আপডেট :

        সপ্তাহান্তে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনা

        লস এঞ্জেলেস ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে আরও একটি হাম রোগী শনাক্ত

        কক্ষপথে ১০ লাখ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আবেদন স্পেসএক্সের

        মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্তৃক আটক পাঁচ বছরের শিশুকে মুক্তির নির্দেশ বিচারকের

        ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনাবেচা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন

        ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার লাভের অভিযোগে মামলা

        হাউজিং ট্র্যাকার: দাবানলের আগে ডিসেম্বরে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন বাজারে ধীরগতি

        মার্কিন অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ সরাতে ৭৫ কংগ্রেসম্যানের চিঠি

        গ্রাহকসেবায় ৫ মিনিটের বেশি অপেক্ষা নয়: ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বিল, মানবিক যোগাযোগ নিশ্চিতের উদ্যোগ

        লস এঞ্জেলেসের দাবানল-পরবর্তী পুনর্গঠন অনুমতির নিয়ন্ত্রণ নিতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর ট্রাম্পের

        মিনিয়াপোলিসে গুলিকাণ্ডের পর ফেডারেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে মামলা সহজ করতে বিল পাস করল ক্যালিফোর্নিয়া সিনেট

        ট্রাম্প নীতির প্রভাবে বিদেশি জনসংখ্যা কমল ১৫ লাখ, হুমকিতে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনীতি

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বাড়ি! কোথায় মিলছে সবচেয়ে সস্তা বাড়ি?

        ম্যাজিক জনসনের উদ্যোগে লস এঞ্জেলেস বন্দরে নতুন ক্রুজ টার্মিনাল

        মিনিয়াপলিসে অ্যালেক্স প্রেটি হত্যাকাণ্ড: তদন্তের দাবিতে রিপাবলিকানদের চাপ বাড়ছে

        ফুলারটনে বিদ্যালয়ের কাছে অস্ত্রধারী সন্দেহভাজন: সতর্কতা না পাওয়ায় প্রশ্নে অভিভাবক ও বাসিন্দারা

        মিনেসোটায় আইসিই অভিযানে হত্যাকাণ্ড: ডেমোক্র্যাটদের বিদ্রোহে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে সরকার শাটডাউনের শঙ্কা

        মিনিয়াপোলিসে আলেক্স প্রেটির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, উত্তাল লস এঞ্জেলেস

        মিনিয়াপোলিসে আলেক্স প্রেটির হত্যাকাণ্ড: তদন্তের দাবি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের

        ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭ বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির দাবি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের, মিনেসোটাকেও ছাড়িয়ে গেছে পরিমাণ

করোনা: প্রকৃতির প্রতিশোধ না কি মানবজাতির জন্য শিক্ষা?

করোনা: প্রকৃতির প্রতিশোধ না কি মানবজাতির জন্য শিক্ষা?

করোনাভাইরাস (COVID-19) সংক্রমণ চীন এর উহান প্রদেশে ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বরে শুরু হয় এবং প্রথম রোগী ২০২০ এর জানুয়ারীতে মারা যায়। তখন থেকে COVID-19 সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৮ শে এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মোট ৩,০৮১,৩৬৫ জন সংক্রামিত হয়েছে এবং ২১২,৩৭৭ মানুষ মারা গেছে। প্রতি মুহূর্তে চিত্রটি বাড়ছে। কোনও ওষুধ এবং অ্যান্টিবডি উদ্ভাবিত হয়নি এবং মানুষ আজ পুরোপুরি বিপর্যস্ত। মানবজাতির মেধা ও সকল প্রকার শক্তি কার্যত: ব্যর্থ হয়েছে। এভাবে যদি আরো কয়েক মাস চলতে থাকে তাহলে পুরো সভ্যতাই হয়তো ধ্বসে পড়তে পারে।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কম আয়ের এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলির তুলনায় বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রিত, উচ্চ-আয় এবং সামরিক দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোতেই করোনার ‘সর্বনাশা’ বহুগুণ বেশি। আর বিশ্বের ‘সেরা’ শক্তি আমেরিকা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। আমেরিকার পরেই আছে তার নিকটতম মিত্র দেশগুলো। কেবল আমেরিকাতেই ১,০১০,৫০৭ জন COVID-19 এ আক্রান্ত হয়েছে, যা বিশ্বের ৩২.৭৯%। ২৮ শে এপ্রিল পর্যন্ত আমেরিকাতে মারা গেছে ৫৬,৮০৩, যা বিশ্বের ২৬.৭৫%, তারপরে ইতালি (২৬,৯৭৭), স্পেন (২৩,৮২২), ফ্রান্স (২৩,২৯৩), যুক্তরাজ্য (২১,০৯২), বেলজিয়াম (৭,৩৩১), এবং জার্মানি (৬,১২৬)। ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত COVID-19 এ আক্রান্ত হয়ে NATO ভুক্ত দেশগুলোর মোট মৃত্যু ১৮০,০০০ এর বেশি, যা বিশ্বের ৮৪.৭৭%।

অন্যদিকে, একই সময়ে সিরিয়ায় COVID-19 এ আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ৪৩ জন আর মারা গেছে মাত্র ৩ জন, লিবিয়ায় ৬১ জন সংক্রামিত এবং ২ জন মারা গেছে, ইয়েমেনে কেবল ১ জন আক্রান্ত আর সেরেও উঠেছে সে। আফগানিস্তানে ১,৮২৮ জন আক্রান্ত হয়েছে আর মারা গেছে ৫৮ জন। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের SHITHOLE দেশগুলিতে COVID-19 এ খুব সামান্যই ক্ষতি হয়েছে: হাইতি’তে সংক্রামিত – ৭৬ ও মৃত্যু – ৬, এল সালভাদোর: আক্রান্ত – ৩৪৫ ও মৃত্যু – ৮, এবং আফ্রিকা: ৩৪,১৯৭ এবং মৃত্যু ১,৪৭৫। আমি কখনোই অস্বাভাবিক মৃত্যু সমর্থন করি না এবং মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যে Every Live Matters; সে মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য যে কোনো বর্ণ বা ধর্ম হতে পারে। তবুও, সত্যবাদী হয়ে বলতে হবে যে সাম্প্রতিক দশকগুলিতে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি ‘ভুক্তভোগী’ ছিল। মুসলমানদের বিরুদ্ধে সব ধরণের হত্যাকান্ডকে “মৌলবাদ” বা “সন্ত্রাসবাদের” নির্লজ্জ সংজ্ঞার আবরণে পশ্চিমা অভিযানের জন্যে ‘বৈধ’ করা হয়েছিল। এমনকি শিশু, বালক, বৃদ্ধ, রোগী এবং মহিলারাও পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর ‘বর্বর’ হত্যাকাণ্ড থেকে মুক্তি পাননি। মুসলিম বিশ্বের ‘Class Less’ নেতারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে ‘কথা’ বলতেও ‘ভয়’ পেয়েছেন।

লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, কাশ্মীর, ইয়েমেন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ‘ধ্বংসলীলা’ আসলে ‘মানবতা’ এবং মানবসভ্যতাকে ‘সম্পূর্ণ’ ধ্বংস করে ফেলেছে। কেউ কাঁদেনি সেদিন – এক ফোঁটা অশ্রু বর্ষণও করেনি, কোনো মানবতাবাদী সংস্থা ‘দুঃখ’ প্রকাশও করেনি – মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘সবকিছু’ই যেন ‘বৈধ’ ছিল। সাদা ঐশ্বর্যে’র জনক রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প চলতি অভাবনীয় এবং অসহনীয় মৃত্যু ও আমেরিকানদের অকল্পনীয় দুর্ভোগের জন্য নিশ্চয়ই মুসলমানদেরকে মোটেই দায়ী করতে পারবেন না। যদিও তিনি মুসলিমদেরকে আমেরিকার একমাত্র ‘সমস্যা’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। মসজিদগুলি নিরীক্ষণের জন্য ডাটাবেস করেছেন, মুসলমানদের surveille করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমেরিকাতে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের অভিবাসনতো প্রায় অসম্ভব। তিনি জেরুজালেমকে ইস্রায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে কোটি কোটি মুসলমানকে হতাশ করে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরিত করেছেন। মুসলমানদের কী দোষ ছিল? মুসলিম শিশু ও নারীরা কেন এই সভ্য বিশ্বে ভুগেছেন? কিছু মুসলিম দেশকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রাখার ‘ভুয়া’ অভিযোগের আওতায় কেন ধ্বংস করা হয়েছে? আসলে তথাকথিত সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর কাছে মুসলমানদের সমস্যাগুলি ছিল: ১) ইসলামের শিক্ষাকে অনুসরণ করে মুসলিমরা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করে না ২) মুসলমানরা সমকামী বিবাহ বা সমকামিতা গ্রহণ করতে পারে না কারণ আল্লাহ মানবজাতিকে এ জাতীয় আচরণের বিরুদ্ধে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছেন। অথচ আধুনিক সভ্যতার নামে সমকামী বিবাহকে বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। সমকামিতার কারণেই আল্লাহতায়ালা লূত (আ:) এর সময়ে পুরো জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন (সূরা আল-আরাফ ৩: ৫) এবং ৩) মুসলমানরা পবিত্র কোরআনের শিক্ষাকে অনুসরণ করে, যা শেষ ও একমাত্র অবিকৃত ধর্মগ্রন্থ।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত