মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
অনিয়ম দুর্নীতি কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে সরকারের আগ্রহ বেশি : সুলতানা কামাল
বাপার সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, অনিয়ম, দুর্নীতি আর অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের আগ্রহ বেশি। আর এজন্য পরিবেশের ক্ষতি হলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবনের পাশে নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা এ ব্যাপারে পরিবেশবাদিদের কোনো কথায় তারা কান দিচ্ছে না।
জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অপ্রতিরোধ্য এক বিপ্লব চলমান! শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে সারাবিশ্ব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি একথা বলেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও ব্লু প্লানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই)’র যৌথভাবে অয়োজিত গতকাল এ সেমিনারে তিনি আরো বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ঝুঁকি এবং দূষণ দু’ই কম। অথচ আমরা এই ক্ষেত্রে তেমন কিছুই করতে পারছি না। অনিয়ম, দুর্নীতি আর রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা এই খাতকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিকগুলোর সম্ভাবনা খুঁজতে হবে। জনগণকে প্রাধান্য দিতে হবে।
বাপার সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, ৪০ বছর আগে বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ শুরু করলেও সন্তোষজনক জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। এই খাতে বিপ্লব প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা সমস্যায় জর্জরিত। খুব ভালো দিক নির্দেশক যদি পাওয়া যায় তবে এ থেকে উত্তরণ সম্ভব। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,জনগণ তাদের প্রকৃত উন্নয়নের সুপল পেতে কাঙ্খিত নেতৃত্ব একদিন ঠিকই পাবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, কয়লা, তেল, গ্যাস একদিন হারিয়ে যাবে। কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানি হারাবে না। অথচ আমাদের দেশের বাস্তবতা ভিন্ন, এখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে না। ২০২১ সাল নাগাদ জাতীয় গ্রিড মোট ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করবে সরকার। সেখানে ১০ ভাগ সোলার থেকে উৎপন্ন হবে। সরকারের এমন পরিকল্পনা থাকলেও সে অনুযায়ী কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে যে হারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপন্ন হচ্ছে তাতে ২ ভাগও সম্ভব নয়।
অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে না গিয়ে কারো কারো স্বার্থ রক্ষার জন্য গ্যাস ও কয়লায় জোর দিচ্ছে। অথচ আমরা গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে নই। এছাড়া কয়লার ব্যবহারও যতোটা সম্ভব কমাতে হবে। আর রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রতো কোনোভাবেই করা সমীচীন হবে না।
তবে ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাপারে সত্যিই কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এজন্য ধৈয্য ধরতে হব্যে। একবার সুযোগ সৃষ্টি হলে জনগণই নিজ উদ্যোগে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিকে ঝুঁকে পড়বে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সাজিদ কামাল তারা মুল বক্তব্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। যেখানে অন্যান্য জ্বালানির চেয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুবিধা এবং বাংলাদেশে এর সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন