আদালতকে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখেছে সরকার : ফখরুল
সরকার আদালতকে ব্যবহার করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
২১ জুন, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’-এর আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরুল এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের আদালত হচ্ছে আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। অথচ এখন সেই আদালতে যেতেও আমাদের ভয় হয়। কারণ আদালতকে ব্যবহার করেই দেশের জনপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে।’
বাংলাদেশকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘কেউ কোনো কিছু করে দিবে তা নয়, এমনকি নির্বাচন হলেই বিএনপিকে ক্ষমতা দিয়ে দেবে, তেমনটিও ভাববার কারণ নেই; বরং আমাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে।’
ফখরুল বলেন, ‘একই কথা এখন আর শুনতে ও বলতে নিজেরই ইচ্ছে করে না। কারণ আমরা ধীরে ধীরে এমন একটা অন্ধকার গহ্বরের দিকে যাচ্ছি, যেখানে আলোর রেখার দেখা মেলে না।
গ্রামে কিংবা শহরে কেউ নিরাপদ নয়। নিজ এলাকায় কেউ থাকতে পারে না। শুধু তাই নয়, ঢাকা শহরের এক এলাকার লোকও অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়, হচ্ছে।’
সংবাদমাধ্যমের বর্তমান বাস্তবতার কথা টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কারণ তখন সংবাদপত্র বন্ধ করতে আইন করে রাষ্ট্রীয় বিধান করা হয়েছিল। এখন তথাকথিত অনির্বাচিত সরকারের আমলে গণতন্ত্রের লেবাস লাগিয়ে তার চেয়ে বেশি করা হচ্ছে।’
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘হতাশাই শেষ কথা হতে পারে না। লড়াই করো, লড়াই করেই আমরা একটি জায়গায় বসব। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস এবং সে জন্য আমাদেরকে বাংলাদেশের সমগ্র জায়গায় যেতে হবে, যাচ্ছিও। মানুষকে জাগ্রত করতে হবে, সাহস জোগাতে হবে তাহলে ঐক্যবদ্ধ হবে।
আমরা দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যাচ্ছি এবং তাদেরকে বলছি যে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি এসব কথা বাদ দিন, অন্তত দেশটাকে বাঁচতে দিন। এগিয়ে আসুন। কেননা কষ্টকে অতিক্রম করতে একসাথে নেমে পড়তে হবে, দেশকে বাঁচাতে হবে।’
সাবেক এই ছাত্রনেতা আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের চলমান সংকট দূরীকরণে জাতীয় ঐক্য দরকার এবং সেটা দেশের মানুষকে নিয়ে আমাদের (বিএনপি) জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে।’
একাদশ জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা নির্বাচন চাই। তবে সেই নির্বাচনে সমান নির্বাচনী মাঠ তৈরি করতে হবে। নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সে জন্য বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসারে নির্বাচনকালীন সরকার থাকতে হবে এবং সবার আগে খালেদা জিয়াকে কারামুক্তি দিতে হবে।
বিএনপি নির্বাচনে আসুক, সেটা আওয়ামী লীগ চায় না। আমার বিস্ময়, দেশ কি আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে নাকি অন্য কেউ? তারা কি এতটাই রাজনৈতিক দেউলিয়া?’
সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা সংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি
News Desk
শেয়ার করুন