যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ০৫ Jul, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 11:57pm

|   লন্ডন - 06:57pm

|   নিউইয়র্ক - 01:57pm

  সর্বশেষ :

  দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় জুন মাসে ৩৬১ জনের মৃত্যু   আগামী উপনির্বাচনে যাচ্ছে না বিএনপি   দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ লাখ মানুষ   করোনার মধ্যেও শত শত মানুষের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন   রক্ত দান ও ফ্লাইওভারে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নিক্সন লাইব্রেরি   সাউথ লস এঞ্জেলেসে এ্যাম্বুলেন্স চুরির ঘটনায় আটক ১   করোনায় মারা গেলেন লস এঞ্জেলেস পুলিশ কর্মকর্তা   ভিন্নরকম আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস   বর্ষসেরা চিকিৎসক হয়ে যুক্তরাজ্যের বিলবোর্ডে বাংলাদেশি ফারজানা   দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৯, শনাক্ত ৩২৮৮   অরেঞ্জ সিটির আন্তর্জাতিক স্ট্রিট ফেয়ার হচ্ছে না   ক্যালিফোর্নিয়া পালন করবে ব্যতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস   ক্যালিফোর্নিয়ার নাগরিকদের করোনা ভীতি কমছে   ভাবুন সকলেই করোনায় আক্রান্ত’, বললেন মেয়র   সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলো মায়ের গর্ভের আট মাসের শিশু

>>  স্বাস্থ্য এর সকল সংবাদ

করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি


করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন রোগী দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। নতুন এক গবেষণায় এমনটাই সতর্ক করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মধ্যে ফুসফুসের ক্ষতি, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, এমনকি মস্তিষ্কের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগের (এনএইচএস) তথ্যানুসারে, করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফকে এনএইচএস সিকোল সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. হিলারি ফ্লয়েড বলেন, ‘আমরা জানি না করোনার

বিস্তারিত খবর

করোনার জীবনরক্ষাকারী প্রথম ওষুধ পাওয়ার দাবি

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-১৬ ১১:৪৭:৪১

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকতার ধারণ করা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাওয়ার দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন ডেক্সামেথাসোন নামে সস্তা ও সহজলভ্য একটি ওষুধ করোনাভাইরাসে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই স্বল্প মাত্রার স্টেরয়েড চিকিৎসা একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার।

এই ওষুধ ব্যবহার করলে ভেন্টিলেটারে থাকা রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি এক তৃতীয়াংশ কমানো যাবে। আর যাদের অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার এক পঞ্চমাংশ কমানো যাবে।

বিশ্বে এই ওষুধ নিয়ে সর্ববৃহৎ যে ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানো হচ্ছিল তার অংশ হিসাবে দেখা হচ্ছিল এই ওষুধ করোনাভাইরাসের চিকিৎসায়ও কাজ করবে কিনা।

গবেষকরা অনুমান করছেন ব্রিটেনে যখন করোনা মহামারি শুরু হয়েছে তার প্রথম থেকেই যদি এই ওষুধ ব্যবহার করা সম্ভব হতো তাহলে পাঁচ হাজার পর্যন্ত জীবন বাঁচানো যেত। কারণ এই ওষুধ সস্তা।

তারা বলছেন বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে কোভিড ১৯ রোগীদের চিকিৎসায় এই ওষুধ বিশালভাবে কাজে লাগতে পারে। এবং যেসব দেশ রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এটা তাদের জন্য বিশাল সুখবর।

প্রতি বিশজন করোনা আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ১৯ জনই সুস্থ হয়ে ওঠেন যাদের হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজনই হয় না।

যাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, তাদের মধ্যেও অধিকাংশই সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু কিছু কিছু রোগীর প্রয়োজন হয় অক্সিজেন চিকিৎসা অথবা কৃত্রিমভাবে শ্বাস নেবার জন্য ভেন্টিলেটার লাগাতে হয় কারো কারোর।

এই উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের জন্যই ডেক্সামেথাসোন সাহায্য করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ওষুধ ইতোমধ্যেই বেশ কিছু রোগের ক্ষেত্রে প্রদাহ কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

গবেষকরা বলছেন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টায় মানুষের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে তখন শরীরের ভেতর যে ক্ষতিগুলো হয়, এই ওষুধ ডেক্সামেথাসোন সেই ক্ষতি কিছুটা প্রশমন করতে পারবে বলে তারা পরীক্ষায় দেখেছেন।

শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে তখন সেই প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় সাইটোকিন স্টর্ম যেটা প্রাণঘাতী হতে পারে।

এই সাইটোকিন স্টর্ম শরীরের ভেতর ইমিউন ব্যবস্থায় এমন একটা ঝড়, যেখানে প্রতিরোধী কোষগুলো বাইরের সংক্রমণ ধ্বংস করার বদলে শরীরের সুস্থ কোষগুলোও ধ্বংস করতে শুরু করে। যার ফলে বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো হয়ে যেতে শুরু করে।

ব্রিটেনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তাদের তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই হাজার হাসপাতাল রোগীর ওপর পরীক্ষা চালায়। তাদের ডেক্সামেথাসোন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এদের সঙ্গে তুলনা করা হয় চার হাজারের বেশি রোগীর যাদের চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি।

দেখা গেছে যেসব রোগী ভেন্টিলেটারে ছিলেন তাদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি এই ওষুধ নেবার ফলে ৪০% থেকে কমে ২৮%এ দাঁড়ায়। আর যাদের অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৫% থেকে কমে আসে ২০%।

অনুসন্ধান দলের প্রধান অধ্যাপক পিটার হরবি বলেন, "এখনও পর্যন্ত এটাই একমাত্র ওষুধ যা মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারে বলে দেখা যাচ্ছে। এবং এই ওষুধ প্রয়োগে মৃত্যু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।"

প্রধান গবেষক অধ্যাপক মার্টিন ল্যানড্রে বলছেন এই পরীক্ষার ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ভেন্টিলেটারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এমন প্রতি আট জন রোগীর মধ্যে একজনের প্রাণ এই ওষুধ দিয়ে বাঁচানো সম্ভব।

আর যেসব রোগীকে অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে তাদের প্রতি ২০ থেকে ২৫ জনের মধ্যে একজনের জীবন এই ওষুধে বাঁচবে।

"এই ওষুধের সুস্পষ্ট, সুস্পষ্ট সুফল আছে। এই চিকিৎসায় রোগীকে ডেক্সামেথাসোন দিতে হবে ১০দিনের জন্য। এর জন্য খরচ হবে রোগী প্রতি প্রায় ৫ পাউন্ড। আর এই ওষুধ পৃথিবীর সব দেশে পাওয়া যায়।"

অধ্যাপক ল্যানড্রে বলেন, হাসপাতালে রোগীকে প্রয়োজন হলে এখন দেরি না করে এই ওষুধ দেয়া উচিত। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, কেউ যেন এই ওষুধ বাজার থেকে কিনে ঘরে মজুত করে না রাখেন।

যাদের করোনাভাইরাসের হালকা উপসর্গ দেখা দেবে, অর্থাৎ যাদের শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে চিকিৎসকের সাহায্যের প্রয়োজন হবে না, তাদের ক্ষেত্রে ডেক্সামেথাসোন কাজ করবে না।

মার্চ মাস থেকে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য ওষুধ নিয়ে ট্রায়াল চালানো হচ্ছিল। যেসব ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছিল তার মধ্যে ছিল হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনও।এই ওষুধটির ওপর পরীক্ষা পরে বাতিল করে দেয়া হয়, কারণ এই ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় হার্টের সমস্যা এবং অন্য প্রাণনাশক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

আরেকটি ওষুধ রেমডেসিভির, যেটি অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় সেটি সেরে ওঠার সময় কিছুটা তরান্বিত করতে পারে বলে দেখা যাবার পর করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এই ওষুধের ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।


এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এইচ

বিস্তারিত খবর

সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ১০টি খাবার

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-২১ ১৯:৩৮:২২

স্বাস্থ্যকর ডায়েটে ফল, শাকসব্জী, বাদাম, শিম, আস্ত শস্য এবং কম ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাতীয় খাবার এবং কম লবণ, চিনিযুক্ত পানীয়, সাদা ময়দা এবং লাল মাংস রয়েছে। কিন্তু এত এত স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে আপনি কোথা থেকে শুরু করবেন বা কোনটি বেছে নেবেন তা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এখানে এমন দশটি খাবারের তালিকা দেয়া হলো। যেগুলো অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং খেতেও সুস্বাদু।

মিষ্টি আলু

সুস্বাদু মিষ্টি আলু নিয়মিত খেলে দূরে থাকতে পারবেন বিভিন্ন রোগ থেকে। এটি পুষ্টির জন্য সুপারস্টার। বেটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ মিষ্টি আলুতে রয়েছে ভিটামিন সি। এটি পটাশিয়াম ও ফাইবারের উৎস। কিছুটা অলিভ ওয়েল দিয়ে হালকা বাদামী রঙয়ের করে ভেজে নিন। মশলা বা দারুচিনি গুড়া ও মরিচের গুড়া ছিটিয়ে উপভোগ করুন।

আম

এক কাপ আমের রসে প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর শতভাগ, ভিটামিন 'এ' এর এক তৃতীয়াংশ, রক্তচাপ কমানো পটাশিয়ামের একটি ভালো ডোজ এবং ৩ গ্রাম ফাইবার সরবরাহ করে। এর পাশাপাশি অন্যান্য উপকারিতা তো রয়েছেই। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত আমের মৌসুমে এটি নিয়মিত খেতে পারেন।

মিষ্টি ছাড়া দই

দই শুধু মজাদার খাবারই নয়, এটি স্বাস্থ্যকরও বটে। খাদ্যতালিকায় দুগ্ধজাত এ উপাদানটি নিয়মিত রাখলে আপনি বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাবেন। দইয়ে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন 'ডি'। দুটি উপাদানই হাড়ের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দইয়ে রয়েছে অসংখ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া। এ ব্যাকটেরিয়াগুলো দেহের ক্ষতি করে না বরং হজমে সহায়তা করে। এ ছাড়া দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করে দইয়ের ব্যাকটেরিয়া। দইয়ের পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। দইয়ের উপাদান ত্বককে মসৃণ করে। দইয়ের ল্যাকটিক এসিড ত্বককে পরিষ্কার করে এবং মৃত কোষ দূর করে। দইয়ে অন্যান্য উপাদানের পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর ভিটামিন। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ভিটামিন 'বি৫', জিংক, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন ও রিবোফ্লাভিন।

ব্রোকলি

এটি এমন একটি সবজি যাতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম কিন্তু ব্রোকলি ভিটামিন, মিনারেল আর ফাইবার এ পরিপূর্ণ। প্রত্যেকদিন খাবারে ব্রোকলি রাখলে তা আপনার সুস্বাস্থ্যের কারণ হতে পারে। এর ডাট এবং ফুল সাধারণত সিদ্ধ করে এবং বিভিন্ন ভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। অনেকে কাঁচাও খেয়ে থাকেন।

ব্রোকলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে যা হাড়ের ক্ষয়রোধে সহায়তা করে। ফাইবার আমাদের পরিপাকে কল্যাণকর ভূমিকা পালন করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ আছে যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে।

প্রাকৃতিক স্যামন মাছ

ওমেগা-থ্রি ফ্যাট সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক (চাষ করা ছাড়া) স্যামন জাতীয় মাছ হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। শরীরকে একশ শতাংশ সক্রিয় রাখতে এ ফ্যাটি অ্যাসিড অত্যন্ত জরুরি। অনেক রোগ প্রতিরোধেও কার্যকরী এটি। হার্টের রোগ, ডিমেনশিয়া, মানসিক অবসাদ কমাতে কাজে আসে এ মাছ। এতে অনেক ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিন থাকে। খুব সহজেই স্যামন ভাজি করা যায়, এতে তেমন বেশি কিছু উপকরণেরও প্রয়োজন হয় না৷ হালকাভাবে লেবুর রস, লবন আর গোলমরিচের গুঁড়ো দিয়ে ভাজি করলেও অনেক স্বাদ৷ তবে কেউ চাইলে নিজের ইচ্ছেমতোও করতে পারেন৷

ওটমিল

ব্রেকফাস্ট হিসেবে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ওটমিল একটি পরিচিত নাম। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওটমিলের অবদানের কারণে এটি আমাদের দেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ওটমিলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি উপকারী কোলেস্টেরল এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ফলে এটি উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে খুবই উপযোগী। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। ওটমিল রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। সপ্তাহে ৫-৬ বার ওটমিল গ্রহণ টাইপ-২ ডায়াবেটিস ৩৯% নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

চুলায় ফুটানো গরম পানিতে পরিমাণ মতো ওটমিল দিয়ে ৫-১০ মিনিট নাড়ুন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিন। স্বাদের জন্য এতে সামান্য লবণ যোগ করতে পারেন। চাইলে নানা রকম মশলা যোগ করে তৈরি করতে পারেন ওটসের খিঁচুড়ি। অথবা ওটমিলে ননিবিহীন দুধ ও তাজা ফল যোগ করেও খেতে পারেন।

ছোলা

ছোলা একটি উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আমিষ থাকে প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট থাকে ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট থাকে ৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম থাকে ২০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ থাকে ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং এছাড়া প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ থাকে। ছোলা কাঁচা ভিজিয়ে খোসা ছাড়িয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ করে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী আর অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া ছোলা সেদ্ধ বা তরকারি হিসেবে রান্না করেও খাওয়া যায়।

তরমুজ

গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে একটু স্বস্তি মিলতে এক ফালি তরমুজের জুড়ি নেই। তরমুজে ৯২ শতাংশই পানি, যা শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করে। এক কাপ তরমুজের রসে প্রায় ৪৫ ক্যালরি শক্তি পাবেন। এতে চর্বি বা ফ্যাট নেই, চিনির পরিমাণও খুব কম। প্রতিদিন এক কাপ তরমুজের রস খেলেই আপনি ভিটামিন সি ২১ শতাংশ ও ভিটামিন এ এর চাহিদা ২১ শতাংশ পূরণ করতে পারেন। শুধু তাই নয়, এই ফলে আছে বেটা-ক্যারোটিন। এছাড়া লাইকোপিন নামে যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে তরমুজে, তা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। তরমুজে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাসিয়াম থাকে। এই উপাদানগুলো হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে।

বাটারনাট স্কোয়াশ

বাটারনাট স্কোয়াশের স্যুপ অত্যন্ত সুস্বাদু। এতে প্রচুর ভিটামিন এ এবং সি এবং ফাইবার রয়েছে। বহু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ স্কোয়াশ ত্বক ও স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডায়বেটিস বা ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধেও বড় ভূমিকা পালন করে স্কোয়াশ। এছাড়াও এটি হার্টকে ভালো রাখে ও ইনসোমনিয়া থেকে রক্ষা করে। এমনকি আর্থ্রাইটিস, আলসার ও বিভিন্ন রকম ইনফেকশন থেকে রক্ষা করতে পারে স্কোয়াশ।

বিভিন্ন সবুজ শাক

সবুজ পাতার যেকোনো শাক শরীরের পক্ষে অনেক উপকারী, কারণ শাকের মধ্যে যেসব খনিজ থাকে তা শরীরের উপকারে কাজে লাগে। বলা যেতে পারে খনিজ গুলি আমাদের শরীরের চাহিদা পূরণ করে। একমাত্র শাক যা চোট জলদি রান্না করা যায় আর তা সহজে হজম করা যায়। এসব শাক ভিটামিন এ, সি এবং কে, ফোলেট, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ফাইবার দিয়ে পরিপূর্ণ।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এইচ

বিস্তারিত খবর

করোনার নতুন লক্ষণ চোখ লাল হওয়া

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১৯ ১১:৫১:৪১

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, গলা ব্যথা ও শুকনো কাশি দেখা গেলেও এবার এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার নতুন এক প্রাথমিক উপসর্গ সামনে এলো।

চোখে করোনা ভাইরাসের নতুন এই লক্ষণ দিতে পারে। যুক্তরাজ্যের একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, করোনার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে মানুষের চোখে। তবে এটি হতে পারে খুব কম সংখ্যক মানুষের শরীরে।

বলা হচ্ছে, চোখ উঠা বা চোখ রক্তবর্ণের আকার ধারণ করাও হতে পারে করোনার লক্ষণ। এটি হয়তো করোনায় আক্রান্ত হওয়ার একটি সতর্ক বার্তা। তবে এটি অ্যালার্জির কারণেও ঘটতে পারে। এই বিষয়টি প্রমাণ করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাজ্যের ইয়েল মেডিসিনের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ভিসেন্টে ডিয়াজ বলেছেন, অনেক ভাইরাল অসুস্থতাই চোখকে প্রভাবিত করতে পারে। সাধারণত ফলকুলা কনজেক্টিভাইটিস সৃষ্টি করতে পারে। আমরা জেনেছি যে কভিড-১৯ কম সংখ্যক লোকের চোখের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। চোখে করোনার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

আমেরিকান চক্ষুবিজ্ঞান একাডেমি জানিয়েছে, কনজেক্টিভাইটিসও করোনার প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। কিন্তু এটি খুব কম সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে। তবে মনে রাখতে হবে এটি অ্যালার্জির কারণেও হতে পারে। চলতি মৌসুমে এটি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এইচ

বিস্তারিত খবর

এবার পায়ের আঙুলে দেখা যাচ্ছে করোনায় আক্রান্তের লক্ষণ!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১৫ ১১:৪১:১২

সারা বিশ্বে এখন করোনা আতঙ্ক। পৃথিবী জুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণ কয়েকটি লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে শুকনো কাশি ও জ্বর লক্ষ্য করা যায়।পরে এই মারণ ভাইরাস ফুসফুসে আক্রমণ করে।

করোনা নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য জানাচ্ছেন গবেষকরা। এমনকি গবেষকরা জানান, কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়া ছাড়াও যেকোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

আর এবার বলা হচ্ছে, পায়েও দেখা দিতে পারে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার চিহ্ন। 

গবেষকদের মতে, আঘাতের চিহ্নের মতো দেখা দিতে পারে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার চিহ্ন। পায়ের আঙুলে আঘাত পাওয়ার পর যেমন অবস্থা দেখা দেয়, করোনায় আক্রান্ত হলেও তেমন আকার ধারণ করতে পারে।

স্পেনেরর চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে তদন্ত করছেন এই বিষয়টি নিয়ে। যাদের মধ্যে ভাইরাস রয়েছে তাদের পায়ে ক্ষুদ্র ক্ষত চিহ্ন বা আঘাতের চিহ্নের মতো কিছু রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তারা।
 
গত বৃহস্পতিবার স্পেনের জেনারেল কাউন্সিল অব অফিশিয়াল পডিয়েট্রিস্ট (পায়ের যত্নের বিশেষজ্ঞ) কলেজ একটি বিবৃতি শেয়ার করেছে। সেখানে বলা হয়, বেশ কয়েক জন করোনাভাইরাসের আক্রান্ত রোগীর পায়ে ক্ষত রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের পায়ে কয়েকটি চিহ্ন পাওয়া গেছে। এগুলো দেখতে বেগুনি বর্ণের আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষতের মতো। চিকেনপক্স, হাম বা চিলব্লেনের সাথে খুব মিল রয়েছে এসব চিহ্নের। সাধারণত পায়ের আঙুলের ওপর এগুলো দেখা গেছে। তবে কোনো রকম চিহ্ন না রেখেই এগুলো আবার ভালো হয় যায়।
 
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, এটি এক ধরনের কৌতূহলী আবিষ্কার। চর্ম বিশেষজ্ঞ ও পোডিয়াট্রিস্টদের মতে, ইতালি ও ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেনের অসংখ্য কভিড-১৯ রোগীর মধ্যেও এই ক্ষত চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে।

করোনায় আক্রান্ত কিশোর ও শিশুসহ অল্প বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এই ক্ষতগুলো বেশি দেখা গেছে। তবে কয়েক জন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও এগুলো ছিল। এই বিয়ষটি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

করোনা আক্রান্তের পায়ের চিহ্নটি প্রথম ধরা পরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের শরীরে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, কিশোরটির পায়ে হয়তো মাকড়সা কামড়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পরই তার মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। এরপর বিষয়টি নজরে আসে গবেষকদের।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এইচ

বিস্তারিত খবর

‘বাসায় ফিরে পোশাক জুতা মোবাইল চশমা ঘড়ি জীবাণুমুক্ত করুন’

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১১ ১০:৫৭:৩৪

বাইরে থেকে ঘরে ফিরে মোবাইল সেটটি ঠিকমতো পরিষ্কার করছেন তো! যদি না করে থাকেন তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বড়ো ঝুঁকিতে রয়েছেন আপনি এবং আপনার পরিবার। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ জানান, ‘কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়া যেমন জরুরি তেমনি বাসায় ফিরে নিজেকে জীবাণুমুক্ত করাও খুব জরুরি।

তিনি বলছেন, এই রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে। তাই যদি বাইরে বের হয়ে কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে কেউ এসে থাকেন তাহলে তার মাধ্যমেই এই ভাইরাসটি ছড়াতে থাকবে। তাই হাত ধোয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে হাত ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল সেট, ফোনের কভার, চশমা, মানিব্যাগ, ঘড়ির ব্যান্ড, চশমা রাখার খাপ এবং হাতের আংটির মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই এগুলোও ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সাবধানতা অবলম্বনের বিকল্প নেই।’

ইতালিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে জুতাকে। জুতার তলায় এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে সে দেশের বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। তাই বাইরে বের হলে জুতার তলা থেকে শুরু করে পরনের কাপড় থেকে শুরু করে প্রতিটি জিনিসই জীবাণুমুক্ত করবার পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. আবদুল্লাহ।

পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে তবে তা যেন বেশি খারাপের দিকে না যায় সেজন্য লকডাউন করে মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে সামান্য অসাবধানতার জন্য কোভিড ১৯ ভাইরাসটি যেন আপনার ঘরে ঢুকতে না পারে সেজন্য সচেতনতার বিকল্প নেই।

লকডাউনের মধ্যেও বাজার করা, ওষুধ কেনা এমন কিছু না কিছু প্রয়োজনে বাড়ির প্রধান ব্যক্তিকে বাইরে বের হতে হচ্ছেই। বাইরে বের হলে হাতঘড়ি, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, চশমা আমাদের নিতেই হয়। আর অভ্যাসবশত এসব ডেস্কে রাখা হয়। সেই সঙ্গে এসব কিছুই বাতাসের সংস্পর্শে আসছে। যার মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

ডা. আবদুল্লাহ আরো জানাচ্ছেন, বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে দুটি হাত খুব ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চশমা, মোবাইল ফোন, চশমার খাপ, মানিব্যাগ, বেল্ট খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে সাবান পানি বা স্যানিটাইজার দিয়ে। বিশেষ করে শুকনো কাপড়ে স্যানিটাইজার লাগিয়ে সেই কাপড় দিয়ে চশমার ডাঁটি, ফ্রেম, চশমার খাপ, মোবাইল ফোন, তার কভার, মানিব্যাগ, বেল্ট খুব ভালোভাবে মুছে নিতে হবে। না হলে, এদের মাধ্যমে নিজেদের তো বটেই, বাড়ির লোকজনেরও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ঝুঁকি খুব বেশি। এই ব্যাপারে সকলের সচেতন হওয়া উচিত। বাজার দোকান অথবা কাজের শেষে বাসায় ঢোকার আগে জুতার তলায় কীটনাশক ছিটাতে হবে। বাড়িতে ঢুকে সোজা বাথরুমে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে হাত-মুখ সাবান দিয়ে পরিষ্কার তো করতে হবেই। এর পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা পোশাকও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সেই সঙ্গে ফোন, চশমা, হাতঘড়িসহ সবকিছুই স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।

আরো খেয়াল রাখুন: বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে তারপর অন্য কিছু ধরবেন। কারণ এই হাত দিয়ে যা কিছু ধরা হবে সেখানেই ভাইরাস থেকে যেতে পারে। টেবিল, চেয়ার, দরজার হাতল, কিবোর্ডে ভাইরাস থেকে যেতে পারে। সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই এগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।

খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত। ফলমূল ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে। অনেকের গৃহপালিত পশু-পাখি থাকে। কোনো পশু-পাখি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা রোগাক্রান্ত মনে হলে সেটিকে সরিয়ে নিতে হবে। সেই প্রাণীকে কেউ স্পর্শ করলে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে করমর্দন, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। যথাসম্ভব ঘরে বা বাড়িতে থাকুন, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো।


এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এইচ

বিস্তারিত খবর

যেসব ভেষজ খাবারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৭ ০৯:৫৩:০২

প্রাকৃতিক ভেষজ খাবার রুখবে ভাইরাস সংক্রমণ, বাড়াবে রোগ প্রতিরোধ শক্তি। সুস্থ শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান হল ভিটামিন, প্রোটিন, মিনারেলস, ফাইবার। যেসব খাবারে এই সব গুণ আছে তাকেই বলে ইমিউন সিস্টেম বুস্টারস। করোনাভাইরাস সংক্রমণ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে শরীর দুর্বল হলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নড়বড়ে হলে, তার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে। তাই এই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো দরকার। প্রাকৃতিক ভেষজ খাবার খুব সহজেই পাওয়া যায় এবং ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যা অবশ্যই রাখতে হবে প্রতিদিনের ডায়েটে।

হলুদ-দুধ

হলুদের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যাদের ভাইরাল ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা আছে তাদের জন্য হলুদ-দুধ বিস্ময়করভাবে উপকারী হতে পারে। সাধারণভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সেরা ঘরোয়া ওষুধ হলুদ-দুধ। প্রতিদিন সকালে বা রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হলুদ-দুধ পান করলে সর্দি ও ফ্লু দূরে থাকে।

হাঁচি-কাশি হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। হলুদে উপস্থিত অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ একদিকে যেমন নানাবিধ ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমায়, তেমনি এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপার্টিজ রেসপিরেটারি ট্রাক্ট ইনফেকশন এবং সর্দি-কাশির প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হলুদ-দুধ রক্তকে বিষ মুক্ত করে দেয়। শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে হলুদ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির মধ্যে থাকা কার্কিউমিন, রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে ব্লাড ভেসেলের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তো কমেই, সেই সঙ্গে নানাবিধ রোগভোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

নিমেষে মাথা যন্ত্রণা কমিয়ে দেয়। এবার থেকে সাইনুসাইটিসজনিত মাথার যন্ত্রণা হলেই এক কাপ হলুদ মেশানো দুধ খেয়ে নেবেন। দেখবেন কষ্ট কমতে একেবারে সময়ই লাগবে না। কারণ হলুদের ভেতরে থাকা কার্কিউমিন এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরের ভেতরে প্রদাহ কমায়। ফলে মাথা যন্ত্রণা কমতে সময় লাগে না।

হলুদ-দুধ জয়েন্ট এবং পেশির ব্যাথাও ভালো করে দেয়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় হালকা জয়েন্ট পেইন এবং মাংসপেশিতে ব্যথা একটি সচরাচর ঘটনা। হলুদে থাকা প্রদাহরোধী উপাদান এই ব্যথা ভালো করতে পারে।

উষ্ণ পানিতে লেবুর রস

সকালে গরম পানিতে লেবুর রস খেলে অনেক উপকার। সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যস্ততার কারণে নাস্তা সময়মতো খাওয়া হয়ে ওঠে না। তবে একটি খাবার রয়েছে সকালে উঠে খেলে আপনার সারাদিনের হজমশক্তি বাড়ানো ছাড়াও অনেক উপকার পাবেন।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, লেবুতে রয়েছে ভিটামিন 'সি', পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, যা দেহের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। লেবুর শরবত লিভারে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিন উপাদান বের করে। ফলে লিভারের যেকোনো ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে গরম পানিতে লেবুর রস খেলে দেহের ভেতরে পিএইচ লেভেলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। ফলে দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

লেবু ত্বক ভালো রাখে, শরীরের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণ করে এবং কিডনির পাথরও প্রতিরোধ করে।

লেবু ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। লেবু ব্যবহারে চেহারায় বয়সের ছাপ কমবে।

প্রতিদিন সকালে হালকা গরম পানিতে কিছুটা লেবুর রস মিশিয়ে খেলে সারা দিনের হজমশক্তি ভালো থাকে।

লেবুতে থাকা ভিটামিন 'সি' দেহের হরমোনকে সক্রিয় রাখে ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

বেদানা-লেবু-কমলার রস

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খেতে হবে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল। বেদানা-লেবু-কমলার তিনটি ফলের রস একসঙ্গে নিংড়ে পানীয় বানিয়ে রোজ একগ্লাস করে খেতে পারলে আপনার শরীরে ভিটামিন আর অ্যান্টি অক্সিডেন্টের অভাব হবে না। শরীরকে জীবাণুমুক্ত রাখে এই ভিটামিন।

রোজ একটি করে ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এখন যারা করোনা, ফ্লু-এর জেরে জেরবার তাদের জন্য রইল তিনটি ফলের হদিশ। বেদানা, কমলা আর মুসাম্বি লেবু। এই তিনটি ফলের রস একসঙ্গে নিংড়ে পানীয় বানিয়ে রোজ একগ্লাস করে খেতে পারলে আপনার শরীরে ভিটামিন আর অ্যান্টি অক্সিডেন্টের অভাব হবে না। উপরন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তাই আপাতত তেল-ঝাল-মশলা এড়িয়ে পেট ভরান বাড়িতে বানানো এই ধরনের পুষ্টিকর টক-মিষ্টি গোলাপি সরবত বা পিঙ্ক লেমোনেড দিয়ে।

এই সরবতে রয়েছে এমন তিনটি ফল যা শরীরকে চাঙা করে নিমেষে। হজমশক্তি বাড়ায় ঝটপট। ডালিম বা বেদানা, কমলা এবং মুসাম্বি লেবুর রস দিয়ে বানানো এই পানীয় পানে রোগে ভোগা শরীরও তন্দরুস্ত। পাশাপাশি রক্ষা করে সংক্রমণ, সর্দি, কাশি এবং ফ্লুর ঝুঁকি। কারণ, তিনটি ফলেই আছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, থিয়ামিন, ফোলেট ও পটাসিয়াম থাকে। লেবু জাতীয় ফলে ভিটামিন-সি বেশি পরিমাণে থাকে যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজে রয়েছে অ্যান্টি-বায়োটিক, অ্যান্টি-সেপ্টিক, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান। রয়েছে খাদ্য আঁশ, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি ও সি। অল্প পরিমাণে ক্যালসিয়াম, লোহা, ফোটা, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস কোরাসিটিন এবং সালফারও রয়েছে পেঁয়াজে। পেঁয়াজের রস কাশি নিরাময় করে, এটি অনেকেরই অজানা। পেঁয়াজ রস করে তাতে মধু দিয়ে খেতে পারেন।

তাই প্রতিদিন ১০০ গ্রাম থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত পেঁয়াজ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তাই রোগের ভাইরাসের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে এটি। জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, গলা ব্যথা, এলার্জি ইত্যাদি খুব দ্রুত পেঁয়াজের দ্বারা দূর করা সম্ভব। পেঁয়াজের রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তাৎক্ষণিকভাবেই রোগ নিরাময় হয়।

গরম পানিতে মধু, রসুন ও আদা

মধু, রসুন ও আদা এই তিন ঘরোয়া উপাদানে অনেক রোগ ভালো হয়। বিশেষ করে ঠাণ্ড-কাশি ও গলাব্যথা, এই তিন উপাদান খুব ভালো কাজ করে। তবে মধু, রসুন ও আদা হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এই পানীয় শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণও বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে এই মিশ্রণটি মানব স্বাস্থ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

গরম পানির সঙ্গে মধু, রসুন ও আদার মিশ্রণ, ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাসজনিত সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য উপকারী।

আদা সাধারণত সর্দি, ফ্লু এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় সহায়তা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, আদা শ্বাসজনিত রোগের লক্ষণগুলো কমাতে সহায়তা করে। রসুন ও মধুতেও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। তাই এগুলোও শ্বাসজনিত রোগের লক্ষণগুলো হ্রাস করতে সহায়তা করে।

রসুন একটি শক্তিশালী মসলা, যা ব্যাটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

মধু, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলোর অধিকারী হিসেবে পরিচিত, যা সংক্রমণ রোধ করে।

আদাতে বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ রয়েছে, যা ঠাণ্ডা, ফ্লু ও গলাব্যথা প্রতিরোধ করে। আর রসুন ও মধুর অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্যের কারণে সাধারণত ঠাণ্ডা লাগা থেকে মুক্তি দেয়।

মধু, রসুন ও আদার সংমিশ্রণ পেটের বদহজম, অম্বল, পেটেব্যথা, ফোলাভাব এবং গ্যাসসহ সব হজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

হার্ট ভালো রেখে আদা রক্তচাপ হ্রাস করতে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, রসুন ও মধু উভয়ই উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা হ্রাস করার ক্ষমতা রাখে।

মধু, রসুন ও আদা গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

বিস্তারিত খবর

ধূমপান না ছাড়লে করোনার ঝুঁকি

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৪ ০৭:৫২:২০

ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯-এর মারণছোবল অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। ধূমপায়ীদের আশেপাশে যাঁরা থাকেন, তাঁদেরও প্রায় একই রকম বিপদ। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা বার বার অনুরোধ করছেন এই পরিস্থিতিতে ধূমপান ছেড়ে দিতে। একই আবেদন জানিয়েছেন ‘ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল’।

ধূমপায়ীদের জন্য বিপদ কতটা বেড়েছে, তা উঠে এসেছে বিশ্বব্যাপী কয়েকটি সমীক্ষা ও গবেষণায়।

• চিনে কোভিড আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে ১০৯৯ জনকে নিয়ে সমীক্ষা করে, ‘দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এ সেই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ সংখ্যক ধূমপায়ী জটিল অবস্থায় ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের কৃত্রিম ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে হয়েছে। তার পরও তাঁদের বেশির ভাগই মারা গিয়েছেন।৭৮ জন জটিল কোভিড রোগীদের নিয়ে সমীক্ষা করে দেখা গেছে এঁদের অধিকাংশই ধূমপায়ী।

• ইতালির স্বাস্থ্য গবেষণা এজেন্সি জানিয়েছে, কোভিড ১৯-এ মৃতদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই পুরুষ। এবং তাঁদের অধিকাংশই ধূমপায়ী।

• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ হলে অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীর অবস্থা জটিল হতে পারে প্রায় ১৪ গুণ।

• বিপদ ঠেকাতে ‘টোকিও মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘জাপান সোসাইটি ফর টোব্যাকো কন্ট্রোল’ এগিয়ে এসেছেন বেশ কয়েক কদম। টোব্যাকো কন্ট্রলের পক্ষ থেকে সমস্ত অফিসকাছাড়ি ও বহুতল আবাসনের কতৃপক্ষের কাছে ধূমপান কক্ষ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। কারণ এ সব জায়গা থেকেই একযোগে বেশ কিছু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, যাকে বলে ‘ক্লাস্টার ইনফেকশন’।

কেন এত কড়াকড়ি?

এর প্রধান কারণ, যিনি ধূমপান করছেন, তাঁর শরীরে যদি ভাইরাস থাকে, তিনি যখন ধোঁয়া ছাড়বেন, সেই ধোঁয়ায় ভর করে ভাইরাসও ছড়িয়ে পড়বে আশপাশে। ওই অ্যারোসল বা বাতাসবাহীত লালার কণায় ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে ঘণ্টা তিনেক। কাজেই বদ্ধ ঘরে কাছাকাছি বসে ধূমপান করলে অন্যের মধ্যেও ছড়াবে ভাইরাস।


ধূমপায়ীদের সংক্রমণ বেশি হয়

লাগাতার ধূমপানে ফুসফুসের রোগ ঠেকানোর ক্ষমতা কমে যায়। কারণ ফুসফুসে ছোট ছোট চুলের মতো দেখতে সিলিয়া থাকে। সাধারণ অবস্থায় এরা ধুলোবালি, জীবাণু, সব কিছুকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে।  দীর্ঘ দিন ধরে প্রচুর ধূমপান করলে তারা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। তাই ধূমপায়ীদের মধ্যে যে কোনও ধরনের ফুসফুসের সংক্রমণ বেশি হয়। নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টিবি ইত্যাদির প্রকোপ তাঁদের মধ্যে বেশি। এই একই কারণে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কাও তাঁদের বেশি।নিয়মিত ধূমপানে ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে যায় বলেও বিপদ হয়।

বিপদ আছে আরও। বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “করোনাভাইরাস যে সমস্ত রিসেপ্টারের মাধ্যমে কোষের মধ্যে ঢোকে, ধূমপান করলে সে সব রিসেপ্টার অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভাইরাস খুব দ্রুত গতিতে বংশবিস্তার করে বিপাকে ফেলে দিতে পারে।”

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, ধূমপানের কারণে যদি ‘ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ’ বা ‘সিওপিডি’ নামের রোগ হয়ে থাকে, এক বার কোভিড হলে তার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

ধূমপান ছেড়ে দেওয়া করোনা থেকে বাঁচার অন্যতম উপায়
• উপায় একটাই। ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধূমপান করলে এর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা জন্মায়। হঠাৎ ছেড়ে দিলে যে সব উইথড্রয়াল সিম্পটম হয়, তা সামলাতে পারেন না অনেকেই। তাই বিপদ এড়াতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়াই যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন:

• ধূমপান ছাড়তে চাইলে আগে ধূমপান কমান। আগে যদি ২০টা খেতেন, এখন তবে ১০টা খাওয়ার চেষ্টা করুন। সবচেয়ে ভাল হয়, যদি দিনে ৫টায় নামিয়ে আনতে পারেন। বা আরও নীচে। এ বার কমাতে কমাতে দিন তিন-চারেকে একেবারে ছেড়ে দিন।

• বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ধূমপানে কোভিডের আশঙ্কা বাড়ার অন্যতম কারণ হল ‘হ্যান্ড হাইজিন’ বজায় রাখতে না পারা। ধূমপান করার সময়ও মানুষ কিন্তু অসংখ্য বার নাকে-মুখে হাত দেন, একটু আগেই হয়তো সেই হাতে সিগারেটের প্যাকেট খুলেছেন, দেশলাই জ্বালিয়েছেন, যা হয়তো খানিক আগেই দোকানি বা অন্য কারও হাতে ছিল। কাজেই এদের কারও হাতে জীবাণু থাকলে তা আপনার হাতে-নাকে ও মুখে লেগেছে। আবার মাস্কের সামনের অংশটা ধরে মাস্ক খুলে সেই হাতে সিগারেট ধরিয়েছেন। সেখানে জীবাণু থাকলে, তাও আপনার হাতে লেগেছে।

• প্রথমত, সিগারেট ছেড়ে দিতেই হবে। যত ক্ষণ না তা পারছেন, তত ক্ষণ সিগারেট, সিগারেটের প্যাকেট, দেশলাই বা লাইটার আদান-প্রদান করবেন না। অর্ধেক খেয়ে অর্ধেক আর এক জনকে দেওয়ার তো কোনও প্রশ্নই নেই। হুঁকোও ভাগাভাগি করে খাওয়া চলবে না।

এলএবাংলাটাইমস/এম/এইচ/টি

বিস্তারিত খবর

যে ৭ খাবারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৩ ০৭:২৮:২৪

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। কোনো প্রতিষেধক না থাকায় এই রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিরোধ ব্যবস্থাই হচ্ছে অন্যতম হাতিয়ার। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, তারা করোনায় আক্রান্ত হলেও দ্রুত সেরে ওঠেন।

কিছু খাবার রয়েছে যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আসুন জেনে নিই সেই সম্পর্কে-

১. ভিটামিন সি যুক্ত খাবার নিয়মিত খান। লেবু, কমলা, আনারস, মাল্টা, ব্রকলি, আপেল, পেঁপে, গাজর খেতে পারলে ভালো।

২. অতিরিক্ত চিনি ও লবণ মেশানো খাবার এড়িয়ে চলুন। অর্ধসিদ্ধ করা কোনো খাবার খাবেন না।

৩.বেশি করে সবুজ শাক-সবজি খান। আর দুগ্ধ জাতীয় খাবারও সঠিক মাত্রায় খাবেন। ফলে শরীরে প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

৪. প্রতিদিন পরিমাণ মতো পানি পান করুন।

৫. তুলসী পাতায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট ও ভিটামিন থাকে। প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ গুণসমৃদ্ধ তুলসীপাতা রোগ প্রতিরোধে ব্যবহার করা হয়। তাই নিয়মিত ১-২টি তুলসী পাতা খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৬. মাশরুমে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও মিনারেল। যা দেহে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া মাশরুম রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ায়, যা শরীরে জীবাণু বা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে পারে।

৭. আদায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ থাকে, যা ভাইরাসজনিত রোগের সঙ্গে লড়াইয়ে সহায়তা করে।


বিস্তারিত খবর

বরফ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে আরো প্রাণঘাতী ভাইরাস

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০২ ০৪:৩৭:২৯

যুগ যুগ ধরেই মানুষ আর ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়া পাশাপাশি বাস করে চলেছে। মানুষ যতবারই নানারকম প্রতিষেধক আবিষ্কার করে, ওষুধ আবিষ্কার করে তাদের প্রতিহত করতে চেয়েছে, বরাবরই তারা জেনেটিক মিউটেশন ঘটিয়ে নতুন রূপে ফিরে ফিরে এসেছে।

ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে মানুষের এই যুদ্ধ অপরিসীম। এখন প্রশ্ন হল যদি এমন কিছু মাইক্রোবসের সম্মুখীন আমাদের হতেই হয়, হাজার হাজার বছর আগে যাদের অস্তিত্ব এই বিশ্ব থেকে লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল?

তাহলে কি সেই সমস্ত প্রাণঘাতী মাইক্রোবসের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হতে পারব আমরা? নাকি আরও একবার মৃত্যু-মিছিল শুরু হবে বিশ্বে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন দিন কিন্তু আসতে চলেছে। আর বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী অতীতের অনেক মাইক্রোবস ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

২০১৬ সালে সাইবেরিয়ায় ১২ বছরের এক শিশুর অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছিলেন, বহু বছর আগে ওই এলাকায় অ্যান্থ্রাক্সের কবলে প্রচুর রেনডিয়ারের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দেহগুলো বরফের নীচে চাপা পড়েছিল।

বিশ্ব উষ্ণায়নে বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গেই মৃতদেহে চাপা পড়ে থাকা জীবাণু বাইরে বেরিয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোনোভাবে পানি এবং খাবারের সঙ্গে মিশে গিয়েই ওই শিশুর সংক্রমণ ঘটায়।

শুধু এই একটা ঘটনাই নয়, গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা বরফের নীচে চাপা পড়ে থাকা একাধিক প্রাণঘাতী জীবাণুর খোঁজ পেয়েছেন। যেমন ২০০৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা আলাস্কার একটি বরফ হ্রদ থেকে ৩২ হাজার বছরের পুরনো এক ব্যাক্টেরিয়ার খোঁজ পেয়েছেন। এর দু’বছর পর ২০০৭ সালে আন্টার্কটিকার বরফে চাপা পড়ে থাকা ৮০ লক্ষ বছর পুরনো এক ব্যাক্টেরিয়ার সন্ধানও পেয়েছেন।

১৯১৮ সালে সারা বিশ্বের ত্রাস হয়ে উঠেছিল স্প্যানিস ফ্লু। প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই সংক্রমণের জেরে। আলাস্কার তুন্দ্রায় বরফের তলার গণ কবর দেওয়া হয়েছিল মানুষদের। সেই জায়গা থেকেই স্প্যানিস ফ্লু ভাইরাসের জেনেটিক অংশ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এমনকী একইভাবে সাইবেরিয়ায় বরফের তলা থেকে গুটি বসন্ত এবং বিউবোনিক প্লেগ-এর ভাইরাসও মিলেছে। ১৮৯০ সালে সাইবেরিয়াতে মহামারি আকার নিয়েছিল গুটি বসন্ত। ৪০ শতাংশ জনবসতি সাফ হয়ে গিয়েছিল এই রোগে।

ফ্রান্সের এইক্স-মারসেলি ইউনিভার্সিটি বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোবসের জন্য খুব ভাল সংরক্ষকের কাজ করে বরফের স্তূপ। কারণ অত্যন্ত ঠান্ডা, কোনও অক্সিজেন নেই এবং সূর্যের আলোও পৌঁছয় না। ফলে যুগ যুগ ধরে বরফের তলায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে এরা।

পৃথিবীর দুই প্রান্তে বছরের পর বছর ধরে যে বরফের আস্তরণ জমা হয়ে রয়েছে, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে তা প্রতিদিনই গলতে শুরু করেছে। ফলে বরফ স্তূপের গভীরে চাপা পড়ে থাকা এই সমস্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়াও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।


এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এইচ

বিস্তারিত খবর

করোনা সংক্রমণের সময় কোন কোন ফল বেশি করে খাবেন

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০১ ০৫:০৪:০১

কোভিড-১৯ এর দ্রুত সংক্রমণ রুখতে চলছে লকডাউন। এই সময় গৃহবন্দি হয়ে থাকার সময় আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার ব্যাপারে নানা ধরনের নিয়ম মেনে চলা জরুরি। তার মধ্যে অন্যতম খাদ্যাভ্যাস। কী খাব আর কী খাব না, সেটা বুঝে নেওয়াটা এখন খুব জরুরি। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সময় নানা ধরনের ফল খাওয়ার খুব প্রয়োজন। তাতে যে কোনও ধরনের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমাদের শরীর অনেক বেশি প্রস্তুত থাকতে পারবে।

বিভিন্ন ধরনের ফলের মধ্যে চিকিৎসকেরা মূলত লেবুজাতীয় ফল খাওয়ার উপরেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন।

চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাসের কথায়, লেবুজাতীয় নানা ধরনের ফলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি। আমাদের শরীরকে শক্তপোক্ত ভাবে ধরে রাখা, কোষগুলির মধ্যে যোগাযোগকে মসৃণ রাখার ব্যাপারে এক ধরনের প্রোটিনের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই প্রোটিনের নাম ‘কোলাজেন’। আমাদের শরীরই এই প্রোটিন তৈরি করে। ভিটামিন-সি সেই কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়ায় কার্যত অনুঘটকের কাজ করে।

প্রায় সব ধরনের লেবুজাতীয় ফলেই থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি। মুসাম্বি লেবু, পাতি লেবু, কাগজি লেবু, কমলা লেবু, বাতাবি লেবুতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি। তাই চিকিৎসেকরা বলছেন, গৃহবন্দিত্বের সময় বাড়ির খাওয়াদাওয়া বা অফিসে যেতে হলে টিফিনেও বিভিন্ন ধরনের লেবুজাতীয় ফলের এখন খুব প্রয়োজন। তাতে আমাদের শরীরে কোলাজেন তৈরির কাজটা সহজতর হবে।

অরিন্দম জানাচ্ছেন, একই সঙ্গে দরকার পেয়ারা খাওয়া। পেয়ারায় থাকে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন। দরকার আপেল খাওয়া। আর প্রয়োজন বেদানা। লোহার সঙ্গে নানা ধরনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে থাকে এই ফলগুলিতে।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, যে কোনও ধরনের ভিটামিন সব সময়েই আমাদের শরীরের পক্ষে উপকারী। আর করোনা সংক্রমণের জেরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে শরীরের প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সক্রিয় রাখার প্রয়োজন আরও বেড়ে গিয়েছে। তাই নানা ধরনের ফল এখন নিয়মিত ভাবে খাওয়া প্রয়োজন।


এলএবাংলাটাইমস/এম/এইচ/টি

বিস্তারিত খবর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে করোনা ভাইরাসের ১০ তথ্য

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৮ ১৯:৫৪:৪৭

নতুন করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ১৯০টি দেশে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়াই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। মুশকিল হচ্ছে—এই আতঙ্কের সঙ্গে ভাইরাসটি নিয়ে নানা বিভ্রান্তিও ছড়িয়ে পড়ছে। নানা সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে নানা পরামর্শ ও সুরক্ষা কৌশল।

এসব অপরীক্ষিত কৌশল ও পরামর্শ যদি সঠিক না হয়, তবে এ থেকেও বিপদ ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া পরামর্শই অনুসরণ করা উচিত। যেহেতু বিশ্বে করোনা ভাইরাসটি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের নানা সংস্থার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয়ের কাজটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই করছে, সেহেতু তাদের দেওয়া তথ্যের ওপরই নির্ভর করাটা মঙ্গলজনক। আসুন, দেখে নেওয়া যাক ভাইরাসটি নিয়ে চারপাশে কী কী বিভ্রান্তি রয়েছে এবং এগুলো সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কী বলছে—

উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়াতেও কোভিড-১৯ ছড়ায়
নতুন করোনা ভাইরাস উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সংক্রমিত হয় না বলে একটি তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে উচ্চারিত হতে শোনা যায়। তথ্যটি ভুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়াসহ সব ধরনের পরিবেশ এবং এলাকায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জলবায়ু ও আবহাওয়া যেমনই হোক, সতর্ক থাকুন। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে এমন এলাকা ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। মনে রাখবেন, কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত থাকার সবচেয়ে ভালো পথ হচ্ছে একটু পরপরই সাবান-পানি বা অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড রাব বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা। একই সঙ্গে হাত দিয়ে নাক, মুখ, চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় করোনা ভাইরাস মরে না
করোনা ভাইরাস বা অন্য কোনো রোগ প্রতিরোধে ঠান্ডা আবহাওয়া কার্যকর এমনটি ভাবার কোনো কারণই নেই। কারণ, বাইরের তাপমাত্রা যা-ই হোক না কেন, মানুষের শরীরের তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৯৭-৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) মধ্যেই থাকে।

গরম পানিতে গোসল করোনা ভাইরাস রোধে কার্যকর না
নতুন করোনা ভাইরাস থেকে প্রতিরোধের উপায় হিসেবে অনেকে গরম পানিতে গোসলের কথা বলছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গরম পানিতে গোসলের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকা যাবে না। কারণ, বাইরের তাপমাত্রা যা-ই হোক না কেন, মানুষের শরীরের তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৯৭-৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) থাকে। মনে রাখবেন, কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত থাকার সবচেয়ে ভালো পথ হচ্ছে একটু পরপরই সাবান-পানি বা অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড রাব বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা। এর মাধ্যমেই আপনার হাতে থাকা জীবাণু অপসারিত হবে। একই সঙ্গে হাত দিয়ে নাক, মুখ, চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

মশার মাধ্যমে নতুন করোনা ভাইরাস ছড়ায় না
সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় মশার মাধ্যমে নতুন করোনা ভাইরাস ছড়ায় কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা আছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মশার মাধ্যমে নতুন করোনা ভাইরাস ছড়ানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নতুন এই ভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ভাইরাস। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির সময় তাদের শ্বাসতন্ত্র থেকে নির্গত ড্রপলেট বা লালার বিন্দু বা নাক ঝাড়ার সময় নির্গত জলকণার মাধ্যমে ছড়ায়। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে একটু পরপর হাত পরিষ্কার করুন এবং হাত দিয়ে নাক-চোখ-মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। একই সঙ্গে হাঁচি-কাশি রয়েছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

সারা শরীরে অ্যালকোহল দিয়ে করোনামুক্ত থাকা যায় না
এককথায় উত্তর, ‘না’। পশ্চিমা দেশে এ ধরনের কিছু বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যে ভাইরাস এরই মধ্যে শরীরে প্রবেশ করেছে, তাকে মারতে সারা শরীরে অ্যালকোহল বা ক্লোরিন বা ব্লিচিং ছড়িয়ে কোনো লাভ নেই। এ ধরনের রাসায়নিকের সংস্পর্শ চোখ ও মুখের ত্বক ও ঝিল্লি (মিউকাস মেমব্রেন) ক্ষতি করে। এ দুইটি রাসায়নিকই ঘরদোর পরিষ্কারের কাজে লাগে। তবে ব্যবহারের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ মেনে ব্যবহার করতে হবে।

নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন করোনা থেকে সুরক্ষা দেবে না
না। নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন বা হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি ভ্যাকসিনসহ নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন শুধু নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধেই কার্যকর। এগুলো নতুন করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেবে না। এই ভাইরাস একেবারেই নতুন এবং আগেরগুলোর চেয়ে আলাদা যে এর প্রতিরোধে একেবারে নতুন ভ্যাকসিনেরই প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশের গবেষকরা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছেন, যেখানে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিদ্যমান ভ্যাকসিনগুলো কোভিড-১৯ -এর বিরুদ্ধে কার্যকর না হলেও শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা রোধে বিদ্যমান ভ্যাকসিন যে কোনো মানুষেরই গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিত্সকরা।

রসুন করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয় না
রসুন স্বাস্থ্যকর খাবার এবং এর রয়েছে অণুজীবনাশক ক্ষমতা। একইভাবে থানকুনি বা তুলসীপাতাও স্বাস্থ্যকর এবং এগুলোর নানা ঔষধি গুণ রয়েছে। কিন্তু এর কোনোটিরই করোনাপ্রতিরোধী কোনো ক্ষমতা নেই। এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

করোনা ভাইরাসে শুধু বয়স্ক ব্যক্তিরা আক্রান্ত হয় না
নতুন করোনা ভাইরাস সব বয়সি মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। বয়স্ক মানুষ বিশেষত যাদের অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, হূদেরাগসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা আগে থেকেই রয়েছে, তাদের ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সব বয়সি ব্যক্তিদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত হাত ধোয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাস সম্পর্কিত সু-অভ্যাসের ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ এবং এর চিকিত্সায় অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়
অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। এটি শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। নতুন করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ একটি ভাইরাস। তাই এর প্রতিরোধ বা চিকিত্সায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অনেক রোগীকে হয়তো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, সেগুলো করোনা ভাইরাসের চিকিত্সার জন্য নয়, বরং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ যেন না ঘটে, সেজন্য দেওয়া হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই
নতুন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বা এর চিকিত্সায় এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন উপসর্গ অনুযায়ী তাকে চিকিত্সাসেবা দিতে হবে। যাদের অবস্থা গুরুতর হবে, তাদের বিশেষ পরিচর্যার আওতায় নিতে হবে। এর ভ্যাকসিন ও চিকিত্সার জন্য সুনির্দিষ্ট ওষুধ তৈরিতে গবেষণা চলছে। এ সম্পর্কিত গবেষণার গতি বাড়াতে বিভিন্ন দেশে কাজ করে চলা গবেষক ও সংস্থাগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ আবিষ্কৃত হলে তার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে আগে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এইচ

বিস্তারিত খবর

ভ্যাকসিন পেতে লাগবে এক-দেড় বছর- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৭ ২২:৪৪:৩৯

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৯৬ হাজার সাতশ ২৩ জনে। তার মধ্যে ২৭ হাজার তিনশ ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য আক্রান্তের পর সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৩৩ হাজার তিনশ ৫৫ জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা বিশ্বব্যাপী ২৩ হাজার তিনশ ২৩ জনের অবস্থা গুরুতর। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভ্যাকসিন আসতে এখনো ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রধান টেডরস আডহানম চিকিৎসকদের অনুরোধ জানান, অন্যান্য উপসর্গ দেখে যেন চিকিৎসা দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানো হয়।

বিশ্বব্যাপী বিশাল সখ্যক মানুষের মৃত্যুকে মর্মান্তিক সংখ্যা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন ডাব্লিউএইচও'র প্রধান।

এম/এইচ/টি

বিস্তারিত খবর

শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৭ ০০:৫৭:৪৬

করোনাভাইরাস নিয়ে ব্যাপক আতঙ্কের মাঝে মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে কী করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জোরদার করা যায়?

জৈবিকভাবে যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে তা একবার দুর্বল হয়ে গেলে কোনো ওষুধেরই তা নিশ্চিতভাবে জোরদার করার ক্ষমতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকাডেমি অফ নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়াটিকস’য়ের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পুষ্টিবিদ ও মুখপাত্র মেলিসা মজুমদার বলেন, “কোনো ‘সাপ্লিমেন্ট’ই নিশ্চিতভাবে করোনোভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারবে না। যারাই এমনটা হয় বলে দাবি করছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে এফটিসি (ফেডারেল ট্রেড কমিশন) এবং এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)।”

খাবারের মাধ্যমে কীভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার শক্তি বজায় রাখা যায় সে ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন। তারই আলোকে জানানো হলো বিস্তারিত।

বেটা ক্যারোটিন: এই পুষ্টি উপাদানের উৎসের মধ্যে মিষ্টি আলু, আম, পালংশাক, ব্রকলি, বাঙ্গি, গাজর, ‘কেইল’, ‘অ্যাপ্রিকট’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বেটা ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ’তে রুপান্তরিত হয়। ভিটামিন এ শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয়। শরীরে আসা বিষাক্ত উপাদানের বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টিবডি’কে সক্রিয় করে তোলে এই ভিটামিন এ, জানান মজুমদার।

ভিটামিন সি: মজুমদার বলেন, “‘অ্যান্টিবডি’র রক্তে মাত্রা বাড়ায় ভিটামিন সি এবং শ্বেতকণিকাকে পৃথক হতে সাহায্য করে। এতে শরীর বুঝতে পারে কোন ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। শরীরে ভিটামিন সি’য়ের মাত্রা বেশি হলে তা সর্দিজ্বর থেকে নিরাময়ে সাহায্য করে।”

কমলা, আঙুর, কিউই, স্ট্রবেরি, লাল ও সবুজ মরিচ, ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি থেকে সহজেই প্রতিদিন ২০০ গ্রাম ভিটামিন সি পেয়ে যেতে পারেন, যা শরীরের জন্য প্রতিদিনই প্রয়োজন।

ভিটামিন ডি: সংক্রামক জীবাণু, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া চিহ্নিত করে ধ্বংস করে এমন এক প্রোটিনের নিয়ন্ত্রণ থাকে ভিটামিন ডি’র দখলে, জানান বস্টন ইউনিভার্সিটির ভিটামিন ডি গবেষণা বিশেষজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, “টি টু কিলার লিম্ফোসাইট’ নামক শ্বেত রক্তকণিকার কাজ ও সংখ্যা বদলাতে পারে এই পুষ্টি উপাদান। যা ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ আটকে দেয়।”

সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসার অভাবে ভিটামিন ডি’য়ের অভাব দেখা দিতে পারে, ফলে সকল সংক্রামক রোগের আশঙ্কা বাড়বে। চর্বিযুক্ত মাছ, ডিম, পাস্তুরিত দুধ, পনির, মাশরুশ ইত্যাদি ভিটামিন ডি’য়ের আদর্শ উৎস।

ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টও কাজে আসবে এর অভাব পূরণে। তবে তা করোনাভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারবে না। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন ডি’য়ের মাত্রা জানা যায়।

দস্তা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী কোষের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দস্তা। এর ‘সাপ্লিমেন্ট’ সাধারণ সর্দিজ্বরের সমস্যায় কার্যকর হতে পারে। ভোজ্য উৎসের মধ্যে আছে শিম, মটরশুঁটি, মসুর ডাল, বাদাম, বীজজাতীয় খাবার, যব, কাঁকড়া, চিংড়ি, গরুর মাংস, টকদই ইত্যাদি।

প্রোটিন: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী কোষ ও ‘অ্যান্টিবডি’ গঠনের মূল উপাদানই প্রোটিন। উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উভয় উৎস থেকেই প্রোটিন মেলে। যেমন- মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস, দুধ, টকদই, ডিম, পনির, বাদাম, ডাল, শিম ইত্যাদি।

প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিকস: ‘মাইক্রোবায়োম’য়ের সুস্বাস্থ্য বজার রাখে এই দুটি উপাদান, যা পক্ষান্তরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। গাঁজানো দুগ্ধজাত খাবার, আচার, শষ্যজাতীয় খাবার, পেঁয়াজ, রসুন, শিমের দানা ইত্যাদি থেকে এই উপাদান দুটোই পেতে পারেন সহজেই।

সবশেষ বলতে হয় পর্যাপ্ত পানি পানের কথা।

মজুমদার পরামর্শ দেন, প্রতিদিন পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩.৭ লিটার এবং নারীদের ক্ষেত্রে ২.৭ লিটার তরল গ্রহণ করাতে হবে।

এম/এইচ/টি

বিস্তারিত খবর

করোনা প্রতিরোধে লস এঞ্জেলেস প্রবাসী সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. নাসিমার পরামর্শ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৩ ০২:৩১:২৬

সারা বিশ্বের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফার্নিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছে মরনব্যধি করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়াকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ নামের এই ভাইরাস প্রতিরোধে পরামর্শ দিয়েছেন লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক, সংক্রামক রোগব্যাধির অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান এবং সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ‌ ডা. নাসিমা বেগম।
এলএ বাংলটাইমসের সাথে আলাপকালে তিনি সবার জন্য এই পরিস্থিতিতে কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করা যায় এবং নিজেকে কিভাবে সুরক্ষিত রাখা যায় এব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যধি। যা ইতোমধে সারা বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর যা চিনের হোবেই প্রদেশে প্রথম ধরা পড়ে। মাত্র ১১ সপ্তাহে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে। তার মানে এটি অত্যন্ত শক্তিশালি একটি ভাইরাস। এটি মূলত পশুদের একটি ভাইরাস ছিল যা এখন মানুষের শরীরে এসেছে। তাই এর ঝুঁকি প্রতিরোধে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এটি যেহেতু এখন সবখানে ছড়িয়ে গেছে, একজনের মাধ্যমে আরেকজনের মধ্যে ছড়াচ্ছে। কাজেই কোনভাবে একজন আক্রান্ত হলে এর মাধ্যমে তার পরিবার ও আশপাশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাকে সামনে রেখে করোনা প্রতিরোধে ডা. নাসিমার পরার্শ হলো: হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে বারবার খুব ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। কমপক্ষে বিশ সেকেন্ড। হাতের উপরে-নিচে, আঙ্গুলের ফাঁকে, নোখের মাঝে পরিস্কার করতে হবে। এক্ষেত্রে সাবান-পানি এবং এলকোহেল বেজড সেনিটাইজার ব্যবহার করা যায়। তারপর ব্লিচিং পাউডার দিয়ে সেনিটাইজার বানিয়ে ঘরের সবেচেয়ে বেশি যে স্থানগুলোতে হাত দিতে হয় যেমন: দরজার নব, কিচেনের কাউন্টারের উপর, কম্পিউটারের কি-বোর্ডে, গাড়ির দরজাতে, টেলিফোনে- এসব স্থানে মুছে মুছে জীবণুমুক্ত করতে হবে। হ্যান্ডশেক থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না। কারও সাথে কথা বলতে হলে ৩-৬ ফিট দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে। হাঁচি-কাঁশি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। তারপর টিস্যুটি ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
কমিউনিটি  এবং দেশ-বিদেশের সবার জন্য এই সতর্কতাগুলো মেনে চলতে অনুরোধ জানান ডা. নাসিমা।

বিস্তারিত খবর

যে লক্ষণে বুঝবেন আপনি করোনায় আক্রান্ত

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২২ ১৩:১৮:১২

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস আতঙ্ক সারা পৃথিবীকে গ্রাস করেছে। সেইসাথে এ রোগ নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এ সময়ে করোনা সংক্রান্ত সঠিক তথ্যটি জেনে রাখা খুবই প্রয়োজন।সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিশেষজ্ঞরা এই ভাইরাসের কিছু লক্ষণ খুঁজে বের করেছেন। তবে এই লক্ষণগুলো থাকলেই তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, ব্যাপারটি এমন নয়। অনেকসময় সাধারণ ফ্লুও হতে পারে। জ্বরআবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এখন জ্বর হওয়া অনেক স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে সময়টা যেহেতু কোভিড-১৯ এর, ফলে জ্বর হলে ভয় পাচ্ছেন অনেকেই। কারণ করোনাভাইরাসের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো জ্বর। তাই জ্বর যদি ৭ দিনের বেশি থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।কানে ব্যথা করোনাভাইরাসের আরেকটি লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কানে ব্যথা। কানে তীব্র বা মৃদু ব্যথা থাকতে পারে। কানের ভেতরে চাপ অনুভূত হতে পারে। কানে ব্যথা থাকলে মাসাজ করা যাবে না- বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।মাথাব্যথা সাধারণ ফ্লু এর ক্ষেত্রে মাথাব্যথা থাকতে পারে। ডিহাইড্রেশন হয়েও সেই সময় মাথাব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেলে এই ব্যথা সেরে যায়। তবে করোনাভাইরাসের কারণে মাথাব্যথা হলে প্যারাসিটামল খেয়েও সাধারণত ব্যথা কমে না।চোখ জ্বালাপোড়া ঘুম কম হওয়া, টেনশন বা রেটিনার সমস্যার কারণে চোখ জ্বালাপোড়া করতে পারে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার লক্ষণ হিসেবেও চোখ জ্বালাপোড়া করতে দেখা গেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেক রোগীর শারীরিক লক্ষণগুলোর মধ্যে ছিল চোখ জ্বালাপোড়া করা।গলাব্যথা করোনাভাইরাসের অন্যতম লক্ষণ হলো গলাব্যথা। সাধারণ ঠান্ডাজনিত সমস্যা ও টনসিলের কারণে গলাব্যথা থাকতে পারে। তবে এখন যেহেতু সারাবিশ্ব করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে, ফলে গলাব্যথা থাকলেও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।গায়েব্যথাকরোনাভাইরাসের আক্রান্ত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা হলো, গায়ে প্রচন্ড ব্যথা ছিল তাদের। বিশেষ করে হাত ও পায়ে। সাধারণ জ্বরের ক্ষেত্রেও হাত, পায়ে ব্যথা থাকতে পারে। তবে করোনাভাইরাসের লক্ষণ হিসেবে যেহেতু এই সমস্যাটি পরিচিত, ফলে অবহেলা করার উপায় নেই।শ্বাসকষ্ট করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হলে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এ পর্যন্ত বেশিরভাগ করোনা রোগীর ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দেখা গেছে। সুতরাং শ্বাসকষ্ট যে কারণেই হোক, সচেতন থাকতে হবে।ক্ষুধা মন্দা করোনাভাইরাসের অন্যতম লক্ষণ হলো খেতে ইচ্ছা না করা। ক্ষুধার অনুভূতি থাকে না। ফলে শরীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি আসতে পারে।বুকে ব্যথা বুকে ব্যথা, ভার অনুভূত হওয়া, কফ জমে থাকাও করোনাভাইরাসের লক্ষণ। ফলে এমন সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

বিস্তারিত খবর

৬০ দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-০১ ০৯:৪৪:৩৩


বিশ্বের ৬০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এসব দেশের প্রায় ৮৭ হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ।

চীনে গত সপ্তাহ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। তবে রোববার হঠাৎ করেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আক্রান্ত ৫৭৩ জনের মাত্র তিন জন হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের বাসিন্দা। এই উহান থেকেই ছড়ানো শুরু হয় নতুন করোনাভাইরাসটি।

এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮৫ জন বেড়ে ৯৭৮ এ পৌঁছেছে। আক্রান্ত আরো ১১ জনের মৃত্যু হওয়ায় রোববার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

চীনের পর নতুন করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। রোববার আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮৬ জন বেড়ে তিন হাজার ৭৩৬ এ পৌঁছেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৭৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি জাপানে করোনা আক্রান্ত প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসে ছিলেন।

কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়ার পরও রোববার যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তিন জন। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের কেউই বিদেশ সফরে যাননি কিংবা করোনা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে যাননি। এরপরও কী করে এরা আক্রান্ত হলেন তা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন চিকিৎসা কর্মকর্তারা।

ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার বলেছেন, ‘আমরা আরো আক্রান্তের ঘটনা দেখতে পাব।’

সম্প্রতি আফ্রিকার সাহারা অঞ্চলের কয়েকটি দেশ, কাতার, ইকুয়েডর, লুক্সেমবার্গ, ও আয়ারল্যান্ডেও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিস্তারিত খবর

ওজন কমাতে স্বাস্থ্যকর বাঁধাকপির স্যুপ

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৩ ০৫:১১:২৫

শীতের আমেজ এখনও রয়ে গেছে প্রকৃতিতে। শীতের সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যকর বাঁধাকপির স্যুপ পরিবেশন করতে পারেন। যারা বাড়তি মেদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, তারা নিশ্চিন্তে এই স্যুপ রাখতে পারেন খাদ্য তালিকায়। জেনে নিন কীভাবে বানাবেন বাঁধাকপির স্যুপ। 

উপকরণ
অলিভ অয়েল- ২ টেবিল চামচ
আদা- ১ ইঞ্চি (কুচি)
রসুন- ২ কোয়া  (কুচি)
পেঁয়াজের কলি কুচি- ৪ টেবিল চামচ
বাঁধাকপি কুচি- ২ কাপ
গাজর- ১টি (কুচি)
ক্যাপসিকাম- ১টি (কুচি)
লবণ- স্বাদ মতো
ভিনেগার- ১ টেবিল চামচ
গোলমরিচ গুঁড়া- আধা চা চামচ
পুদিনা পাতা কুচি- ২ টেবিল চামচ
ধনেপাতা কুচি- ২ টেবিল চামচ
কর্নফ্লাওয়ার- ১ টেবিল চামচ
প্রস্তুত প্রণালি
একটি কড়াইয়ে অলিভ অয়েল গরম করে আদা কুচি, রসুন কুচি ও পেঁয়াজের কলি কুচি দিয়ে নেড়ে নিন। বাঁধাকপি কুচি, গাজর কুচি ও ক্যাপসিকাম কুচি দিয়ে দিন। উচ্চতাপে ২ মিনিট নাড়ুন। ৪ কাপ পানি দিয়ে দিন। স্বাদ মতো লবণ দিয়ে ২ মিনিট ফুটান। কর্নফ্লাওয়ার সামান্য পানিতে গুলে দিয়ে দিন কড়াইয়ে। ভিনেগার, গোলমরিচ গুঁড়া দিয়ে নেড়ে নিন। ধনেপাতা কুচি ও পুদিনা পাতা কুচি দিয়ে নামিয়ে নিন স্যুপ। পরিবেশন করুন গরম গরম।

বিস্তারিত খবর

বয়সে নয়, মানসিক চাপেও চুল পাকে

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৩ ০৫:০৮:৪৫



বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল সাদা হয় এ ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের একদল গবেষক। মানসিক চাপেও চুল পেকে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

গবেষকরা কয়েকটি ইঁদুর ব্যবহার করে দেখেন, ইঁদুরের শরীরের যে কোষগুলো তাদের লোমের রং নির্ধারণ করে, গবেষণার সময় সেই কোষগুলো মানসিক চাপ নিতে পারেনি। ফলে লোম পেকে গেছে। কয়েক বছর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর গবেষণায় দেখা যায়, কালো রঙের ইঁদুরগুলোর লোম পেকে সাদা হয়ে যাচ্ছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়াসিয়া সো বলেছেন, এর ফলে বলা যায় মানসিক চাপ মাথার চুল ও গায়ের রঙে বদল আনতে পারে। এই চাপ শুধু শরীরের জন্য খারাপ নয়, এর অন্যান্য নানা ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে।

গবেষণার শেষ দিকে দেখা যায়, ইঁদুরের যে কোষগুলো শরীরের রং তৈরি করে, সেগুলো সব ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে গবেষণার প্রথম স্তর মাত্র পার হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ইয়াসিয়া। এ ব্যাপারে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য, সাধারণত ৩০-এর কোঠা থেকে নারী-পুরুষের চুলে পাক ধরা শুরু হয়। কিন্তু বয়স ছাড়া মানসিক চাপও চুল পাকার ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করতে পারে। তবে ঠিক কোন ধরনের চাপে চুলের রঙে প্রভাব পড়ে সে ব্যাপারে তারা এখনও কিছু বলেননি।

বিস্তারিত খবর

শিশুর শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে তাৎক্ষণিক কী করবেন

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-১৮ ০৩:১৯:৪৫


ছোট শিশুদের সবকিছু মুখে দেওয়ার অভ্যাস। একটু অসাবধান হলেই মুখে দেওয়া এই বস্তু শ্বাসনালিতে আটকে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। এ ধরনের দুর্ঘটনা যত দ্রুত শনাক্ত করা যায় ততই মঙ্গল।

হঠাৎ যদি কোনও বাচ্চার কাশি শুরু হয় বা বিষম খেতে শুরু করে এবং যদি এমন হয় যে ঠিক তার আগেই বাচ্চা ছোট কোনও বস্তু নিয়ে খেলছিল তবে বুঝতে হবে গলায় কিছু আটকে গেছে। এ ক্ষেত্রে বাচ্চার মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বের হতে পারে। কাশি থাকলেও জ্বর, সর্দি থাকবে না। সন্দেহ হলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে।

তৎক্ষণাৎ করণীয়: শ্বাসনালিতে কিছু ঢুকে গেলে শিশুর মুখ খুলে যদি জিনিসটি দেখতে পান, সাবধানতার সঙ্গে বের করে ফেলুন। তবে দেখা না গেলে খোঁচাখুঁচি করবেন না, এতে আটকে যাওয়া জিনিসটি আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। বাচ্চা যদি কাশতে থাকে তবে তাকে কাশতে দিন। এতে কাশির সঙ্গে আটকে যাওয়া জিনিসটি বের হয়ে আসতে পারে। যদি শ্বাসকষ্ট হয় তবে শিশুর পিঠ চাপড়ে দিন। বাচ্চার বয়স এক বছরের কম হলে আপনি টুল বা চেয়ারের ওপর বসে শিশুকে আপনার কোলের ওপর আড়াআড়িভাবে উপুড় করে শুইয়ে, মাথা ঝুলিয়ে দিন।
এরপর শিশুর পিঠের মাঝখানে, একটু ওপরের দিকে আপনার হাতের তালুর নিচের অংশ দিয়ে জোরে জোরে পাঁচবার চাপড় দিন। কাজ না হলে আবার করতে পারেন। বয়স বেশি হলে শিশুর পেছনে হাঁটু মুড়ে বা সোজা হয়ে দাঁড়ান, শিশুর বগলের নিচ দিয়ে দুই হাত ঢুকিয়ে, জাপটে ধরার ভঙ্গিতে শিশুর পেটের ওপরের অংশ বরাবর আপনার হাত রাখুন।

এরপর এক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে, শিশুর বুকের সামনে চওড়া হাড়ের নিচে, যেখানে দুই পাশের পাঁজরের শেষের হাড়টি মিলিত হয়েছে সে জায়গায় রাখুন। এবার অন্য হাত দিয়ে এই হাতটির কবজি চেপে ধরুন, দুই হাত দিয়ে ওপর এবং ভেতর দিক বরাবর শিশুর পেটে জোরে চাপ দিন। পরপর পাঁচবার চাপ দিন। এতে যদি কাজ না হয় কিংবা শিশুর যদি জ্ঞান না থাকে সে ক্ষেত্রে কাউকে সাহায্যের জন্য ডাকুন।

মুখ থেকে মুখে বা নাকে শ্বাস দিন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ছোট পুঁতি, মার্বেল, বোতাম, ফলের বিচি, ছোট পার্টসযুক্ত খেলনা শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত। শিশুদের খেলনা বা জামা কেনার সময়ও পুঁতি, ঘন্টিওলা না কেনাই ভালো।

বিস্তারিত খবর

যারা যত বুদ্ধিমান তারা তত নিঃসঙ্গ: গবেষণা

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-০৫ ১০:৩৬:২৭

আপনার কি বন্ধু কম? এসব নিয়ে খুব চিন্তিত আপনি? তাহলে এ নিয়ে একদমই ভাববেন না। কারণ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা যত বেশি বুদ্ধিমান তারা তত নিঃসঙ্গ। মূলত বুদ্ধিমানরা একা থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। আর এই তথ্য পাওয়া গেছে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের এর সমীক্ষায়।

প্রায় ১৫ হাজার ১৮ থেকে ২৮ বছরের মানুষকে নিয়ে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। সমীক্ষায় উঠে আসে, যাঁরা বহু মানুষের সঙ্গ পছন্দ করেন না, তাঁরা খানিকটা হলেও বেশি বুদ্ধিমান। এঁরা একা থাকার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আনন্দ খুঁজে পান। এর পিছনে নানা কারণ থাকতে পারে। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, নিজেদের জীবনের লক্ষ্য জয় করতেই তাঁরা বেশিরভাগ সময় দেন ও তাই একা থাকতে পছন্দ করেন।

বিস্তারিত খবর

এখন থেকে প্রেগনেন্সী স্ট্রিপে দেখা যাবে সন্তানের বাবার ছবি!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৪ ০৪:০২:৩৩

‘পাগলি টা মা হয়েছে বাবা হয় নি কেউ?’ রাস্তায় নবজাতক পড়ে দেখলেই এসব স্ট্যাটাসে সয়লাব হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক। তখন আবেগখেকো বাঙালির আবেগের মাত্রা কয়েকগুন বেড়ে যায়। সবাই ছি ছি করতে থাকে নবজাতক পিতার উপর।

খবর যখন টেলিভিশন আর সংবাদ মাধ্যমে ঝড় তুলে তখন শিশুর পিতা মাতার খোজ খবর নেওয়ার জন্যে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

অনেক পিতলা ঘুঘু (প্রেমিক) এসব কাজ করে প্রেমিকাকে ছেড়ে দেয়। ফলে প্রেমিকাকে পড়তে হয় বাজে অবস্থায়। অনেক সময় এসব পিতলা ঘুঘুরা নাক মুখ মুছে অস্বীকার করে।

সামাজিক চাপের দায়ে প্রেমিকাও চেপে যায় প্রমানের অভাবে তারা কিছু করতে পারে না। নিজের ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে নবজাতক কে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে না মা।

ভ্রুন হত্যা পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যা হলেও বর্তমান বিশ্ব আকারে ইঙ্গিতে এটিকে বৈধতা দিয়ে যাচ্ছে। লিভ টুগেদার সংস্কৃতি ক্রমশ এটিকে আরো সহজ করে তুলেছে।

তাই ভ্রুনহত্যা ঠেকাতে শীঘ্রই প্রেগনেন্সী টেস্টে যুক্ত হতে যাচ্ছে আগত সন্তানের বাবার ছবি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানীরা এমন টাই জানিয়েছেন গত সোমবার।

প্রেগনেন্সী টেস্ট পজিটিভ হলে সাথে সাথে স্ট্রিপে ভেসে উঠবে বাবার ছবি। এতে কে আসল বাবা এটি খুব সহজে ই শনাক্ত করা যাবে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। তাই কেউ আর অস্বীকার করতে পারবে না।

২০২০ সালের মধ্যে এই স্ট্রিপ বাজারে ছাড়া হবে বলে আশ্বাস দেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।

বিস্তারিত খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় নৌকায় আগুন, নিহত ৮ নিখোঁজ ২৬

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৩ ০২:১৬:২৬

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি দ্বীপে নৌকায় আগুন লেগে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২৬ জন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, নৌকাটিতে মোট ৩৯ জন মানুষ ঘুমিয়েছিলেন। এ পর্যন্ত পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আর মৃ্ত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে আটজনের।

স্থানীয় এক কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সোয়া ৩টার দিকে সান্তা ক্রুজ দ্বীপ থেকে ছেড়ে আসার অল্প সময় পরই ৭৫ ফুট লম্বা নৌকাটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন লাগার কিছুক্ষণ পরই নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় নৌকার বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমাচ্ছিলেন। ফলে তারা পালাতে পারেননি। তবে নৌকার ডেকে থাকা পাঁচ নাবিক দ্রুত একটি সেতুতে নেমে পড়েন। ফলে বেঁচে যান তারা।

খবরে আরো বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে দমকল বাহিনীর লোকজন ও ডুবুরিরা। এরইমধ্যে দুই নারীসহ আটজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২৬। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।

বিস্তারিত খবর

দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৩ ০২:১৩:০৯

অনেকেই রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন। জানেন কি, তাদের অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা যায় দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার কারণে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক জটিলতার শিকার হতে হয়।
যুক্তরাজ্যের ৪ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায় সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা ব্যক্তিদের চেয়ে রাতজাগা মানুষের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা ১০ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞানীরা এ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য চার ধরণের মানুষকে বেছে নিয়েছেন। যারা প্রতিদিন নিয়মিত সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে দেরি করে ঘুমান এবং যারা প্রতিরাতে নিয়মিত রাত জাগেন। এই চারটি ক্যাটাগরিতে থাকা অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৩৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। পরে এই গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক ক্রোনবায়োলজি জার্নালে প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় যে ব্যক্তি নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তার গড় আয়ু রাতজাগা ব্যক্তিদের থেকে সাড়ে ছয় বছর বেশি।

তবে এর সঙ্গে ব্যক্তির বয়স , লিঙ্গ, গোত্র, ওজন, আর্থসামাজিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় জড়িত। এই সবগুলো বিষয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেব শেষেই দেখা যায়, সকাল বেলায় যারা ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের অকাল মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম। আর যাদের দেহঘড়ি অনিয়মে চলে তাদের এই ঝুঁকি বাড়তেই থাকে।
রাত জাগার বদভ্যাস যারা গড়ে তুলেছেন তাদের ৯০ শতাংশ বিভিন্ন মানসিক ব্যাধির শিকার হন। ৩০ শতাংশের থাকে ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। এছাড়া স্নায়বিক সমস্যা থেকে শুরু করে অন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টেন নুটসন জানান, অবেলায় খাওয়া দাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ব্যয়াম না করা, রাতে ঘুম থেকে ওঠা বা মাদক সেবন এ ধরণের বদভ্যাসের পেছনে প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ। এমন বিভিন্ন অনিয়মের ফলে মানুষের ঘুমের সময় ওলট পালট হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

তবে রাত জাগার কারণে আপনার শরীর মন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে, এমনটাও ভাবার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন অধ্যাপক নুটসন। তিনি জানান, শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ জৈব প্রক্রিয়া বা দেহঘড়ির পরিচালনা নির্ভর করে জিনের বৈশিষ্টের ওপর। বাকিটা তার বয়স ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
নিজের দেহঘড়িকে নিয়মের মধ্যে আনতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা। চলুন জেনে নেয়া যাক সেইগুল-

১. আপনার শোবার জায়গাটা এমন হতে হবে যেখানে সূর্যের আলো সহজেই পৌছায় কিন্তু রাতের বেলা অন্ধকার থাকে।

২. প্রতিরাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং সেটা যেন খুব দেরিতে না হয়।

৩. সুস্থ লাইফস্টাইলের জন্য যে অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা প্রয়োজন সেগুলো আয়ত্বে আনতে নিজের প্রতি কঠোর হওয়া। ঘুমের সময়ের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আপস করা যাবে না।

৪. দিনের কাজ দিনের মধ্যেই শেষ করে ফেলার চেষ্টা করা।

৫. ঘুমানোর সময় মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার থেকে দূরে থাকা।

বিস্তারিত খবর

কোয়েলের ডিমের যত গুণ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-৩১ ০৬:৩৩:০৩

মুরগির ডিমের চাইতেও বেশি প্রোটিন থাকে কোয়েলের ডিমে। এই ডিমে প্রোটিন ছাড়া আরও মিলবে ফসফরাস, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, ফলেট, ভিটামিন এ, ই, ডি এবং বি-১২। জেনে নিন কোয়েলের ডিম খেলে কী কী উপকার পাবেন।

    উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় কোয়েলের ডিমে থাকা পটাশিয়াম।    কোয়েলের ডিমে থাকা প্রোটিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।    রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করে।    কোয়েলের ডিমে ওভোমুকোয়েড প্রোটিন আছে। এটি শরীরের প্রাকৃতিক অ্যান্টি অ্যালার্জিক হিসেবে কাজ করে।    রক্তশূন্যতা দূর করে।    কিডনি ও লিভার ভালো রাখে। কোয়েলের ডিমে থাকা একটি উপাদান ‘লেসিটিন।’ এই উপাদানটি কিডনিতে পাথর হওয়া রোধ করে।    এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ঠাণ্ডাজাতীয় সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দেয়।    এতে থাকা ভিটামিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে। 
জেনে নিন
যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি তারা অতিরিক্ত কোয়েলের ডিম খাবেন না। কোনও ধরনের এলার্জি বা শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন ডিম।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত