মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগের মুখে বিষয় ঘোরাতে চাইছে ক্যালিফোর্নিয়া
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড কোন গুপ্ত হত্যা ছিল না : সৈয়দ আবুল মকসুদ
বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড কোন গুপ্ত হত্যা ছিল না। এ হত্যাকাণ্ড ছিল একটি বড় রকমের জিঘাংসা। সে নেতার হত্যাকাণ্ডের পর একটি বিশাল দল ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু সে দলের ভেতর থেকে যাদেরকে প্রতিবাদ করার কথা ছিল তারা তা করেনি।
জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শুক্রবার ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা ও তার প্রতিবাদ-প্রতিরোধ শীর্ষক’ আলোচনা সভায় সৈয়দ আবুল মকসুদ একথা বলেন। এতে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলোচনা সভার আয়োজক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।
সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, বাংলাদেশে যদি মুক্তিযুদ্ধের তালিকা কলা হয় তাহলে তাতে এক নম্বরে থাকবে কাদের সিদ্দিকীর নাম। অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ করেছে। তবে একাত্তরে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল এবং তখনকার পরিস্থিতি এপ্রজন্মের কাউকে বোঝানো যাবে না। সেসময়ে সেনাবাহিনীর বাঙালী কর্মকর্তারা বিদ্রোহ করতে পারতেন। এবং বিদ্রোহ করা ছাড়া তাদের অন্য কিছু করা চিন্তা করা যেত না।
হয়ত তাদের বহিস্কার করা হত আবার তাদের মেরে ফেলাও হত। অথবা পাকিস্তানের দালালি করতে বাধ্য করা হত। কিন্তু একজন সিভিলিয়ান হিসাবে কাদের সিদ্দিকীর দ্বারা মুক্তিযদ্ধে একটি বাহিনী গড়ে তোলা এবং এশিয়ার মধ্যে একটি শক্তিশালি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কোন ছোট খাটো ব্যাপার না। আর একারণে সে সময় তার খেতাব ছিল বাঘা সিদ্দিকী বা টাইগার সিদ্দিকী। অপরদিকে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা ও তার প্রতিবাদ-প্রতিরোধে গড়ে তোলা বাহিনীর সংগ্রামের ইতিহাসও একটি মাইলফলক দেশে। তিনি বলেন, আমার আশা ছিল এমন ধরণের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত থাকবেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ আরো বলেন, ‘আমার সুযোগ হয়েছিল ১৭ আগস্ট বঙ্গভাবনে যাওয়ার। কিন্তু সেখানে সে দৃশ্য দেখেছি আর আজ এখানে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় ঐ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রতিরোধকারী যে বক্তব্য রেখেছে তার তুলনা হয় না।’ তিনি বলেন, সেই প্রতিবাদকারী ও প্রতিরোধে যোদ্ধারা এখন অবহেলিত, কেউ হার্টের চিকিৎসায় টাকায় পাচ্ছেন না। কারো জীবন নানান কষ্টে দুর্বিসহ। তবে সরকার তাদের অবহেলা করলেও ইতিহাসে তারা অনেক মুল্যবান অবস্থানে আছেন। কারণ এরা একটা বিরাট রকমের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কত লোক কত মানুষ ভাতা পাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে এখন মুক্তিযোদ্ধায় ছেয়ে গেছে। পাঁচ বছর বা দশ বছর আগেও এত মুক্তিযোদ্ধা দেখিনি।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এর প্রতিবাদে বঙ্গবীরের নেতৃত্বে যারা অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন তাদের বীরত্বের কাহিনী শুনতে দাওয়াতের প্রয়োজন নেই। এমনিতেই তারা উপস্থিত থাকতে পারতেন। তিনি বলেন, একটি জাতির একজনই প্রতিষ্টাতা থাকে না। তার নেতৃত্বে একটি দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে নেতাকে এভাবে মেরে ফেলা একটি বর্বরোচিত ঘটনা।
কৃষকশ্রমিকজনতালীগেরসভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন,আওয়ামীলীগের পৃথিবী দখল করার শক্তি থাকতে পারে কিন্তু বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করার শক্তি রাখেনা। আওয়ামী লীগ আমাকে বহিষ্কার করার ৮দিন আগে আমি আওয়ামী লীগকে বহিষ্কার করেছিলাম। কাদের সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একটা জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি বঙ্গবন্ধু নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছি যে কদিন বেঁচে থাকবো বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই রাজনীতি করে যাবো। তিনি বলেন, আমি চাই দেশে একটা সম্মন জনকপরিস্থিতি তৈরী হোক। একটা ভারসাম্য তৈরী হোক। এটা দানবের নয় মানবের দেশ। এটাই হলো আমাদের পরিচয়।
অপরদিকে ডাকসু’র সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনুসুর আহমদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা ও তার প্রতিবাদ-প্রতিরোধে যোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে শীর্ষ পর্যায়ে চারবার সুপারিশ করেও লাভ হয়নি। তিনি বলেন, সেদিন জীবন বাজি রেখে অর্ধাহারে অনাহারে থেকে যে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয় তাতে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর মান উজ্জ্বল হয়। বিশ্ববাসীর টনক নড়ে যে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে দেশের ভেতরে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হচ্ছে। তিনি বলেন, সেদিন প্রতিবাদ না করা হলে আজকে আওয়ামী ক্ষমতায় থাকতে পারত না। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম-সম্পাদক প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকীসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন