জামায়াত দেশের শত্রু, তাদের এদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই : অর্থমন্ত্রী
জামায়াত দেশের শত্রু, তাদের এদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বিরোধী শক্তি দেশকে আবার অরাজকতার দিকে ঠেলে দিতে চক্রান্ত করছে।’
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডার অ্যাসোশিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি কাজী জাহাঙ্গীর আলম।
বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে বিষয়টি অনেকটা জটিল। জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
‘অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালিয়ে সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়’- একটি বড় দলের এমন মন্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এক্ষেত্রে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ ধরনের কথা একমাত্র জামায়াত বলতে পারে। যিনি বলেছেন তিনি নিশ্চয়ই জামায়াতের বন্ধু।’
জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকে নিন্দনীয় এবং ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। ঘটনার তদন্ত শেষে খুব দ্রুত ঘটনার বিচার হবে।
গত শনিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠান চলাকালে অতর্কিতে হামলায় ছুরিকাহত হন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এ ঘটনায় হামলাকারীকে সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলে। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিলেটে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের প্রখ্যাত এই শিক্ষাবিদকে ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
জানা গেছে, হামলাকারী ফয়জুরের মামা কৃষক লীগের নেতা। এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্ন তুলেন যে, এই হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগ জড়িত কি না? সচিবালয়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা তো জামায়াতের ভাষায় কথা হয়ে গেল। জামায়াত দেশের শত্রু। তাদের এক্ষুণি দেশ থেকে বের করে দেওয়া উচিত।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে জামায়াতের প্রসঙ্গ আসায় একজন সাংবাদিক তখন বলেন, ‘জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের একটি সিদ্ধান্ত আছে। আইন মন্ত্রণালয় এটির খসড়া করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমাও দিয়েছে। তাহলে সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে বিলম্ব করছে কেন?’
জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে সমস্যা আছে। সবকিছু দেখেশুনে এগোতে হচ্ছে।’
সাংবাদিকেদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়ে, ড. জাফর ইকবালের ওপর হওয়া জঙ্গি হামলার ঘটনা এটা প্রমাণ করে কি না যে, দেশে জঙ্গিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে?
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় জঙ্গিরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে। দু-একটি ঘটনা ঘটছে, জঙ্গিরা ধরাও পড়ছে, বিচারও হচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন