কের খাবার মূল্যায়ন করা হয়। অন্যান্য ফ্যাক্টর (যেমন- এক্সারসাইজ না করা এবং ধূমপান করা) সংশোধন করার পরও গবেষকরা আবিষ্কার করেন যে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক সবচেয়ে কম স্কোরের খাবার খেয়েছিল তাদের পাকস্থলী, কোলরেক্টাল, শ্বাসনালী, ফুসফুস, যকৃত ও মেনোপজ-পরবর্তী স্তন ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকি ছিল।

খাবারকে ভয় পাবেন না

এই গবেষণা এটি ইঙ্গিত করছে না যে, মাঝেমাঝে এসব খাবার খাওয়া আপনার মৃত্যুর কারণ হবে। বরঞ্চ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিনিয়ত নিম্নমানের ডায়েটের ওপর থাকাই হচ্ছে সমস্যা: যদি আপনি নিয়মিত চর্বিহীন প্রোটিন, হোল গ্রেন, ফল ও শাকসবজি না খান এবং এর পরিবর্তে উচ্চ চর্বি, চিনি, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খান- তাহলে আপনার খাদ্যতালিকা পুনরায় বিবেচনা করার সময় হয়েছে।

এখানে কিছু খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যা এড়িয়ে চললে, বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে।

* বারবিকিউ
গ্রিল প্রেমিকেরা, সাবধান। অত্যধিক মাংস (বিশেষ করে, অত্যধিক রান্নাকৃত মাংস) ভোজনের সঙ্গে ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে, বলেন আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির এপিডেমিওলজি রিসার্চের সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর মিয়া গডেট। সমস্যা হচ্ছে, গ্রিলের ওপর মাংস রান্না করলে পিএএইচ নামক কার্সিনোজেনিক কম্পাউন্ড উৎপন্ন হতে পারে, তিনি বলেন। ফ্লেইম-ব্রয়েলড (সরাসরি তাপ প্রয়োগে রান্না) বার্গার বা স্টিকের পোড়া দাগ হচ্ছে কেমিক্যালের লক্ষণ যা খেতে যতটা সুস্বাদু, স্বাস্থ্যের জন্য তার চেয়েও বেশি খারাপ। গবেষণায় যেসব ইঁদুরকে এসব কম্পাউন্ড সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়ানো হয়েছিল তাদের ক্যানসারযুক্ত টিউমার বিকশিত হয়েছিল। এমনকি পোড়া টোস্টেও অল্প পরিমাণে এসব কম্পাউন্ড থাকে, বলেন গডেন। তাই যদি আপনি নিয়মিত উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নাকৃত মাংস খান, তাহলে বিকল্প পদ্ধতির খাবার গ্রহণের কথা বিবেচনা করুন।

* গাঁজানো খাবার
উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ ও পরিপাকতন্ত্রের উপকারিতার কারণে গাঁজানো খাবার জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু কিছু প্রাথমিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব খাবারের উচ্চ লবণের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের সংযোগ থাকতে পারে। গবেষণায় এশিয়ার লোকদের মধ্যে ক্যানসারের উচ্চ হার পাওয়া গেছে যারা প্রচুর গাঁজানো খাবার (যেমন-স্মোকড ফিশ) খেত, বলেন মেডিক্যাল অফিসেস অব ম্যানহাটনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট সেগাল।

* চারকুটেরি
সসেজ, ব্যাকন, হ্যাম ও স্যালামির মতো মাংস সংরক্ষণের প্রক্রিয়া নাইট্রাইটস গঠন করে। গবেষকরা পেয়েছেন যে, এই কম্পাউন্ড কোলন ও অন্যান্য ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, বলেন গডেট। এ কারণে এসিএস (আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি) গাইডলাইন আপনার ডায়েটে প্রক্রিয়াজাত মাংস সীমিত করার জন্য সুপারিশ করছে। স্মোকিং, সল্টিং অথবা কিউরিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষিত মাংস কম খান।

* অ্যালকোহলিক পানীয়
অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ান্টিটি বড় ফ্যাক্টর। পরিমিত থেকে উচ্চ মাত্রার অ্যালকোহল পানের সঙ্গে ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে, বলেন গডেট। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা এক সার্ভিংয়ের বেশি অ্যালকোহল পান করতে নিষেধ করছেন।

* লাল মাংস

যেকোনো ধরনের লাল মাংস (যেমন- গরুর মাংস, শূকরের মাংস, ভেড়ার মাংস) আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতি সপ্তাহে ১৮ আউন্সের বেশি লাল মাংস ভক্ষণ আপনার কোলরেক্টাল ক্যানসার বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে, আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ অনুসারে। এ কারণে অধিকাংশ স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় আপনার ডায়েটের বেশিরভাগ প্রোটিন উদ্ভিজ্জ উৎস (যেমন- বিনস ও টফু) থেকে পেতে সুপারিশ করছে।

* কোমল পানীয়
গবেষকরা এখনো চিনি ও ক্যানসারের মধ্যে সংযোগ নিয়ে তদন্ত করলেও অত্যধিক চিনি ভোজন নিশ্চিতভাবে ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। একটি বিষয় খুব পরিষ্কার যে, অতিরিক্ত ওজন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার শরীরে যত বেশি চর্বি থাকবে, আপনার ইস্ট্রোজেনের মাত্রা তত বেশি হবে এবং এটি স্তন ক্যানসার ও প্রজননাঙ্গে ক্যানসার বিকাশের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে, ডা. সেগাল সতর্ক করেন।

* মাইক্রোওয়েভ পপকর্ন
প্রায়ক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভ্যাবল পপকর্ন ব্যাগে লাইনার হিসেবে ননস্টিক কোটিং ব্যবহার করা হয়। ননস্টিক কোটিংয়ে পিএফওএ নামক কেমিক্যাল থাকে। প্রাণীর ওপর চালানো গবেষণায় পাওয়া যায়, এই কেমিক্যাল যকৃত, অণ্ডকোষ ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ঘরে বানানো পপকর্ন খেতে পারেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প লাইনারের পপকর্ন খেতে পারেন।

* ক্যানড টমেটো ও সস
উৎপাদকরা কিছু প্লাস্টিকে বিসফেনল এ (বিপিএ) ব্যবহার করে। খাবারের ক্যানেও এটি ব্যবহার করা হয়। সমস্যা? বিপিএ শরীরে সেক্স হরমোনের প্রাকৃতিক উৎপাদনে হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি উচ্চ করে। টমেটোর উচ্চ অম্লতা ক্যান থেকে এই কেমিক্যাল টমেটো বা সসের সঙ্গে মেশাতে পারে। আপনি ক্যানড টমেটোর পরিবর্তে তাজা টমেটো ও অম্লতাযুক্ত সাইট্রাস ফল পছন্দ করতে পারেন।

* গরম পানীয়
কফি ও চা নিয়ে প্রচুর মতভেদ রয়েছে, কারণ উভয়ের অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্ভাব্য কার্সিনোজেনের তালিকা থেকে কফি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু গবেষণা উল্লেখ করেছে, ১৪৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি তাপমাত্রায় পানীয় পরিবেশন খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি উচ্চ করে। গবেষকরা ধারণা করছেন যে উচ্চ তাপমাত্রা টিস্যু ড্যামেজ করতে পারে, যার ফলে এটিতে ক্যানসারযুক্ত লেশন (লেশন হচ্ছে অস্বাভাবিক টিস্যুর অংশ, যা বিনাইন অথবা ক্যানসারযুক্ত হতে পারে) বিকাশের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অধিকাংশ বাণিজ্যিক পানীয় ১৪০-১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট রেঞ্জে পরিবেশন করা হয়। তাই গরম পানীয় পানের পূর্বে এটিকে পর্যাপ্ত ঠান্ডা হতে দিন।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পেট ফাঁপা হলে যে ১২ খাবার খাবেন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-২৬ ১৪:৪৭:৩২

হজমে সমস্যা হলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হয় যার কারণেই পেট ফুলে থাকে বা ফেঁপে থাকে। এই সমস্যার নিরাময়ে ঘরোয়া কিছু সমাধান গ্রহণ করতে পারেন।

* আদা :  পেট খারাপের একটি পরিচিত প্রাকৃতিক চিকিৎসা হচ্ছে আদা। এটি সেসব খাবারের একটি যা পেট ফাঁপাও হ্রাস করতে পারে। ক্যারিংটন ফার্মস হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশনের কনসালটেন্ট এবং রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান ডেবোরাহ অরলিক লেভি বলেন, ‘এটি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।’ পেট ফাঁপা দূর করতে আদার চকলেট, আদার চা এবং দইয়ে তাজা আদা যোগ করে খেতে পারেন।

* শতমূলী :
লেভি বলেন, ‘শতমূলীতে প্রিবায়োটিক থাকে, যা প্রোবায়োটিকের মতো। এটি উপকারী ডাইজেস্টিভ ব্যাকটেরিয়াকে সাপোর্ট দেয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘মূত্র নির্গমন সহজ করে শতমূলী এবং পেট ফাঁপা উপশমেও সাহায্য করে।’

* পানি : পেট এমনিতেই ফুলে আছে, তাই পানির কথা শুনে বিস্মিত হচ্ছেন? কিন্তু লেভি বলেন, ‘সাধারণ পানি আপনার পেট ফাঁপা কমাতে ভূমিকা রাখে।’ পানিকে সুস্বাদু করতে এতে শসা, কমলা অথবা লেবুর স্লাইস যোগ করতে পারেন। কিন্তু কার্বোনেটেড ড্রিংক থেকে দূরে থাকুন, এসব আসলেই পেট ফাঁপা ও অন্যান্য সমস্যা তৈরি করে।

* সেলেরি : সেলেরি পাতা চিবানোতে শুধু চোয়ালের ব্যায়ামই হয় না, পেট ফাঁপাও হ্রাস পায়। নিউ ইয়র্ক সিটির মাউন্ট সিনাই হসপিটালের ডায়েটিশিয়ান জেনিফার কার্তাশেভস্কি বলেন, ‘অন্ত্রীয় গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সেলেরিকে ডাইজেস্টিভ এইড হিসেবে ব্যবহার করা যায়, কারণ এটির কেমিক্যাল ফ্লুইড রিটেনশন (জমে থাকা পানি) হ্রাস করতে পারে।’

* অ্যালমন্ড মিল্ক : আমাদের অনেকেই দুগ্ধজাত খাবার সহ্য করতে পারে না এবং ল্যাকটোজ ইনটলার‍্যান্স থাকতে পারে। নিউ ইয়র্কের হান্টার কলেজের নিউট্রিশন বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মারটিকা হিনার বলেন, ‘অ্যালমন্ড মিল্ক বা কাজু বাদামের দুধ তাদের জন্য পেট ফাঁপায় বিকল্প হতে পারে যাদের দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেলে পেটে সমস্যা হয়।’ তিনি বলেন, ‘দুধের চিনি বা ল্যাকটোজ পেটফাঁপা ও ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। দুধের প্রোটিন প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে মিউকাস ও পানি জমা হতে পারে।’

* বকচয় : বকচয়ের মতো পাতাযুক্ত সবজি পেট ফাঁপা হ্রাসে সাহায্য করতে পারে, কারণ এতে ডায়েটারি নাইট্রেট থাকে যা রক্তনালীকে প্রশস্ত করে, যে অংশের তরল দূর করতে হবে সে অংশে সার্কুলেশন বৃদ্ধি করে (যেমন- পেট ফাঁপা)। এছাড়া পাতাযুক্ত শাকসবজিতে প্রচুর ইলেক্ট্রোলাইটস ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম থাকে। হিনার বলেন, ‘উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবারের ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম মিনারেলের ভারসাম্য রক্ষা করে, শরীরে অযাচিত সোডিয়াম জমা প্রতিরোধ করে।’

* কেফির ও দই : যদি দুগ্ধজাত খাবার আপনার জন্য সমস্যা না হয়, তাহলে কেফির (ফার্মেন্টেড মিল্ক বেভারেজ) এবং দই খেতে পারেন। সিয়েটল সাটন’স হেলদি ইটিংয়ের প্রধান পুষ্টি বিশেষজ্ঞ রেনে ফিসেক বলেন, উভয়টিতেই প্রোবায়োটিকস থাকে, যা পেট ও শরীরের জন্য ভালো এবং পেট ফাঁপায় কার্যকর। কেফির ও দই অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, যা ডাইজেস্টিভ ট্র্যাককে অধিক কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। ফলে আপনার গ্যাস জমা ও পেট ফাঁপা হওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।’

* শসা : শসা পেট ফাঁপা কমাতে পারে। ফিসেক বলেন, ‘শসা ফাইবারে ভরা, যা ডাইজেস্টিভ ট্র্যাককে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।’

* টমেটো : পেট ফাঁপা হ্রাসের জন্য টমেটো চমৎকার। ফিসেক বলেন, ‘টমেটো পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ, যা শরীরে সোডিয়ামের মাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে, এর ফলে পানি জমা ও পেট ফাঁপা হ্রাস পায়।’

* পেঁপে : পেঁপে দেখতে সুন্দর, খেতে সুস্বাদু। এটি পেট ফাঁপা হ্রাসে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার লাসিক ক্লিনিকের সেন্টার ফর ওয়েট লস অ্যান্ড নিউট্রিশনের পরিচালক অ্যাড্রিয়েন ইউডিম বলেন, ‘একটি ছোট গবেষণায় পেঁপের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের গ্যাসীয় সমস্যা হ্রাস পেয়েছিল, যার মধ্যে পেট ফাঁপাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।’

* মৌরি :
মৌরি আপনার পেট ফাঁপা হ্রাস করতে পারে। মৌরির বীজ খেতে পারেন অথবা মৌরি চা পান করতে পারেন। ডা. নিকো বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে যে, মৌরি গ্যাসের প্রতিক্রিয়া এবং পেট ফাঁপা হ্রাসের জন্য চমৎকার উৎস, এছাড়া অন্যান্য উপকার তো আছেই।’

* পিপারমিন্ট : ডা. নিকো বলেন, ‘কোনো খাবার খাওয়ার পর হজম সহায়তার জন্য পিপারমিন্টের চা চমৎকার।’ পিপারমিন্ট একটি থেরাপিউটিক হার্ব, যা অনেক ডাইজেস্টিভ সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে পেট ফাঁপাও আছে। পেপারমিন্ট চায়ের মধ্যে পুদিনা পাতার চা অন্যতম।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এসব কারণেও হতে পারে মাথাব্যথা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-২৭ ১৪:২৫:২১

উজ্জ্বল আলো, টাইট হেয়ারস্টাইল, কড়া ঘ্রাণ, ঘুমানোর ভঙ্গি ইত্যাদি বিস্ময়কর বিষয়গুলো আপনার মাথাব্যথার উদ্দীপক হতে পারে। মাথাব্যথার ১৩টি বিস্ময়কর প্ররোচক দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* গাঁজানো, ধূমায়িত ও ম্যারিনেটকৃত খাবার
টিরামিন হচ্ছে, প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভূত পদার্থ যা মাথাব্যথা সৃষ্টিতে অবদান রাখতে পারে। এটি বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও মাংসে পাওয়া যায়। গাঁজানো, বয়স্ক, ধূমায়িত ও ম্যারিনেটকৃত খাবারে (যেমন- সাউয়েরক্রাউট, টফু, পনির ও আচার) প্রচুর পরিমাণে টিরামিন থাকে। কলা (বিশেষ করে অতিরিক্ত পাকা কলা- ফলের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টিরামিন বৃদ্ধি পায়), অ্যাভোকাডো, পেঁয়াজ ও চকলেটেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে টিরামিন থাকে। আপনি যত বেশি টিরামিন সমৃদ্ধ খাবার খাবেন, আপনার মাথাব্যথা তত বেশি বেড়ে যেতে পারে। অ্যালার্জিস্ট, ইন্টারনিস্ট এবং টিভি শো দ্য ডক্টরসের প্রাক্তন হোস্ট তানিয়া এলিয়ট বলেন, ‘সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পনিরের প্রোটিন ভেঙ্গে যায় এবং টিরামিনের উপাদান বেড়ে যায়। আপনার দীর্ঘদিনের পনির ও টিরামিনযুক্ত অন্যান্য খাবারের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত।’

* যৌন সহবাস
ম্যাপল হলিস্টিক্সের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিশেষজ্ঞ ক্যালেব ব্যাকি বলেন, ‘যৌনসহবাস হতে পারে মাথাব্যথার সর্বাধিক বিস্ময়কর কারণসমূহের একটি। বিশ্বাস করুন কিংবা না-ই করুন সেক্স হেডেক অথবা যৌনতাকেন্দ্রিক মাথাব্যথা বলে কিছু একটা আছে। যদিও এ ধরনের মাথাব্যথা বিরল এবং এটি কাউকে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল করতে পারে।’ স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিশেষজ্ঞ নেসোশি ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘পুরুষদের ক্ষেত্রে সেক্স হেডেক অধিক কমন এবং এরকম মাথাব্যথা সাধারণত রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। যদি আপনার হঠাৎ করে সেক্স হেডেক আরম্ভ হয় তাহলে এটি ব্রেইন হেমারেজের মতো মারাত্মক সমস্যা নয় তা নিশ্চিত হতে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।’

* টাইট হেয়ারস্টাইল
আপনার টাইট হেয়ারস্টাইল আপনার মাথাকে আঘাত করতে পারে। ড. ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘পনিটেইল, বেণী, হাই বান এবং অন্যান্য টাইট হেয়ারস্টাইলের কারণে চুলে হেঁচকা টান পড়ার কারণে স্কাল্পের কিছু স্নায়ু উত্তেজিত হতে পারে।’ মাথাব্যথা প্রতিরোধ করতে টাইট হেয়ারস্টাইল এড়িয়ে চলুন এবং আপনার চুলকে নিচে নামতে দিন।

* চোয়ালের ত্রুটিপূর্ণ অবস্থান
হাউসটনের দন্ত চিকিৎসক রোনাল্ড কনিগ বলেন, ‘চোয়ালের জয়েন্টের ডিসফাংশন এবং কামড়-সম্পর্কিত সমস্যা হচ্ছে মাথাব্যথার দুইটি কমন কারণ।’ তিনি যোগ করেন, ‘এসব মাথাব্যথার বড় প্রভাবক কামড় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সহজভাবে এর মানে হচ্ছে, উপরের চোয়াল ও নিচের চোয়ালের ত্রুটিপূর্ণ অ্যালাইনমেন্টের কারণে মাথা ও ঘাড়ের পেশীতে টান লাগে। প্রতিবার খাওয়া বা চাবানো বা গেলার সময় এ অবস্থা আরো খারাপ হয়।’ অ্যাথলেটিকো ফিজিক্যাল থেরাপির ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট অ্যানি বায়ারম্যান বলেন, ‘নিদ্রা সমস্যা যোগ করতে পারে: যদি আপনি ঘুমানোর সময় আপনার চোয়াল দৃঢ়ভাবে চেপে ধরেন বা টাইট করে রাখেন, তাহলে এর ফলে মাথাব্যথা অথবা কানে অনুরণন হওয়ার সঙ্গে অস্বস্তি অনুভব হতে পারে।’

* কড়া ঘ্রাণ
ডা. ব্যাকি বলেন, ‘অনেক লোক কড়া ঘ্রাণ প্ররোচিত মাথাব্যথায় ভুগে। এ ধরনের মাথাব্যথা প্রায়ক্ষেত্রে পারফিউম, সিগারেট স্মোক এবং পেট্রোল দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়ে থাকে।’ যদি আপনি মাইগ্রেনে ভুগেন, তাহলে ঘ্রাণ হতে পারে প্রাথমিক প্ররোচক। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হেলথের ফ্যামিলি মেডিসিন ফিজিশিয়ান কেভিন জেবকে বলেন, ‘বাজে ঘ্রাণ ও সুখকর ঘ্রাণ উভয়ের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে।’

* ডিহাইড্রেশন
হলিস্টিক হেলথ এক্সপার্ট এবং কাইরোপ্র্যাক্টর ক্লিন্ট স্টিল বলেন, ‘ডিহাইড্রেশন মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান নিশ্চিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করতে এবং বর্তমান স্বাস্থ্য সমস্যা (যেমন- মাথাব্যথা) সারিয়ে তুলতে প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৬৪ থেকে ৭০ আউন্স পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

* ক্ষুধা
মাথাব্যথার কয়েকটি বিস্ময়কর কারণের একটি হচ্ছে, ক্ষুধা। এ প্রসঙ্গে ফিজিশিয়ান ও পেইন এক্সপার্ট জ্যাকব টেইটেলবাউম বলেন, ‘আপনি এর জন্য অ্যাড্রিনাল ক্লান্তিকে দায়ী করতে পারেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘রক্ত শর্করা কমে যায় এবং অ্যাড্রিনাল ক্লান্তির কারণে মাংসপেশী সংকুচিত হয়, তাই কেবলমাত্র আপনার মেজাজ খারাপ হয় না, আপনার মাথাব্যথাও হতে পারে।’

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ম্যারাথন দৌড় শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-২২ ১৩:২০:৪১

লন্ডনে রবিবার (২২ এপ্রিল) ম্যারাথনে দৌড়বেন অন্তত চল্লিশ হাজার মানুষ। এর আগে লন্ডন ম্যারাথনে অংশ নিয়ে প্রায় প্রতি বছরই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কখনো শোনা যায় মারা যাওয়ার খবরও।

লিভারপুল জন মুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিষয়ক বিজ্ঞানী ড. মার্ক লেইক বলছেন, ম্যারাথন দৌড়ানো একটি বিরাট শারীরিক চ্যালেঞ্জ। এর ফলে শরীরের হাড়, মাসলস, লিগামেন্ট এবং ধমনীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি যারা রোজ দৌড়ান, তাদেরও এসব প্রত্যঙ্গে যেকোনো আঘাত সারতে সময় লাগে। এজন্য শরীরের দীর্ঘ প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন ড. লেইক। খবর- বিবিসির।

তবে ড. লেইক যাদের দৌড়ানো বা ম্যারাথনে অংশ নেয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন তারা হচ্ছেন-
--যাদের ওজন অতিরিক্ত বেশি ও শারীরিকভাবে সমর্থ নন
--আঘাতের পূর্ব রেকর্ড আছে
--শরীরের গঠনে অসামঞ্জস্য আছে যাদের, যেমন এক পা আরেক পায়ের চেয়ে ছোট
ড. লেইক মনে করেন, কোনরকম পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া ম্যারাথনে অংশ নেয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
এমনকি স্থূলতা কিংবা হৃদরোগের চাইতেও একে বেশি বিপজ্জনক মনে করেন তিনি।

নিতে হবে প্রস্তুতি
তবে, যদি হাতে সময় নিয়ে কেউ যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে ম্যারাথনে অংশ নিতে চান, তাহলে কোন সমস্যা তৈরি হবার সম্ভাবনা নেই।

ড. লেইক মনে করেন, এর ফলে শরীর প্রস্তুত হয় একটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য।

এজন্য তিনি হার ও মাসলের পাশাপাশি হৃদরোগের আগাম খোঁজখবর নেয়ার পরামর্শ দেন।

হাইড্রেটেড থাকতে হবে
এ সময়ে আবহাওয়া গরম এবং বাতাসে জলীয় আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে এ সময়ে ম্যারাথন দৌড়ানো বেশ কঠিন। কারণ এখন অনেক ঘাম হবে।

ড. লেইক বলছেন, ম্যারাথনে দৌড়ে একজন মানুষের চার লিটার পর্যন্ত ঘাম হতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়বে। যে কারণে শরীরকে এ সময় পানি এবং তরল জাতীয় খাবার পানীয় গ্রহণ করতে হবে। তবে সেজন্য ম্যারাথন রুটে সকল মোড়ে থেমে পানি না খাবারই পরামর্শ দেন ড. লেইক।

প্রথমবারের মত যারা ম্যারাথনে দৌড়বেন, তাদের জন্য কিছু টিপস
-- ম্যারাথনে দৌড়ানোর সিদ্ধান্ত নেবার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
-- অন্তত চার থেকে ছয় মাস প্রস্তুতি নেবার জন্য সময় রাখা উচিত
-- সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচদিন দৌড়াতে হবে, এবং প্রতিবার আগের চেয়ে সময় বাড়াতে হবে
-- প্রস্তুতির সময় যথাযথ বিশ্রাম এবং আঘাত সারার সময় দিতে হবে
-- ম্যারাথনের সপ্তাহে প্রচার কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেতে হবে, যাতে শরীর সেটা শক্তি হিসবে ব্যবহার করতে পারে।

বিস্তারিত খবর

বুকজ্বলা বা হার্টবার্ন : কেন হয়, কী করবেন?

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-২৮ ০৩:০৫:৪৭

বুকজ্বলা, হার্ট নয়। হার্টের কোনো অসুখ নয়। নাম তবু হার্টবার্ন। বুকে আগুন জ্বলে চোখে কেন জ্বলে না- এ আগুন সে আগুনও নয়। পাকস্থলীর (Stomach) এসিড ওপরের দিকে উঠে খাদ্যনালীতে (Oesophagus) প্রবেশ করলে এ জ্বলা অনুভূত হয়। জ্বলাটা অনুভূত হতে পারে পেটের ওপরের অংশে, বুকের ঠিক মাঝখান দিয়ে ওপর দিকে গলা পর্যন্ত। মুখে হতে পারে তিতা তিতা ভাব।

খাবার হজমের জন্য পাকস্থলীতে এসিড উৎপন্ন হয়। স্বাভাবিকভাবে এই এসিড পাকস্থলী থেকে ওপরের দিকে উঠে আসে না। মুখ থেকে খাদ্যনালীর নিচে নেমে গিয়ে পাকস্থলীর সাথে যুক্ত হয়েছে। এই সংযোগস্থলে খাদ্যনালীর পেশির একটি বাঁধ (Sphincter) আছে। এই বাঁধ ভেদ করে পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে ওঠে আসতে পারে না। কিন্তু কোনো কোনো কারণে এই বাঁধ ভেঙে এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। এই এসিড খাদ্যনালীর নরম আবরণীর সংস্পর্শে এলে বুকজ্বলা অনুভূত হয়।

অনেক খাবার আছে যেগুলোর জন্য বুকজ্বলা হতে পারে। এসব খাবারের মধ্যে আছে, তেলে ভাজা খাবার, চর্বিযুক্ত বা তৈলাক্ত খাবার, পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, চা, কফি, টমেটো, টকজাতীয় ফল, ক্যাফিন ও কার্বোনেটযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল, পিপারমেন্ট, থিয়োব্রোমিনযুক্ত চকলেট।

এসব খাবারের বেশির ভাগই খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগস্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়। আবার তেলে ভাজা খাবার বা চর্বিজাতীয় খাবার দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে থাকতে পারে বলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে যায়। এই বর্ধিত চাপের জন্য পাকস্থলীর এসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। অধিক মসলাযুক্ত খাবার, টমেটো, টকজাতীয় ফল, অ্যালকোহল ইত্যাদি পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণই বাড়িয়ে দিতে পারে। সিগারেট বা ধূমপানের জন্যও বুকজ্বলা হতে পারে। তামাকের নিকোটিন খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দুর্বল করে দেয়।

এ ছাড়া একসাথে অধিক খাবার খেলে, খুব শক্ত করে লুঙ্গি, শাড়ি, সালোয়ার, প্যান্ট বা বেল্ট পরিধান করলে খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বা উপুড় হলে কিংবা ভারী কাজ করলে পাকস্থলীর চাপ বেড়ে গিয়ে অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসতে পারে। শরীরের ওজন বেশি হলেও এ সমস্যা হতে পারে।
বুকজ্বলাটা হতে পারে মামুলি, মাসে হয়তো একবার। প্রায় ২০ শতাংশ বয়স্ক লোকের এরূপ হয়ে থাকে। অনেকের সপ্তাহে একবার হতে পারে। এটা মোটামুটি চিন্তার কারণ। আবার অনেকের হতে পারে প্রতিদিনই। এটা বেশ গুরুতর। প্রায় ৫-১৫ শতাংশ লোকের এরূপ হয়ে থাকে।

যে রূপই হোক, বুকজ্বলা প্রতিরোধ ও প্রশমনের উপায় আছে। প্রায় ৯৪ শতাংশ বুকজ্বলা রোগীর কোনো না কোনো খাবারের সাথে এই বুকজ্বলার সম্পর্ক থাকে। সুতরাং খাবার বেছে খেতে হবে। বুকজ্বলা করতে পারে এরূপ খাবারের সবই যে সবার মধ্যে বুকজ্বলা করবে, তা কিন্তু নয়। সুতরাং কোন খাবার খেলে বুকজ্বলা হয় তা ব্যক্তিবিশেষকেই খেয়াল করতে হবে এবং ওই খাবার পরিহার করতে হবে। এর পাশাপাশি জীবনযাপনের ধারায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খেতে হবে। খাওয়ার পরপরই শোয়া বা উপুড় হওয়া উচিত নয়। খাওয়ার পরপরই ভারী কাজ করাও ঠিক নয়। খালি পেটে চা, কফি পান না করা, শরীরের ওজন কমানো ইত্যাদির মাধ্যমেও বুকজ্বলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

পাকস্থলীর এসিড তৈরি কমায়, এরূপ ওষুধও বুকজ্বলা কমাতে কার্যকর। খাদ্যনালী-পাকস্থলীর সংযোগ স্থানের বাঁধকে দৃঢ় করে এরূপ ওষুধও আছে। বুকজ্বলা প্রশমনের জন্য এন্টাসিড কার্যকর। ওষুধ খেতে হবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে। বুকজ্বলা কমানো যেতে পারে পানি পান করে কিংবা চুইংগাম চিবিয়েও।


এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

শরীরের ভেতরের যেসব অঙ্গ ছাড়াও আপনি বাঁচতে পারবেন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-১৭ ১০:৪৫:১১

মানবদেহের অভ্যন্তরে এমন ৯টি অঙ্গ রয়েছে যা না থাকলেও আপনি বেঁচে থাকতে পারবেন। যদিও এসব অঙ্গগুলো জীবনযাপনকে অনেক করে তোলে কিন্তু মানব শরীর এমন ভাবে গঠিত যে, নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ ছাড়াও শরীর কাজ করতে পারে।

একটি ফুসফুস
আপনার শ্বাসপ্রশ্বাস কার্য সম্পাদন করতে অন্তত একটা ফুসফুসের প্রয়োজন, কিন্তু আরেকটা ফুসফুস ক্যানসার, যক্ষা অথবা অনান্য ফুসফুসীয় রোগে কেটে ফেলতে হতে পারে। একটি ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়া কঠিন হলেও, জীবনযাপন করা সম্ভব। রেসপাইরেটরি কেয়ার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব রোগীরা একটি ফুসফুস হারান তাদের বায়ু ধারণক্ষমতা প্রতিসেকেন্ডে ৩৫ শতাংশ কমে যায়। মায়ো ক্লিনিকের ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের সার্জিক্যাল ডিরেক্টর জুলিয়ে হেমবাচ বলেন, ‘ফুসফুস যেহেতু বক্ষের একটি নির্দিষ্ট গহ্বরে থাকে, তাই এটার আর বড় হওয়া সম্ভব নয়।’

মলাশয়
কোলোরেক্টার ক্যানসার বা বাওয়েল রোগ যেমন ক্রোন’স বা  আলসারেটিভ কোলাইটিস এর চিকিৎসায় বৃহদান্ত কেটে ফেলতে হতে পারে। এমনকি চিকিৎসক রেক্টাম সহ কাটতে পারে। ডা. হেমবাচ বলেন, আপনার সার্জন ক্ষুদ্রান্ত্র দিয়ে থলি যুক্ত করতে পারেন এনাসের (পায়ুপথ) মতো করে যা দিয়ে পায়খানা ঠিকমতো হবে, অথবা পেটের ক্ষুদ্রান্ত্রতে জমা হওয়া বর্জ্যগুলোকে বের করার জন্য শরীরের বাইরে থলি সংযুক্ত করতে পারেন। এ অবস্থায় ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকার জন্য রোগীকে খাবার পরিবর্তন ও ডাক্তারের আরো পরামর্শ মেনে চলতে হয়।

যৌনাঙ্গ
যদিও যৌনাঙ্গ আপনার ভালোবাসার জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য নয়। এক গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের যৌন জীবনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি হিস্টারেকটমি বা জরায়ু অপসারণ। যদিও ওভারি কেটে ফেলায় হরমোনের ব্যাঘাত ঘটে যার ফলে যৌন চাহিদা কমে যায়। পুরুষের ক্ষেত্রে প্রস্টেস্ট ক্যানসারের কারণে একটি টেস্টিকল বা অণ্ডকোষ কেটে ফেললেও তার যৌন জীবনে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না বলে জানিয়েছেন, ক্লাইভল্যান্ড ক্লিনিকের গ্লিকম্যান ইউরোলজিক্যাল অ্যান্ড কিডনি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান এরিখ এ ক্লেইন।

তিনি আরো বলেন, একটা অণ্ডকোষ থেকে যে পরিমাণ টেস্টোস্টেরণ হরমোন তৈরি হয়, তা সুস্থ যৌন জীবনের জন্য যথেষ্ট। আর যদি দুইটাই কেটে ফেলা হয় তাহলে তা মারাত্মক হারে কমতে থাকবে যা শুক্রাণু তৈরিতে ব্যর্থ হবে। প্রস্টেট কেটে ফেলার পর পুরুষের সাময়িক উত্থানে সমস্যা ও অক্ষমতা দেখা দিতে পারে বলে জানান ডা. ক্লেইন।

মূত্রাশয়
মূত্রাশয় ক্যানসার অর্থাৎ ব্লাডার ক্যানসার বা বিরল নিউরোজেনিক ব্লাডার (স্নায়ুতন্ত্র মূত্রাশয় নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত করে) রোগীর ক্ষেত্রে ব্লাডার কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় এবং ব্লাডারের সঙ্গে প্রস্টেট,  লিম্ফ নোড বা গর্ভাশয়, ডিম্বাশয় এমনকি এর সঙ্গে যোনির অংশও থাকতে পারে বলে জানান ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিকের ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক জর্জ প্যাকেল হাবার। ব্লাডারে প্রসাব সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত অন্ত্রের একটি অংশ মূত্র যাওয়ার পথ হিসেবে চিকিৎসকরা তৈরি করেন। ডা. হাবার আরো বলেন, অন্ত্রের অংশটি নিওব্লাডার হিসেবে কাজ করে যা মূত্রনালী দিয়ে প্রসাব বের করতে পারে, এটি রোগীদের নিজে একটি সরু নল দিয়ে বের করতে হয় অথবা আরেকটি পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে একটি থলিতে মূত্র এসে জমা হয়। নিওব্লাডারে থলেতে মূত্র পূর্ণ হলে তা বেশিক্ষণ রাখতে পারে না, রোগীকে ৩-৪ ঘণ্টা পর পর ফাঁকা করতে হয়, তবে এতেও জীবন স্বাভাবিক থাকে।

পিত্তথলি
লিভারে তৈরি হয় পিত্তরস যা চর্বি জাতীয় খাবার হজমে সহায়ক এবং তা পিত্তথলিতে জমা হয়। কিন্তু শরীর শুধু সেই জমাকৃত পিত্তরসের ওপরই নির্ভর করে না। বেশিরভাগ মানুষের পিত্তথলি না থাকার পরেও খাবার গ্রহণে তেমন সমস্যা হয় না বলে জানিয়েছেন ডা. হেমবাচ। তিনি আরো বলেন, তাদের অতিরিক্ত পিত্তরসের প্রয়োজন হয় না কারণ শরীর খাদ্য হজমে অভ্যস্ত হয়ে যায়। গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে পাথরের জন্য বিশ্বে সচরাচর পিত্তথলি কেটে ফেলা হয়।

পাকস্থলী
ওজন কমানোর কিছু অস্ত্রোপচার এবং দ্রুত বর্ধনশীল পাকস্থলী ক্যানসারের (যেন অন্য অঙ্গতে ছড়িয়ে না পড়ে) ক্ষেত্রে রোগীর পাকস্থলী কেটে ফেলা হয়ে থাকে। সাধারণত পাকস্থলী খাদ্যের পরিপাকের জন্য এসিড মিশ্রিত করে হজম প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ভিটামিন শোষণ করে থাকে। পাকস্থলী কেটে ফেললে চিকিৎসকরা খাদ্যনালীকে সরাসরি ক্ষুদ্রান্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে থাকেন। অস্ত্রোপচারের পরে রোগী শক্ত খাবার খেতে পারে কিন্তু তা খুব ছোট আকারের এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে খাবারগুলো দ্রুত যাওয়ার সময় ডাম্পিং সিন্ড্রোম এড়ানোর জন্য কিছু খাবার পরিহার করা উচিত বলে জানিয়েছেন ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিকের গ্যাস্ট্রোইন্টারোলজিস্ট ডা. আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ শাতনাওয়ি। তিনি আরো বলেন, যদি খাদ্য ডাম্প করে ক্ষুদ্রান্ত্রে পড়ে যায় তাহলে মাথা ঘুরায়, হালকা মাথাব্যথা এবং ঘাম ঝরতে পারে সঙ্গে বমি হয়ে আসতে পারে। তখন বাথরুম দ্রুত যেতে হতে পারে।

প্লীহা
প্লীহার মূল কাজ রক্ত পরিশোধন করা কিন্তু এটি ক্ষতিগ্রস্ত বা আক্রান্ত হলে অপসারণ করা হতে পারে যেমন ইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা রোগে আক্রান্ত হলে। যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় প্লীহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই এটি কেটে ফেলা হলে রোগী প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডা. হেমবেচ বলেন, ‘প্লীহা অপসারণের পর রোগীদের নির্দিষ্ট টিকা দিতে হবে যেহেতু তারা আরো বেশি ঝুঁকিতে থাকে নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণের।’

একটি কিডনি
যদিও কিডনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, তবুও মানুষ কিডনি দান করতে সক্ষম। কিন্তু কেন? কারণ দুইটা কিডনি শরীরের চাহিদা পূরণ করার চেয়েও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। আপনি শুধু একটি কিডনি দিয়েও বেঁচে থাকতে পারবেন। ডা. হেমবেচ বলেন, ‘একটি কিডনি দান করলে দাতার কার্যক্ষমতা কমে কিন্তু আরেকজনের জীবন বাঁচতে পারে দান করা কিডনি। সুস্থ একটি কিডনি দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জীবনযাপন করা যায়।’

অ্যাপেন্ডিক্স
প্রকৃতপক্ষে অ্যাপেন্ডিক্সের কাজটা কি তা এখনো নিশ্চিত নয়। কিছু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি একটি অর্থহীন অঙ্গ যা আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য একটি উদ্দেশ্য সাধন করেছে, যদিও সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে এটি ‘ভালো’ ব্যাকটেরিয়া নিরাপদ রাখছে। কিছু মানুষ জন্য যদিও এটা ভালো চেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ড. হেমবাচ বলেন, ‘এটি অবরূদ্ধ এবং সংক্রমিত হয়ে পড়ে এবং কখনো কখনো সরানো হয়।’ এমনকি যদি রোগ প্রতিরোধে অ্যাপেন্ডিক্সের কোনো ভূমিকা থেকে থাকে, তারপরও এটি অপসারণের সঙ্গে যুক্ত কোনো দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য প্রভাব নেই।


এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

স্ট্রেস যেভাবে ত্বক খারাপ করে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-৩১ ১০:৩৩:৩৮

যখন আপনি স্ট্রেস বা মানসিক চাপে ভুগবেন, আপনার ত্বকের অবস্থা আরো খারাপ হবে। এর মানে হলো, পূর্ব থেকে বিদ্যমান ত্বকের কোন খারাপ দশা বা ব্রণ অধিকতর খারাপ অবস্থার দিকে ধাবিত হবে।এটি আপনার ত্বকের জন্য দুঃসংবাদ।কিন্তু আপনার ত্বকের ক্ষতিসাধনের জন্য স্ট্রেস ঠিক কি করে?আমরা কিছু বিশেষজ্ঞের মতামত পেয়েছি, যা থেকে আপনি ধারণা করতে পারেন যে আপনার ত্বকের পৃষ্ঠের উপরে ও নীচে কি ঘটে।

* সোরিয়াসিস
সোরিয়াসিস ত্বকের একটি জটিল রোগ, যা স্ট্রেসের কারণে আরো খারাপ হতে পারে এবং আপনি লাল, চুলকানিমূলক ও আঁশযুক্ত ত্বকের অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। ইন্টারনাল মেডিসিন, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিশেষজ্ঞ নেসোচি ওকেকে-ইগবোকোয়ে বলেন, ‘মানসিক চাপপূর্ণ বিষয় ও জীবন-ঘটনা সেসব লোকের সোরিয়াসিস তীব্র করতে পারে যাদের ত্বকের এ দশা দীর্ঘস্থায়ী।’ এটি অন্য চর্মরোগ যেমন- রোসেশা থেকে ভিন্ন। ডা. নেসোচি বলেন, ‘সোরিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ করতে স্ট্রেস দমনের কার্যকরী কৌশল খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।’ শান্ত কার্যক্রমের একটি উদাহরণ হলো মেডিটেশন, যা স্ট্রেসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। ডা. নেসোচি বলেন, ‘গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশনের সঙ্গে মানসিক চাপ হ্রাস ও সোরিয়াসিসের উপসর্গ দ্রুত উপশমের সম্পর্ক আছে।’

* অতিভোজন
এটি ত্বকের দশা নয়। যদি আপনি স্ট্রেসে ভুগেন, আপনার ডায়েটের জন্য আপনি ভুল খাবার নির্বাচন করতে পারেন এবং সারাদিন জাঙ্ক ফুড ভোজন আপনার ত্বকের অবস্থা খারাপ করতে পারে। রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান জুলি আপটন বলেন, ‘গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, স্ট্রেস লোকজনকে নিম্নমান ও উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ার দিকে চালিত করে। এসব খাবারের সঙ্গে বিভিন্ন প্রাদুর্ভাব ও অন্যান্য চর্ম সমস্যার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে।’

* ব্রণ
যদি আপনি ব্রণ প্রবণ হন, স্ট্রেস এটিকে আরো খারাপ করে তুলবে এবং আপনার এসব ব্রণ খোঁচানো উচিত নয়, কারণ এতে ইনফেকশন বা ক্ষত হতে পারে। সেলিব্রেটি ডার্মাটোলজিস্ট অ্যাভা শাম্বানের মতে, ‘ব্রণের ক্ষেত্রে করটিসল অ্যান্ড্রোজেনের মতো কাজ করে এবং আপনার ব্রণের প্রাদুর্ভাব বা তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে, যেমনটা হয়ে থাকে বয়ঃসন্ধিতে থাকা বালকের।’ একে বাধা দেওয়ার জন্য তিনি নিয়মিত এক্সারসাইজ, রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম এবং বিছানায় যাওয়ার আগে ভালো ফেসিয়াল ক্লিনসিং রুটিন মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া মেডিটেশন বা ইয়োগার মাধ্যমেও মানসিক চাপ কমান।

* একজিমা
|যদি আপনার এটি থাকে, আপনি লাল র‍্যাশ ও চুলকানিযুক্ত ত্বক লক্ষ্য করে থাকতে পারেন। ডা. শাম্বান বলেন, ‘সোরিয়াসিস থেকে একজিমা বা অ্যাটপিক ডার্মাইটিস ভিন্ন এবং এটি প্রধানত স্বাভাবিক ইমিউনিটির ব্যাঘাত বা বাধাগ্রস্ততার কারণে হয়ে থাকে, এটি মানসিক চাপের দ্বারা বিরূপভাবে প্রভাবিত হয়। যখন আপনি মানসিক চাপে থাকেন, আপনার অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড করটিসল নিঃসরণ করে। এই হরমোল ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।’ ত্বকে জ্বালাতন ও প্রদাহ হবে এবং ত্বকে তরল ক্ষরণ হয় এমন ফোস্কা বা ফুসকুড়ি অথবা একজিমা প্লেক হতে পারে।

* ত্বকের বয়স্কতা
আপনি এটি দূর করতে পারবেন না, কিন্তু এটি ধীর করতে পারেন। কিউরোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডেভিড লর্টশার বলেন, ‘দ্রুত বলিরেখা হওয়ার জন্য স্ট্রেস মুখ্য বিষয় হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘কিভাবে স্ট্রেস ত্বকে বয়স্কতার ছাপ ফেলে তার মেকানিজম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া না গেলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় সম্ভাব্য কিছু কারণ উদঘাটিত হয়েছে যা ত্বকের বয়স্কতায় প্রভাব রাখতে পারে। গবেষণায় পাওয়া যায়, স্ট্রেসের সময় নিঃসরণ হওয়া এপিনেফ্রাইন, নোরেপিনেফ্রাইন ও করটিসল ডিএনএ ড্যামেজ করে এবং ডিএনএ সংস্কারে বাধাপ্রদান করে।’

* ফেসিয়াল ড্যানড্রাফ
ডা. লার্টশার বলেন, ‘স্ট্রেস হচ্ছে সেবোরেইক ডার্মাটাইটিসের অবনতিকর বিষয়সমূহের একটি, যদিও সেবোরেইক ডার্মাটাইটিসের কারণ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট নয়, এটি পিটিরসপোরামের প্রতি প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে, পিটিরসপোরাম মেলাসিজিয়া নামেও পরিচিত- এটি এক প্রকার ফাঙ্গাস যা ত্বকের পৃষ্ঠের ওপর স্বাভাবিকভাবে থাকে। প্রায় সকল মানুষের ত্বকের ওপর পিটিরসপোরাম থাকলেও শুধুমাত্র এক-অর্ধাংশ থেকে তিন-চতুর্থাংশ লোকের মধ্যে ড্যানড্রাফ বা সেবোরেইক ডার্মাটাইটিস ডেভেলপ হয়- যেখানে কিছু মানুষের মধ্যে এটি বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

চোখে যদি ঘুম না আসে

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১৮ ০০:৪৪:৪৪

শান্তিতে ঘুমোতে কে না চায়? প্রতি রাতে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করে, পাখার স্পিড বাড়িয়ে অতি প্রত্যাশায় ভোগা, হাজার হাজার ভেড়া গোনা এবং শেষ পর্যন্ত যখন কোনো কিছুতেই কাজ হয় না, তখন দূর ছাই বলে উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি বা আরেকটি ঘুমের বড়ি টপ করে গিলে ফেলা- আ:।

ডাক্তারি পরিভাষায় একেই বলে ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা। এই সমস্যা এখন এতটাই প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে যে, আমেরিকায়ও চিকিৎসাশাস্ত্রের পঠন-পাঠনে একটা নতুন শাখাই খোলা হয়েছে- যার নাম ‘স্লিপ ডিসঅর্ডার মেডিসিন।’

ঘুম কতটা দরকার
নিদ্রাহীন রাত নিয়ে যতই কাব্য, গান আর রোমান্স থাকুক না কেন, বাস্তব ক্ষেত্রে পরপর কয়েক দিন ‘আঁখিপাতে’ ঘুম না থাকলে আতঙ্ক হয়, শারীরিক, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়তে হয়। নিজের ওপর আস্থা হারিয়ে যায়। তখন যে কোনোভাবে একটু ঘুমই শুধু কাম্য হয়ে ওঠে।
জীবনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সময় আমরা ঘুমাই। বয়স অনুযায়ী অবশ্য ঘুমের একটা স্বাভাবিক ছন্দ আছে। শিশুরা খুব বেশি ঘুমায়। বয়সের সাথে সাথে ঘুমের এই সময়সীমা কমে যায়। বৃদ্ধরা স্বাভাবিকভাবেই কম ঘুমান। আসলে শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজনের ওপরই নির্ভর করে ঘুমের এই মাপ। তবে খুব কম বা খুব বেশি ঘুম কোনোটাই স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসাশাস্ত্র মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের চার থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম স্বাভাবিক এবং ছয় থেকে সাত ঘণ্টা হলো আদর্শ। দেখা গেছে, যারা ৯ ঘণ্টা বা তারও বেশি ঘুমান, তাদের মধ্যে বিভিন্ন অসুখের প্রবণতা বেশি। সুতরাং বয়স অনুপাতে ঠিক সময় ঘুমই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

ইনসোমনিয়া আসলে কী
ঘুম ও স্বপ্ন চিরকালই মনোবিজ্ঞানীদের কৌতূহলের বিষয়। বৈজ্ঞানিকদের মতে, ঘুমের মধ্যে দুই ধরনের দশা থাকে। একটিকে বলা হয় ‘আরইএস বা র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট দশা’ আরেকটিকে বলা হয় ‘এনআরইএস বা নন-র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট দশা’। এক ঘুমের মধ্যেই এই দু’টি দশা ঘুরেফিরে চলতে থাকে। আরইএস দশায় শরীরে গরম বেশি লাগে, পালস রেট ও রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এই দশাতেই মানুষ স্বপ্ন দেখে। এটাকে বলা হয় পাতলা ঘুমের স্তর। এনআরইএস দশায় মানুষ গভীরভাবে ঘুমায়।

ইনসোমনিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে :
১. ইনিশিয়াল বা প্রাথমিক ইনসোমনিয়া : যাদের ঘুম আসতে দেরি হয় বা অসুবিধা হয়।
২. মিডল ইনসোমনিয়া : যাদের ঘুম বারবার ভেঙে যায় এবং
৩. টারমিনাল ইনসোমনিয়া : যাদের ঘুম তাড়াতাড়ি ভেঙে যায়।
আর যাদের সব অসুবিধাই আছে, তাদের ক্ষেত্রে বলে গ্লোবাল ইনসোমনিয়া।

চিকিৎসা
ইনসোমনিয়া যে কারণে হয়েছে, তার চিকিৎসাই প্রথমে করা হয়। তা ছাড়া ইনসোমনিয়ার জন্য আলাদা করে কিছু বিশেষ ওষুধ দেয়া হয়। কোনো কোনো রোগী অবশ্য শুধু ইনসোমনিয়ার চিকিৎসাই করাতে চান, কিন্তু সে ক্ষেত্রেও রোগীর কেস হিস্ট্রি নিয়ে বিচার-বিবেচনা করতে হয়। ইনসোমনিয়ার রোগীর চেহারায় একটা অবসাদ, ক্লান্তিভাব আসে। অনেক সময় রোগী নিজেই ঘুমের ওষুধ নিয়ে থাকেন। এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। নিচের নিয়মগুলো মেনে চললে উপকার পেতে পারেন :

• বিছানা শুধু ঘুমের জন্যই নির্দিষ্ট করে রাখুন। বিছানায় বসে টিভি দেখা, আড্ডা দেয়া, খাবার খাওয়া বন্ধ করুন।
• খালি পেটে কখনো শুতে যাবেন না। তবে রাতে গুরুভোজ করবেন না। বেশি ভরা পেটে শুতে যাওয়াও ঠিক নয়। আবার খেয়েই সাথে সাথে শুয়ে পড়াও অনুচিত। খাওয়া ও শোয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান রাখুন।
• শোয়ার আগে এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন। দুধে থাকে ট্রিপটোফ্যান, যা আপনাকে ঘুমাতে সাহায্য করবে।
• নিয়মিত গোসল ও শুতে যাওয়ার আগে আরামবোধ করলে ঘাড়ে, মুখে ও পায়ে পানি দিয়ে মুছে নিতে পারেন।
• ঘুমাতে যাওয়ার সময় সারা দিনের ক্লান্তি, বিপর্যয় বা উত্তেজনার কারণগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না।
• খুব বেশি উত্তেজিত হয়ে বিছানায় যাবেন না।
• ঘুমের আগে কোনো ভারী কাজ বা অত্যধিক মাথার কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
• প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
• দুপুরের ঘুম আপনার শুধু কর্মক্ষমতাই কমায় না, আপনার রাতের ঘুমও নষ্ট করে। অতএব, এটি বাদ দিন।
• ঘুমাতে যাওয়ার আগে সিগারেট, তামাক, চা, কফি না খাওয়াই ভালো।
• দু-এক দিন ঘুম না হওয়াতেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না। তবে নিয়মিত না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সকালে খালি পেটে পানি পানের যত উপকার

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১১ ০৯:৪০:২৯

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে পানি পান করা খুবই জরুরি। তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করা শরীরের জন্য খুবই ভালো। এ অভ্যাসটি যদি আপনি রপ্ত করতে পারেন, তবে অনেক ধরনের অসুখ-বিসুখ থেকে আপনার শরীর মুক্ত থাকবে; আপনিও থাকবেন সুস্থ ও সবল।
দিনের শুরুর এই এক গ্লাস পানিকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা 'স্বাস্থ্যকর' 'বিশুদ্ধ' 'সুন্দর' ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করে থাকেন। প্রশ্ন হচ্ছে: কী পানি খাবেন? ঠাণ্ডা পানি, নাকি গরম পানি? মধুমিশ্রিত পানি, নাকি হালকা নোনতা পানি?

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুটানো পানি পান করা উচিত। হালকা নোনতা পানি ভালো, কিন্তু সাধারণত প্রতিদিনই আমরা খাবার থেকে সোডিয়াম পেয়ে থাকি। তাই শরীরে এর অভাব না-হলে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করার দরকার নেই। মধুমিশ্রিত পানি অনেকের পছন্দ। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে মধুমিশ্রিত পানি মানে আবার অতিরিক্ত ক্যালরি। তাই সবচে ভালো সাধারণ পানি ফুটিয়ে পান করা। আর সে পানি ঠাণ্ডাও না, গরমও না- এমন হলে ভালো। সাধারণত রাতে ঘুমের মধ্যে পানি পান করা হয় না। তখন শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। সকালের এক গ্লাস পানি সে অভাব পূরণ করবে। তা ছাড়া, সকালে খালি পেটে পানি খেলে আপনার প্রস্রাবও ক্লিয়ার হবে।

এখানে একটা প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। প্রশ্নটা হচ্ছে : কেন সকালে ঘুম থেকে জেগেই খালি পেটে পানি পান করতে হবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি অন্তত চারটি উপকার করে। তাই আমাদের সকালে পানি খাওয়া উচিত এবং এটাকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।

উপকারিতা ১ : সকালে খালি পেটে পানি পান করলে শরীরের পানির অভাব পূরণ হবে। রাতে ঘুমানোর সময় মানবদেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় পানির অভাব দেখা দেয়। আমরা সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠি এই অভাব নিয়েই। তাই, ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করার এই পরামর্শ। এতে দ্রুতই সেই অভাব পূরণ হয়ে যায়।

উপকারিতা ২ : কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যতায় ভোগেন। তাদের জন্য সকালে উঠে খালি পেটে পানি খাওয়ার যাদুর মতো কাজ করতে পারে। আর যাদের এ সমস্যা নেই, সকালে পানি খাওয়ার অভ্যাস তাদেরকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে রাখবে বলে আশা করা যায়।

সকালে খালি পেটে পানি পানের তিন নম্বর উপকারিতা হচ্ছে, এতে পাকস্থলির কার্যক্ষমতা বাড়ে। রাতের বেলা বিপাকপ্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং সকাল নাগাদ এ কাজ শেষ হয়ে যায়। তখন খালি পেটে এক গ্লাস পানি পাকস্থলিকে সক্রিয় করে তুলতে ভূমিকা রাখে। আবার এতে পাকস্থলির ওপর না-হক চাপও পড়ে না।

সকালে খালি পেটে পানি খাওয়ার চার নম্বর উপকারিতা হচ্ছে, এতে মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে অধিক সচল হয়। কীভাবে? আমরা জানি রক্তের একটা বড় অংশই পানি। আর পানি পান করলে তা আমাদের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। আর রক্ত প্রবাহ ঠিক থাকলে, মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং এর ফলে মস্তিষ্ক অধিক সচল হয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পানের উপকারিতা নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা করলাম। আগের অনুষ্ঠানে প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন, কখন করবেন, কীভাবে করবেন--এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন এ সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই। আশা করি, এর মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হবেন।

প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে পানি পানের অভ্যাস আছে কি? অনেকে মনে করেন, রাতে শোয়ার আগে পানি পান না-করাই ভালো। আসলে, বিষয়টা ঠিক উল্টো। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও পরিমিত পানি পান করা উচিত।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করার বিশেষ উপকারিতা সম্পর্কে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সকালে নয়, সারাদিনই প্রয়োজন অনুসারে পানি পান করতে হবে, একটু একটু করে। রাতে শোয়ার আগে ৫০ থেকে ২০০ মিলিলিটার পর্যন্ত পানি পান করতে বলেন তাঁরা। শোয়ার আগে এর চেয়ে বেশি পানি না-পান করাই ভালো। কারণ, তাতে ঘুমের গুণগত মান কমে যায়।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, সুস্থতার জন্য প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত? হ্যাঁ, এই প্রশ্নের উত্তর একেক জন একেক রকমভাবে দিয়ে থাকেন। তবে, সবচেয়ে প্রচলিত উত্তরটি হচ্ছে : অন্তত ২০০০ মিলিলিটার। আধুনিক চিকিৎসকরা অবশ্য ১২০০ মিলিলিটারেই সন্তুষ্ট। তারা বলেছেন, এ পানি পান করতে হবে সারাদিন ধরে, একটু একটু করে। 'একটু একটু করে' বলতে তারা বুঝিয়েছেন ১০০ থেকে ২০০ মিলিলিটার করে।

অবশ্য, ঋতু ও পরিবেশভেদে পানিগ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে। যেমন, গরমকালে যদি বেশি ঘাম হয়, তবে আপনার শরীরের পানির চাহিদা ২০০০ থেকে ৩০০০ মিলিমিটার হতে পারে। শরীরচর্চার ফলে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরলেও পানি বেশি খেতে হতে পারে। আবার শীতকালে ১২০০ থেকে ১৫০০ মিলিলিটার পানিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথেষ্ট।

আরেকটি কথা, যাদের কিডনিতে পাথর হয়েছে, বা যারা উচ্চ কলেস্টেরলের রোগী, তাদের সব ঋতুতেই প্রতিদিন অন্তত ২০০০ মিলিলিটার করে পানি পান করা উচিত। এক্ষেত্রে পানিটুকু খেতে হবে সারা দিন ধরে, একটু একটু করে।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যে কারণে ছেলেদেরই বেশি টাক হয়

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-৩০ ১৪:৪১:৫০

একুট বয়স হলে অনেক ছেলেদেরই মাথায় টাক পড়ে। এই টাক অনেকের সৌন্দর্যে ব্যাঘাত ঘটালেও, অনেকে আবার এই টাককেই ফ্যাশন হিসেবে মেনে নিয়েছেন। আজকাল ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও একটু হলেও এই সমস্যায় ভুগছেন।

কিন্তু জানেন কি কেন ছেলেদের বেশি টাক পড়ে?

ক্রোমোজোমের কারণেই নাকি এই সমস্যা দেখা দেয়। এর জন্য নাকি দায়ী অ্যান্ড্রোজেন এবং ওয়াই ক্রোমোজোম। অ্যান্ড্রোজেন হরমোন আসলে পুরুষের বংশগতি ও প্রজননের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদিকে মেয়েদের দেহে ওয়াই ক্রোমোজোমের অস্তিত্বই নেই। তাই টাক পড়ার আশঙ্কাও তেমন নেই।

এ কারণে ছেলেদেরকেই এই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় বেশি।

তবে আরো কিছু কারণে চুলের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

সেগুলি হল- শরীরে ভিটামিন ও এর পরিমাণ বেশি হলে, প্রোটিনের অভাবে, বংশগত কারণে, মানসিক চাপ, অ্যানিমিয়া, হাইপোথাইরইডিজম, ভিটামিন বি-এর অভাব, হঠাৎ করে ওজন কমলে, কেমোথেরাপি, বয়স হলে, চুলের ওপর অতিরিক্তমাত্রায় স্টাইল করতে গিয়ে ক্ষতিকারক রাসাযনিক ব্যবহার করলে, অথবা প্রেগন্যান্সি।

তাই শুরু থেকেই চুলের যত্ন নেওয়া উচিত।

এলএবাংলাটাইমস/এইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

টিকাতেই নিরাময় হবে ক্যান্সার

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২১ ১০:০৮:৪৪

ক্যান্সারের চিকিৎসায় এখন থেকে আর কষ্টকর কেমোথেরাপি কিংবা রেডিয়েশন পদ্ধতির প্রয়োজন হবে না। এবার মারণ ব্যাধি ক্যান্সার নির্মূল করা যাবে মাত্র একটি টিকাতেই। কিউবার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন যুগান্তকারী আবিস্কার করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ২৪ ঘণ্টার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যান্সারের মতো রোগের ওষুধ আবিষ্কার করতে দীর্ঘদিন ধরে নানা পরীক্ষা করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনও সহজ পদ্ধতি এখনও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি।

এবার সেই কাজটিই করে দেখালেন কিউবার বিজ্ঞানীদের একটি দল। ইতিমধ্যেই তাদের আবিষ্কৃত ওই টিকা ৪ হাজার মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, তারা ক্যান্সারকে জয় করে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।

মূলত এই টিকা প্রয়োগে ব্রেস্ট ক্যান্সার, ইউটেরাস ক্যান্সার কিংবা প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে দ্রুত সেরে উঠা সম্ভব। তাছাড়া ক্যান্সারের একেবারে প্রথম ধাপে এই টিকা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তবে অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন উঠেছে, তা হল এই টিকার দাম কত হবে? কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই টিকা মধ্যবিত্তদের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে।

কিউবায় আবিষ্কৃত হওয়ায় এই টিকা সেই দেশের মানুষদের বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কিউবার মেডিক্যাল সার্ভিসেস’এ যোগাযোগ করলে তারা সহায়তা করবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া প্যারাগুয়ে, কলোম্বিয়াতেও এই টিকা পাওয়া যাচ্ছে।

 এলএবাংলাটাইমস/ইচ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৯ ১১:৩৪:৪১

ইসবগুলের ভুসি আভ্যন্তরীণ পাচন তন্ত্রের সমস্যার ঘরোয়া চিকিৎসা ও প্রতিকারের জন্য বেশ উপকারী। তবে এই সাদা ভুসিটির উপকারিতা শুধু হজমতন্ত্রের মাঝেই সীমিত নয়। এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। চলুন তাহলে একে একে জেনে নিই ইসবগুলের ভুষির আরো অনেক উপকারিতা।কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে
ইসবগুলের ভুষিতে থাকে কিছু অদ্রবণীয় ও দ্রবণীয় খাদ্যআঁশের চমৎকার সংমিশ্রণ যা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য খুব ভালো ঘরোয়া উপায় হিসেবে কাজ করে। ইসবগুলের ভুষি পাকস্থলীতে গিয়ে ফুলে ভেতরের সব বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিকভাবে জলগ্রাহী হওয়ার কারনে পরিপাকতন্ত্র থেকে পানি গ্রহণ করে মলের ঘনত্বকে বাড়িয়ে দিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ২ চামচ ইসবগুল এক গ্লাস কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাবার আগে পান করে নিন।ডায়রিয়া প্রতিরোধে
যদিও শুনলে অবাক লাগে, ইসবগুল একই সাথে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দুটিই প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ডায়রিয়া প্রতিরোধে ইসবগুল দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। কারণ দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক পাকস্থলীর ইনফেকশন সারায় এবং ইসবগুল তরল মলকে শক্ত করতে সাহায্য করে খুব কম সময়ের মাঝে ডায়রিয়া ভালো করতে পারে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে ২ চামচ ইসবগুল ৩ চামচ টাটকা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবার পর খেতে হবে। এভাবে দিনে ২ বার খেলে বেশ কার্যকরী ফলাফল পাওয়া সম্ভব।অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে
বেশির ভাগ মানুষেরই অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে আর ইসবগুলের ভুষি হতে পারে এই অবস্থার ঘরোয়া প্রতিকার।ইসগুল খেলে তা পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে একটা প্রতিরক্ষা মূলক স্তর তৈরি করে যা অ্যাসিডিটির বার্ন থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করে। এছাড়া এটি সঠিক হজমের জন্য এবং পাকস্থলীর বিভিন্ন এসিড নিঃসরণে সাহায্য করে।ইসবগুল অ্যাসিডিটিতে আক্রান্ত হওয়ার সময়টা কমিয়ে আনে। প্রতিবার খাবার পর ২ চামচ ইসবগুল আধা গ্লাস ঠাণ্ডা দুধে মিশিয়ে পান করুন। এটি পাকস্থলীতে অত্যাধিক এসিড উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে অ্যাসিডিটির মাত্রা কমায়।ওজন কমাতে
ওজন কমানোর উদ্দেশ্যকে সফল করতে ইসবগুলের ভুষি হচ্ছে উত্তম হাতিয়ার। এটি খেলে বেশ লম্বা সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় এবং ফ্যাটি খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে কমায়। এছাড়াও ইসবগুলের ভুষি কোলন পরিষ্কারক হিসেবেও পরিচিত।এটি পাকস্থলী থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়াকে আরো বেশি কার্যকর করে স্বাস্থ্যবান থাকতে সাহায্য করে। ভেষজ শাস্ত্র অনুযায়ী এটি পাকস্থলীর দেয়ালে যেসব বর্জ্য পদার্থ থাকে তা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে যা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দূর করে। কুসুম গরম পানিতে ২ চামচ ইসবগুলের ভুষি ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে ভাত খাবার ঠিক আগে খেতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেলেও তা ওজন কমাতে সাহায্য করবে। হজমক্রিয়ার উন্নতিতে
দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুলের ভুষি হজম প্রক্রিয়াকে সঠিক অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে।এটি শুধু পাকস্থলী পরিষ্কার রাখতেই সাহায্য করে না এটি পাকস্থলীর ভেতরের খাবারের চলাচলেও এবং পাকস্থলীর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনেও সাহায্য করে।তাই হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে নিয়মিতভাবে ইসবগুল খেতে পারেন। এছাড়া মাঠা বা ঘোলের সাথে ইসবগুল মিশিয়ে খেতে পারেন ভাত খাওয়ার পরপরই। তবে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে তা হল ইসবগুল মিশিয়ে রেখে না দিয়ে সাথে সাথেই খেয়ে ফেলতে হবে।হৃদস্বাস্থ্যের সুস্থতায়
ইসবগুলের ভুষিতে থাকা খাদ্যআঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে যা আমাদেরকে হৃদরোগের থেকে সুরক্ষিত করে।হৃদরোগের সুস্থতায় ইসবগুল সাহায্য করে কারন এটি উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ এবং কম ক্যালরিযুক্ত। ডাক্তাররা সব সময় হৃদরোগ প্রতিরোধে এমন খাবারের কথাই বলে থাকেন।এটি পাকস্থলীর দেয়ালে একটা পাতলা স্তরের সৃষ্টি করে যার ফলে তা খাদ্য হতে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয় বিশেষ করে রক্তের সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এছাড়াও এটি রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরিয়ে দেয় যা থাকলে ধমনীতে ব্লকের সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে তা হৃদরোগ এবং কোরোনারী হার্ট ডিজিজ থেকে আমাদের রক্ষা করে। তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ভাবে খাবারের ঠিক পরে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসবগুল খান। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে
ইসবগুলের ভুষি যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য খুবই ভালো। এটি পাকস্থলীতে যখন জেলির মত একটি পদার্থে রূপ নেয় তখন তা গ্লুকোজের ভাঙন ও শোষণের গতিকে ধীর করে। যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। খাবার পর নিয়মিতভাবে দুধ বা পানির সাথে ইসবগুলের ভুষি মিশিয়ে পান করুন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে।তবে দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবেন না এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।পাইলস প্রতিরোধে
প্রাকৃতিক ভাবে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুলের ভুষি যারা পায়ুপথে ফাটল এবং পাইলসের মত বেদনাদায়ক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য উত্তম। এটা শুধু পেট পরিষ্কার করতেই সাহায্য করেনা মলকে নরম করতে সাহায্য করে অন্ত্রের পানিকে শোষণ করার মাধ্যমে এবং ব্যাথামুক্ত অবস্থায় তা দেহ থেকে বের হতেও সাহায্য করে। এটি প্রদাহের ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে। ২ চামচ ইসবগুল কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ঘুমাতে যাবার আগে পান করুন।সতর্কতা
এটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সমস্যা গুলোর ঘরোয়া সমাধান। যদি খুব বেশি গুরুতর অবস্থা হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।ইসবগুল কেনার সময় দেখে নিন
ইসবগুলের ভুষি আমাদের দেশে বাজার থেকে শুরু করে সুপার মার্কেট সব জায়গাতেই বেশ সহজলভ্য। তবে কেনার আগে কিছু ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখবেন-প্যাকেটজাত ইসবগুল কিনুন
কখনোই খোলা ইসবগুল কিনবেন না সেগুলো নষ্ট ও ভেজাল থাকতে পারে যার ফলে এটি খেয়ে হয়তো ভালো ফলাফল নাও পেতে পারেন।আজকাল প্যাকেটজাত বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম স্বাদের ইসবগুলের ভুষিপাওয়া যায়। তবে ভালো ফলাফল পেতে গেলে এসব কৃত্রিম স্বাদের ইসবগুল না খেয়ে সাধারণ ইসবগুল খান।বিভিন্ন দোকানে সাধারন ইসবগুলে কৃত্রিম স্বাদ ও রঙ যোগ করে বিশেষ কার্যকারিতার কথা বলে তা বিক্রয় করা হয় যা মূলত স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ। তাই সাধারণ ইসবগুলের ভুষি খাওয়াই সবচেয়ে উত্তম।

বিস্তারিত খবর

যৌনতৃপ্তি যেভাবে বাঁচায় পুরুষের জীবন!

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-২৭ ০৮:০৮:৩৫

পুরুষের প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য নিয়ে সচরাচর কথা বলতে চান না তারা। কিন্তু সুস্থ থাকার জন্য এ ব্যাপারে জেনে রাখা জরুরী। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এই গবেষণাটি যদিও পুরুষের জন্য বিব্রতকর মনে হতে পারে, তবে তাদের জীবন রক্ষার জন্য তা জরুরী।

কী বলা হয়েছে এই গবেষণায়? গবেষকেরা বলেন, নিয়মিত অর্গাজম হলে পুরুষের শুক্রাণু উৎপাদনকারী গ্রন্থি সুস্থ থাকে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়ানো যায়। ইউরোপিয়ান ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত ৩২ হাজার পুরুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চ মাত্রার যৌন সক্রিয়তা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় ৩৩ শতাংশ।

তাহলে কী পরিমাণে অর্গাজম হওয়াটা আপনার জন্য ভালো? গবেষণাটির মতে, মাসে ২১ বার। মোটামুটি বছরের ২৫২ বার, বছরের ৭০ শতাংশ দিনে অর্গাজম হওয়াটা এক্ষেত্রে উপকারী। গবেষকেরা নিশ্চিত নন ঠিক কীভাবে অর্গাজম কমায় ক্যান্সারের ঝুঁকি। কিন্তু তারা ধারণা করছেন এতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টক্সিন শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ সিডনির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার সবচাইতে বেশি দেখা যাওয়া ক্যান্সার হলো প্রোস্টেট ক্যান্সার, আর ক্যান্সারে মৃত্যুর দিক থেকে তৃতীয়। বয়স্ক মানুষে তা বেশি দেখা যায়। ৮৫ শতাংশ প্রোস্টেট ক্যান্সার দেখা যায় ৬৫ বা তার চাইতে বেশি বয়সী পুরুষে।

তবে অর্গাজম সুখকর হলেও, শুধু সেটাই আপনাকে সুস্থ রাখবে এমনটা বলা যায় না। হার্ভার্ডের গবেষকেরা বলেন, সক্রিয় যৌনজীবন থাকা মানে এর পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক সার্বিক স্বাস্থ্যও ভালো ছিল। সব দিক দিয়ে সুস্থ থাকার কারণে তা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এ কারণে খাদ্যভ্যাস এবং ব্যায়াম বজায় রাখা এবং ডাক্তারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাটাও আপনার জন্য জরুরী।

সুত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত