যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 05:32am

|   লন্ডন - 12:32am

|   নিউইয়র্ক - 07:32pm

  সর্বশেষ :

  মিয়ানমার কারও কথা শোনে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী   পরীক্ষা ছাড়া ভর্তিকে কেন্দ্র করে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের হাতাহাতি   ১৮টি অমুসলিম উপাসনালয়ের অনুমোদন দিচ্ছে আরব আমিরাত   দেশে দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছে : মওদুদ   লাইবেরিয়ায় ধর্মীয় স্কুলে আগুন, নিহত ৩০   ১৮ দিনেও খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পাননি স্বজনরা, উদ্বেগ   নিউইয়র্কে ইন্টারন্যাশনাল সীরাত কনভেনশন শনিবার   নিউইয়র্কে বিয়ানীবাজার এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের ক্রিকেট টুনার্মেন্ট সম্পন্ন   ওয়াশিংটন ডিসিতে শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তি সংগঠন ‘সমস্বর’-এর আত্মপ্রকাশ   বাফলা চ্যারিটির ফান্ড রাইজিং ডিনার রবিবার   দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিবিদরা মাথা ন্যাড়া করছেন   বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আরো ভাগাভাগি হচ্ছে, গণমাধ্যমে আসছে না: আরেফিন সিদ্দিক   ‘জাবির অর্থ কেলেঙ্কারি ফাঁসকারী ছাত্রলীগ নেতারা হুমকির সম্মুখীন’   খালেদা কিছুই দেননি, হাসিনা আমাদের সম্মানিত করেছেন: আল্লামা শফী   রাখাইনে আরও ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ

স্বদেশ


দেশে দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছে : মওদুদ

দেশে নির্বাচিত সরকার নেই বলে সর্বস্তরে দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ

২০১৯-০৯-১৮ ০৯:০৬:৩২

বহিঃ বিশ্ব


রাখাইনে আরও ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ

 মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এখনো ছয় লাখের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার চরম ঝুঁকিতে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির তদন্তকারী একটি মিশন

২০১৯-০৯-১৭ ১৫:৩৭:৪১

লস এঞ্জেলেস


হলিউডে যুবলীগের উদ্যোগে জাতির পিতার জন্মদিন পালন

সুবর্ন নন্দী তাপস জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী যুবলীগ এর উদ্দ্যোগে আওয়ামী পরিবারের সবাইকে

২০১৯-০৩-২২ ১৬:১৫:৩৩


নিউইয়র্ক


নিউইয়র্কে ইন্টারন্যাশনাল সীরাত কনভেনশন শনিবার

রশীদ আহমদ, ‍নিউইয়র্ক থেকে : আমেরিকান মুসলিম সেন্টার কর্তৃক আয়োজিত আসন্ন ১২তম ইন্টারন্যাশনাল সীরাত কনভেনশন ২০১৯ উপলক্ষে নিউইয়র্কের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার

বিস্তারিত


চাকরীর খবর


পদবী প্রতিষ্ঠান আবেদনের শেষ তারিখ
Account Executive Dental Health Services - San Diego/Orange County, CA ২০১৫-০২-১৩
AIRPORT GUIDE 0845 City of Los Angeles Personnel Department ২০১৫-০২-১২

আর্কাইভ

খেলাধুলা

নিউইয়র্কে বিয়ানীবাজার এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের ক্রিকেট টুনার্মেন্ট সম্পন্ন

রশীদ আহমদ, ‍নিউইয়র্ক থেকে : নিউইয়র্কে বসবাসরত বিয়ানীবাজার উপজেলার কিছু সংখ্যক উদ্যমী শিক্ষিত তরুণ সমাজের উদ্যোগে গঠিত "বিয়ানীবাজার এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট ইউএসএ।যা সমাজের হত দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।এবার নিউইয়র্কে তারা আয়োজন করে স্থানীয় ভাবে একটি টুনার্মেন্টের।এতে ১২টি দল খেলায় অংশ নেয়।ফাইনাল খেলায় ৬৭রানে চ্যাম্পিয়ন হন সিলেট সিক্সার্স। এ কেএ নাইট্রিডার্স হন রানার্সআপ।ম্যান অব দ্য টুনার্মেন্ট হন ইমরান টিপু।এছাড়াও টুনামেন্টে সর্বাধিক উইকেট কেড়ে নেন তিনি।

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ভাবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার  বিকেল পাঁচটায় স্থানীয় ইন্ডিয়ান পার্কের মাঠে ফাইনাল খেলা শুরু হয়। ওজনপার্কে স্থানীয় প্লেয়ারের সাথে লোকাল ১২টি টীম খেলায় অংশ নেয়। খেলোয়াররা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে খেলেন।পাশাপাশি আগত অতিথিরাও তাদের সুন্দর খেলা উপভোগ করেন।

ফাইনাল খেলা শেষে শুরু হয় অতিথিদের বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।সংগঠনের সভাপতি সুমন আহমদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ফাহিম সাকিল অপুর সাবলীল উপস্থাপনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শামসুল আবেদীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সংগঠক আনোয়ার হোসাইন, বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল, ডিস্ট্রিক্ট ৩৭ এসেম্বেলীওম্যান প্রার্থী মেরি জোবাইদা, কাউন্সিলম্যান প্রার্থী  ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কাউন্সিলম্যান প্রার্থী মিসবা আবেদীন,ইয়র্ক বাংলা সম্পাদক মাওলানা রশীদ আহমদ, ক্রীড়াবিদ মোস্তফিজুর রহমান বিনু, সামাজ সংগঠক  সরওয়ার হোসেন ও  হুসেন আহমেদ।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন টাইম টিভির সিইও এবং বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের,টাইম টিভির সৈয়দ ইলিয়াস খসরু,কমিউনিটি এক্টিভিটস খায়রুল ইসলাম খোকন, জুনেদ আহমেদ, রিজওয়ান রিমন, ফয়সাল আলম, মাহমুদুল হাসান, শরীফ আহমদ, কামরুল ইসলাম ও আল মামুন শাওন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, খেলাধুলা স্বাস্থ্যকে যেমন ভাল রাখে তেমনি ভাবে পরিশীলিত করে মন মানসিকতাকে।পাশাপাশি সুস্থ ও সুন্দর কমিউনিটি বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।তিনি সংগঠনের কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন,আগামী দিনে যে কোন কর্মসূচিতে আমার সহযোগিতা ও দোয়া অব্যাহত থাকবে। 

আয়োজক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিয়ানীবাজার এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট ইউএসএ আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান।পাশাপাশি একটি সফল ইভেন্ট করতে পারায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামীতে তাদের অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণেরও আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, সংগঠনটি মূলত দেশে অসহায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার  খরচ বহন আর অভাবী-অসহায় মানুষের কল্যাণে সাহায্য করতে  তহবিল সংগ্রহের জন্য এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টর আয়োজন করে।


ইসলামী জীবন

আকীকার ফজিলত ও আহকাম

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী : আকীকা শব্দটি আরবী। এর শাব্দিক অর্থ হল, নবজাতকের মাথার জন্মলগ্নের চুল। যেমন বলা হয়, নবজাতকের আকীকা করা হয়েছে, এর অর্থ হলো তার মাথার চুল কামিয়ে দেয়া হয়েছে। আর ইসলামী শরীয়তে আকীকা বলতে বোঝায়, নবজাতকের জন্মের পর তার পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট জন্তু যবেহ করা।

এটাকেই মানুষ আকীকা বলে জানে। কেউ এই বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন বলে আমার জানা নেই। আকীকার ফজিলত : হাদীস শরীফে আকীকার অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সহীহ বুখারীর হাদীসে আছে, ‘হযরত সালমান ইবনে আমের রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, প্রত্যেক সন্তানের সাথে একটি আকীকা নিবন্ধিত রয়েছে। সুতরাং তার পক্ষ হতে রক্ত প্রবাহিত কর এবং আপদ-বিপদ দুরীভূত কর। (সহীহ বুখারী : ৫৪৭১; ২/৮২২)।

হাদীস শরীফে আরও বলা হয়েছে, ‘হযরত সামুরাহ ইবনে জুন্দুর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, প্রত্যেক সন্তান তার আকীকার সাথে বন্ধনকৃত। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জন্তু যবেহ করবে এবং তার মাথার চুল মুন্ডন করে নাম রাখবে। সুনানে নাসায়ী : ৪২২০; ২/১৬৭)।

আকীকার মাসআলা: উপরোক্ত হাদীসসমূহের আলোকে একথা প্রমাণিত হয় যে, আকীকা করা ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নাত বা মুস্তাহাব। ছেলে অথবা মেয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সপ্তম দিবসে তার নাম রাখা এবং আকীকা করা সুন্নাত। যদি কেউ সপ্তম দিবসে আকীকা করতে অপারগ হয়, তবে ১৪ অথবা ২১তম দিবসে বা এরূপ সাতদিন অন্তর যে কোনো দিন আকীকা করা উত্তম। তবে এতে প্রথম সাত দিনে করার যে সওয়াব রয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

আকীকার নিয়ম হল, ভ‚মিষ্ঠ সন্তান ছেলে হলে তার আকীকা দু’টি ছাগল অথবা দু’টি ভেড়া, আর মেয়ে হলে একটি ছাগল বা একটি ভেড়া যবেহ করবে। আর কেউ যদি কোরবানির সাথে আকীকা সেরে নিতে চায়, তবে তা বৈধ হবে। যেহেতু কোরবানিতে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই উদ্দেশ্য থাকে, তেমনি আকীকাতেও একই উদ্দেশ্য থাকে।
তাই আকীকার কারণে কোরবানিতে কোনো সমস্যা হবে না। এটাই অধিকাংশ আলেমদের অভিমত। এখানে ছেলের জন্য দুই শরীক এবং মেয়ের জন্য এক শরীক রাখবে। কেউ অপারগ হলে ছেলের পক্ষ হতে একটি ছাগল বা ভেড়া অথবা গরুর এক অংশ দ্বারা আকীকা করা জায়েজ হবে। (সুনানে নাসায়ী : ৪৫৩১)।

একটি গরুর মধ্যে যেমন কোরবানির সাত অংশ থাকে, তেমনি আকীকাতেও সাত অংশ হতে পারে। (কিফায়াতুল মুফতী : ৮ নং খন্ড)। যে জন্তু দ্বারা কোরবানি জায়েজ, সেসব জন্তু দ্বারা আকীকাও জায়েজ। আর যে জন্তু দ্বারা কোরবানি হয় না, তা দ্বারা আকীকাও সহীহ হবে না। (বেহেশতি জেওড় : ৩ নং খন্ড)। আকীকার গোস্ত সন্তানের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী ও নানা-নানী, ভাই-বোনসহ সকলে খেতে পারবে।

এমনকি কেউ বড় হয়ে আকীকা করলে সে নিজেও আকীকার গোস্ত খেতে পারবে। তবে আকীকার গোস্তের এক-তৃতীয়াংশ গোস্ত গরিব-মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া উত্তম। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের খাওয়াতে পারবে। (কিফয়াতুল মুফতি : ৮ নং খন্ড)।

প্রবাসী কমিউনিটি

ওয়াশিংটন ডিসিতে শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তি সংগঠন ‘সমস্বর’-এর আত্মপ্রকাশ

রফিকুল ইসলাম আকাশ, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে : আবৃত্তি শিল্পে শুদ্ধ উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি, প্রক্ষেপন ও কবিতার মর্মার্থ উপলব্ধির লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ডিসি তে পথ চলা শুরু করল “শুদ্ধ উচ্চারণ ও আবৃত্তি সংগঠন- সমস্বর”। গত  ১৫ই সেপ্টেম্বর, রবিবার জর্জ মেসন রিজিওনাল লাইব্রেরি মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে “সমস্বর” এর অভিষেক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার। ওয়াশিংটন ডিসির প্রবাসী বাঙালিদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে শুদ্ধ উচ্চারণের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করেন রোকেয়া হায়দার। তারপর শুভেচ্ছা বানী পাঠ করেন বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক আনিস আহমেদ। তিনি মনে করেন “সমস্বর”-ই ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম বাংলা আবৃত্তি সংগঠন।

সমস্বরের পক্ষে অদিতি সাদিয়া রহমান স্বাগত বক্তব্যে সমস্বরের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবপ্রেম, সাম্যবাদ ও বিদ্রোহের অমর সৃষ্টি নিয়ে প্রযোজিত এই অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা ও পরিচালনায় ছিলেন অদিতি সাদিয়া রহমান।তিনি বলেন, কেবল মাত্র আবৃত্তি অনুষ্ঠান আয়োজনই সমস্বরের মূল লক্ষ্য নয়, বরং সংগঠনটি ওয়াশিংটন ডিসিতে শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের আন্দোলন শুরু করতে চায়।


 “অন্তর্যামী বিকশিতঃ অনন্ত সত্যে” শীর্ষক এই আবৃত্তি আয়োজনে সমস্বরের যে সকল সদস্যবৃন্দের প্রানবন্ত অংশগ্রহন উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে তারা হলেনঃ  অদিতি সাদিয়া রহমান, আরিয়ানা এলাহী, কুলসুম আলম, ডঃ তৌফিক হাসান, তারেক মেহ্‌দী, তিলক কর, মিজানুর রহমান খান, মোঃ শাহীনুর রহমান, রাহাত ই আফজা এবং সামারা এলাহী । ডঃ পল ফেবিয়ান গোমেজ-এর তবলার মুর্ছনা আবৃত্তি আয়োজনকে এক ভিন্নমাত্রা দেয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বটি সাজানো হয়েছিল আমন্ত্রিত বিশিষ্ট বাচিকশিল্পীদের পরিবেশনা দিয়ে। ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক সরকার কবির উদ্দিনের আবৃত্তি দর্শক- শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়। ওয়াশিংটন ডিসির আরও যে সকল বরেণ্য বাচিক শিল্পী  এই পর্বে আবৃত্তি পরিবেশনা করেন তারা হলেনঃ সিলিকা কণা, এ কে এম আসাদুজ্জামান, সাবরিনা চৌধুরী ডোনা, এ কে এম খায়রুজ্জামান, স্বাতি সিনহা এবং শওকত খান দিপু।

নান্দনিক এই অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহযোগীতা করেছেন ডঃ সুব্রত ধর, রায়হান এলাহী, ডঃ মিজানুর রহমান, ইরাজ তালুকদার, ডঃ মরিয়ম পারভীন এবং ডেভিড রানা।

লস এঞ্জেলেস

হলিউডে যুবলীগের উদ্যোগে জাতির পিতার জন্মদিন পালন

সুবর্ন নন্দী তাপস : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী যুবলীগ এর উদ্দ্যোগে আওয়ামী পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ একাডেমীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে সমবেত হয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া শাখা, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট আওয়ামী যুবলীগ, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ক্যালিফোর্নিয়া ষ্টেট মহিলা লীগ ও লস এন্জেলেস সিটি আওয়ামী যুবলীগের নেত্রীবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণ।

প্রথমেই ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আব্দুর রব বঙ্গবন্ধুর ৯৯ জন্মদিনে তার পরিবারসহ সকলের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট যুবলীগের সভাপতি সূবর্ণ নন্দী তাপসের সভাপতিত্বে ও ভাঃ সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মজুমদারের পরিচালনায় এবং লস এন্জেলেস সিটি যুবলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান ইমরান এর সার্বিক তত্তাবধানে যুবলীগ পরিবারের সকলে মিলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানটি সফল করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্যালিফোর্নিয়া শাখার সভাপতি তৌফিক ছোলেমান খান তুহিন, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির খান, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহ আলম খান চৌধুরীসহ সকল সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সন্মানিত মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনেকেই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন করেন।
সবশেষে উপস্থিত সকলে মিলে কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সমাপ্তি করেন।

এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

বিনোদন


বাংলাদেশী আইডলের আয়োজনে সিডনীতে গানে গানে জোছনা”

কাজী সুলতানা শিমি, অস্ট্রেলিয়া : ৯০ দশকে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড উইন্ডস্ এর অন্যতম ভোকালিষ্ট ছিলেন আতিক হেলাল।আতিক হেলাল ও মিতা আতিকবাংলাদেশী আইডলের

বিস্তারিত

রান্নাবান্না


লেবু সতেজ থাকবে মাসজুড়ে

নিউজ ডেস্ক : অনেকেই লেবু ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন না, অভিযোগ করেন যে লেবু ফ্রিজে রাখলে শুকিয়ে যায়। তবে লেবু দীর্ঘদিন তাজা রাখতে চাইলে ফ্রিজে রাখার বিকল্প নেই।

বিস্তারিত


লন্ডন

নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা

নিউজ ডেস্ক : ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের মতো ‘মুজিবনগর সরকার’ প্রতিষ্ঠার ঘটনাও ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালের  ১৭ এপ্রিল শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে মেহেরপুরের আ¤্রকাননে জাতীয় নেতা নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আর তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। সেই দিনের সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনকে তড়ান্বিত করে। বক্তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশের রাজধানী মুজিবনগর করার দাবী এবং আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে পু:ননির্বাচিত করে দেশের উন্নয়নের ধারা আব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য অধ্যাপক ডা. এম হাবীবে মিল্লাত মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্রই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। আর এজন্য শুধু আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পেলেই চলবে না, দেশের সংখ্যাগরিষ্ট লোকের ভোট দরকার। কেননা, আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র সমর্থকদের বাইরেও বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। তাদেরকে নৌকার পক্ষে ভোট দিতে প্রবাসীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ১৬ এপ্রিল সোমবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-২ আসন (সদর-কামারখন্দ)-এর সদস্য প্রফেসর ডা. হাবীবে মিল্লাত। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য শরীফ কামরুল আলম হীরা। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. শরাফ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি ড. প্রফেসর ওয়াহেদ উল্লাহ বাকী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ড. মহসীন আলী, ডা. মাসুদুল হাসান, ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, বদরুল হোসেন খান ও হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমন্বয়কারী ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার ও নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুর রহমান রফিক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিন্দাল কাদির বাপ্পা, মুক্তিযোদ্ধা বিএম বাকির হোসেন (হিরু ভূইয়া), মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি জালাল উদ্দিন জলিল, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ালী হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি মঞ্জুর চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি দুরুদ মিয়া রনেল, নিউইর্য়ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাইকুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জেডএ জয়,  সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ ইউএস’র সভাপতি লিপটন এবং নিউইয়র্ক প্রবাসী ও সিরাজগঞ্জের কামারকন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল মজিদ মন্ডল ।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিনাত বেগম এবং গীতা থেকে পাঠ করেন গনেশ কির্ত্তনীয়া। এরপর ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুুজিবনগর সরকারের নেতৃবৃন্দ সহ সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে সঙ্গীত শিল্পী রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও জিনাত বেগম একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।

অনুষ্ঠানে উল্লাপাড়া সমিতি ইউএসএ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে ডা. হাবীবে ডা. মিল্লাত এমপি-কে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভায় ডা. হাবীবে মিল্লাত বলেন, মুজিবনগর সরকারের তাৎপর্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দিবসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আ¤্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই কঠিন মুহুর্তে মুজিবনগর সরকার বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের ন্যয়সঙ্গত অধিকারের পক্ষ্যে বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের সমর্থন আদায়ে মূল ভূমিকা পালন করে।
ডা. হাবীবে মিল্লাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে বলেন, বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি উন্নয়নের প্রধান শত্রু। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত না হলে দেশ আবারো পিছিয়ে যাবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে আবারো বিজয়ী করার আহবান জানান।

নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনা মঞ্চ, যুক্তরাষ্ট্র  মহিলা আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সহযোগিতায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। 


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

মধ্য প্রাচ্যের খবর

গৃহশিক্ষকের চোখে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের শৈশব

নিউজ ডেস্ক : সৌদি আরবের বিতর্কিত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কিছুদিন আগে পর্যন্তও খুব কম লোকই চিনতেন। কিন্তু ভবিষ্যৎ সৌদি রাজা হিসেবে তার অভিষেক - রক্ষণশীল সৌদি সমাজ সংস্কারের নানা উদ্যোগ, ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ এবং সবশেষ জামাল খাসোগজি হত্যাকান্ড - এগুলোর সাথে তার নাম জড়িয়ে যাওয়ার কারণে সারা বিশ্বের নজর এখন তার দিকে।

কিন্তু কীভাবে বেড়ে উঠেছিলেন এই প্রিন্স সালমান? তার শৈশব সম্পর্কে লোকে কতটুকু জানে?

এর ওপরই খানিকটা আলোকপাত করেছেন বিবিসি আরবি বিভাগের রাশিদ সেক্কাই - যিনি শিশু প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের গৃহশিক্ষক ছিলেন, তাকে ইংরেজি শেখাতেন। সম্প্রতি তিনি বর্ণনা করেছেন তার সেই সময়কার স্মৃতি।

তিনি বলছেন, " সেটা ১৯৯৬ সাল। আমি তখন জেদ্দার নামকরা স্কুল আল-আনজালে পড়াই। তখন রিয়াদের গভর্নর ছিলেন প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ - যিনি এখন সৌদি আরবের বাদশাহ, এবং যুবারাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পিতা।"

"প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ তখন সাময়িকভাবে তার পরিবার নিয়ে জেদ্দায় এসেছেন, এবং তার দরকার হয়েছিল তার সন্তানদের জন্য একজন ইংরেজির শিক্ষক।"

"তিনি যোগাযোগ করলেন আমি যে স্কুলে পড়াতাম সেই স্কুলের সাথে। তখন আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো রাজকীয় প্রাসাদে। আমার ছাত্র হলেন তার প্রথম বিয়ে থেকে জন্মানো কয়েকজন রাজপুত্র। প্রিন্স তুরকি, প্রিন্স নায়েফ, প্রিন্স খালিদ, এবং প্রিন্স মোহাম্মদ।"

"আমি তখন জেদ্দার একটা উঠতি এলাকায় একটা ফ্ল্যাটে থাকি। প্রতিদিন সকাল বেলা সাতটার সময় একজন শোফার (ড্রাইভার) এসে আমাকে আল-আনজাল স্কুলে নিয়ে যেতো। বিকেলের দিকে স্কুল শেষ হলে এই ড্রাইভারই আমাকে নিয়ে যেতো রাজপ্রাসাদে।"

"প্রাসাদের গেটের কড়া পাহারা পার হয়ে যাবার পর গাড়িটি অনেকগুলো চোখ-ধাঁধানো বাগানওয়ালা ভিলা পার হয়ে রাজকীয় প্রাসাদের সামনে পৌঁছাতো। সামনের নিখুঁতভাবে সাজানো বাগানের পরিচর্যা করছে সাদা পোশাক পরা মালীরা।

"সেখানে একটি কার পার্ক দেখলাম - তাতে দাঁড়িয়ে আছে বহু বিলাসবহুল গাড়ি। একটা গাড়ি দেখলাম গোলাপি রঙের - মনে হলো ওটা একটা ক্যাডিলাক। এই প্রথম আমি নিজের চোখে ক্যাডিলাক দেখলাম।"

"রাজকীয় দুর্গে ঢোকার পর আমাকে স্বাগত জানালেন প্রাসাদের পরিচালক মানসুর আল-শাহরি। মধ্যবয়স্ক এই ব্যক্তি প্রিন্স মোহাম্মদের খুবই প্রিয় ছিলেন।"

"প্রিন্স মোহাম্মদকে মনে হলো আমার কাছে পড়ার চাইতে প্রাসাদের রক্ষীদের সাথে সময় কাটানোর ব্যাপারেই তার বেশি আগ্রহ। ভাইদের মধ্যে সে-ই বয়েসে সবচেয়ে বড় হওয়ায় সে যা খুশি তাই করতে পারে - এমনই মনে হতো।"

"বয়েসে ছোট যে প্রিন্সরা, আমি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারতাম। কিন্তু মোহাম্মদ সেখানে হাজির হলেই পরিস্থিতি হয়ে যেতো অন্য রকম।"

"আমার মনে আছে, আমার পাঠদানের সময় মোহাম্মদ একটা ওয়াকি-টকি ব্যবহার করতো - যা সে রক্ষীদের কোন একজনের কাছ থেকে ধার করেছিল। সে এটাকে ব্যবহার করতো আমাকে নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করার জন্য, তার ভাই এবং প্রাসাদরক্ষীদেরকে জোক শোনানোর জন্য।"

"একদিন মোহাম্মদ বললো, তার মা তাকে বলেছেন যে আমাকে দেখে নাকি 'একজন সত্যিকারের ভদ্রলোক' বলে মনে হয়। আমি এটা শুনে একটু থতমত খেয়ে গেলাম। কারণ আমার মনে পড়ে না যে কখনো আমি তাকে দেখেছি, যেহেতু সৌদি রাজপরিবারের মেয়েরা অপরিচিতদের সামনে আসে না। প্রাসাদে একমাত্র নারী যাকে আমি দেখেছিলাম, সে একজন ফিলিপিনো আয়া।"

"আমাকে যে কেউ দেখছে এ ব্যাপারটা আমি আগে বুঝতে পারি নি। কিন্তু সৌদি সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী তখন আমাকে দেয়ালে লাগানো কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা দেখালেন। তার পর থেকে পড়ানোর সময় আমি আত্মসচেতন হয়ে গিয়েছিলাম।"

"কিছুদিনের মধ্যেই মোহাম্মদ এবং তার ভাইদের আমার বেশ পছন্দ হয়ে গেল। তারা ছিল রাজপুত্র, এবং তাদের জগত ছিল অর্থ-বিত্ত-বিলাসে ভরা। কিন্তু তাদের সাথে আমার স্কুলের ছাত্রদের বিশেষ কোন তফাৎ ছিল না। তাদের জানার আগ্রহ ছিল কিন্তু খেলাধূলা করতেই বেশি ভালোবাসতো।"

"একদিন প্রাসাদের পরিচালক মানসুর আল-শাহরি আমাকে বললেন ভবিষ্যৎ রাজার সাথে দেখা করতে। কারণ তিনি তার সন্তানদের শিক্ষায় কতটা অগ্রগতি হলো তা জানতে চান।"

"আমি ভাবলাম, প্রিন্স মোহাম্মদের দুষ্টামির ব্যাপারে কিছু করার এটা একটা সুযোগ হলো।"

"আমি প্রিন্স সালমানের অফিসের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। আমার পাশে দাঁড়ানো ছিলেন যুবরাজদের অন্যান্য শিক্ষকরা। মনে হলো, প্রাসাদের আদবকায়দা সম্পর্কে আমার চাইতে তারা বেশি ওয়াকিবহাল।"

"প্রিন্স সালমান আসার সাথে সাথে তারা উঠে দাঁড়ালেন, এবং আমি দেখতে লাগলাম কিভাবে তারা রিয়াদের গভর্নরের সামনে মাথা নত করলেন, তার হাতে চুমু খেলেন, দ্রুতগতিতে প্রিন্সদের নিয়ে কিছু কথা বললেন এবং সামনে এগিয়ে গেলেন।"

"যখন আমার পালা এলো - আমি তাদের মতো মাথা নত করতে পারলাম না। আমি কখনো এটা করি নি। আমি আমার হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং ভবিষ্যৎ রাজার সাথে করমর্দন করলাম।"

"আমার মনে আছে প্রিন্স সালমানের মুখে ফুটে ওঠা বিস্ময়সূচক মৃদু হাসির কথা। কিন্তু তিনি ব্যাপারটা উপেক্ষা করেছিলেন।"

"আমি তার সাথে কথা বলার সময় প্রিন্স মোহাম্মদের কথা তুলিনি। কারণ ততক্ষণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি যে আমি এ কাজ ছেড়ে দেবো এবং যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবো।"

"পরে মি. আল-শাহরি আমাকে রাজকীয় আদবকায়দা পালন করতে ব্যর্থ হবার জন্য আমাকে অনেক বকাঝকা করেছিলেন।"

"আমার ছাত্রদের মধ্যে প্রিন্স মোহাম্মদ ছাড়া প্রিন্স খালিদ - যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত হয়েছেন। তবে অন্য প্রিন্সরা জনসমক্ষে ততটা পরিচিত নন।"

"সৌদি রাজপুত্রদের শিক্ষাদানের এই সময়টা ছিল আমার জীবনের একটা অনন্য পর্ব।"

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিজ্ঞাপন

লাইফ স্টাইল


মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করবেন যেভাবে

নিউজ ডেস্ক : মুখের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের চাইতে সংবেদনশীল। ফলে এই অংশে থাকা অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে চাইলে থাকবে হবে সচেতন। জেনে নিন কীভাবে ঘরোয়া

বিস্তারিত

নামাযের সময়সূচি

জনমত জরিপ


আইটি

মানুষ কি সত্যিই চাঁদে গিয়েছিল?

নিউজ ডেস্ক : চাঁদের মাটিতে সত্যিই মানুষের পা পড়েছে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে অনেক জল্পনা-কল্পনা। অর্ধশতাব্দী পার হয়ে গেলেও এখনও এই বিতর্ক থেকে বের হতে পারেনি নাসা। এ নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। সাংবাদিক রিচার্ড গডউইনের সেই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কীভাবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান বিতর্কিত হয়ে উঠলো। বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকের জন্য ওই প্রতিবেদনের ভাষান্তর করেছেন গ্লোরিয়া অমৃতা। 

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৬৯ সালে নিল আর্মস্ট্রং এবং বাজ আলড্রিন-এর চাঁদে অবতরণ সফল করার পেছনে ৪ লাখ নাসা কর্মী এবং কন্ট্রাক্টর তাদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং শক্তি বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে মাত্র একজন ব্যক্তির ছড়ানো ধারণা এই সম্পূর্ণ ঘটনাটিকে ধাপ্পাবাজি হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়ে অনেকের মনে সন্দেহের  সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়। ওই ব্যক্তির নাম বিল কেসিং। কেসিং মার্কিন মহাকাশ প্রকল্পে দক্ষতার সঙ্গে অবদান রেখেছিলেন এবং ১৯৫৬ এবং ১৯৬৩ সালের মধ্যে তিনি রকেট ডাইন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি স্যাটার্ন ভি নামের রকেট ইঞ্জিন তৈরির কাজে সাহায্য করে।

পুরো বিষয়টি একটি দৃঢ় বিশ্বাসে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই এর শুরুটা হয়েছিল একটি পূর্বাভাস ও একটি অনুমান ধারণার মধ্য দিয়ে। ধারণা ছিল, চাঁদে অবতরণের জন্য কিংবা আপাতদৃষ্টিতে চাঁদে গিয়ে আবার ফিরে আসার জন্য যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োজন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটতি ছিল। ১৯৭৬ সালে কেসিং ‘আমরা কখনও চাঁদে অবতরণ করিনি: আমেরিকার ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রতারণা’ নামের একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি তার দৃঢ় বিশ্বাস প্রমাণের জন্য গ্রেইনি ফটোকপি এবং হাস্যকর কিছু তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি তার অনুসন্ধানের মাধ্যমে কিছু চিরজীবী ও গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব প্রণয়নে সমর্থ হয়েছিলেন, যেগুলো এখনও কিছু হলিউড সিনেমা, ফক্স নিউজ ডকুমেন্টারি, রেডিড ফোরাম এবং ইউটিউব চ্যানেলে জায়গা করে নিয়েছে।

চাঁদে যাওয়া নিয়ে যদিও বেশকিছু অসাধারণ প্রমাণ রয়েছে, যেমন ৩৮২ কেজি চাঁদের পাথর, যা প্রায় ছয়টা মিশন থেকে সংগৃহীত। রাশিয়া, জাপান এবং চীনও একে সমর্থন দিয়েছিল। এছাড়া নাসার চন্দ্রপরিদর্শনকারী অরবিটের মাধ্যমে পাঠানো ছবি যেখানে চাঁদের পিঠে অবতরণকারীদের পায়ের ছাপ দেখাচ্ছে। তারপরও ১৯৬৯ সালের দিকে চাঁদে যাওয়ার ঘটনা ধাপ্পাবাজি হিসেবে প্রমাণ করার ষড়যন্ত্র অনেক বেশিই বিকশিত হওয়া শুরু করে। ‘৯/১১ হামলায় নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী, সংশয়বাদী, টিকাদানের বিরোধী, যারা বিশ্বাস করেন উড়োজাহাজ রাসায়নিক পদার্থ স্প্রে করে, যারা বিশ্বাস করেন পৃথিবী সমতল, যারা হলোকাস্ট অস্বীকার করেন, চাঁদে অবতরণও তেমনি অনেকের কাছে একটি ধাপ্পাবাজি’র ঘটনা। আর এটা কেবলমাত্র ক্ষোভ উদ্‌গিরণের উৎস নয় বরং একটি তত্ত্ব হিসেবে হাজির আছে।

তেমনই বিভিন্ন সংশয়বাদীর মধ্যে একজনের নাম কিংপিং জো রিগ্যান। ইউটিউবের শেন ডাওসানও তাদেরই একজন। এমনকি গত বছর নিউজার্সিতে একজন সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপকও তার ছাত্রদের কাছে চাঁদে যাওয়ার ঘটনাটি মিথ্যা আকারে হাজির করেন। যেখানে খোদ কেসিং বিশ্বকে সচেতন করার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত বইয়ের ফটোকপির ওপর নির্ভর করেছিলেন, সেখানে এখনকার সংশয়বাদীরা নিজেদের ব্যক্তিগত উৎসাহ থেকে বিভিন্ন নথি তৈরি করছেন। যেমন নাসা কতো অলস ছিল যে, তারা অ্যাপোলো ১৫, ১৬ আর ১৭’র জন্য একটিমাত্র চন্দ্রযান ব্যবহার করেছিল। অথবা নাসা কীভাবে এতোগুলো বছর ধরে বোকা বানিয়ে রেখেছে। অথবা তারা ‘একটি জিনিস এখনও আমার মাথায় ঢুকছে না’ নাম দিয়ে বিভিন্ন নথি সামনে হাজির করার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নাসার সাবেক শীর্ষস্থানীয় ইতিহাসবিদ রজার লওনিয়াস বলেন, সত্য কথা বলতে হলে ইন্টারনেট মানুষকে যা খুশি ইচ্ছামতোন বলার ও করার সুযোগ দিয়েছে এবং তা আরও বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আর এটা সত্যি, মার্কিনিরা এসব ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব শুনতেও বেশ আগ্রহী। সবসময়ই কেউ না কেউ ব্যক্তি-বিপরীত ব্যাখ্যা তৈরি করে নেওয়ার জন্য তৈরি থাকে। এমনকি চাঁদে যাওয়ার ব্যাপারে ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব ব্রিটিশদের কাছে আকর্ষণীয় তত্ত্ব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। গত বছর ‘দিজ মর্নিং’ নামের সম্প্রচারিত একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে একজন অতিথিকে স্বাগত জানানো হয়, যার ধারণা ছিল কেউ কখনও চাঁদে পৌঁছাতে পারবে না। কারণ চাঁদ সম্পূর্ণ আলো দিয়ে তৈরি। মার্টিন কেরি নামের একজন ব্যক্তির দাবি, অতীতে চাঁদে অবতরণের যে দৃশ্য দেখানো হয়েছিল, সেটার সত্যতা প্রমাণের সুযোগ নেই। তবে বর্তমানে এই আধুনিক প্রযুক্তির যুগে তরুণেরা এ ব্যাপারে নিজস্ব অনুসন্ধান জারি রেখেছে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে (ইউগভ) দেখা গেছে,  প্রতি ছয়জন ব্রিটিশ নাগরিকের মধ্যে অন্তত একজন বিশ্বাস করে, চাঁদে অবতরণও যে একটি সাজানো ঘটনা ছিল। চার শতাংশ ব্রিটিশ বিশ্বাস করে, এটি স্রেফ ধাপ্পাবাজি। ১২ শতাংশের বিশ্বাস, ঘটনাটি সত্য হলেও হতে পারে, আর বাকি ৯ শতাংশের অভিমত,  তারা এ ব্যাপারে জানেন না। চাঁদে যাওয়ার ব্যাপারে এই ভ্রান্তি সবথেকে বেশি ছিল তরুণদের মধ্যে। ৫৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষদের ১৩ শতাংশ চাঁদে যাওয়ার বিষয়টি সাজানো মনে করে। আর ২৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ২১ শতাংশ।

কেসিংয়ের মূল অনুসন্ধান এই বিষয়ে আরও মদত জোগাচ্ছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো সেই ছবিগুলোর মধ্যে একটি তারাও দৃশ্যমান। আরেকটা হলো ল্যান্ডিং মডিউলের নিচের অংশ: পর্যাপ্ত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত না হওয়া। তৃতীয়ত: অবতরণকারীদের ছায়ার অবস্থান। যারা জানত, যে ব্যাপারগুলো নিয়ে এসব ষড়যন্ত্রকারী কথা বলছে, তা শুধুমাত্র এসব বিশৃঙ্খলাকে ব্যাখ্যা করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপচয় করছে, তারা তাদের নিজেদের পেশায় সম্মানিত (ক্যামেরা এক্সপোজের সময় যেভাবে ভ্যাকিউমের ভেতর তৃষ্ণা কাজ করে এবং তাদের ধুলার প্রতিফলিত ধর্ম কাজ করে)। তথাপি ২০০৫ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কেসিং স্বীকার করেন, এ সবকিছু্ই ছিল একটি মিথ্যাচার যা কিনা একটি টিভি স্টুডিওতে ধারণ করা হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে উইয়ার্ডকে তিনি বলেন, এটি খুবই তথ্যসমৃদ্ধ কাজ ছিল যে নাসা প্রায়শই এটিকে খারাপভাবে পরিচালনা করতো এবং তাদের নিয়ন্ত্রণের গুণগত মানও খারাপ ছিল। কিন্তু ১৯৬৯ সালে আমরা কীভাবে হঠাৎ করেই একটি বলিষ্ঠ কাজে অংশগ্রহণ করতে সমর্থ হলাম? তাও পরিপূর্ণ সফলতার সঙ্গে? এটা অবশ্যই সমস্ত পরিসংখ্যানে অস্বাভাবিকতার বিপরীত।

অবশ্য তিনি এই একটা ব্যাপারে যথাযথ ছিলেন, যখন সোভিয়েতরা ১ অক্টোবরে তাদের স্পুটনিক মহাকাশ উন্মোচন করলো (একমাস পর এটি স্পুটনিক ২-কে অনুসরণ করে, যা লাইকা নামের কুকুরটিকে বহন করেছিল), তখন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ ব্যবস্থার অস্তিত্বই ছিল না। নাসার জন্ম ১৯৫৮ সালে এবং তা অ্যালান শেফার্ডকে মহাশূন্যে নিতে সক্ষম হয় ১৯৬১ সালের মে মাসে। কিন্তু যখন জন এফ কেনেডি ঘোষণা করলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এ দশক শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই আপাতত একটি মানুষকে চাঁদে পাঠানো এবং সুস্থভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সক্ষম হতে হবে। তখন এ ঘোষণাটি অনেক বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী মনে হলো।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি মার্কিন রাষ্ট্রীয় বাজেটের ৪ শতাংশের বেশি বরাদ্দ ভোগ করছে নাসা। তবে তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন সবকিছু প্রথমেই অর্জন করে ফেলছিলো। যেমন মহাশূন্যে প্রথম নারী ভ্রমণ (১৯৬৩), প্রথম অতিরিক্ত যানবাহন সম্পর্কিত কার্যক্রম, যেমন স্পেস ওয়াক (১৯৬৫)। তখন মার্কিনিরা তাদের লাঞ্চপ্যাডে অগ্নিকাণ্ড অ্যাপোলো-১ এর তিনজন নভোচারীর মৃত্যুর হয়। ফলে রাশিয়ার উন্নতিতে নিজেদের অবনতি অনেক ভালোভাবে উপলব্ধি করছিল যুক্তরাষ্ট্র।

গডউইন বলেন, আপনি যদি কখনও লন্ডনের বিখ্যাত জাদুঘরে যান, জানতে পারবেন লুনার মডিউল বিশেষত তৈরি করা হয়েছিল টিন ফয়েল দিয়ে। অ্যাপোলো-৮ চাঁদের কক্ষপথে পরিভ্রমণ করেছে ১৯৬৮ সালে। কিন্তু আর্মস্ট্রংয়ের ভাষ্যমতে সঠিক কোর্স নির্ধারণ করা এবং চাঁদে অবতরণ করা ছিল এই অভিযানের সবচেয়ে কষ্টকর অংশ। তিনি আরও বলেন, চন্দ্রপৃষ্ঠে হাঁটা ছিল আরও ১০টি কষ্টকর কাজের মধ্যে একটি (যদিও তার পায়ে যেই টিভি ক্যাবল জড়ানো ছিল, সেটা নিয়ে হাঁটাটা একটু কঠিন), কিন্তু আমি মনে করি চাঁদে অবতরণ করা সমস্যার সংখ্যার দিক থেকে ১৩তম।

অর্ধশতাব্দী ধরে ‘মিথ্যাচারের’ ব্যাপারে নাসায় কর্মকরত একজন কর্মীর মুখ থেকেও একটি ‘সত্য’ বের করতে সক্ষম হওয়া যায়নি। একটি মিথ্যাকে পুরো দুনিয়ার কাছে টিকিয়ে রাখা নাসার পক্ষে তাই অনেক কঠিন। ফলে চন্দ্রাভিযানের ধাপ্পাবাজির ধারণাটি শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। আপনাকে এটাও ভাবতে হবে, ১৯৬৯ সালে নাসাতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেখানে ২০১৯ সালের স্পেশাল ইফেক্ট সমৃদ্ধ প্রযুক্তি মানুষের আওতাধীন ছিল এবং প্রায় ৬০ কোটি টিভি দর্শকদের মধ্যে কেউ এ ব্যাপারে কোনও খটকা অনুভব করেননি। স্ট্যানলি কুবরিক্স-এর ‘২০০১ অ্যা স্পেস অডিসি (১৯৬৪)’ সিনেমাটি একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ যে তখন হলিউড স্পেশাল ইফেক্টের গুণগত মান কেমন ছিল। সেই সময়ের সিনেমার প্রযুক্তি বিবেচনা করলে চাঁদের অভিযানের সম্প্রচার চূড়ান্তভাবে অনির্ভরযোগ্য ছিল। প্রকৃতপক্ষে এটি সঠিক একটি লোকেশনেও সিনেমা করার জন্য অদক্ষ ছিল।

১৯৮৮ সালে রবিবারে খেলার পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার দুজন বোমারুকে চাঁদে পাওয়া গিয়েছে’ এই শিরোনামে ছাপানো ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে গেলেও ২০০১ সালে চাঁদ নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আবার জনমনে উৎসাহ তৈরি করে। সে বছর ফক্স নিউজ ‘আমরা কি সত্যিই চাঁদে অবতরণ করেছিলাম’ নামক একটি ডকুমেন্ট প্রচার করে, যার পরিচালক ছিলেন ‘দ্য এক্স ফাইলস’-এর অভিনেতা মিচ পিলেগ্গি।  অনুষ্ঠানটিতে কেসিংয়ের দেওয়া তথ্যগুলোকে নতুন দর্শকদের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়। সে সময় নাসায় কাজ করা লওনিয়াস জানান, তিনি সবার সান্ত্বনার পরিবর্তে তাদের প্রতি শুধু বিদ্রূপটাই বেশি স্মরণ করতে পারে। তিনি বলেন, অনেক বছর পর্যন্ত তারা এসব বিষয়ের প্রতি কোনও সাড়া দেওয়া থেকে নিজেদের বিরত রেখেছেন। তারা এর প্রত্যুত্তর দেওয়ার তেমন কোনও প্রয়োজন মনে করেননি। কিন্তু যখন ফক্স নিউজ সেই তথাকথিত প্রামাণ্যচিত্রটি সম্প্রচার করলো, বিষয়টি সত্যিই তার সীমানা অতিক্রম করে। তখন তারা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন-উত্তরের সম্মুখীন হতে শুরু করে।

লওনিয়াস বলেন, সে সময় বেশিরভাগ ফোন সন্দেহকারীর কাছে থেকে নয় বরং পিতামাতা ও শিক্ষকদের কাছ থেকে আসতে থাকে। সবাই বলাবলি করতে লাগলো ‘আমার বাচ্চা এটা দেখেছে, আমি তাকে কীভাবে উত্তর দেবো।’ পরিস্থিতি সামাল দিতে নাসা একটি ওয়েবপেজ তৈরি করে কিছু কিছু বিষয় সম্পর্কে জানিয়ে শিক্ষকদের তথ্য পাঠানো শুরু করলো।

ফক্স নিউজের ওই প্রামাণ্যচিত্রের সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় ছিল একটি পরিসংখ্যান। সেখানে দাবি করা হয়, মার্কিনিদের মধ্যে ২০ শতাংশ বিশ্বাস করে, চাঁদে যাওয়ার ব্যাপারটি একটি ধাপ্পাবজি ছিল। লওনিয়াস বলেন, প্রকৃতপক্ষে এই ভোটের ফলাফল ৪-৫ শতাংশের ভেতর হওয়া উচিত ছিল।  কিন্তু ভোটের প্রশ্নগুলোকে অতিরঞ্জিত করার মাধ্যমে মানুষের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আকর্ষণীয় ফল অর্জন করা অনেকটাই সহজ ব্যাপার। প্রতিটা সময় যখন এ ব্যাপারে কোনও আলোচনা, এমনকি সিনেমার সাধারণ একটা সংলাপও বিষয়টাকে ইন্ধন জোগায়। তিনি এই ব্যাপারে নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ইন্টারস্টেলার’ নামক একটি চলচ্চিত্রের এক দৃশ্যের বর্ণনা করেন। যেখানে একজন স্কুলশিক্ষক ম্যাথিউ এক চরিত্রকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে জেতার জন্য জানান, চাঁদে অবতরণ করা একটি মিথ্যা। এটা শুধুমাত্র সিনেমার প্রয়োজনে তৈরি করা একটি দৃশ্য ছিল। কিন্তু এই ছোট ব্যাপারটি পুরো বিষয়টাকে নিয়ে বড় ধরনের সাড়া ফেলে দেয়।

‘দ্য মুন- অ্যা হিস্ট্রি ফর দ্য ফিউচার’ বইয়ের লেখক অলিভার মর্টন বিশ্বাস করেন, চাঁদে যাওয়া নিয়ে ষড়যন্ত্র করার ব্যাপারে অধ্যবসায় মোটেও অবাক করার কিছু নয়। যেখানে অনেক ধরনের প্রমাণ রয়েছে (যেমন অ্যাপোলো-১১), সেখানে অসম্ভব নামক ঘটনার ব্যাখ্যা এবং যে ঘটনার শূন্য প্রমাণ আছে, সেখানে বিশ্বাসযোগ্য ঘটনার বর্ণনা করে কিছু মানুষ জবাব চাইবেই। অ্যাপোলোর উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে দেখানো যে বিভিন্ন বড় কাজ করার ক্ষেত্রে মার্কিন সরকার কতটা ক্ষমতাধর। আর চাঁদ নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে বোঝানো যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মানুষকে বোকা বানিয়ে রেখে যা সত্য না তা বিশ্বাস করানোর ক্ষেত্রে ততটুকু ক্ষমতাসম্পন্ন। তবে ধাপ্পাবাজির গল্প তখনই সত্য হতো, যদি অ্যাপোলেকে কখনোই কোথাও না পাঠানো হতো। ১৯৭২ সালের পরও তার আর কোনও অভিযান ছিল না। তিনি আরও বলেন,  যখন মার্কিনিদের মন আবার ১৯৭০-এর ‘মস্তিষ্ক বিকৃতি’তে রূপান্তরিত হয়, তবেই এই বিষয়ে বিশ্বাস করা বেশি আনন্দদায়ক হবে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দোষের একটু ভাগ জেমস বন্ডকেও দিতে হবে। ‘ডায়মন্ড আর ফরেভার (১৯৭১)’ সিনেমাতে সিনকানারি ল্যাস ভেগাস ক্যাসিনোর পথে যাওয়ার সময় নাসার একটি ভবনে ঢুকে পড়ে। সেখানে পুরো সিনেমায় চাঁদের মধ্যে পৃথিবী অভিমুখী নভোচারীদের ছোটাছুটি দেখানো হয়েছে। কিন্তু এখানে এটা শুধু দৃশ্যত রসিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং নেভাদা মরুভূমির চারপাশে চাঁদের পোকার মতো ঘোরাঘুরির ঘটনাটি সত্যতা প্রদানের একটি পথ তৈরি করে। পরে ১৯৭৮ সালে পিটার হাইমে’র কেসিংয়ীয় ষড়যন্ত্র নিয়ে থ্রিলার ক্যাপ্রিকর্ন ওয়ান (১৯৭৮) সিনেমা নির্মাণ করেন। এর  মূল প্রতিপাদ্য ছিল, সরকার সবাইকে বোকা বানাচ্ছে। তখনই বিষয়টি আর হাসি তামাশার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সিনেমার থিম ছিল মঙ্গলে অভিযান নিয়ে যে মিশনটা সাফল্য লাভ করে। বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য এবং সত্য গোপন রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ সেই মিশনের নভোচারীদের হত্যা করা শুরু করে। যার মধ্যে একটি চরিত্রে অভিনয় করেন ও জে সিম্পসন।  সেই ‘পোস্ট ওয়াটারগেট স্ক্যান্ডাল’ যুগে সরকার এমন বড় মাপের একটি মিথ্যাচার করতে পারে এই ধারণা একটি বিশ্বাসযোগ্য বিষয়ে পরিণত হয়।

গডউইন বলেন, অ্যাপোলো ষাটের দশকে আশাবাদ এবং সত্তরের দশকে হতাশাবাদের ক্ষেত্রে একটি চূড়ান্ত ভূমিকা রেখেছিল। তখন আমরা একটি মানুষকে চাঁদে রেখে আসতে পারি। তো এখনও আমরা কেনও অলৌকিক কিছু করতে পারি না। এই প্রবাদটি একটি সাধারণ প্রশ্ন হয়ে ওঠে। মর্টনের ভাষ্যমতে, অবশ্যই সরকার অনেক অসাধারণ কিছু লক্ষ্য স্থির করতে পারে এবং সেটা পূরণ করার জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন, করতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয়, তারা ভিয়েতনামের সঙ্গে যুদ্ধ জয়, অভ্যন্তরীণ শহরকে পরিচ্ছন্ন করা, ক্যানসারের প্রতিকার কিংবা এসব কিছুই যা মার্কিনিরা আসলেই সবচেয়ে বেশি চেয়েছিল তা পূরণ করতে পারবে। সরকার আসলে যেরকম ক্ষমতাধর হিসেবে নিজেকে দেখাতে চায়, আসলে তারা এতটা ক্ষমতাবান নয়। এই ধারণাটি তখন সবকিছুতে চরমভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা চলছিল। যেটা চন্দ্র ষড়যন্ত্রের বিষয়টিকে একটু মনোযোগ দিয়ে পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়।

চন্দ্র ষড়যন্ত্র মূলত কোন কোন বিষয় নিয়ে করা হয়েছে তা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার চেয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করা হয়েছে কোন কোন বিষয় তখন করা হয়নি তার ওপর। অ্যাপেলো, মার্স, জেমিনি এবং অ্যাটলাস মিশনের সবই কি মিথ্যা ছিল, নাকি লাইকা অথবা ইউরি গ্যাগারিন আসলেই কখনো মহাশূন্যে ভ্রমণ করেছিল। এবং কুবকিক কী ভূমিকা পালন করেছে, এ মতবাদগুলো নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে বিভেদ রয়েছে। কিন্তু যখন চন্দ্রষড়যন্ত্রকারীদের প্রথম প্রজন্ম রাগের মাধ্যমে আবেগতাড়িত ছিল, তখনকার সময় বিষয়টি একঘেয়েমি লাগার চেয়ে আরও কিছু বিষয় ছিল। তখন ষড়যন্ত্র এবং বিনোদনের মধ্যকার তফাৎ অনেক বেশি ঝাপসা ছিল।

তারপরও চন্দ্র ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার মানুষদের যন্ত্রণায় বিরক্ত হয়ে বাজ অলড্রিন ২০০২ সালে বার্ট সিব্রল নামক এক ষড়যন্ত্রকারীকে ঘুষি মারেন। যদিও একদিক থেকে বিবেচনা করলে এই ষড়যন্ত্রটা গণহত্যা ও ভ্যাকসিন ভয়াবহ তথ্যের তুলনায় নিরীহ। মর্টন নোট করেন, এটি অনেক অল্প ষড়যন্ত্রের মধ্যে একটা, যা ইহুদিবিদ্বেষ দ্বারা সংক্রমিত না। এমনকি এটি ডেনাল্ড ট্রাম্প যিনি কি না সংবাদমাধ্যমে বিনোদনের বিরাট এক উৎস, তার সঙ্গেও জড়িত নয়। এ বিষয়ে আধুনিক ইন্টারনেটের প্রগতিশীলতাও স্পষ্টত কোনও সাহায্য করতে পারেনি। খেয়াল করলেই দেখা যাবে, ইউটিউবে অ্যাপোলোর ভিডিওগুলো এবং বড় বড় চন্দ্র ষড়যন্ত্রের আগের ভিডিওগুলো অটোপ্লের সারিতে একসঙ্গে দেখা যাবে। কিন্তু এখানে ছোট একটি প্রমাণ আছে, রুশ এজেন্টরা চাঁদ ষড়যন্ত্র এই ভুল তথ্য সরিয়ে দিয়েছে। যেমনটি তারা আগেও করেছিল। উদাহরণস্বরূপ টিকাদানবিরোধী প্রচারণা। আপনি যদি এ ব্যাপারে একটু গভীরভাবে চিন্তা করেন, আপনি এসব করার পেছনে তাদের যুক্তিযুক্ত অনেক কারণ পাবেন। তথ্য নিয়ে যুদ্ধ এবং নীরব যুদ্ধের মধ্যে তাদের সম্মান আবার পুনরুদ্ধার করার একটি পরিষ্কার পদ্ধতি।

আবার সেই সেময় সোভিয়েত ইউনিয়নও আমেরিকানদের কিছু উন্মোচন করার জন্য সুযোগ খুঁজছিল। রুশ মহাকাশচারী অ্যালেক্সিও লিওনোভ সম্প্রতি স্মরণ করেন, ‘আমরা তখন সোভিয়েত সামরিক ঘাঁটি-৩২১০৩ ছিলাম।’ তিনি আরও জানান, আমি ঈশ্বরের দিব্যি খেয়ে বলছি, আমরা তখন খুবই উদ্বেগের সঙ্গে ওই মুহূর্তের অপেক্ষা করছিলাম। আমরা আশাবাদী ছিলাম, তারা আমাদের স্বপ্ন সত্য করতে পারবে। আমরাও চাচ্ছিলাম এটা হোক। সে সময় বোর্ডে যে মানুষগুলো ছিলেন, আমরা তাদের চিনতাম এবং তারাও আমাদের চিনতো।

লওনিয়াস আক্ষেপ করে বলেন, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পেছনে বর্তমান শক্তি হলো, জিনিসগুলো সময়ের সঙ্গে দূরে সরে যায় এবং সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়। এই জিনিসগুলো আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং গণহত্যার সময় অনুভব করেছি। এই ঘটনায় অনেক প্রত্যক্ষদর্শী থাকা সত্ত্বেও কিছু কিছু মানুষ এসব ঘটনাকে সহজেই অস্বীকার করে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপকথা জন্ম, নেয় এবং এককালে তা প্রভাবশালী তত্ত্ব হিসেবে স্থান নেয়।

সম্ভবত বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কষ্টকর হলো, মানুষ এমন কিছু একটা অতিক্রম করেছে, এমন কিছু একটা অর্জন করেছে, যা নিক্সনের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট কিছু বের করে আনতে পেরেছিল। কারণ তিনি অলড্রিন ও আর্মস্ট্রংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে তাদের বলছিলেন, ‘আপনারা যা কিছু করেছেন, তার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী এক হয়ে গেছে। আপনারা চাঁদের মধ্যকার প্রশান্তির সমুদ্র থেকে আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন, এটা আমাদের এই পৃথিবীর মধ্যে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের উৎসাহ দ্বিগুণ করেছে।

আমাদের প্রতি আমাদের নিজেদের বিশ্বাসই এখন কমতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ ষড়যন্ত্রকারীই সম্পূর্ণ বিষয়টিকে এখন একটি পরিহাসের বিষয়ে পরিণত করেছেন। সম্ভবত যদি নাসা আবার ২০২৪-এর দিকে ট্রাম্পের খেয়ালমতে চাঁদে আবার ফেরত যায়, এটা তখন মঙ্গলের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়ে যাবে।

তথাপি আপনার এই ষড়যন্ত্রকারীদের অধ্যবসায় ও মতামতগুলোকে অ্যাপোলো বিজ্ঞানীদের মতামত হিসেবে খুঁজে পেতে পারেন। মর্টনের ভাষ্যমতে, একদিক থেকে চাঁদ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা অন্যান্য মানুষের তুলনায় অ্যাপোলো মিশন নিয়ে অনেক বেশি গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেন। সত্যি বলতে চাঁদে অবতরণ আসলে পৃথিবীর মানুষের জীবনযাত্রায় কোনও পরিবর্তন আনেনি। অন্তত এখন পর্যন্ত নয়।

এই প্রবন্ধটি ১০ এবং ১১ জুলাই ২০১৯-এ সংশোধন করা হয়েছে। এর প্রথম সংস্করণে বলা হয়েছিল, নাসার অ্যালান শেফার্ডকে ১৯৬১ সালের মে মাসে উন্মুক্ত করেছিল। যাই হোক, অভিযানটি আংশিক কক্ষপথের। উপরন্তু নাসা ১৯৬৩ সালে মার্কিন কেন্দ্রীয় বাজেটের ৪ শতাংশেরও বেশি ভোগ করেছিল, পুরো দেশের জিডিপির ৪ শতাংশের বেশি নয়। যেমনটি আগের লেখাতে বলা হয়েছিল। এই তথ্যগুলো সংশোধিত হয়।

সুস্থ থাকুন

কোয়েলের ডিমের যত গুণ

নিউজ ডেস্ক : মুরগির ডিমের চাইতেও বেশি প্রোটিন থাকে কোয়েলের ডিমে। এই ডিমে প্রোটিন ছাড়া আরও মিলবে ফসফরাস, আয়রন, কার্বোহাইড্রেট, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, ফলেট, ভিটামিন এ, ই, ডি এবং বি-১২। জেনে নিন কোয়েলের ডিম খেলে কী কী উপকার পাবেন।

    উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় কোয়েলের ডিমে থাকা পটাশিয়াম।    কোয়েলের ডিমে থাকা প্রোটিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।    রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করে।    কোয়েলের ডিমে ওভোমুকোয়েড প্রোটিন আছে। এটি শরীরের প্রাকৃতিক অ্যান্টি অ্যালার্জিক হিসেবে কাজ করে।    রক্তশূন্যতা দূর করে।    কিডনি ও লিভার ভালো রাখে। কোয়েলের ডিমে থাকা একটি উপাদান ‘লেসিটিন।’ এই উপাদানটি কিডনিতে পাথর হওয়া রোধ করে।    এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ঠাণ্ডাজাতীয় সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দেয়।    এতে থাকা ভিটামিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে। 
জেনে নিন
যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি তারা অতিরিক্ত কোয়েলের ডিম খাবেন না। কোনও ধরনের এলার্জি বা শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন ডিম।

ফটো গ্যালারি

জনপ্রিয় পত্রিকাসমূহ

কলাম

মনের সুখই আসল সুখ

নজরুল ইসলাম তোফা : মানুষের এই জগত জীবন অতি সংক্ষিপ্ত জীবন। তাদের আছে দুঃখ-কষ্ট, সুখ-শান্তি, আশা-ভরসা, সফলতা বা বিফলতার জীবন। এরই মধ্যে জীবনের নানা অপূূর্ণতাকে নিয়েই মানুষ অভিযোগ কিংবা ক্ষোভও প্রকাশ করে থাকে। তারা জীবন যাপনের অংশে যেন অনন্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আফসোস করে। তারা কোনোদিন তা পরিপূর্ণ করতে পারে না বা কোনো দিনই পরিতৃপ্ত হতে পারে না। কেউ কেউ খুব কঠোর পরিশ্রম করে সফল হলে বলতেই হয়, তা সৃষ্টিকর্তারই নিয়ামত। আসলে সুখ-শান্তির প্রত্যাশা হলো- মানুষদের সহজাত প্রবণতার একে বারেই ভিন্ন দিক। তাকে জোর জবরদস্তি করে কখনোই আদায় করা যায় না। ইসলাম চেয়েছে দেহ এবং মনের প্রয়োজন সমভাবে পূরণ করতে পারলে মানুষ পেতে পারে সুখের সন্ধান। তার জন্য মানুষের বিজ্ঞতার আলোকেই পরিশ্রম করা প্রয়োজন। সমগ্র পৃথিবীতে এমন কাউকেই পাওয়া যাবে না যে, তারা সুখী হতে চায় না। আসলে যার যা চিন্তা চেতনাতেই যেেন সুখী হতে চায়। অনেকেভাবে অর্থকড়ি, শিক্ষা-দীক্ষা, বিবাহ, সন্তান-সন্ততি, পরিবার, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি মানুষকে অনেক 'সুখী' করতে পারে। সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরিপ করে দেখা গেছে, এ সকল অর্জন আসলে মানব জাতিকে সুখী করতে পারে না। লাখ লাখ মানুষদের জন্যেই প্রকৃত সুখ যেন হয় যায় সোনার হরিণ।

সারাদুনিয়া খুব সুন্দর এবং তাকে উপভোগ বা সুখ-শাস্তি জন্য মানুষের আছে স্বাধীনতা। এই দুনিয়াকে যেমন পেয়েছে মানুষ। তেমনি সেখানেই অনেক সুখ লাভের প্রকৃৃত পন্থাকে সৃষ্টি করেছে মহান সৃষ্টি কর্তা। এই মানুষদের আনন্দ, ভোগ-বিলাস অথবা সৌন্দর্য উপভোগে যেন আল্লাহ তায়া’লার পক্ষ থেকে আছে প্রতিদান। তার কাছে এ দুনিয়া আখেরাতের সাথেই সম্পৃক্ত, দৈহিক ও শারীরিক আনন্দ উপভোগ করা অন্তরের আনন্দের সাথেই যেন যুক্ত। তাই দুনিয়াতে ভোগের মাধ্যমেই অর্জিত সুখ কিংবা শান্তি মানুষের অভ্যন্তরীণ পরিতুষ্টি কিংবা প্রশান্তির সাথেই সম্পৃক্ত থাকে। আবার যারা মনে করে যে 'সুখ' হয়তো গাড়ি, বাড়ি, অলঙ্কার, কাপড় চোপড় কিংবা ধন-দৌলতের মধ্যে আছে। কিন্তু এই সব প্রাপ্তি মানুষকে সাময়িক ভাবে কিছুটা সুখ দিতে পারলেও যেন প্রকৃত পক্ষেই স্থায়ী সুখ প্রাপ্তির জন্য এধরণের বহু চাহিদাগুলোও বড় ভূমিকা পালন করে না। এমন কথাগুলো সমাজ বিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী বা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাই মনে করে থাকে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সুখ বৈষয়িক বা জাগতিক কোনো ব্যাপার নয়। সুখটা হল বহুলাংশে মনস্তাত্ত্বিক বা আধ্যাত্মিক ব্যাপার। সুখপ্রাপ্তির জন্য আসলেই কোনো 'শর্টকাট পদ্ধতি কিংবা রাস্তা' নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ দিনের চব্বিশ ঘণ্টাতে সুখী হিসেবে থাকে না। তাদের জীবনে যেন- হতাশা, দুঃখ-কষ্ট আছে। পার্থক্য হলো সুখী মানুষরা হতাশা, দুঃখ-কষ্টকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে। অন্যরা তা পারেন না। মানব শরীরটা শুধুই রক্ত-মাংসে গড়া কোনো জড়বস্তু নয়। আছে আত্মা যা কিনা শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আবেগ-অনুভূতিই শরীরের ওপর প্রচণ্ড প্রভাব ফেলে। বস্তু জগতে কাম, ক্রোধ, লোভ-লালসা, মোহ, মাৎসর্য, ঈর্ষা ও প্রতিহিংসা আমাদের দুঃখ, কষ্ট, অশান্তি, অসুখ এবং ধ্বংসের মূলকারণ। মানুষ তার সততা, সৎ কর্ম বা অটল সৃষ্টিকর্তা প্রীতি দ্বারা উল্লিখিত বদগুণ থেকে নিজকে দূরে রেখে এই পার্থিব জীবনে পরম স্বর্গসুখ লাভ করতে পারে।

একসময়ে মনে হতো সুখের চেয়ে শান্তি ভালো। সেই সময়েই মানুষ, সুখ আর শান্তিকে কখনো এক করে দেখতে চায়নি। কিন্তু এখন মনে হয় শান্তি ছাড়া সুখ ভোগ সম্ভব নয়। আর সুখ ছাড়া জীবনে যেন 'শান্তি' আসতেই পারে না। "সুখ আর শান্তি" দুটোই আলাদা শব্দ। এদের অর্থের মধ্যে যেন বিস্তর পার্থক্য আছে। কিন্তু বাস্তবে ''সুখ বা শান্তি" চলে যেন একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে। সুখ শব্দটি মানুষের দেহনির্ভর। আর শান্তি শব্দটি সে মানুষের মননির্ভর হয়ে থাকে। সুতরাং বাস্তবে শরীরের অস্তিত্বকে বাদ দিয়ে- মনের অস্তিত্বের কথা ভাবা খুবই কঠিন। সারাজীবন মানুুষ বাঁচে নিজ শরীরকে নিয়ে। আবার মৃত্যুতেই শরীরের আর কোনো প্রয়োজন থাকে না, ফুরায় সুখ-দুঃখের অনুভব। মনো বিজ্ঞানীরা বলে, সুখ হলো জেনেটিক বা বংশানুগতিসম্বন্ধীয়। আবার বেশকিছু বিজ্ঞানীরা তাদের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সূত্র ধরে বলে, তারা মস্তিষ্কের এমন কিছু অংশ নির্ণয় করেছে, আর যেন যেখান থেকেই 'সুখ নিঃসৃত' হয়। জনপ্রিয় স্কাউটের জনক রবার্টস্টিফেনসন স্মিথলর্ড় ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল বলেছেন-- "সুখ লাভের প্রকৃত পন্থা হলো অপরকে সুখী করা"। এমন সুন্দর পৃথিবীটাকে যেমন পেয়েছো তারচেয়ে একটু শ্রেষ্ঠতর কিছু রেখে যাওয়ার চেষ্টাও করো, তোমাদের মৃত্যুর পালা যখন আসবে তখন সানন্দে এই অনুভুতি নিয়ে 'মৃত্য বরন' করতে পারবে। তুমি অন্তত জীবন নষ্ট করনি কিংবা সাধ্য মতই সদ্ব্যবহার করেছ। তাই এমন ভাবেই সুখে বাঁচতে ও সুখে মরতে প্রস্তুত থাকা প্রতিটি মানুষেরই উচিত। আর হিংস্রতাকে পরিত্যাগ করতে না পারলে মানব জাতি কখনোই পেতে পারে না 'শান্তি'। মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতেই দুঃখের বড় কারণ।

হার্ভার্ডের এক মনো বিজ্ঞানী ড্যান গিলবার্ট বলেছে, নিজস্ব সুখ নিজেকেই সংশ্লেষণ করতে হবে। শরীরে মনস্তাত্ত্বিক একটি ইম্মিউন সিস্টেম রয়েছে যা কিনা তোমার পারিপার্শ্বিকতা বা তোমার বিশ্বকেই জানতে ও বুঝতে সাহায্য করার মাধ্যমে তোমাকে সুখী করে তুলবে। নতুন নতুন কাপড়-চোপড় ক্রয় করা কিংবা 'লটারির অগাধ টাকা' অর্জনে তোমার জীবনের সব দুঃখ দূর করে অনাবিল আনন্দ ও সুখ বয়ে আনবে, এই ধরনের কল্পনা মানুষের চিন্তা শক্তিকে ভুল পথে পরিচালিত করে। 'মিশিগানের হোপ' কলেজের এক সাইকোলজি বিভাগের প্রফেসর ডেভিড মায়ারেরই উক্তিমতে, জেনেটিক বা বংশানুগতি সম্বন্ধীয় তত্ত্বের ভিত্তিতে- যে যাই বলে থাকুক না কেন, মানুষের সুখ অনেকাংশেই 'নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অনুভূতি'।এ 'সুখ' অনেকটা মানুষের কোলেস্টেরল লেভেলের মতো, যা জেনেটিক্যালি প্রভাবান্বিত, আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যেন মানুষের আচার-আচরণ বা লাইফ স্টাইল ও খাদ্যাভ্যাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জানা দরকার,
সুখের বিপরীত শব্দটা হলো অসুখ। যে সুখী নয় সে সুস্থও নয়। অসুখ হতে পারে শারীরিক বা মানসিক। শারীরিক অসুস্থতায় ভুগলেও মানুষের জীবনে 'সুখ' থাকে না। তবুও ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেই- শারীরিক অসুস্থতা বহুলাংশেই সারানো যায়। কিন্তু মানুষ যদি মানসিক অসুস্থতার শিকার হয়, তখন জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। কারণ, মানসিক রোগ যেন পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল রোগ। সুতরাং সুখকে মাঝে মাঝেই এক ধরনের স্বার্থিক উদ্দেশ্য মনে করা হয়। মানুষের কী আছে- তার ওপর সুখ নির্ভর করে না। মানুষ কী ভাবে তার ওপর সম্পূর্ণ ভাবে যেন সুখ নির্ভর করে। এককথায় যদি বলা হয় তাহলে, যার যা আছে এবং যে অবস্থায় আছে, তার জন্যেই মানুষকে শোকরিয়া জানিয়ে যদি দিন শুরু করা হয়- তাতে সুখ আসবে। মানুষ যখন যা ভাবছে তার ওপর ভিত্তি করেই- তার ভবিষ্যতের সুখ আসতে পারে। সুতরাং কাজ-কর্ম ও চিন্তা ধারায় পজিটিভ অ্যাপ্রোচ নিয়ে জীবনটা শুরু করলে সুফল আসবে এবং সুখী হবে। আত্মবিশ্বাসে বিশ্বাসী, জ্ঞানী-গুণী, মর্যাদাবান, হৃদয়বান এবং সৎ মানুষ সাধারণত সব সময় সুখী হয়। যারা শুধু নিতে চায়, দিতে জানে না বা চায় না, তারা সুখী হয় না।

মহান সৃষ্টি কর্তার ওপর যার বিশ্বাস যত দৃঢ় হয়, এই বস্তু জগতে তিনিই তত সুখী। 'সুস্থ, সুন্দর এবং সুখী' জীবনযাপনের জন্যেই প্রকৃতিতে হাজারও নিয়ামত রয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গত উন্নয়নের ফলে বা বিশ্বাস প্রক্রিয়ার প্রভাবেই যেন 'প্রাকৃতিক জীবন' থেকে সরে এসে কৃত্রিম, অসুস্থ, ক্ষতিকর বা অসুখী জীবনধারণের প্রতিই ঝুঁকে পড়ছে মানুষ। প্রাকৃতিক জীবনযাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বিশ্বজুড়েই লাখো-কোটি মানুষের শরীর, মন কিংবা আত্মার ওপর প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমেই- মানুষরা অতি সহজে সুস্থ, সুন্দর ও সুখী জীবনের অধিকারী হতে পারে। জানা যায় যে পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় ধনীর মধ্যে অন্যতম হল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন বাফেট। তাঁর কাজ-কর্ম, টাকা-পয়সা, সুখ-শান্তি বা জীবনদর্শনের অনেক গল্প প্রচলিত থাকলেও কিছুটা জানি কিছুটা জানি না। 'ওয়ারেন বাফেট' কোনো সময়ে ব্যক্তিগত বিমানে চড়েনি। তিনিই বিশ্বের সর্ব বৃহৎ মালিকানার একটি জেট কোম্পানির মালিক। তিনি পঞ্চাশ বছর আগে কেনা ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি বাড়িতেই বসবাস করে। আর তিনি সেই বাসায় অনলাইন ব্রিজ খেলে অপরিসীম 'আনন্দ লাভ ও সুখ' ভোগ করে থাকেন। অবিশ্বাস্য শোনালেও এমন কথা গুলো সত্যি কিংবা অনুপ্রেরণাদায়ক। সারা বিশ্বের বিশাল ধন সম্পদের মালিক পরম সুখী ওয়ারেন বাফেট মনে করেন, ধন-দৌলত নয়, মনের সুখই আসল সুখ কিংবা অন্যকে সুখী করবার মধ্যেও "প্রকৃত সুখ" রয়েছে।


লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও প্রভাষক।

টুকিটাকি খবর

ছোবল খেয়ে সাপকে কামড়ে টুকরো !

নিউজ ডেস্ক : সাপের কাপমড় খেয়ে প্রতিশোধ নিতে সাপকে টুকরো টুকরো কামড়ে মেরেছেন এক ব্যক্তি । সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশের এটাহ জেলার আসরৌলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রামকুমার নামের ওই ব্যক্তি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজ কুমারের অবস্থা  আশঙ্কাজনক।

রাজকুমারের বাবা বাবু রাম জানান, রবিবার রাতে তার ছেলে নেশা করে বাড়ি ফিরেছিল। ওই সময় রাজকুমারের ঘরে একটি সাপ ঢোকে এবং তাকে কামড়ায়। এতে ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে সাপটাকে কামড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে। বাবু রাম বলেন, ‘ ছেলের অবস্থা গুরুতর। কিন্তু তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব’।

স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, তারা প্রথমে বুঝতেই পারেননি যে রাজ কুমার একটি সাপকে কামড়ে টুকরো করে ফেলেছেন।

একজন চিকিৎসক বলেন, ‘ওই যুবক এসে আমাদের জানায় যে সে একটি সাপকে কামড়ে দিয়েছে। আমি প্রথমে ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম সাপ ওকে ছোবল মেরেছে। তারপরে বিষয়টা স্পষ্ট হয় আমার কাছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘সাপে কাটা রোগী প্রায়ই আসে আমাদের কাছে। কিন্তু সাপকে কাপড়ে দেওয়া রোগী জীবনে প্রথম দেখলাম’। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অবস্থা খারাপ হওয়ায় রাজকুমারকে আরেকটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভারতে সাপকে কামড়ে দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

গত মে মাসে গুজরাট রাজ্যে সাপের ছোবল খাওয়ার পরে ৬০-বছর বয়সী এক ব্যক্তি সাপটিকেই কামড়ে দিয়েছিলেন। এতে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে সাপটিও মারা যায়।

তারুণ্য

অনুপ্রেরণার কিশোরী

নিউজ ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন সুইডিশ অধিকার কর্মী গ্রিতা থানবার্গ।

১৬ বছরের গ্রিতা বিশ্বের জলবায়ু আন্দোলন কর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে গ্রিতা বলেছেন, ‘আমাকে ৬০ ফুটের প্রতিযোগী নৌযান মালিজিয়া-২ তে ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা মধ্য আগস্টে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে নিউ ইয়র্ক যাব।’

তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান সুষ্পষ্ট। আমাদের যদি এখনো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রির নিচে রাখার সুযোগ থাকে তারপরও ২০২০ সালের আগেই আমাদেরকে নিঃসরণ কমিয়ে আনা শুরু করতে হবে।’

টিম মালিজিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রান্স আটলান্টিক অতিক্রমকারী দলের সহনেতা পিয়েরি কাসিরাঘি জানান, বৈশ্বিক নিঃসরণ ও দূষণ কমাতে তিনি সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশ্বাস করেন।

মুদ্রাবাজার ও আবহাওয়া

গুরুত্বপূর্ণ লিংক